‘নো মোর ব্যাক বেঞ্চার’—অভিনব এই উদ্যোগ নিল মালদা শহরের এক স্কুল

‘নো মোর ব্যাক বেঞ্চার’—অর্থাৎ আর কেউ পিছিয়ে নেই। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধীরা যতই টিপ্পুনি কাটুক না কেন, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের এই অভিনব ভাবনাকে বাস্তবায়ন করতে এবার এগিয়ে এল মালদা শহরের অক্রুরমণি করোনেশন ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ। যার অঙ্গ হিসেবে মঙ্গলবার মালদার এই স্কুল কর্তৃপক্ষ গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্রদের ক্লাস নিলেন শিক্ষা দপ্তরের নতুন ভাবনা অনুযায়ী। ক্লাসঘরে বেঞ্চের পর বেঞ্চ সাজিয়ে নয়, বরং ক্লাসঘরে চৌকা ভাবে (অনেকটা ইংরেজি U আকৃতির মতো) ডেস্ক সাজিয়ে তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছাত্রদের ক্লাস নিলেন স্কুল শিক্ষক। গোটা ভারতবর্ষের মধ্যে একমাত্র কেরালার বেশ কিছু স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের এই ভাবে বসার ব্যবস্থা থাকলেও, বাংলায় এই প্রথম এ ধরনের ভাবনা বাস্তবায়িত হতে দেখা গেল— যা নিঃসন্দেহেই অভিনবত্বের দাবি রাখে। আর সেই কাজটাই এবার করে দেখাল মালদা শহরের এই স্কুল। রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের এই ভাবনা প্রসঙ্গে অক্রুরমণি করোনেশন ইনস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয়কৃষ্ণ রায় জানালেন, “ক্লাসঘরে যে সমস্ত ছাত্ররা পেছনের বেঞ্চে বসে তারা কিছুটা হীনমন্যতায় ভোগে। তাই সেই সমস্ত ছাত্রছাত্রদের হীনমন্যতা দূর করতে শিক্ষা দপ্তর এই পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এইভাবে ক্লাস নিলে সমস্ত ছাত্রদের প্রতি সমানভাবে নজর দেওয়া সম্ভবপর হয়। এবং ক্লাসঘরের প্রথম বেঞ্চের সঙ্গে শেষ বেঞ্চের যে দূরত্ব, সেটা আর থাকে না। ফলে খুব সহজেই সকলকে পড়াশোনার বিষয়ে মনোযোগী করে তোলা সম্ভব।” সেই কারণেই রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের এই ভাবনাকে বাস্তবায়ন করতে তারা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে করে ছাত্ররা উপকৃত হবেন বলেই অভিমত প্রধান শিক্ষকের।
বাড়ি ভারত, বেতন বাংলাদেশের

প্যারালাল নিউজ ডেস্ক: আদপে এই দম্পতির বাস পশ্চিমবঙ্গ, নদিয়া জেলায়। কিন্তু চাকরি করে সংসার চালান বাংলাদেশে। আসলে বাংলাদেশের নাগরিক। তবে বর্তমানে থাকেন নদীয়ায় কল্যাণীতে। এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এবার একটু ঘটনাতে আসা যাক।দুর্লাভানন্দ বাড়ৈ বাংলাদেশের মাদারিপুর শশীকর স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে বর্তমানে কর্মরত। আর তাঁর স্ত্রী চম্পা মণ্ডল রয়েছেন ওই একই মহাবিদ্যালয়ে সমাজবিদ্যা বিভাগে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভারতে বসবাস করেও তারা বাংলাদেশের কলেজ থেকে বেতনের টাকা তুলছেন । যদিও তা অস্বীকার করেছেন দুর্লাভানন্দ বাড়ৈ। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছেন, অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। স্ত্রী অসুস্থ। চিকিত্সার জন্য মোট ২ দফায় ৬ মাস ছুটি নিয়েছেন। কোনও নিয়ম ভাঙা হয়নি। নিয়ম মেনেই সবকিছু হয়েছে। স্থানীদের দাবি, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর দুর্লাভানন্দ ও তাঁর স্ত্রী চম্পা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। কিছুদিন পরে দুর্লাভান্দ দেশে ফিরলেও তার স্ত্রী এখনো ভারতেই রয়েছেন। যাওয়ার আগে চম্পা মন্ডল চেকে সই করে রেখে যান। সেই চেক দিয়েই নিয়মিত বেতন-ভাতা তোলেন। গত ১৮ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দফতর থেকে উভয়ের এমপিও বাতিল করা হয়েছে। আদেশে স্বাক্ষর করেন সচিব দীপায়ন দাস শুভ। অধ্যক্ষ দুর্লভানন্দ বাড়ৈ ভারতে থাকাকালে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিমল পান্ডে। কলেজের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এই দম্পতি কলেজের পরিচালনা পর্ষদ ও প্রশাসনিক মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সহযোগিতা করছেন অফিস সহায়ক সজল সরকার।নবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা প্রেমানন্দ সরকার বলেছেন, দুর্লভানন্দ বাড়ৈ চাকরি নিয়েছেন অনিয়ম করে। তিনি ভারতের কল্যাণীতে বাড়ি করেছেন। সেখানেই তার স্ত্রী-সন্তানরা আছেন। অথচ, বেতন তুলছেন বাংলাদেশে। নামমাত্র মেডিকেল লিভ নিয়েছেন। বেসরকারি কলেজে এক মাসের বেশি ছুটি হয় না। অথচ, তিনি ছুটি নিয়েছেন ৬ মাসের। ডাসার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল আরেফীন বলেছেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিঙ্গারা – জিলিপি নিয়ে কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা মানবে না রাজ্য : কুনাল

