সুপ্রিম কোর্টে আবারও ঝুলে রইল DA মামলার শুনানি

সোমবারেও সুপ্রিম কোর্টে DA মামলায় কোনও রায়দান হল না। আবারও পিছিয়ে গেল শুনানি। আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এদিন আদালতকে বলেন, রাজ্য সরকার বকেয়া ডিএ(DA)-র টাকা মিটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করেছে। কত টাকা বকেয়া রয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কত টাকা প্রাপ্য তার হিসাব কষে বের করতে হবে। আর সে কারণেই রাজ্য সরকারকে আরও দু’মাস সময় দেওয়া হোক। যদিও এর আগে সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানিতে বিচারপতিরা নির্দেশ দিয়েছিলেন, ২৭ জুনের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু ২৭ তারিখ পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকার সেই টাকা মেটায়নি। সোমবার রাজ্য সরকারের আইনজীবীর সওয়াল জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতিরা এখনই রাজ্য সরকারকে সময় দেওয়ার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। বরং তাঁদের পর্যবেক্ষণ, সারা দেশব্যাপী এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে। তাই এই মামলার সওয়াল জবাব আরও বিশদে শুনতে চায়। সে কারণেই আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতারা এদিন বলেন, রাজ্য সরকার বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্যই মিথ্যাচার করছে। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দেওয়ার পর ২ মাসেরও বেশি হয়ে গেছে। রাজ্য সরকার চাইলে এর মধ্যে কমিটি গঠনের মাধ্যমে হিসাব কষে ফেলতে পারত। গোটা ডেটাবেস রাজ্য সরকারের কাছেই রয়েছে। এখন অজুহাত খুঁজতে এই সব বাহানা করছে। মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “আদালতের কাজ আইন বাতলে দেওয়া। আদালত তো আর কোয়ান্টিফাই করতে পারবে না। কোয়ান্টিফাই কে করবেন না করবেন, সেটা তো আদালতের বিষয় নয়। আসলে ওরা মামলার শুনানি করতে চাইছিলেন না। যদি আমরা জিতি, ১০০ শতাংশই দিতে হবে।”
‘আগে কর্মচারীদের ডিএ-টা মেটান’—শুভেন্দু অধিকারী

বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোরে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে পুজোর অনুদান ২৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। গতবার পুজোর অনুদান বাবদ ৮৫ হাজার টাকা থাকলেও, এবছর তা বাড়িয়ে করা হল ১ লক্ষ্য ১০ হাজার টাকা। সাথে বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও ৮০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই পুজো অনুদান বৃদ্ধি নিয়ে বিধানসভার সামনে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিরোধী দলনেতা বলেন, “১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা কেন, পারলে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দিন। কিন্তু তার আগে কর্মচারীদের ডিএ-র টাকাটা মেটান।” পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “আগে চাকরি দিন। রাজ্য প্রায় ৬ লক্ষ পদ আছে সেই পদগুলো পূরণ করুন। আশা কর্মী, আইসিডিএস, কন্ট্রাকচুয়াল, সিভিক ভলেন্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এদের বেতন বাড়ান। তারপর যা ইচ্ছা তাই করুন।” শুভেন্দুর আরও সংযোজন, “দেখতে থাকুন, এবার উনি ইমাম মোয়াজ্জেমদের ভাতাও ৫০০ টাকা করে বাড়িয়ে দেবে।”
বিহারের পর কি পশ্চিমবঙ্গ? এই রাজ্যে কবে হবে এসআইআর?

বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন(SIR) সমীক্ষায় বাদ পড়েছে প্রায় ৫৭ লক্ষ ভোটারের নাম। ভোটার-আধার বা রেশন কার্ডের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া যে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ নথির ভিত্তিতে ভোটার কার্ড সংশোধনের কাজ হয়েছে, সেখানে বাদ যাওয়া ভোটারদের প্রায় অধিকাংশই সেই সমস্ত নথিপত্র দেখাতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিহারে বাদ যাওয়া প্রায় ৫৭ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২০ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ২৮ লক্ষ এমন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে যারা এখন আর বিহারে থাকেন না, অথবা যাদের অন্যত্র ভোটার তালিকায় ইতিমধ্যেই নাম নথিভুক্ত হয়েছে। বিহারে এসআইআর(SIR)-এর ফলে বাদ যাওয়া প্রায় ৫৭ লক্ষ ভোটার ইস্যুতে সরগরম দিল্লির রাজনীতি। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশের দাবি তুলে রীতিমত উত্তাল সংসদ। গতকাল এই ইস্যুতে সংসদের চলতি বাদল অধিবেশন বয়কট করে সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলো। তাদের দাবি, সরকার বেশ কয়েক বছর ধরে চেষ্টা করেও এনআরসি(NRC) লাগু করতে পারছে না। একমাত্র আসাম ছাড়া আর কোথাও এনআরসি চালু করা সম্ভব হয়নি। তাই মোদী সরকার এভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে দেশে এনআরসি লাগু করতে চাইছে। বিহারের পর কি পশ্চিমবঙ্গেও এসআইআর শুরু হবে? এই প্রশ্নেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ইতিমধ্যেই তৃণমূল সুপ্রিমো নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারের মদতেই যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন সে অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী সাফ জানিয়ে দেন, তার রাজ্যে এনআরসি লাগু করতে হলে সবার আগে তাঁকেই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে হবে। অন্যদিকে রাজ্য বিজেপিও এনআরসি চালু করার প্রশ্নে বারবার তৃণমূলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দাবি করেছে, এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য এসআইআর চালু হওয়া নিয়ে ধন্ধে আছে রাজ্যবাসী। তবে বিহারের মতো এ রাজ্যেও যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হবে তা একপ্রকার নিশ্চিত। যদিও বাংলার একটি দৈনিক পোর্টালের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, আগামী আগস্ট মাস থেকে এ রাজ্যে শুরু হতে পারে এসআইআর-এর কাজ। তবে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও সরকারী বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রেই আধার-ভোটার অথবা রেশন কার্ডকে প্রাধান্য দেওয়া হবে নাকি, বিহারের ধাঁচেই নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া ১১টি নথি যেমন— ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগের কোনও সরকারি নথি (ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসির নথিও গ্রাহ্য), জন্মের শংসাপত্র, পাসপোর্ট, শিক্ষা সংক্রান্ত শংসাপত্র (জন্মের তারিখ উল্লেখ থাকা চাই), স্থায়ী বসবাসকারীর শংসাপত্র, এসসি এসটি বা ওবিসির সংশাপত্র, এনআরসি তালিকায় নাম, স্থানীয় প্রশাসনের তৈরি করা পারিবারিক ‘রেজিস্টার’, দলিল বা পর্চার মো জমি-বাড়ির নথি— এগুলোকেই প্রমাণ্য নথিপত্র হিসাবে দেখাতে হবে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারী ভাবে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে এসআইআর নিয়ে যে যথেষ্ট আতঙ্কে আছে রাজ্যবাসী, তার প্রমাণ বাংলাতে গত এক সপ্তাহেই ৭০ হাজারেরও বেশি ভোটার অনলাইনে তাদের ভোটার কার্ড সংশোধন বা আপডেটের জন্য আবেদন করেছেন। এর থেকেই পরিষ্কার যে, রাজ্য চালু হতে চলা এসআইআর নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান রাজ্যবাসী।
বাংলায় বাড়ির কুকুর-ছাগলদেরও আধার কার্ড হয় : দিলীপ ঘোষ

