গত বুধবার কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউন ছাদ (Taratala Disaster) ভাঙার ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে তিনি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) নিশানা করে বলেন, ‘এটা আপনাদের পাপের ফল। সিটি অফ জয় আর বৃহত্তর কলকাতাকে আপনারা মৃত্যুপুরী বানিয়েছেন। সব জায়গা থেকে টাকা নিয়েছেন। কাউকে ছাড়া হবে না।’ গোডাউনের ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যান পাশ করেছিলেন প্রাক্তন মেয়র, এই অভিযোগ করে ফিরহাদের স্বাক্ষরিত কাগজ তুলেও দেখান মুখ্যমন্ত্রী (CM)। দাবি করেন, জানুয়ারি মাসে বিল্ডিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরিকাঠামোয় গলদ থাকা সত্ত্বেও অনুমতি দিয়েছিলেন প্রাক্তন মেয়র।
বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশন শুরু হতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম (Fact Finding Team) ইতিমধ্যেই বিল্ডিং প্ল্যানের সঙ্গে কারা যুক্ত তা খতিয়ে দেখছে। রিপোর্ট হাতে এসে পৌঁছেছে। এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাড়াছাড়ির কোনও ব্যাপার নেই। এদিন ফিরহাদ হাকিমের PA কালিচরণকেও নিশানা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উদ্ধার কাজের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়নি। লোহার বিম কাটার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। পেশাদার টিম নেই। এই প্রসঙ্গে গার্ডেনরিচ দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বিধায়ক আখরুজ্জামানকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনি ভালো করে শুনুন। যারা আপনাদের আগের সরকারকে ভোট দেয় সেই শ্রমিকদেরও বাঁচাতে পারেননি।’
বিহার রেজিমেন্টের সেনারা অত্যাধুনিক যন্ত্র নিয়ে আসায় কুড়িজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জরুরি ক্ষেত্রে নির্মাণ কাজ ছাড়া আগামী চার সপ্তাহের জন্য কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন, রাজারহাট নিউটাউন, বজবজ, মহেশতলা, উজলি, বিষ্ণুপুর গ্রামীণ এলাকা (দক্ষিণ ২৪ পরগনা), সোনারপুর, বারুইপুর এলাকার সব নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকবে। অডিট হবে। এর জন্য বিশেষ টিম গঠন করে দেওয়া হচ্ছে। কমিটিতে থাকবেন অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি। শুভেন্দু স্পষ্ট বলেন, অর্থের বিনিময়ে কাটমানির বিনিময়ে যত বিল্ডিং প্ল্যান তৃণমূল সরকার অনুমোদন করেছে সব অডিট না করে কোনও বিল্ডিংয়ের কাজ এই সরকার করতে দেবে না। দোষীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে, প্রয়োজনে জেলও খাটানো হবে। জনগণের জীবনের সঙ্গে কোনও আপোষ করা হবে না বলে এদিন কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এখন দেখার রাজ্যে পালাবদলের পর এই অবৈধ নির্মাণ নিয়ে বিজেপি সরকার কতটা তৎপর হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল মাথাদের আদৌ শাস্তি সুনিশ্চিত করতে পারে কিনা সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপি সরকারের কাছে।







