মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি। এর ফলে বিভিন্ন জেলায় বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন লাটে ওঠার জোগাড়। এই কর্মসূচি ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই অভিযোগ এর আগেও সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় আট হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় যা একপ্রকার বন্ধের মুখে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমছে। তারপরও যে সকল ছাত্রছাত্রী আছে, তাদের পঠন-পাঠনও বন্ধ করে এই সরকারি কর্মসূচি চলায় কার্যত প্রশ্নের মুখে রাজ্যের শিক্ষা দফতর।
বৃহস্পতিবার তেমনই এক ছবি ধরা পড়ল বারাসাতের বাণিকণ্ঠ নগর শশাঙ্ক শেখর স্মৃতি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ ক্যাম্পের জন্য বিদ্যালয় ছুটির বিজ্ঞপ্তি জারি না করায় ছাত্র-ছাত্রীদের এসে বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হল। ছাত্র-ছাত্রীদের ফিরে যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক। পঠন-পাঠন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ভালো হত। এমনটাই অভিমত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরও।
যদিও এ বিষয় নিয়ে আজব যুক্তি দিয়েছেন, স্থানীয় পৌরপিতা সমীর কুণ্ডু। তিনি বলেন, “বাচ্চাদের বাড়ির সামনে বিভিন্ন ড্রেন খোলা রয়েছে ফলে সেই ড্রেনে পড়ে একটা বাচ্চার যদি ক্ষতি হয়ে যায়, সে কারণেই এই কর্মসূচি তাদের বিদ্যালয়ে করতে বাধ্য হয়েছি, বিদ্যালয় একদিন না চললেও, জীবনহানির সমস্যা থেকে বাঁচবে বাচ্চারা।”
অন্যদিকে এই বিষয়ে বাম শিক্ষক সংগঠনের সম্পাদকের দাবি,” ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ এটি একটি সরকারি প্রকল্প। তার জন্য যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেই বেছে নিতে হবে তার তো কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। সরকারি স্কুলগুলোকে সহজ সহজ মাধ্যম পেয়ে বসেছে রাজ্য সরকার। শিক্ষাব্যবস্থা মন্ত্রীদের খাটের তলায়।” এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একদিন ছাত্র-ছাত্রীদের পঠন-পাঠন বন্ধ ও তাদের মিড ডে মিলের আহার কেড়ে নেওয়ার মতন অভিযোগ তুলছেন নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির এক নম্বর জেনারেল কমিটির সম্পাদক সুমন কর্মকার। পাশাপাশি বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “তৃণমূল কংগ্রেস তার রাজনৈতিক স্বার্থে সমস্ত কিছু জলাঞ্জলি দিতে পারে, কোনও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ছাত্র-ছাত্রীদের এসে ফিরে যেতে হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে লাটে তুলে দিয়েছে। একদম গ্রাসরুট লেভেল থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে লাটে তোলার ব্যবস্থা করছে শাসক দল। তার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানাই।”
কেন ছাত্র-ছাত্রীদের পঠনপাঠন বন্ধ করে বিদ্যালয়গুলিতেই এই সরকারি কর্মসূচি করতে হচ্ছে তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। প্রতিটি পাড়ায় একাধিক ক্লাব থাকলেও কেন সেগুলোকে বেছে নেওয়া হচ্ছে না এই সমস্ত সরকারি কাজের জন্য— সে প্রশ্নও তুলছেন সংশ্লিষ্ট মহল।







