পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন বাংলা ও বাঙালি ইস্যুতে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। বিজেপি শাসিত ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে তাদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে চলছে ধরপাকড়ও। আর এই ইস্যুতেই বিজেপি বিরোধিতার সুর বেঁধে দিয়েছিলেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দেখানো পথেই বাংলার প্রতিটি জেলায় প্রতিবাদ সভা সংগঠিত হচ্ছে। একনকী তৃণমূলের জেলা স্তরের নেতারাও কখনও প্রকাশ্য জনসভায়, কখনও বা সংবাদমাধ্যমের সামনে বিজেপি বিরোধিতায় সরব হচ্ছেন। তবে কখনও কখনও তা সীমা লঙ্ঘনও করে ফেলছে। যেমন গত সপ্তাহে মালদার এক যুবককে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তৃণমূলের মালদা জেলার সভাপতি ও বিধায়ক আব্দুল রহিম বক্সী বিজেপি নেতাদের রক্তে দেশকে স্বাধীন করার কথা বলেছিলেন। এবার তারই পাল্টা দিলেন বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের নেতা কাশেম আলি। সন্দেশখালির জনসভা থেকে তাঁর হুঁশিয়ারি, “রোহিঙ্গা-সহ তৃণমূল নেতাদের গাছে বেঁধে জল-বিচুটি লাগিয়ে বাংলাদেশে পাঠাব।” শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতার এই কথা ঘিরেও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
গত রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বেড়মজুর এলাকায় একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বিজেপি জেলা নেতৃত্ব। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য কমিটির সদস্য কাশেম আলি। সেখানে হাজির ছিলেন দলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য, সন্দেশখালি আন্দোলনের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ পিয়ালী দাস তথা মাম্পি। সেই প্রতিবাদী মঞ্চে থেকেই তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের বে-লাগাম মন্তব্য করেন কাশেম আলি। তৃণমূল নেতাদের চুরির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল নেতারা গরু-কয়লা থেকে টাকা খাচ্ছে। বালি থেকেও কাটমানি খাচ্ছে। এখন আবার নতুন পদ্ধতি নিয়েছে, শ্মশান থেকে দেহ চুরি করে কঙ্কাল বেঁচে খাচ্ছে। তৃণমূল নেতাদের অবস্থা খুবই খারাপ।” এই প্রসঙ্গ টেনে তাঁর আরও সংযোজন, “তৃণমূলের এই সমস্ত চোর নেতারা অন্য জায়গায় পালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে! তাই, পালিয়ে যাওয়ার আগে দুর্নীতিগ্রস্ত এই সমস্ত তৃণমূল নেতাদের ধরে গাছে বেঁধে রাখুন। এমন ট্রিটমেন্ট দেবেন যাতে সহজে কেউ ভুলতে না-পারে। আপনার সন্তানের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হলে তৃণমূলের চোর নেতাদের বেঁধে রাখার পর জল-বিচুটি লাগিয়ে দেবেন। এই কাজ একমাত্র মায়েরাই ভালো পারবেন।”
পাশাপাশি বাংলায় এসআইআর (SIR) চালু করা নিয়ে কাশেম আলি তৃণমূল নেতাদের হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন, “তৃণমূলের যে সমস্ত নেতারা রোহিঙ্গাদের সমর্থন করছেন তাঁদের বলব, একবার বাংলায় এসআইআর চালু হতে দিন। তারপর নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সেই সমস্ত নেতাদের বুলডোজারে করে ঘোজাডাঙা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেলে দিয়ে আসব।”
অবশ্য বিজেপি নেতার এই বক্তব্যের পর চুপ থাকেনি তৃণমূল নেতৃত্বও। এই বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সন্দেশখালির স্থানীয় তৃণমূল নেতা আব্দুল ওয়াইদ ঢালি বলেছেন, “কাশেম আলি নিজেই ১ টাকার কয়েনের মতো নেতা। ওনার কথার কোনও গুরুত্ব নেই। আসলে বিজেপি ওকে ব্যবহার করছে। ও আগে তৃণমূলে ছিল। এখানে পাত্তা না পেয়ে বিজেপিতে গেছে। ওর কথার কী গুরুত্ব আছে! সন্দেশখালিতে বিজেপি দাঁত ফোটাতেও পারবে না, তাই এসব প্রলাপ বকছে। বাংলা দখলের স্বপ্ন বিজেপির দিবাস্বপ্ন হয়ে থেকে যাবে।” সব মিলিয়ে বাংলায় বিধানসভা ভোটের আগে যে এই ধরনের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি এই রাজনৈতিক চাপানউতরের ফলে তৃণমূলের আবদুর রহিম বক্সী অথবা বিজেপির কাশেম আলির মতো নেতাদের বে-লাগাম মন্তব্যে আরও সরগরম হব বঙ্গ রাজনীতি।







