বর্তমানে সংসদে তৃণমূলের চিফ হুইপের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে স্বভাবতই ব্যস্ততা বেড়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তার মধ্যেও ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে নতুন করে দলের সংগঠন সাজাতে তৎপর তিনি। আর সেই উদ্দেশ্যেই প্রতি সপ্তাহে এক একটা জেলা ধরে ধরে তাদের নেতৃত্বদের সঙ্গে নিজে বৈঠকে বসছেন তৃণমূলের এই সেকেন্ড-ইন কমান্ড। সেই বৈঠকে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে যেমন প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, তেমনই আগামী নির্বাচনের রণকৌশলও তৈরি করে দিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেননা ২৬শে নির্বাচনের আগে দলের সংগঠনকে আরও মজবুত করতে না পারলে বিজেপির সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যে মোটেও সহজ হবে না, তা ভালো মতোই জানেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। আর তাই জেলা স্তরের নেতারাদের সঙ্গে কথা বলে সাংগঠনিক খামতি পূরণে মরিয়া তিনি। কেননা বিজেপিকে এই রাজ্যে এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে যে চ্যালেঞ্জ তিনি নিয়েছিলেন তা কার্যকর করতে হলে সবার আগে তৃণমূল স্তরের সংগঠনকে যে আরও শক্তিশালী করতে হবে তা ভালো মতোই জানেন অভিষেক। তাই জেলা স্তরের নেতারা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে তাই নিয়ম মাফিক ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে জেলা স্তরের নেতারাদের নিয়ে মিটিং সারছেন তিনি।
গত সপ্তাহে মালদা ও মুর্শিদাবাদ নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠকের পর আজ, অর্থাৎ মঙ্গলবার অভিষেক ডেকে পাঠিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক সাংগঠনিক কেন্দ্রের নেতৃত্বদের। সেই সঙ্গে আজ ক্যামাক স্ট্রিটের বৈঠক থাকবেন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বও। এই বৈঠকে থাকার কথা দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিরও। সব মিলিয়ে আজকের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পূর্ব মেদিনীপুর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় নামে পরিচিত। এখানেই গত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এমনকী গত লোকসভা নির্বাচনেও এই জেলার ১৪টির মধ্যে ১৩টি বিধানসভাতেই তৃণমূল হেরে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে বঙ্গ রাজনীতির হাইভোল্টজ কেন্দ্র বলেই পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুর। তাছাড়া এখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং দলের একাংশের বিরোধী দলের সঙ্গে যোগসাজশ রাখা নিয়ে মাঝেমধ্যেই অভিযোগ ওঠে। সেসব নিয়েই আজ বৈঠকে বসছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। শুভেন্দুর গড়ে ঘাসফুল ফোটাতে জেলা নেতৃত্বকে কী বার্তা দেন অভিষেক সেদিকেই নজর সকলের। পাশাপাশি বারাসতের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নিয়েও নতুন কী রণকৌশল সাজান অভিষেক তা নিয়েও কৌতূহলী রাজনৈতিক মহল। কেননা এই কেন্দ্র থেকে নানান সময়ে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে এসবের বিরুদ্ধে জেলা নেতৃত্বকে কী দাওয়াই দেন অভিষেক, তাও তাৎপর্যপূর্ণ। গতকালই দিল্লি থেকে ফিরেই আজ হাইভোল্টজ বৈঠকে বসছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। এর থেকেই স্পষ্ট যে নির্বাচনের আগে নতুন করে বিজেপির বিরুদ্ধে রণকৌশল তৈরিতে তৎপর তৃণমূল। কেননা ২৬শে বিজেপির বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে সহজ জয় হাসিল করাই যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই লক্ষ্যের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।







