মুম্বাইয়ের বিতর্কিত মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেলেন ৭ মূল অভিযুক্ত। যার মধ্যে অন্যতম প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর। এই ঘটনার চার্জশিটে নাম থাকা ৭ অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস ঘোষণা করল মুম্বাইয়ের এনআইএ-র বিশেষ আদালত। প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা মামলার রায় প্রদান করে
বিচারপতি একে লাহোটি জানালেন, “কেবল সন্দেহের বশে মামলা এগোনো যায় না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার পক্ষ।” আর তাই কার্যত প্রমাণের অভাবেই মুম্বইয়ের এনআইএ বিশেষ আদালত ৭ অভিযুক্তকে রেহাই দিল। অভিযুক্তর তালিকায় প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর ছাড়াও সেনাবাহিনীর প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রমেশ উপাধ্যায়, সুধাকর চতুর্বেদী, অজয় রাহিরকর এবং সুধাকর ধর দ্বিবেদী।
২০০৮-এর ২৯ সেপ্টেম্বর মোটরবাইকে রাখা দুটি বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মালেগাঁও। বিস্ফোরণে ৬ জনের মৃত্যু হয়, জখম হন ১০১ জন। এই বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা হয় পরে এই তদন্ত ভাগ নেয় আন্টি টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)। মোট ১৬ জনের নাম চার্জশিটে দেওয়া হয়। এই ঘটনার কারণে ২০০৮ সালের ২৩ শে অক্টোবর প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১১ সালে এই মামলা এটিএস এর হাত থেকে এনআইএর হাতে যায়। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় সওয়াল জবাব। মোট ৩২৩ জন সাক্ষীর তালিকা তৈরি হলেও মোট ২৮২ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করে এন আই এ। মামলা চলাকালীন ২৬ জন সাক্ষী মারা যান, ৩৯ জন হাজিরা দেননি।
তবে ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরজামিন পাওয়ার পর মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে বিজেপির সাংসদ নির্বাচিত হন।
‘মালেগাঁও বিস্ফোরণে ৩ থেকে ৪টি সংস্থা কাজ করছে। সরকার পক্ষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে যে বিস্ফোরণটি বাইকেই হয়েছিল। তদন্তে অনেক ত্রুটি ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি। বাইকের চেসিস নম্বর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ সংগ্রহ করেননি। প্রমাণ নষ্টের ঘটনা ঘটেছে’, জানাল মুম্বইয়ের এনআইএর বিশেষ আদালত।







