মঙ্গলবার বাংলায় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)-এর তরফে এসআইআর (SIR)-এর খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকায় উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ বিধানসভার অন্তর্গত গাইঘাটায় সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই অঞ্চল যেহেতু মতুয়া (Matua) অধ্যুষিত, তাই এসআইআর (SIR) নিয়ে যথারীতি আতঙ্কে রয়েছে মতুয়া (Matua) সম্প্রদায়ের মানুষ। এবার এসআইআর (SIR) ইস্যুতে মতুয়াদের (Matua) পাশে দাঁড়াল সিপিআইএম (CPIM)।
২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে মতুয়া ভোট নিজেদের কাছে টানতে যখন সব দল ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তখন মতুয়া ভোটারদের মন পেতে এবার আসরে নামল সিপিআইএম (CPIM)। মঙ্গলবার সিপিএমের ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ বনগাঁর গাইঘাটাতে এসে পৌঁছায়। গাইঘাটা থানার সামনে মতুয়া সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও দীপ্সিতা ধর প্রমুখ।
মতুয়া সমাবেশে বক্তব্য রেখে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে হরিচাঁদ মন্দিরে হরিচাঁদ ঠাকুর ও শান্তিমাতা, গুরুচাঁদ ঠাকুরের গলায় মালা পরিয়ে দেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সিপিএমের ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে চাঁদপাড়া হয়ে বনগাঁতে কৃষক সমাবেশ করবে। এবার মতুয়াদের কাছে টানতেই এই মতুয়া সমাবেশ কিনা, সে প্রশ্নের উত্তরে মহম্মদ সেলিম বলেন, “মতুয়ারা আগেও সিপিএমের সঙ্গে ছিল, এখনও আছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি তাদের কাছে টানবার চেষ্টা করেছে।”
গাইঘাটাতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসআইআর (SIR) নিয়ে সরব হয়েছেন মহম্মদ সেলিম ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। মহম্মদ সেলিম এদিন কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “যদি কোনও বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে তাহলে নির্বাচন কমিশনের জিনা হারাম করে দেব।”
অন্যদিকে মীনাক্ষী ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “যদি একটাও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যায় একটা বিডিও বাড়ি যেতে পারবে না, ঘেরাও হয়ে থাকবে।” পালাপাশি সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথাতেও উঠে আসে মতুয়া ও দরিদ্র অসহায় ভোটারের কথা। তিনি বলেন, “২০২৪ সালে যাদের ভোটে জিতে ক্ষমতায় বসেছে, তাদের নাম যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায় তাহলে কোর্টে যাব।” এসআইআর নিয়ে বাংলা জুড়ে কার্যত বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারির কথা এদিন শোনা গেল সিপিএমের নেতাদের গলায়। এখন দেখার এসআইআর (SIR) নিয়ে বাস্তবে বঙ্গ রাজনীতির পারদ কতটা চড়ে। কেননা বিধানসভা নির্বাচনের যে আর খুব বেশি বাকি নেই। এই আবহে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।







