সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে সদ্য তৃণমূলের লোকসভার নেতা হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই নাকি দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ একঘণ্টার একান্ত বৈঠক করেছেন তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক। রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, অভিষেককে নাকি নিজে ফোন করে রাহুল গান্ধী তাঁর গৃহপ্রবেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক ও ডিনার মিলিয়ে ঘণ্টা দুয়েকের পর্বে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিট কথা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর কাছ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেমন আছেন, তাও জানতে চান কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধী। এনসিপি (শরদ) প্রধান শরদ পাওয়ারের সঙ্গেও আলাদা করে কথা হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধেয় নয়াদিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে এই নৈশভোজে অভিষেক ছিলেন বিরোধী শিবিরের অন্যতম মধ্যমণি। সেখানেই তৃণমূলের তরফ থেকে আমন্ত্রিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন। অভিষেকের সঙ্গে একই টেবিলে বসে ডিনার সারেন রাহুল। সেই টেবিলে ছিলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ন’জন সিনিয়র নেতা। দিল্লিতে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের এই সমীকরণের প্রভাব কি পড়বে বঙ্গ রাজনীতিতে। দিল্লিতে অভিষেক-রাহুল বৈঠকের পরেই এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে জোরালো হচ্ছে।
বাংলায় ২০২১ বিধানসভা এবং ২০২৪ লোকসভায় সিপিএমের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন লড়েছে কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে ১টি লোকসভা আসন জিততে পেরেছে কংগ্রেস। মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন ইশা খান চৌধুরী। যদিও সেই আসনে বামেদের সাহায্যের চেয়েও বেশি কাজ করেছিল ‘গনি খান ম্যাজিক’। পাশাপাশি প্রথম বারের মতো হেরে যান প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী। যদিও রাহুল গান্ধী তাঁর হয়ে প্রচারে আসেননি বলেও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এখনও যে বাংলায় কংগ্রেস খুব সুবিধাজনক জায়গায় আছে, তেমনটা বলা যাবে না। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতায় বাড়ায় বঙ্গ রাজনীতি ঘিরেও তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। যদিও এই জল্পনার মাঝেই বাংলায় কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গত শুক্রবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘বাংলায় একলা চলব—না তৃণমূলের সঙ্গে চলব তা নিয়ে এআইসিসি এখনও কোনও নির্দেশ দেয়নি। তবে আগামী দিনে বাংলা নিয়ে এআইসিসি যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই চূড়ান্ত।’ ফলে সব মিলিয়ে ২০২৬ বিধানসভার আগে বঙ্গ রাজনীতিতে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে না, তা এখনই জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।







