সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত, বার্তা অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়েও

নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপির(BJP) প্রতিশ্রুতির অন্যতম বার্তা ছিল রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা। সরকার গঠন হয়েছে মাত্র দশ দিন হয়েছে। তার মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন বসানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দেওয়া হল নতুন সরকারের পক্ষ থেকে। সরকার গঠন করার পর থেকেই একের পর এক বিরাট সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে বিজেপি সরকার। এবার সপ্তম বেতন কমিশনের(Pay Commission) কথাও ঘোষণা করা হয়ে গেল নতুন সরকারের তরফ থেকে। একইসঙ্গে অন্নপূর্ণা ভান্ডার(Annapurna Bhandar) নিয়েও চলে এল বড়সড় আপডেট। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পরই অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালু হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। আগামী ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাবেন মহিলারা। তবে কারা পাবেন না পাবেন না এই নিয়ে নানান গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। এদিন তাও পরিস্কার করে দেওয়া হল সরকারের তরফে। যারা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন তারা সকলেই ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ৩০০০ টাকা করে পেতে শুরু করবেন। যারা লক্ষ্মীর ভান্ডার পান না, তাদের অনলাইন পোর্টাল শুরু হলেই আবেদন করতে পারবেন। একইসঙ্গে ট্রাইবুনালের আওতায় যারা রয়েছেন, তারাও যে অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাবেন তা সোমবারই নিশ্চিত করে দিয়েছেন শিশু ও নারীকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একইসঙ্গে এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে মহিলাদের জন্য কাছাকাছির পাশাপাশি, দূরপাল্লার সরকারী বাসেও কোনওরকম ভাড়া না লাগার কথা ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির একের পর এক সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মনে কিন্তু বেশ স্বস্তির ছাপই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বছর শেষের আগেই রাজ্যে বাড়ছে মদের দাম

বর্ষবরণের উৎসবের আগেই সুরাপ্রেমীদের জন্য খারাপ খবর। রাজ্যে বাড়ছে মদের(Wine) দাম। ডিসেম্বরের শেষেই বিরাট উৎসব। বর্ষবরণের(New Year Celebration) উদযাপনে রাত জাগবে গোটা শহর। কিন্তু তার আগেই বেড়ে যাচ্ছে মদের দাম। অর্থাৎ আগামী ১ ডিসেম্বর থেকেই বাড়তে চলেছে মদের(Wine) দাম। সেভাবেই ইতিমধ্যে আবগারি দফতরের(Excise Department) তরফে বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়ে গিয়েছে। আগামী মাসের শুরু থেকেই নয়া আবগারি শুল্ক কার্যকরী হতে চলেছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের আবগারি দফতরের পক্ষ থেকে মদ(Wine) প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত হোলসেল এবং ডিস্ট্রিবিউটর আছেন তাঁদেরকেও এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সেখানেই বলা হয়েছে যে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে যাবতীয় পুরনো স্টক শেষ করে ফেলতে হবে। এরপর ১ ডিসেম্বর থেকে তুন দামেই বিক্রি করতে হবে মদ। যদি পুরনো স্টকের জিনিস থেকে যায়, তবে সেগুলোও এই নতুন দাম অনুযায়ীই বিক্রি করতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশি, বিদেশি সহ সব ব্র্যান্ডেই দজাম বাড়ছে। তবে আপাতত এই আওতার বাইরে রয়েছে বিয়ার। দেশি এবং বিদেশি ব্র্যান্ড গুলোতে সর্বনিম্ন ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে চলেছে। এছাড়া ক্রেতাদের মধ্যে যাতে কোনওরকম বিভ্রান্তি না ছড়ায় সেই দিকেও নজর রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে যে সেখানেও নাকি প্রতিটা বোতলের উপরই নাকি স্টিকার লাগানো থাকতে হবে। শোনা যাচ্ছে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে অনেকটাই রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নভেম্বরেই রাজ্যে শুরু SIR প্রক্রিয়া!

