ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দেখে জয় বাংলা শ্লোগান দেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা উত্তরের ভিডিও এখন ভাইরাল। বাংলার একজন বিরোধী দলনেতা হয়েও শুভেন্দুর ‘জয় বাংলা’র বদলে ‘জয় শ্রী রাম’ বলার নিদান নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার মুখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক। আর সেই আবহেই বিজেপির নেতাদের আরও বেশি করে ‘জয় বাংলা’ বলার টোটকা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সাংসদ, বিধায়ক, জেলাস্তরের নেতাদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তিনি। বিহারের পর
চলতি মাসেই এসআইআর শুরু হতে পারে অন্যান্য রাজ্যগুলিতে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিটি রাজ্যে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই বাংলার একাধিক নাগরিককে এনআরসির নোটিস পাঠাচ্ছে বিজেপি শাসিত অসম সরকার। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এইসব ইস্যুতে আরও বেশি করে বিজেপি বিরোধিতায় শান দেওয়ার জন্য এই সাংগঠনিক বৈঠক করেন অভিষেক। সেখানেই তাঁর নির্দেশ, “বিজেপি নেতাদের দেখলে জয় বাংলা বলুন।” এর আগেও একাধিকবার দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল ভুগতে হয়েছে তৃণমূলকে। ইতিমধ্যেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ূন কবীর, রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এবং সর্বশেষ শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে ২৬-এ যাতে কোনভাবেই এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল ভুগতে না হয়, তার জন্যই দলে ঐক্য বজায় রাখার দিকে জোর দিলেন অভিষেক। সর্বস্তরের নেতাদের সতর্ক করে বললেন, “আমি-তুমির রাজনীতি চলবে না।” রাজ্যের ৮০ হাজার বুথে ছোট ছোট সভা করে মানুষের কাছে পৌঁছনোর বার্তা দিলেন তিনি।
কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাংলার পাওনা টাকা আটকে রেখে দিয়েছে। তারপরও রাজ্য সরকার নিজেদের টাকায় মানুষের জন্য উন্নয়নের কাজ করছে। সেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এসআইআর ইস্যু-সহ বাংলা ভাষার উপর বিজেপির আক্রমণের বিরুদ্ধেও গর্জে উঠতে হবে। সেই নির্দেশও অভিষেক এদিন দিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল, সোমবারই কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল বিধায়ক, নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। উত্তরের জেলাগুলিতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল করতে হবে। সেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। আজ, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ দলের সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর ও অন্যান্য নেতাদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। প্রায় নয় হাজার দলীয় নেতৃত্ব এদিন এই ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন। এসআইআর নিয়ে
দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বিজেপি নেতারা বলছে ১ কোটি নাম বাদ যাবে। আমি বলছি ১ জনের বাদ দিয়ে দেখাক। তারপর কত বড় বিজেপি নেতা আছে, বাংলায় পা দিয়ে দেখাক। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে।”
এদিন এনআরসি ইস্যুতেও সরব হয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “কে নাগরিক, সেটা ঠিক করবে বিজেপি? উত্তরবঙ্গের লোকেরা দেখুন বিজেপি কী করছে, আপনারা তো সাপোর্ট করেছেন। আমাদের সরকার দিচ্ছে, বিজেপি কেড়ে নিচ্ছে। অঞ্চল সভাপতিরা ৩০-৪০ জন করে লোক নিয়ে সভা করুন। মানুষকে বোঝান। বুথে বুথে সভা করুন। বিজেপিকে জবাব দিতে হবে।” ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, “আমরা তো পেরেছি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ১৮ থেকে ১২ তে নামাতে। তাহলে এবার বিধানসভায় কেন ৭৭ থেকে ৪০-এর নিচে নামিয়ে আনতে পারব না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল ইঞ্জিন সরকার অনেক শক্তিশালী।” সে কথাও এদিনের বৈঠকে বলেন তিনি।







