১৪ জুলাই, ২০২৫: গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র অভ্যুত্থানের ফলে আওমীলিগ, তথা হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছয়। এরকম পরিস্থিতিতে ভারতে আশ্রয় নেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততা বাড়ে। হাসিনার সময়ে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক মধুর থাকলেও, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পথে হেঁটেছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বেড়েছে নানান কূটনৈতিক চাপ।
এরকম পরিস্থিতিতে এবার ইউনূস সরকারের তরফ থেকে ভারতে প্রথম উপহার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য ১,০০০ কেজি বিখ্যাত ‘হাড়িভাঙ্গা’ আম পাঠাচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই নন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাকেও এই আম ‘উপহার’ হিসেবে পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। যদিও এই রীতি নতুন নয়। হাসিনা সরকারের সময়ও প্রতি বছর নিয়ম করে উপহার হিসাবে ঢাকা থেকে আম ও ইলিশ আসত ভারতে। কিন্তু বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে মহম্মদ ইউনূস সরকারের পাঠানো এই উপহারকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
যদিও চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংককে BIMSTEC শীর্ষ সম্মেলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মহম্মদ ইউনূস মুখোমুখি হন। সেখানে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ইউনূসকে সরাসরি বার্তা দেন মোদী। তারপরই ঢাকার এই আম উপহার পাঠানোকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কে বরফ গলার ইঙ্গিত হিসাবেই ধরছেন অনেকেই।
বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস নিজেই উদ্যোগ নিয়ে এই এক হাজার কেজি হাড়িভাঙা আম উপহার হিসাবে ভারতে পাঠাচ্ছেন। ৬০টি কার্টুনে প্যাক করা এই আম গত ১০ জুলাই আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে ভারতে রওনা দেয় এবং ১৪ জুলাই তা দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা। এখন দেখার, এই আমের সৌজন্যে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আগের অবস্থানে ফেরে কিনা।