নির্বাচনের(Assembly Election) আগে এই রাজ্যেও যে এসআইআর(SIR) হবে তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন(State Election Commision)। অবশেষে রাজ্যে এসআইআর শুরুর দিন ঠিক করে ফেলল নির্বাচন কমিশন। আগামী ১ নভেম্বর থেকেই শুরু হচ্ছে এসআইআর(SIR)। কয়েকদিনের মধ্যেই ডাকা হতে পারে সর্ব দলীয় বৈঠক। গত দুদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ সহ ছয় রাজ্যের সিইওদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছিল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। আভাসটা তখনই পাওয়া গিয়েছিল। আগামী ১ নভেম্বর থেকেই শুরু এসআইআর প্রক্রিয়া। শোনাযাচ্ছে তিন মাসে এই প্রক্রিয়া শেষ করা হতে পারে। সেই মতোই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধুমাত্র বাংলাতেই(West Bengal) নয়, নির্বাচন মুখী অন্যান্য রাজ্য সহ আরও কয়েকটি জায়গাতে এসআইআর(SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর আগামী সপ্তাহেই নাকি জারি হয়ে যেতে পারে নোটিশ। ইতিমধ্যেই এসআইআর(SIR) প্রক্রিয়া শুরুর আগে সমস্তরকম ব্যবস্থাপনা সেরে রাখার নির্দেশ জেলা শাসকদের দেওয়া হয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে। শুক্রবার থেকেই নাকি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে। শোনাযাচ্ছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের স্তরে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হতে চলেছে। একইরকম ভাবে বিভিন্ন জেলায় জেলা শাসকরাও সর্বদলীয় বৈঠক ডাকবেন। এবারের রাজ্য নির্বাচনে এসআইআর যে প্রধান বিষয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যেই চাপান উতোর বাড়ছিল। এবার দিন ঘোষণা হয়ে গিল। রাজ্য রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার।
বালি পাচার কাণ্ড নিয়ে আবারও সক্রিয় ইডি, সাতসকালে রাজ্যের একাধিক জায়গায় অভিযান

বালি পাচার কাণ্ড নিয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ED)। সোমবার সাতসকালেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় অভিযান চলল। একই সঙ্গে বেহালা ও ঝাড়গ্রামে অভিযান চালালো ইডি আধিকারিকরা। এর আগে এই মামলা নিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট অফিসারদের এত তদ্বির চোখে পড়েনি রাজ্যবাসীর। সোমবার সকালে বেহালার জেমস লং সরণীর একটি বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি আধিকারিকরা। সেই বাড়িতে ডিজি মাইনিং নামক একটি সংস্থার অফিস রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তারাও নাকি বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সেখানেও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সংস্থার আরও একটি অফিস রয়েছে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে। তবে সেখানে এখনও পর্যন্ত ইডি আধিকারিকরা যাননি। অন্যদিকে ঝাড়গ্রামে শেখ জহিরুল আলি নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে সুবর্ণরেখা নদীর তীরে তাঁর বাড়ি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নাকি দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণরেখা নদী থেকে বালি তুলে পাচার করতেন। জহিরুল নামের এই ব্যক্তি আগে ভিলেজ পুলিশে চাকরি করতেন। তারপর পাকাপাকি ভাবে চাকরি ছেড়ে বালি ব্যবসায় নামেন। এদিন একেবারে সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়েই তল্লাশি অভিযানে নামে ইডি। শোনা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছে গোটা গ্রাম। সব মিলিয়ে ইডির মোট ৪-৫টি টিম একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে আবারও সক্রিয় ইডি, একাধিক জায়গায় তল্লাশি