এসআইআরের ফলে বিহারে বাদ পড়েছেন রাজ্যের ৫৭ লক্ষ ভোটার। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে বলেছে আধার নাগরিকত্বের কোনও প্রমাণ নয়। এ নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ।বৃহস্পতিবার দিলীপ ঘোষ আধার নিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাজ সুস্থ নির্বাচন করানো। এসব আধার কার্ড এখন পয়সা দিলেই পাওয়া যায়। বাড়ির কুকুরেরও আধার কার্ড করা সম্ভব। এসব পরিচয়পত্র হিসেবে ধরা হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় বস্তা বস্তা ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড পাওয়া গিয়েছে।” রাজ্যে রাজ্যে বিশেষ করে বিজেপি পরিচালিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন তা নিয়েও মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, “মুর্শিদাবাদের নাম করে যারা যাচ্ছে তারা বেশিরভাগ বাংলাদেশি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশি আর বাঙালি বা বাংলাভাষী গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা ডিমান্ড করব বিহারে যেভাবে ভোটার লিস্ট সংশোধন হচ্ছে, বাংলাতেও নির্বাচনের আগে সেটাই করা উচিত। না হলে পশ্চিমবঙ্গে ফেয়ার ইলেকশন হবে না।” বর্তমান ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নতুন রাজনৈতিক দল খুলে ২০২৬-এর বিধানসভায় ৫০ আসনে প্রার্থী দেবে বলে ঘোষণা করেছেন, এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ওনাকে কেউ কোনোদিন ধরে রাখতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গে যত দল সব করা হয়ে গিয়েছে। তাই নতুন দল করার দরকার। এটা শুধু উনার ইচ্ছা নয়, তৃণমূলও চাইত। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি যা হচ্ছে, ২৬-এর নির্বাচনে যদি কোনও মুসলিম উপমুখ্যমন্ত্রী হয় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। নতুন কোনও দলের যে কথা উঠছে ১০০টা মুসলিম সিট জেতার মতো পরিস্থিতি আছে। নতুন দল হবে মুসলিমদের। তারা দাবি করবে উপমুখ্যমন্ত্রী চাই তাদের। পরের বার বলবে যে মুখ্যমন্ত্রী করবে মুসলিমকে, তাকে আমরা সাপোর্ট করব। মুখ্যমন্ত্রী সব জানেন।”
‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’– নয়া প্রকল্প মমতার

লক্ষ্য মানুষের আরও কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, সোমবার ২১শের সভা থেকে হাজার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার মধ্যেও ঠিক কীভাবে তার সরকার সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়ন পৌঁছে দিচ্ছে তার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলেন। আর মঙ্গলে আরও একটি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মঙ্গলবার নবান্নে বসে ছাব্বিশের নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর সরকারকে আরও বেশি সাধারণের কাছে পৌঁছে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকারি প্রকল্প ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘দুয়ারে সরকার’-এর পর এই প্রকল্পের নাম–’আমার পাড়া, আমার সমাধান’। মূল লক্ষ্য সরকারি পরিষেবাকে আরও তৃণমূল ও প্রান্তিক স্তরে পৌঁছে দেওয়া। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বলেন, ”ছোট ছোট কাজের জন্য আমাদের নতুন প্রকল্প– আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান। মানুষের এই প্রকল্প নিয়ে সরকার এবার পথে নামছে। এটা ছোট্ট প্রোগ্রাম। কিন্তু পরে বিস্তৃত হবে। সারা দেশে এধরনের উদ্যোগ এই প্রথম। মানুষ নিজেদের বুথ, নিজেদের গ্রামের সমস্যার সমাধান পাবে।” কীভাবে এই ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ প্রকল্প কাজ করবে? তাঁর ব্যাখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, ”তিনটি করে বুথ নিয়ে একটা কেন্দ্র হবে। রাজ্যে মোট ৮০ হাজার বুথ আছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে একদিন করে ক্যাম্প হবে। আগামী ২রা আগস্ট থেকে শুরু হবে ক্যাম্প। কাজটা শেষ করতে ২ মাস সময় লাগবে। ক্যাম্পগুলিতে সারাদিন থাকবেন সরকারি অফিসাররা। বুথে মানুষজন এসে গ্রামের সমস্যার কথা জানাবেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে অফিসাররা ঠিক করবেন, কতটুকু কাজ করা যাবে। স্বচ্ছতা বজায় রেখে, অনলাইন পোর্টালে কাজ হবে।” প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দের কথাও এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, প্রতি বুথের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ। সবমিলিয়ে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। তৈরি হবে রাজ্যস্তরে মু্খ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স। জেলাস্তরেও থাকবে এই টাস্ক ফোর্স। দু মাস ধরে কাজ হবে। মাঝে শুধু পুজোয় ১৫ দিন ছুটি থাকবে।
‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণায় দেশের প্রথম সাজা রানাঘাটে, ৯ জনের যাবজ্জীবন

