গত কয়েক দিনে রাজ্যে খুন হয়েছেন বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা। ইংরেজবাজার, ভাঙড়, সুতি, লাভপুর-মল্লারপুর থেকে কোচবিহার সব মিলিয়ে গত এক মাসে সংখ্যাটা দশের কাছাকাছি। একাধিক জায়গায় শাসক দলের নেতা খুনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দিকেই আঙুল উঠেছে। গ্রেফতার হয়েছে শাসক দলের নেতা-কর্মীরা। এসব নিয়ে যে রীতিমত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা মঙ্গলবার নবান্নের বৈঠকে স্পষ্ট করে দিলেন। ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ নিয়ে আজ নবান্নে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক এবং বিভিন্ন জেলার এসপি থেকে শুরু করে কমিশনারেটের সিপিরা। সেখানে কোনও পুলিশ অফিসারের নাম না করেই পুলিশ সুপার, আইসি, ওসিদের নিজের নিজের এলাকা দায়িত্ব সহকারে দেখার নির্দেশ দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী এই বৈঠক থেকেই থানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতার প্রশ্ন, আইবিদের কাছে কেন আগে থেকে কোনও খবর থাকছে না। মুখ্যমন্ত্রীর এদিন পরিষ্কার বলে দেন, শুধুমাত্র বড় বড় পদ আঁকড়ে বসে থাকলে চলবে না। দায়িত্ব পালন করতে হবে।
কোচবিহারে সঞ্জীব রায়, বাঁকুড়ার সোনামুখীর সেকেন্দার খাঁ, কোন্নগরের পিন্টু চক্রবর্তী সহ গত কয়েক মাসে রাজ্যে একাধিক তৃণমূল নেতা ও শাসক ঘনিষ্ঠরা খুন হয়েছেন। সেই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা যে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মঙ্গলবার নবান্নের এই বৈঠকে প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তাবড় তাবড় কর্তাদের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন ভর্ৎসনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা আদৌ কতটা তৎপর হয়ে ওঠে এখন সেটাই দেখার। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ যে জেলা পুলিশের আধিকারিকদের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।