পুজোর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আবারও সক্রিয় হতে দেখা গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। সপ্তাহের প্রথম দিন, অর্থাৎ সোমবার সকাল থেকে বাড়ল ইডি তৎপরতা। কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম সহ রাজ্যের অন্তত চার জায়গায় শুরু হয়েছে তল্লাশি। জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এবং তাঁর পিসি তৃণমূল কাউন্সিলর মায়া সাহার বাড়িতেও সাতসকালেই হানা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থার একটি দল। জীবনকৃষ্ণ সাহার আন্দি গ্রামের বাড়িটি ঘিরে ফেলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেই সূত্রের খবর। এমনকী বিধায়কের বাড়ির অদূরে মহিষ গ্রামের বাসিন্দা বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্মী রাজেশ ঘোষের বাড়িতেও হানা দেয় ইডির আরেকটি দল। শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ নয় সোমবার তল্লাশি অভিযান চলে বীরভূমের সাঁইথিয়াতেও। সেখানে জীবনকৃষ্ণ সাহার পিসি তৃণমূল কাউন্সিলর মায়া সাহার বাড়িতেও যান ইডি আধিকারিকরা। নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া রাজ্যের আরও দুই জায়গায় চলছে ইডির অভিযান। এই অভিযানে ইডির সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। এর আগে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। এর ১৩ মাস পর তিনি সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হন। এরপর আবারও ইডির এই তল্লাশি। সব মিলিয়ে অস্বস্তি বাড়ল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। আসলে ২৬শে বঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে এভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো সক্রিয় করে শাসক দলকে চাপে রাখার এটা একটা কৌশল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। যদিও এর আগেও বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে একাধিকবার সরব হয়েছিল বিরোধী দলগুলো। এ রাজ্যেও নির্বাচনের আগে সিবিআই ও ইডির অতি সক্রিয়তা সেই অভিযানকেই যেন মান্যতা দিল। পাশাপাশি বাংলায় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ততই এজেন্সিগুলোর সক্রিয়তা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
পুজোর আগেই আবারও বাংলায় আসার সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর, আসছেন শাহও

গত সপ্তাহেই মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধন করতে বঙ্গ সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই সরকারি প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি দমদমে রাজনৈতিক সভাও করেন তিনি। আবারও পুজোর আগেই নরেন্দ্র মোদীর বাংলায় আসার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও পুজোর আগেই দু বার বঙ্গ সফর করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। অতএব ২৬শে বিধানসভা ভোটকে যে পাখির চোখ করতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, তা স্পষ্ট। গত সপ্তাহে দমদমে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ সভা থেকে তৃণমূলকে সরাসরি নিশানা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূলের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতিকে সামনে রেখে তাদের উৎখাতের জন্য বঙ্গবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাহাত্ম্যকে তুলে ধরে নতুন বাংলা গড়ার আহ্বান জানান মোদী। তাঁর কথায় উঠে আসে বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’র সেই জনপ্রিয় সংলাপ ‘দাদা, আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম’। সবকিছু ঠিক থাকলে পুজোর আগেই অর্থাৎ আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বঙ্গ সফরে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। ওই নদিয়ার নবদ্বীপে একটি প্রশাসনিক সভার পাশাপাশি রাজনৈতিক সভাও করার কথা তাঁর। যদিও মোদীর বঙ্গ সফরের আগেই বাংলায় জোড়া সভা করার কথা অমিত শাহর। