কথা মতোই আইএসএল(ISL) করতে চেয়ে ক্রীড়ামন্ত্রক-কে(Sports Ministry) নিজেদের পরিকল্পনা মাফিক খসড়া জমা দিল ইস্টবেঙ্গল ছাড়া বাকি সবকটি ক্লাব। তাদের পরিকল্পনা মাফিক এবং শর্ত অনুযায়ী হলে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যেই আইএসএল(ISL) শুরু করার বার্তাই দেওয়া হয়েছে ক্লাবগুলোর(ISL Clubs) তরফে। গত বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের কর্তাদের উপস্থিতিতে আইএসএলের ক্লাবগুলো(ISL Clubs) ক্রীড়ামন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল। সেখানেই ক্লাবগুলোর থেকে লিগ আয়োজনের জন্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে খসড়া দিতে বসেছিল ক্রীড়ামন্ত্রক। সেই মতো শুক্রবারই সেই খসড়া জমা দিয়েছে ক্লাব গুলো।
সেখানেই তাদের আইএসএল(ISL) আয়োজন করতে কী কী প্রয়োজন সমস্ত কিছুই তুলে ধরা হয়েছে। এই খসড়ায় প্রধান দাবী হিসাবে রাখা হয়েছে যে ফেডারেশন কমার্শিয়াল রাইটস থেকে অপারেশন সহ প্রতিটি স্তত্ত্বই যে নতুন লিগ কোম্পানি তৈরি হবে তাদের হাতে হস্তান্তর করতে হবে। শুধুমাত্র তাই নয় সেটা যেন এএফসি(AFC), ফেডারেশন(AIFF) এবং ফিফার(FIFA) আইনি বিধি সম্মতভাবে হয়, সেই কথাও তাদের খসড়ায় স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে।
তবে ক্লাব গুলো লিগ আয়োজন করলে ফেডারেশন যে কোনওরকম বড় অঙ্কের টাকা পাবে না তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ মরসুমে ফেডারেশনকে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হতে পারে ক্লাব গুলোর তরফে। সেক্ষেত্রে কোনও কমার্শিয়াল পার্টনার আসুক বা না আসুক। তবে কোনওরকম বাণিজ্যিক চুক্তি বা পরিচালন গত দায় থেকে মুক্ত থাকতে হবে ফেডারেশনকে।
একইসঙ্গে ফেডারেশকে(AIFF) একটি বিশেষ আবেদনও করা হয়েছে ক্লাবগুলোর(ISL Clubs) পক্ষ থেকে। সেখানে বলা হয়েছে ফেডারেশন, মন্ত্রকের একজন এবং ক্লাবগুলো নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করার অনুরোধ জানিয়েছে। যে কমিটির প্রধান কাজ হবে এএফসি, ফিফা এবং সুপ্রিম কোর্টের সময়সীমা অনুমোদন সহ আইনি নিয়ন্ত্রন এবং পরিবর্তনশীল বিষয় গুলো সমাধান করার কাজ করবে। কারণ ফেডারেশন ছাড়া অন্য কোনও অংশীদার যদি কোনওরকম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তা ফিফার নিয়ম ভঙ্গের মধ্যে পড়তে পারে। সেই কারণেই এমনটা একটা ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরির প্রস্তাব সেই খসড়াতে দেওয়া হয়েছে।
তবে লিগ পরিচালনের ক্ষেত্রে যে নতুন লিগ কোম্পানি তৈরি হবে তাদের হাতেই যে সম্পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে সেই কথা কার্যত স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সেই কোম্পানির বোর্ডে ফেডারেশনের একজন প্রতিনিধি ডিরেক্টর হিসাবে থাকলেও, প্রধান স্টেকহোল্ডার হিসাবে ক্লাবগুলোই থাকবে।
আগামী শনিবার ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা। সেখানে সবার আগে যে এই বিষয় নিয়েই প্রধান আলোচনা হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শেষপর্যন্ত ভারতীয় ফুটবলের অচলাবস্থা কাটে কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষায় সকলে।