প্যারালাল নিউজ ডেস্ক: সিঙ্গারা – জিলিপি নিয়ে কেন্দ্রের ‘ সতর্কীকরণ ‘ মানবে না রাজ্য। মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন তৃনমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক একটা নির্দেশকা জারি করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর ক্ষেত্রে, তাতে বলা হয়েছে আর তা অনুযায়ী জিলিপি-শিঙাড়ার মতো খাবার খাওয়ার বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ছাত্রছাত্রী-শিক্ষকশিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের সতর্ক করতে বলা হয়েছে। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবারে ঠিক কত পরিমাণ ক্যালোরি আছে, কতটা চিনি ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা কী পরিমাণ ট্রান্স-ফ্যাট রয়েছে-তা জানাতে হবে। ক্যান্টিনগুলোতে এই নিয়ে সতর্কতামূলক পোস্টার টাঙাতে হবে। তা নিয়ে কুণাল ঘোষের সাফ বক্তব্য , “মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে এধরনের কোনও ফতোয়া মানা হবে না।” তিনি আরও বলেন “গুণমান ঠিক থাকলে কে কী খাবে, তাতে বাংলায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।” সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “সিঙাড়া-জিলিপির উপর কুনজর পড়েছে কেন্দ্রের। নানারকম ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে এধরনের কোনও ফতোয়া মানা হবে না। কারণ, সিঙাড়া-জিলিপি যারা খান তাঁদের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। গুণমান যদি ঠিক থাকে, তাহলে কে কীভাবে খাবেন তা নিয়ে বাংলায় কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না।” সিঙাড়া-জিলিপি যেভাবে তাতে গায়ে স্টিকার দিয়ে…! হচ্ছেটা কী! যার যা ইচ্ছে খাবেন।”
স্কুলের সময় পার হয়ে গেলেও শিক্ষকের দেখা নেই বৃষ্টিতে ভিজতে হলো পড়ুয়াদের

প্যারালাল নিউজ ডেস্ক: সামসেরগঞ্জ এর জয় কৃষ্ণপুর ২ প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ঘটনা, প্রায় কিছুদিন থেকেই স্কুলের সময় হলেও মাস্টার দেখা মিলছে না। ছাত্র-ছাত্রী ঠিক সময়ে এলেও গেট সঠিক সময়ে খুলছে না বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের আজ মঙ্গলবার সঠিক সময়ে ছাত্র-ছাত্রী স্কুল এসে দেখে গেটে তালা লাগানো সে সময় হঠাৎ করে বৃষ্টি চলে আসে। বৃষ্টিতে ছাত্র-ছাত্রীরা কোথায় থাকবে তার জায়গা পাচ্ছে না বাধ্য হয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা আশেপাশের বাড়িতে আশ্রয় জায়গা পাই এবং কিছু স্টুডেন্ট স্কুলে গেটের সামনে কার্নিশের নিচে দাঁড়িয়ে পড়ে এমনই ঘটনা এলাকাবাসীর চোখে পড়ে, এলাকাবাসীর অভিযোগ ছাত্র-ছাত্রী স্কুলের সঠিক সময় এলেও মাস্টার মাস্টার সঠিক সময়ে স্কুল আসছে না গ্রামবাসী আরো অভিযোগ করে জয়কৃষ্ণপুর দুই প্রাথমিক বিদ্যালয় যে ছাত্র-ছাত্রীরা আছে তাদেরকে দিয়ে নোংরা পরিষ্কার করায় এমন অভিযোগ উঠেছে স্কুলের মাস্টারদের বিরুদ্ধে। স্কুলের খাবার নিয়ে অভিযোগ উঠেছে যে প্রতিদিন যে ইস্কুলে খাবার দিচ্ছে সে খাবার সঠিকভাবে পাচ্ছে না,এমনই অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী, জয় কৃষ্ণপুর ২ প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক অস্বীকার করেন।
২১ শে পাল্টা কর্মসূচির ডাক শুভেন্দুর, ” গুরুত্বহীন ” মন্তব্য মমতার