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর বিজেপির ‘পঞ্চায়েতি রাজ সম্মেলন’ হওয়ার কথা। সেখানেই প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা অমিত শাহর। যদিও কোথায় এই সভা হবে তা এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। কেননা ১১ হাজার দলীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে একসঙ্গে কোথায় জায়গা দেওয়া হবে, তা নিয়ে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে এখনও আলোচনা চলছে। তবে এই সভা ছাড়াও পুজোর আগে আরও একবার বাংলায় আসবেন অমিত শাহ। মহালয়ার পরের দিন, অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোর উদ্বোধন করার কথা তাঁর। বিজেপি কাউন্সিল সজল ঘোষের পুজো বলে পরিচিত এটি। যদিও এই পুজোর উদ্বোধনে আগেও এসেছেন অমিত শাহ। ওইদিনই বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সাংস্কৃতিক মঞ্চ আয়োজিত দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে অংশ নেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। দু’বছর পরে ওই পুজোর আবার আয়োজন হচ্ছে ইজেডসিসিতে। সব মিলিয়ে বাংলায় বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসবে ততই বিজেপির কেন্দ্রীয় যে পশ্চিমবঙ্গকে হোম টাউন বানিয়ে ফেলবে, সে ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। কেননা বছর ঘুরলেই বঙ্গে বিধানসভা ভোট। যদিও তার আগেই রয়েছে বিহারের নির্বাচন। অতএব বিহারের নির্বাচন মিটলে যে বাংলায় বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের যাতায়াত আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। কেননা বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জ দিতে যে মরিয়া বিজেপি তা মোদী-শাহর ঘন ঘন বঙ্গ সফর থেকেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
জীবন্ত মানুষের শরীরে জন্মাচ্ছে অসংখ্য সুচ! কারণ অনুসন্ধানে ‘বিজ্ঞান মঞ্চ’ ও মালদা স্বাস্থ্য দপ্তর

শরীরে জন্মাচ্ছে গাদা গাদা সুচ! কী চমকে গেলেন তো? হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। জীবন্ত মানুষের শরীরেই মিলছে অসংখ্য সুচ। গোটা শরীরের মধ্যে যেন কিলবিল করছে সুচগুলি। সুচ নাকি বেড়েই চলেছে। যা দেখে গা শিউরে উঠছে। কালা জাদু? মানব শরীরে এই সুচ কাণ্ড নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত পাড়া-প্রতিবেশীরা। যুবকের বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে মেডিকেল টিম। তারপর বিষয়টি স্পষ্ট হবে দাবি মালদা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের। অন্যদিকে ‘কালা জাদু’ বলে আদৌ কিছু হয় না, এমন দাবি করে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বিজ্ঞান মঞ্চও। মালদার কালিয়াচকের সুলতানগঞ্জের মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা মূক ও বধির যুবক হায়দার আলি। তাঁর বয়স ২৭ বছর। ওই যুবকের স্ত্রী নাসিমা খাতুনের বক্তব্য, কয়েক মাস আগে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের একটি নার্সিংহোমে তাঁর স্বামীর পেট থেকে অপারেশন করে দুই দফায় মোট ৩৭টি সুচ বের করা হয়েছে। সেই সুচ চিকিৎসকেরা তাঁদের দেখিয়েওছেন। এখনও পর্যন্ত বাড়ির ঘটিবাটি বিক্রি করে চিকিৎসা চলছে হায়দার আলির। এখন আর তাঁর পরিবারের পক্ষে নার্সিংহোমের খরচ চালানো অসম্ভব। তাঁর পরিবার নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে। কীভাবে স্বামীর শরীরে সুচ তৈরি হচ্ছে জানা নেই। তাঁদের দাবি, ‘কালা জাদু’ করেই স্বামীকে কেউ সুচ ঢুকিয়ে দিচ্ছে শরীরে। এই অবস্থায় প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই পরিবারের। কালিয়াচক থানার সুলতানগঞ্জ মধ্যপাড়া এলাকায় মাসির বাড়িতেই থাকেন প্রতিবন্ধী মূক ও বধির যুবক হায়দার আলি। তাঁর স্ত্রীর নাম নাসিমা খাতুন। ছয় বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের দুবছরের মধ্যেই তাঁদের পর পর দুই সদ্যোজাত সন্তান জন্মের সময়ই মারা যায়। হায়দারের মা সামেনা বিবি, দীর্ঘদিন আগেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর হায়দারের বাবা আলেপ শেখ দ্বিতীয়বার বিয়ে করে আলাদা হয়ে গিয়েছেন। হায়দারের