বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি নির্যাতনের প্রতিবাদ রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তথা তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকী ওই দিন কলেজ স্ট্রিট থেকে ডোরিনা ক্রসিংয় পর্যন্ত মিছিলে পা-ও মেলান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলের শেষে প্রতিবাদ সভাও করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেই সভা থেকে বিজেপি বিরুদ্ধে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার পাশাপাশি উঠে আসে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রসঙ্গও। এমনকী তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ওই মঞ্চে সিমিআইএমকে খোঁচা দিলেও কংগ্রেস নিয়ে তৃণমূল নেত্রী কোনও কথাই বলেননি। যার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, তবে কি কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব ঘোঁচাতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এতদিন পর তৃণমূল নেত্রীর মুখে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রসঙ্গ উঠতেই আবারও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সামনে লোকসভার বাদল অধিবেশন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আবারও এককাট্টা হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। সেসব কথা মাথায় রেখে আজ, অর্থাৎ শনিবার সন্ধে ৭টায় জোটের বৈঠক হওয়ার কথা। লোকসভা ভোটের পর এই প্রথম ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিচ্ছে তৃণমূল। তৃণমূলের তরফে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দেবেন এই বৈঠকে। প্রথমে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের দিল্লির বাসভবনে এই বৈঠক হওয়ার কথা হলেও, পরে তৃণমূলের ২১ জুলাই সমাবেশ সহ অন্যান্য শরিক দলের নেতাদের কিছু অসুবিধার কারণে ঠিক হয়— ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই বৈঠক ভার্চুয়ালি হবে। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, ডিএমকে প্রধান তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরেরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, শনিবারের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে তাঁরা যোগ দেবেন।
স্বাভাবিক ভাবেই কেন্দ্রের বিরোধীদের নিয়ে এই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলেই বিশ্লেষকদের মত। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি মামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম হতে চলা বাদল অধিবেশনে মোদী সরকারকে চাপে রাখতে কৌশল সাজানোর বিষয়েও কথা হতে পারে এই বৈঠকে। যাতে করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধিতার প্রশ্নে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দলগুলি এককাট্টা হয়ে সরব হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে আজ বৈঠকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কী অবস্থান নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাও লক্ষ্যণীয়। কেননা জাতীয় প্রেক্ষাপটে নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় কিনা এই বৈঠকে, সেটাই দেখার। আর সমীকরণ তৈরি হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা কেমন হবে, তাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সব মিলিয়ে সামনে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ভাবে এই বৈঠক যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।