প্যারালাল নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাই তৃণমূলের শহীদ দিবসের দিনই পাল্টা রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার কসবা ল কলেজ সহ রাজ্যে একাধিক ধর্ষনের ঘটনা নিয়ে ” কন্যা সুরক্ষা যাত্রা ” নামে একটি কর্মসুচি নিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তারই অঙ্গ হিসাবে তৃণমূলের সমাবেশের দিনই বিজেপি বিভিন্ন জেলা জুড়ে পদযাত্রা এবং উত্তরবঙ্গের উত্তরকন্যায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন। তবে, ২১ শে জুলাই একই দিনে বিরোধী দলনেতার এই কর্মসূচিকে যে তিনি খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না তা স্পস্ট করে দিয়েছেন খোদ তৃনমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা এই ধরনের কর্মসূচিকে তুচ্ছ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন “এটি কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এগুলিতে মনোযোগ দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই,” সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ আমাদের একমাত্র লক্ষ্য শহীদদের সম্মান জানানো এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও সফল অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা। ” তিনি পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক করেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে, মূখ্যমন্ত্রী ভারতের অন্যান্য রাজ্যে তাদের মাতৃভাষা বলার কারণে বাঙালিদের হয়রানির সম্মুখীন হওয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “কেউ কেবল বাংলা বলার জন্য আক্রমণের শিকার হলে তা অগ্রহণযোগ্য,” তিনি বলেন। মুখ্যমন্ত্রী তার মন্ত্রীদের স্থানীয় পর্যায়ে বিক্ষোভ আয়োজন করতে এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্মান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বলেন। “অন্যান্য রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বাস করে, এবং আমরা সর্বদা তাদের মর্যাদার সাথে স্বাগত জানিয়েছি,” ব্যানার্জি বলেন। “কিন্তু ভারতের অন্যান্য অংশে কর্মরত ২২ লক্ষেরও বেশি বাঙালি বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছেন। এটি চলতে পারে না।” কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে সরকার হয়তো এই ঘটনাগুলির প্রতিবাদে আরও বৃহত্তর প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কেবল প্রশাসনিক মাধ্যমে নয় বরং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও, যার লক্ষ্য বাংলা ভাষা এবং পরিচয় রক্ষা করা।
‘রাজ্য নেতৃত্ব কিছু না জানালেও দুর্গাপুরে মোদির সভায় যাবেন ‘কর্মী’ হিসাবে

প্যারালাল নিউজ ডেস্ক: আপাতত কিছুটা হলেও বঙ্গ বিজেপিতে গুরুত্ব বেড়েছে তাঁর । বিশেষ করে আরএসএস পন্থী শমীক ভট্টাচার্য র হাতে বঙ্গ বিজেপির রাশ যাওয়ার পর আলাদা করে দিলীপ ঘোষ কে সংঘঠন এর দায়িত্বও দিয়েছেন শমীক। সায়েন্স সিটিতে নতুন সভাপতির অভিনন্দন সভায় ডাক না পেলেও এবার দুর্গাপুরের মোদির সভায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তবে যাবেন কি? তবে এই সভা নিয়ে আপাতত রাজ্য কমিটি থেকে অফিসিয়ালি তাঁকে কিছু জানানো হয়নি বলে মঙ্গলবার প্রাত: ভ্রমনে এসে জানান তিনি। তবে কি শেষ পর্যন্ত মোদীর সভাতেও যাবেন না? যদিও ইতিমধ্যে খবর দিলীপ ঘোষের কাছে আমন্ত্রণ পত্র পাঠানো হয়েছে রাজ্য কমিটির তরফে। ১৮ সভায় যোগ দিতে ১৭ রাতেই নাকি তিনি দুর্গাপুর যাবেন, সূত্র মারফৎ এটাও খবর। তবে গোটা বিষয় নিয়েও ফের ধোঁয়াশা রেখে দিলেন বিজেপির ‘ দাবাং ‘ দিলীপ। দাবি করলেন, রাজ্য নেতৃত্ব অফিসিয়ালি তাঁকে এখনো কিছুই জানায় নি। এদিন প্রাক্তন সাংসদ বলেন, “আমাকে রাজ্য নেতৃত্বের তরফে কিছু জানানো হয়নি।” তাহলে কি ১৮ তারিখ মোদীর সভায় দেখা যাবে না তাঁকে? মঙ্গলে তাও খোলসা করে দিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। নেতা নয়, বরং ‘কর্মী’ হিসেবে দুর্গাপুর যাবেন। তিনি বলেন,” কর্মীরা আমায় চায়। তাই প্রধানমন্ত্রীর সভায় কর্মীদের মাঝেই আমি থাকবো।” প্রসঙ্গত,দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে সস্ত্রীক পৌঁছে গিয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির এই দাপুটে নেতা। সৌজন্যতা রক্ষা করতে গিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের অনেকের কাছে ‘ ব্রাত্য’ হয়ে যান তিনি। এরই মধ্যে একের পর এক সভা-সমিতিতে দিলীপের অনুপস্থিতিতে মনে করা হচ্ছিল বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে। মাঝখানে তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল। যদিও শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর থেকে বিজেপিতে গুরুত্ব বাড়ছে দিলীপের।
যৌন হেনস্থার অভিযোগ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে, আত্মঘাতী ছাত্রী