সাইবার-অপরাধের বিরুদ্ধে সারা দেশে নজির গড়ল রানাঘাট পুলিশ জেলা। কীভাবে? শুরু থেকে শুরু করা যাক। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’, অতঃপর সেই অ্যারেস্ট-এর হাত থেকে বাঁচতে বিপুল পরিমাণ অর্থব্যয়, এবং তারপর পুলিশে অভিযোগ। গত বছরের ৬ নভেম্বর। রানাঘাট পুলিশ জেলার অন্তর্গত কল্যাণী সাইবার থানায় জমা পড়ে অভিযোগ। প্রতারিত ব্যক্তি জানান, মুম্বই পুলিশের এক আধিকারিকের পরিচয় দিয়ে তাঁকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে এক জালিয়াত, এবং রেহাই পাওয়ার আশায় সেই ‘পুলিশ অফিসারের’ নির্দেশমতো ১ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করে দেন তিনি। এই পর্যন্ত ঘটনাবলী চেনা পথেই এগোচ্ছে, তাই তো? আপনারা প্রায় সকলেই জানেন, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কিছু হয় না। কিন্তু বহুল প্রচার সত্ত্বেও এই প্রতারণার ফাঁদে পড়েই চলেছেন অনেকেই। আরও অনেক মামলার মতোই এই মামলাটিও অনির্দিষ্টকাল চলতে পারত, শেষমেশ হয়তো জালিয়াতির টাকা উদ্ধারও হতো, কিন্তু শাস্তি হত না অপরাধীদের। কারণ সাইবার জগতে অপরাধীদের ‘ট্র্যাক’ করা খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার চেয়েও দুরূহ। কিন্তু এখানেই বদলে গেল ছবি। তদন্তকারী অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর দেবারুণ দাস ও তাঁর টিম নামলেন ছক ভাঙার খেলায়। তদন্তে প্রকাশ পেল, যে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন এসেছিল প্রতারিতের কাছে, তার অবস্থান দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার কাম্বোডিয়ায়। অথচ সিম কার্ড জারি করেছে একটি ভারতীয় মোবাইল পরিষেবা সংস্থা, এবং কাম্বোডিয়ায় বসেও পরিষ্কার বাংলা ও হিন্দিতে কথা বলছে ফোনের মালিক। শুধু তাই নয়, যেসব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করেন প্রতারিত, সেগুলির মালিকও সবাই ভারতীয়। সেই শুরু। প্রযুক্তির সাহায্যে এরপর সামনে আসে আরও অসংখ্য তথ্য, এবং এক মাসের বেশি সময় ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে হানা দিয়ে অবশেষে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, গুজরাট এবং রাজস্থান থেকে দেবারুণ ও তাঁর টিম গ্রেফতার করেন মোট ন’জন অভিযুক্তকে। জানতে পারেন, এই ন’জনের নামে জাতীয় স্তরে জমা পড়েছে ১০০-র বেশি অভিযোগ, এবং এরা জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেই এদের ‘রোজগার’ প্রায় ৬ কোটি! তদন্ত চলাকালীন সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ প্রামাণ্য তথ্য গুছিয়ে চার্জশিট দাখিল করার পাহাড়প্রমাণ কাজটিও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়। ফলে— ভারতে এই প্রথম ডিজিটাল অ্যারেস্ট সংক্রান্ত কোনও মামলা পৌঁছোয় আদালতে বিচারপর্ব পর্যন্ত। এবং এখানেই শেষ নয়, বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর শ্রী বিভাস চ্যাটার্জির তত্ত্বাবধানে মাত্র সাড়ে চার মাসে সম্পন্ন হয় বিচারপর্ব। মামলার রায় বেরিয়েছে আজ। শাহিদ আলি শেখ, শাহরুখ রফিক শেখ, যতীন অনুপ লাডওয়াল, রোহিত সিং, রূপেশ যাদব, সাহিল সিং, পাঠান সুমাইয়া বানু, এবং অশোক ফালদু-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রাস্তায় নেমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুংকার দিলেও অনুপ্রবেশ যে বন্ধ হবেই, সাফ জানালেন মোদী

একদিকে যখন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে কাজ করতে যাওয়া বাঙালিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল কংগ্রেস। ঠিক সেই সময় বাংলায় দাঁড়িয়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর বার্তা দিলেন আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার এই ইস্যুতে ধর্মতলায় সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেন প্রতিবাদ মিছিলও । আর দুর্গাপুরে দাঁড়িয়ে অনুপ্রবেশ নিয়ে যে কোনো আপোষ নয় তা স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার দুর্গাপুরে দলীয় সভা মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে টার্গেট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ” তৃণমূল নিজের স্বার্থে বাংলাকে অসম্মানিত করছে। রাজ্যের সম্মানকে মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে। এই করে আসলে অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে ফন্দি আটছে। অনুপ্রবেশকারীদের