ভারতীয় ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস তৈরির হাতছানি। দেশের মেয়েদের(India Womens Football Team) হাত ধরেই ভারতীয় ইতিহাসে তৈরি হতে পারে নতুন অধ্যায়ের। আর সেই মঞ্চ থেকে মাত্র কয়েক ধাপ দূরেই এখন রয়েছে ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল(India Womens Football Team)। এশিয়া কাপ ২০২৬ সালে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারলেই প্রথমবার ভারত ফিফা বিশ্বকাপ খেলবে। অর্থাৎ প্রথম ছয়ের মধ্যে থাকতে পারলেই বিশ্বকাপে ভারত। আর সেই স্বপ্নেই এখন বিভোর গোটা ভারত। ভালভার্দের(Amelia Valvarde) মহিলা ভারতীয় দল নিয়ে এখন থেকেই যেন বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছে সকলে।
আগামী মার্চ মাসে এএফসি এশিয়া কাপে(AFC Asia Cup) নামবে ভারতীয় দল। ১২ দলের এই প্রতিযোগিতায় সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারলেই ইতিহাস তৈরি করবে ভারত(India Womens Football)। প্রথমবার ফিফা বিশ্বকাপের দড়জা খুলে যাবে তাদের জন্য। রাস্তাটা যদিও খুব একটা সহজ নয়। কিন্তু একেবারে যে অসম্ভব নয়, তা বলাই যায়। বিশেষ করে চলতি মরসুমে ভারতীয় মহিলারা যেভাবে নিজেদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে তাতে সেই অসম্ভব সম্ভব হলে অবাক হওয়ার মতো কিছুই থাকবে না।
ছেলেদের দল যখন এশিয়া কাপে যেতে ব্যর্থ, সেই সময়ই নিজেদের দুরন্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে এশিয়া কাপের মঞ্চে নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেলেছে ভারতীয় মহিলা দল। তাদের গ্রুপে কঠিন দল রয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভারতও যে কঠিন লড়াই দিতে প্রস্তুত তাও বেশ স্পষ্ট। এশিয়া কাপের মঞ্চে কোন জায়গায় পৌঁছলে বিশ্বকাপের দড়জা খুলবে ভারত। সেই নিয়েই চলছে নানান হিসাব নিকাশ।

ভারতীয় মহিলা দলের বিশ্বকাপে যাওয়ার হিসাব-নিকাশঃ-
১. মহিলাদের এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে যদি ভারতীয় দল পৌঁছে যায়, তবে বিশ্বকাপের ছাড়পত্র সরাসরি পেয়ে যাবে তারা।
২. আবার ভারতীয় দল যদি সেমিফাইনালে না পৌঁছতে পারল না। সেইসঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেও সেখানে হেরে গেল। তবেও কিন্তু বিশ্বকাপে পৌঁছনোর ছাড়পত্র রয়েছে তাদের কাছে। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের জন্য আরও একটি বিশেষ স্পট রয়ছে। সেখানেই প্লে-ইন ম্যাচ খেলতে হবে। সেখান থেকেও যোগ্যতা নির্ণয় করতে পারবে ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল।
৩. প্লে-ইনেও যদি ব্যর্থ হয়, তবুও ভারতেও সামনে থাকছে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ। ইন্টার কনফেডারেশন প্লেঅফে সুযোগ পাবে তারা। সেখানে জিততে পারলেও বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা করে ফেলবে টিম ইন্ডিয়া।

এশিয়া থেকে ছটি দল যাবে। আর বিশ্বকাপের প্রধান যোগ্যতা অর্জনের পর্বই এখন এশিয়া কাপ। সেখানে পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় দল। তবে তাদের লড়াইটাও বেশ কঠিন। কারণ ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছ জাপান, ভিয়েতনাম ও চাইনিজ তাইপেই।
জাপানের সঙ্গে ভারতীয় মহিলাদের দলের পরিসংখ্যান কিন্তু একেবারেই ভালো নয়। ২০২৩ সালেই প্রথমবার জাপানের সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছিল ভারতের। সেখানেই তারা জাপানের কাছে ৭-০ গোলে হেরে গিয়েছিল। একইরকম ভাবে ভিয়েতনামের সঙ্গেও কিন্তু পরিসংখ্যানে পিছিয়েই রয়েছে ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল। কারণ ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে একবারের সাক্ষাতে ভারত হেরেছিল ৩-১ গোলে। তবে এই ম্যাচে একটি গোল অবশ্য দিতে পেরেছিল ভারতীয় মহিলা দল।
এই দুই দেশের তুলনায় চাইনিজ তাইপেইয়ের সঙ্গে ভারতের পরিসংখ্যান খানিকটা ভালো। তিনবারের সাক্ষাতে তাদের কাছে দুটি ম্যাচ হারলেও, একটি ম্যাচে জিতেছে ভারত। দুজনের ম্যাচে সব মিলিয়ে গোল হয়েছে সাতটি। সেখানে চাইনিজ তাইপেই যদি চারটি গোল করে, তবে ভারতেরও গোলের সংখ্যা ৩।

সম্প্রতি এশিয়া কাপের যোগ্যতা অর্জনের পর্বে ভারত দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল। এমনকি এশিয়া কাপের প্রস্তুতিতেও তুরস্কে সুইৎজারল্যান্ডের এফসি শিলেরেন ওমেন দলের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে জিতেছিল ভারত। ম্যাচের ফলাফল ২-১। সেই ম্যাচে ভারতের হয়ে গোল করেছিলেন অঞ্জু তামাঙ এবং গ্রেস দাংমেই। সেইসঙ্গে ভারতীয় মহিলা দলের নতুন কোচ হয়ে এসেছেন অ্যামিলিয়া ভালভার্দে। তাঁর হাত ধরেই তো ভেনেজুয়েলার মতো দল মহিলাদের বিশ্বকাপে পৌঁছে গিয়েছিল। এবার সেই ভালভার্দে ভারতেরও প্রধান কোচ। শেষপর্যন্ত কী হয় সেটাই এখন দেখার।