বাবার বাড়ি কালিয়াচকের বাঁধন এলাকায়। গত দেড় বছর ধরেই মূলত হায়দার আলির শরীরে এই সুচ সমস্যা তৈরি হয়েছে। নিজে নিজেই সূচ জন্ম নিচ্ছে। হায়দারের এক আত্মীয় মহম্মদ সাকির শেখ বলেন, “গত দেড় বছর আগে হায়দার যখন শরীরের যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। তখন ওকে মালদা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এক্স-রে রিপোর্ট দেখার পরেই সকলের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। হায়দারের হাতে, পেটে, পিঠে কিলবিল করছে সূচ। গত দুই মাস আগে সামসেরগঞ্জের একটি নার্সিংহোমে অস্ত্রোপ্রচার করে হায়দারের শরীর থেকে দুই দফায় মোট প্রায় ৩০টি সুচ বার করেছিলেন চিকিৎসকেরা। সেই সুচ বেশ বড় সাইজের। আবারও নাকি হায়দারের শরীরে অসংখ্য সূচ দেখা দিয়েছে।” এদিকে হায়দারের শরীরের এই সুচ কাণ্ড নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত পাড়া-প্রতিবেশীরা। স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ আনারুল শেখ ও যশোদা বর্মনদের বক্তব্য, “এমন অসুখের কথা জীবনে কোনদিনও শুনিনি। জীবন্ত মানুষের শরীরে অসংখ্য সুচ। এটা ভাবাই যায় না। এক্স-রে ছবিতে হায়দারের দুই হাতে, পেটে অসংখ্য সুচ ধরা পড়েছে। এটা কি করে সম্ভব। এই ঘটনার পিছনে অবশ্যই কিছু অন্য কারণ রয়েছে।” তবে এই ঘটনার পেছনে ‘কালা জাদু’র কোনও ঘটনা জড়িত নেই বলে দাবি করেছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের জেলা সম্পাদক মনোরঞ্জন দাস। মালদার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুদীপ্ত ভাদুড়ি বলেন, “আগে দেখতে হবে ওই যুবক কোনও সময় মাদকাসক্ত ছিল কিনা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ব্যবহার করে নেশা করে থাকে কেউ কেউ। শরীরে সুচ ঢুকে থাকলে সেটার একটা প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আগে রোগীকে আমরা মানসিক দিক দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে দেখব। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি টিম ওই যুবকের বাড়িতে যাবে।” চিকিৎসকরা বলছেন, মানবদেহে কখনো সুচের জন্ম হয় না। তাঁদের যুক্তি, যেহেতু ওই যুবক মানসিক রোগী তাই হয়ত নিজে নিজেই সে শরীরের মধ্যে সুচ ঢুকিয়েছে, না হলে যেহেতু ওই যুবক মূক ও বধির তাই তাকে সুস্থ করে তোলার নাম করে কোনও ওঝা তার দেহে সুচ ঢুকিয়ে দিয়েছে। তবে সমস্তটাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলার সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে লাফিয়ে বাড়ছে নতুন ভোটারের সংখ্যা

এসআইআর (SIR) নিয়ে ক্রমশ আশঙ্কা বাড়ছে রাজ্যবাসীর মনে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপও। স্বাভাবিক ভাবেই বাংলায় এসআইআর চালু হওয়া নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কেই আছেন সাধারণ মানুষ। গত মাস থেকে ভোটার এবং আধার কার্ড সংশোধনের জন্য যে পরিমাণ আবেদন পত্র জমা পড়েছে তাতে করে ছবিটা পরিষ্কার। এই আবহে সামনে আসছে আরও একটি তথ্য। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন মাসে রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলি থেকে সবচেয়ে বেশি আবেদন পত্র জমা পড়েছে নতুন ভোটার নিবন্ধনীকরণের জন্য। যে সীমান্তবর্তী এলাকার ভুয়ো ভোটার বা বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে বারবার অভিযোগ করা হয়। এমনকী এই প্রশ্নে রাজ্যের শাসক দলের দিকেই ওঠে অভিযোগের আঙুল। শাসক দল তৃণমূল নাকি এই ভুয়ো ভোটারদের নিজেদের ভোট-ব্যাংক বাড়াতে কাজে লাগায়। এই আবহে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নতুন ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়া নিঃসন্দেহেই তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন দফতরের এক আধিকারিকের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলি যেমন— উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং কোচবিহার জেলায় নতুন ভোটার