দেশে কোন স্থান নেই কোন জায়গা নেই যে ভারতের নাগরিক নয় বেআইনি প্রবেশ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সংবিধান মেনে বর্তমানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনে রাখবেন এটা মোদীর গ্যারান্টি।” তিনি আরও বলেন,” টিএমসি নিজের স্বার্থের জন্য অনুপ্রবেশকারীদের নকল কাগজ বানিয়ে দিচ্ছে। দেশের সুরক্ষার জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক। দেশের সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকেও আক্রমণ করছে টিএমসি। যে ভারতের নাগরিক নয়, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী। যে কোনও ধরণের চক্রান্ত বিজেপি সফল হতে দেবে না। বাংলার ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রয়োজন। ” উল্টে তৃণমুলের আমলে এই বাংলায় বাঙালিরা আক্রান্ত বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি এই রাজ্যে মহিলারাও যে সুরক্ষিত নয় বলে দাবী করেন নরেন্দ্র মোদী। বাংলার হাসপাতাল ডাক্তার তরুণীর উপর অত্যাচার হয়েছে। অভয়া কাণ্ড মনে করালেন মোদি। বললেন, “কীভাবে তৃণমূল অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে?” কসবা কাণ্ডও উঠে এলো মোদির বক্তব্যে। বললেন, “এক কলেজে এক তরুণীর উপর ভয়ংকর অত্যাচার হয়েছে। অভিযুক্তের তৃণমূলের যোগ মিলেছে। এগুলোই তৃণমূলের নির্মমতার সাক্ষী।” বাংলাকে এই নির্মমতা মুক্ত করার ডাক দিলেন মোদি।
অভিনব কায়দায় অনলাইন জালিয়াতির ছক, লক্ষাধিক টাকার গহনা লুঠ

নকল ফোন পে ব্যবহার করে ট্রানজাকশনের স্ক্রিনশট দেখিয়ে প্রায় চার লক্ষ টাকার সোনার গয়না ডেলিভারি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার এক প্রতারক। অভিযুক্ত রুধীন্দ্রনাথ মান্না নামে মাঝবয়সি ব্যক্তিকে বুধবার রাতে তার বাগুইহাটির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করল হাবড়া থানার পুলিশ। গোটা বারাসত জুড়ে অনলাইন জালিয়াতির ফাঁদ পেয়েছিল এই ব্যক্তি। মূলত তাঁর প্রধান টার্গেটই ছিল সোনার দোকান থেকে মোটা টাকার গয়না লুঠ। সেইমতো চলতি মাসের ১১ তারিখ হাবরার একটি সোনার দোকান থেকে অনলাইনে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার সোনার একটি হার বুকিং করে ওই ব্যক্তি। দোকানের তরফে পাঠানো কিউআর(QR) কোডে তিনি যে সাকসেসফুল পেমেন্ট করেছে তার প্রমাণ হিসাবে এমন একটি স্ক্রিনশটও ওই দোকানের হোয়াটঅ্যাপ নম্বরে পাঠায়। সেইমতো দোকানদার পেমেন্ট পেয়েছি ধরে নিয়ে অভিযুক্তর ঠিকানায় তার বুকিং করা সোনার নেকলেস ডেলিভারি দিয়ে দেন। কিন্তু কয়েকদিনের মাথায় ফের ওই একই ব্যক্তি ৮ লক্ষ টাকার সোনার গয়না একই দোকানে অর্ডার দেন। এমনকী ওই একই পদ্ধতিতে অনলাইনে সেই টাকা পাঠিয়েছে বলে দাবি করে প্রতারক। যেহেতু অনেক বড় অঙ্কের ট্রানজাকশন, তাই দোকান মালিক অ্যাকাউন্ট চেক করে। কিন্তু তখনই তিনি জানতে পারেন এখনকার ৮ লক্ষ টাকার পাশাপাশি আগের ডেলিভারি দেওয়া সোনার নেকলেসের টাকাও তিনি পাননি। তখনই তিনি বুঝতে পারেন জালিয়াতির শিকার হয়েছেন তিনি। এরপরেই হাবরা থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোকান কর্তৃপক্ষ। তদন্তে নেমে পুলিশ বুধবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতেই পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ। তারা বুঝতে পারেন, শুধুমাত্র ওই একটা দোকান নয়, একাধিক দোকানে একই কায়দায় জালিয়াতির ফাঁদ পেতেছিল সে। বৃহস্পতিবার তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করে বারাসত আদালতে তোলা হয়। ধৃতের কাছ থেকে হাবরার সোনার দোকান থেকে প্রতারণা হওয়া গয়নার পাশাপাশি আরও একটি সোনার গহনা উদ্ধার হয়েছে। যেটি অশোকনগরে একটি সোনার দোকান থেকে একইভাবে প্রতারণা করে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাবরা থানায় সাংবাদিক বৈঠক করেন বারাসত জেলার অ্যাডিশনাল এসপি স্পর্শ নীলাঙ্গী। তিনি বলেন— “এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একটি নকল ফোন পে অ্যাপস ব্যবহার করে এই প্রতারণা চালাচ্ছিল। যে অ্যাপসের মাধ্যমে হুবহু নকল পেমেন্ট স্ক্রিনশট বানানো সম্ভব।” পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সাধারণ দোকানিদের সতর্ক করে এসপি বলেন, “আপনার অনলাইন পেমেন্ট নেওয়ার সময় সব সময়ই সতর্ক থাকবেন। যাতে করে এই ধরনের জালিয়াতির শিকার না হতে হয়।” এমনকী এই ঘটনার সঙ্গে আরও বড় কোনও মাথা যুক্ত আছে কিনা তা খুঁজে বের করারও আশ্বাস দেন অ্যাডিশনাল এসপি।