ওড়িশা, ১৫ জুলাই: হাড় হিম করার মতো ঘটনা ঘটেছে ওড়িশার বালাসোরের ফকির মোহন অটোনোমাস কলেজে। গত শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসেই নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে দেয় দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সব রকমের চেষ্টা সত্ত্বেও সোমবার রাতে মৃত্যু হয় ওই ছাত্রীর। গোটা ঘটনায় তৎপর ওড়িশা সরকার। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত অধ্যাপককে। বছর ২০-র ওই ছাত্রী তার কলেজের বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহুয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। এ বিষয়ে কলেজের সংশ্লিষ্ট মহল এবং অধ্যক্ষের কাছেও নাকি অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছিলেন দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী। কিন্তু কেউ তার কথায় গুরুত্ব দেয়নি। গত শনিবারও নাকি ওই ছাত্রী এই বিষয়টি নিয়ে অন্য এক অধ্যাপকের সঙ্গেও আলোচনা করে দ্রুত বিচারের দাবি জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী তারপরই নাকি নিজের গায়ে আগুন দেয় ওই ছাত্রী। দেহের ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। ওই ছাত্রীটিকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় বালাসোর জেলা সদর হাসপাতালে। সেখানে তাঁর অবস্থা আরও সংকটজনক হলে, ১২ জুলাই তাঁকে ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু তারপরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। সোমবার রাতে মৃত্যু হয় ওই ছাত্রীর। এইমসের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘তাঁকে বার্নস সেন্টারের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। রোগীকে আইভি লিক্যুইড, আইভি অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল। একটি নল লাগিয়ে হুঁশ ফেরানো হয়। মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল।’ ডাক্তারদের সব রকম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গত ১৪ জুলাই রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ভুবনেশ্বরের এইমসের বার্ন ওয়ার্ডে ওই ছাত্রীকে দেখতে যান। তার বাবা-মাকে সব ধরনের আশ্বাসও দেন তিনি। যদিও ইতিমধ্যেই, ওড়িশা পুলিশ অভিযুক্ত সমীর সাহু এবং ফকিরমোহন কলেজের বরখাস্ত অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে। আদালতে তাদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃত ছাত্রীর পরিবার।
গ্রেফতার ৩ বাংলাদেশী

প্যারালাল নিউজ ডেস্ক: ফের সীমান্তবর্তী জেলায় গ্রেফতার বাংলাদেশী। তিন বাংলাদেশী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলো রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ। সোমবার রাতে রঘুনাথগঞ্জের কুতুবপুর ঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাদের। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মোহাম্মদ মেসবাউল হক, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবং মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সকলেরই বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। কৃষ্ণসাইল কুতুবপুর ঘাট দিয়ে নদী পেরিয়ে এপারে এসেছিল বলেই প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। যদিও কি উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল ওই তিন ব্যক্তি তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আজ মঙ্গলবার ধৃত তিনজনকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পাঠানো হয় রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশের পক্ষ থেকে।
তন্ময় ভট্টাচার্যের হোয়াটঅ্যাপ চ্যাট ভাইরাল, অস্বস্তিতে আলিমুদ্দিন

কলকাতা, ১৫ জুলাই: বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না সিপিআইএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যের। মাস ছয়েক আগে এক মহিলা সাংবাদিককে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দলের তরফ থেকে তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। যদিও সম্প্রতি সেই সাসপেনশন উঠলেও, তিনি বর্তমানে সিপিএমের রাজ্য কমিটির অধীনেই কাজ করেন। জেলাতে গিয়ে দলের কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর উপর এখনও নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে আলিমুদ্দিন। এরই মধ্যে আবারও বিতর্ক তৈরি হল সিপিএমের এই বর্ষীয়ান নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যকে ঘিরে। সম্প্রতি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কিছু স্ক্রিনশট ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেগুলি আসলে তন্ময় ভট্টাচার্যের সাথে বেশ কিছু মহিলার কথোপকথন। সেই চ্যাটে মহিলাদের সঙ্গে সিপিএম নেতাকে অশ্লীল যৌন উত্তেজক কথাবার্তার পাশাপাশি বেশ কিছু আপত্তিকর ছবিও শেয়ার করতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই মুখ পুড়ল বঙ্গ সিপিএমের। দলের বর্ষীয়ান নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বার বার ওঠায় বেশ অস্বস্তিতে সিপিএম রাজ্য নেতৃত্ব। যদিও এ বিষয়ে লিখিত কোনও অভিযোগ এখনও দলের কাছে জমা পড়েনি। যদি কোনও অভিযোগ জমা পড়ে, সেক্ষেত্রে হয়তো আলিমুদ্দিনে ডেকে পাঠানো হবে তন্ময় বাবুকে। যদিও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি সিপিআইএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পরই তাঁর বক্তব্য জানাবেন। শোনা যাচ্ছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বরাহনগর থানার দারস্থ হয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেছেন, এই বিষয়ে তিনি এখনও পর্যন্ত কিছুই জানেন না, ফলে মন্তব্য করতে পারবেন না। তবে প্রকাশ্যে তন্ময় ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ সিপিআইএম নেতারা এড়িয়ে গেলেও, দলের অন্দরে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হওয়া এই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। এখন সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেন, সেটাই দেখার।
এসএসসি নিয়োগ মামলায় শুনানি শেষ, কিন্তু রায়দান স্থগিত

সোমবার এসএসসি(SSC)-র নয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত মামলার ছিল শেষ শুনানি। এই মামলার রায়ের উপর নির্ভর করছে রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ। এদিন রাজ্য, কমিশন এবং চাকরিপ্রার্থীদের সব বক্তব্য খুঁটিয়ে শোনে বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলাকারীদের মূল অভিযোগ ছিল, রাজ্য সরকার ২০১৬ সালের নিয়ম বাতিল করে নতুন নিয়ম চালু করার চেষ্টা করছে, যার অর্থ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অমান্য করা। কেননা সুপ্রিম কোর্ট পুরনো নিয়মেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিল। চাকরিপ্রার্থীদের তরফে দাবি করা হয়েছিল, যেখানে ২০১৬ সালের প্যানেল থেকেই বহু শূন্যপদ পূরণ করা সম্ভব, সেখানে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার যৌক্তিকতা কী? এছাড়াও শুনানিতে শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা এবং বয়সের ছাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সোমবার আদালতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, কোন বিধি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সংগঠিত হবে সেটা চাকরিপ্রার্থীরা ঠিক করতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোথাও বলা নেই ২০১৬ সালের নিয়ম মেনেই নিয়োগ করতে হবে। এটা ঠিক করার এক্তিয়ার একমাত্র কমিশনের। অন্যদিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এইসব মামলার কারণে নিয়োগ পক্রিয়াই পিছিয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে নতুনরা বঞ্চিত হচ্ছে। যদি আগের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা চাকরিপ্রার্থীরা যোগ্য হয়ে থাকে, তাহলে এত ভয় পাচ্ছে কেন। প্রতিযোগিতায় নামুক।” মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী গোপা বিশ্বাস বলেন, তাদের প্রধান বক্তব্য নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন সুপ্রিম কোর্টের রায়কে মান্যতা দিয়ে ২০১৬ সালের নিয়ম মেনেই হয়। যদিও দিনভর শুনানি শেষে বিচারপরি সৌমেন সেন এবং স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার রায়দান আপাতত স্থগিত রেখেছেন। আপাতত সকলেই তাকিয়ে আছে আদালতের রায়ের দিকেই। কেননা এই রায়ই ঠিক করে দেবে আগামী দিনে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ কোন পথে এগোবে। কেননা এই রায়ের উপর নির্ভর করছে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যত। মামলাকারীদের আশা, আদালত খুব শীঘ্রই রায় ঘোষণা করবে এবং রায়ের ফল তাদের পক্ষেই যাবে।