ওড়িশা, ১৫ জুলাই: হাড় হিম করার মতো ঘটনা ঘটেছে ওড়িশার বালাসোরের ফকির মোহন অটোনোমাস কলেজে। গত শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসেই নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে দেয় দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সব রকমের চেষ্টা সত্ত্বেও সোমবার রাতে মৃত্যু হয় ওই ছাত্রীর। গোটা ঘটনায় তৎপর ওড়িশা সরকার। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত অধ্যাপককে।
বছর ২০-র ওই ছাত্রী তার কলেজের বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহুয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। এ বিষয়ে কলেজের সংশ্লিষ্ট মহল এবং অধ্যক্ষের কাছেও নাকি অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছিলেন দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী। কিন্তু কেউ তার কথায় গুরুত্ব দেয়নি। গত শনিবারও নাকি ওই ছাত্রী এই বিষয়টি নিয়ে অন্য এক অধ্যাপকের সঙ্গেও আলোচনা করে দ্রুত বিচারের দাবি জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী তারপরই নাকি নিজের গায়ে আগুন দেয় ওই ছাত্রী। দেহের ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়।
ওই ছাত্রীটিকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় বালাসোর জেলা সদর হাসপাতালে। সেখানে তাঁর অবস্থা আরও সংকটজনক হলে, ১২ জুলাই তাঁকে ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু তারপরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। সোমবার রাতে মৃত্যু হয় ওই ছাত্রীর। এইমসের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘তাঁকে বার্নস সেন্টারের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। রোগীকে আইভি লিক্যুইড, আইভি অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল। একটি নল লাগিয়ে হুঁশ ফেরানো হয়। মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল।’ ডাক্তারদের সব রকম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গত ১৪ জুলাই রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ভুবনেশ্বরের এইমসের বার্ন ওয়ার্ডে ওই ছাত্রীকে দেখতে যান। তার বাবা-মাকে সব ধরনের আশ্বাসও দেন তিনি। যদিও ইতিমধ্যেই, ওড়িশা পুলিশ অভিযুক্ত সমীর সাহু এবং ফকিরমোহন কলেজের বরখাস্ত অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে। আদালতে তাদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃত ছাত্রীর পরিবার।