তালিকাভুক্তির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। গত তিন মাসে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নতুন ভোটার রেজিস্ট্রেশন ৯ গুণ বেড়েছে। আগে যেখানে বিধানসভা কেন্দ্র পিছু গড়ে ১০০টি আবেদন জমা পড়ত, এখন সেখানে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি মাসে প্রায় ৯০০। পাশাপাশি ২০২৬-শের নির্বাচনকে মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে। গত দিল্লি বিধানসভার মডেলেই কলকাতা এবং পাশ্ববর্তী শহরাঞ্চলের বহুতল আবাসন ভবনের নিচের নীচে পোলিং বুথ তৈরি করার পরিকল্পনা নিচ্ছে। তবে সেখানে অবশ্য কমপক্ষে ৬০০ মানুষের জনবসতি থাকতে হবে। শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভোট সচেতনতা বাড়াতেই কমিশনের এই উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, “ভারতীয় নির্বাচন কমিশন আমাদের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। গত দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে এটি চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তাতে সেখানে ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবার তা বাংলাতেও চালু করা হবে।” বাংলায় বিগত নির্বাচনগুলিতেও গ্রামের তুলনায় শহরাঞ্চলের প্রাপ্ত ভোট শতাংশ অনেকটাই কম ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের এই নতুন প্রকল্পের ফলে শহরাঞ্চলে ভোটদানের হার আদৌ বাড়ে কিনা, সেটাই দেখার।
‘দাদা সাহেব ফালকে টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন অশোকনগরের গৃহিণী পলি ঘোষ

অশোকনগরেই থাকে বাংলার সেরা সুন্দরী! যিনি বাংলার সেরা সুন্দরী হওয়ার পাশাপাশি পেয়েছেন দাদা সাহেব ফালকে টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ডও। মফস্বল শহর অশোকনগরের গৃহিণী থেকেই সংসার সামলে গ্ল্যামার জগতের সেরাদের তালিকায় উঠে আসা, পলি ঘোষ এখন রীতিমতো সেলিব্রিটি। অশোকনগরের এই গৃহিণী এখন টলিউড, এমন কি বলিউডেও সাড়া ফেলে দিয়েছেন। সিনেমায় অভিনয় থেকে মডেলিং, অ্যাড শুট সহ নানা অনুষ্ঠানে এখন সেলিব্রিটি হিসেবেই দেখা যায় তাঁকে। ইতিমধ্যে টলিউড ও বলিউডের পরিচালকরাও যোগাযোগ করছেন তাঁর সঙ্গে। সংসার সামলে এই সাফল্যে আজ রীতিমতো সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন অশোকনগরের এই গৃহবধূ। এখন বহু নারীর কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন তিনি। ভাবছেন তো কে এই পলি ঘোষ! ছোটবেলা থেকেই উত্তরবঙ্গে বড় হওয়া তাঁর। বাবার কর্মসূত্রে পড়াশোনা ফারাক্কাতে। মালদা উইমেন্স কলেজ থেকে গ্রেজুয়েশন, পরবর্তীতে কর্মসূত্রে শিলিগুড়ি যাওয়া। সেখানেই মিশন স্কুলে শিক্ষকতার কাজ করতেন পলি। পরবর্তীতে আবারও বাবার কর্মসূত্রেই বারাসাতে আসা। সেই কারণে শিক্ষকতার চাকরি ছাড়তে বাধ্য হলেও, ভেতরে ভেতরে কিছু করে দেখানোর ইচ্ছা ও চেষ্টা থেকেই গিয়েছিল তাঁর। ছোটবেলা থেকেই মডেলিং, গ্ল্যামার জগত আকৃষ্ট করত পলিকে। কিন্তু কোনদিনও ভাবেননি এই সাফল্য তিনি ছুঁতে পারবেন অনায়াসেই। এরপর বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। অশোকনগরের শ্বশুরবাড়িতেই এরপর সংসারের হাল ধরতে হয় গৃহিণী পলি ঘোষকে। তবে হেঁসেলে আটকে থেকেই নয়, নিজেকে কিছু করে দেখানোর লড়াই থেকেই এরপর আবারও গ্ল্যামার জগত ও র্যাম্পে হাঁটার সাহস দেখান গৃহিণী পলি ঘোষ। মায়ের এই ইচ্ছেকে সম্মান জানিয়ে সব রকম ভাবে তাঁর পাশে থেকেছেন মেয়ে সম্প্রীতি ঘোষও। স্বামী অতনু ঘোষ সব রকম ভাবেই স্ত্রীকে এগিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তি যুগিয়েছেন বলেও জানান পলি ঘোষ। ইতিমধ্যেই, ২০২৫-এ ‘মিস অ্যান্ড মিসেস বেঙ্গল’ কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করে বাংলার সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হয়েছেন গৃহবধূ পলি ঘোষ। এখানেই শেষ নয়, এরপর গ্ল্যামার জগতের আরও এক বড় মাইলফলক ছুঁয়েছেন অশোকনগরের এই গৃহিণী। গ্ল্যামার জগতের অন্যতম স্বীকৃতি ‘দাদা সাহেব ফালকে টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ড’ হাতে উঠেছে তাঁর। মিসেস বেঙ্গল হওয়ার পরেই, বিশেষ কমিটি অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করেন পলিকে। মণিকা বেদীর হাতে বলিউড সুপারস্টার থেকে সাউথ ইন্ডিয়ান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মাঝেই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয় বাংলার এই সুন্দরীর হাতেই। বাংলার সেরা সুন্দরী হওয়ার ক্রাউন টলিউড অভিনেতাদের উপস্থিতিতে আগেই মিলেছিল। এবার লক্ষ্য আরও বড়। তাই মিসেস ইন্ডিয়া হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সংসার সামলে গ্ল্যামার জগতে সাফল্যের সিঁড়িতে চড়া গৃহিণী পলি ঘোষ। পলি দেবী জানান, “অশোকনগরে যখন প্রথম আসি তখন আমাকে কেউ চিনত না। নিজের রান্না-সংসার নিয়েই থাকতাম। কিন্তু ভেতরে ভেতরে মনে হত কিছু একটা করি, যেখানে মানুষ আমাকে চিনবে। আর তাই হয়তো ঈশ্বর আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন।” এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি ভাইরাল। রিল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, মাকে গ্ল্যামার জগতে এগিয়ে যেতে প্রয়োজনে ক্যামেরাও ধরতে হয় মেয়ে সম্প্রীতিকে। সেও এবার মাধ্যমিকের ছাত্রী। মায়ের এই সাফল্যে আজ যেন সকলের কাছে সেও বেশ গর্বিত। সংসার সামলে নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত রিল ভিডিও এবং পাবলিক কমিউনিকেশন বজায় রেখে চলেছেন গ্ল্যামার জগতের এই নতুন স্টার অশোকনগরের গৃহিণী পলি ঘোষ।
চাকরিহারা শিক্ষকের মৃত্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ আন্দোলনকারীদের

ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের সকালেই মৃত্যু হল চাকরিহারা শিক্ষক সুবল সোরেনের। স্কুল সার্ভিস কমিশন(SSC) মামলায় যে ২৬ হাজার জন শিক্ষক চাকরিচ্যুত হয়েছেন, সেই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন সুবল। বেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩৫ বছরেই মৃত্যু হয়েছে চাকরিহারা এই শিক্ষকের। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন ৩৫ বছরের সুবল। সোমবার হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রাথমিকভাবে ডেবরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। কিন্তু আইসিইউ না থাকায় তাঁকে আনা হয় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। এবার সুবল সোরেনের মৃতদেহ লোপাটের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্যাতিতা চিকিৎসকের ক্ষেত্রে যেরকমভাবে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে পরিবারের লোকজনকে না জানিয়ে সুবলের দেহ নিয়েও পুলিশ চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। শেষমেশ আন্দোলনকারীরা শববাহী গাড়ি আটকে দেন। এই পুরো ঘটনার দায় তারা চাপিয়েছেন রাজ্য সরকারের উপর। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের দুর্নীতির কারণেই যোগ্য হয়েও চাকরি চলে গিয়েছিল সুবলের। সেই মানসিক চাপ সামলাতে না পারায় বেনস্ট্রোক হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। অনেকদিন ধরেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন সুবল। তাঁর স্ত্রীর দাবি, চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই সুবল প্রবল মানসিক কষ্টে ভুগছিলেন। এমনকী ওষুধ পর্যন্ত খেতে চাইতেন না। এই গোটা ঘটনার দায় রাজ্য সরকারের উপর চাপিয়েছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, “মৃত্যুর সমস্ত দায় রাজ্য সরকারের। তাদের দুর্নীতির দায় যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ঘাড়ে করে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।” সেইসঙ্গে তিনি আরও দাবি করেছেন যে, সুবলের পরিবারের এক সদস্যকে চাকরি দিতে হবে। পাশাপাশি ১০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবিও তুলেছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক।