বীরভূম সফরে মুখ্যমন্ত্রী, বাংলা ভাষার অপমানে রেলিতে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি

২৮ জুলাই বীরভূম সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বাংলা ভাষার অপমানের প্রতিবাদে সেদিন একটি পদযাত্রায় অংশ নেবেন তিনি। পাশাপাশি, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করার কথা রয়েছে তাঁর। এই পদযাত্রায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন কাজল শেখ, চন্দ্রনাথ সিংহ, অনুব্রত মণ্ডল, আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিজিৎ সিংহ-সহ জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব। সফরসঙ্গী দলীয় ও প্রশাসনিক কর্মসূচি শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী রাত্রিবাস করবেন বোলপুরের রাঙা বিতানে। পরদিন, ২৯ জুলাই কলকাতায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে প্রশাসনিক স্তরে চলছে কড়া নজরদারি ও প্রস্তুতি।
‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’– নয়া প্রকল্প মমতার

লক্ষ্য মানুষের আরও কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, সোমবার ২১শের সভা থেকে হাজার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার মধ্যেও ঠিক কীভাবে তার সরকার সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়ন পৌঁছে দিচ্ছে তার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলেন। আর মঙ্গলে আরও একটি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মঙ্গলবার নবান্নে বসে ছাব্বিশের নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর সরকারকে আরও বেশি সাধারণের কাছে পৌঁছে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকারি প্রকল্প ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘দুয়ারে সরকার’-এর পর এই প্রকল্পের নাম–’আমার পাড়া, আমার সমাধান’। মূল লক্ষ্য সরকারি পরিষেবাকে আরও তৃণমূল ও প্রান্তিক স্তরে পৌঁছে দেওয়া। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বলেন, ”ছোট ছোট কাজের জন্য আমাদের নতুন প্রকল্প– আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান। মানুষের এই প্রকল্প নিয়ে সরকার এবার পথে নামছে। এটা ছোট্ট প্রোগ্রাম। কিন্তু পরে বিস্তৃত হবে। সারা দেশে এধরনের উদ্যোগ এই প্রথম। মানুষ নিজেদের বুথ, নিজেদের গ্রামের সমস্যার সমাধান পাবে।” কীভাবে এই ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ প্রকল্প কাজ করবে? তাঁর ব্যাখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, ”তিনটি করে বুথ নিয়ে একটা কেন্দ্র হবে। রাজ্যে মোট ৮০ হাজার বুথ আছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে একদিন করে ক্যাম্প হবে। আগামী ২রা আগস্ট থেকে শুরু হবে ক্যাম্প। কাজটা শেষ করতে ২ মাস সময় লাগবে। ক্যাম্পগুলিতে সারাদিন থাকবেন সরকারি অফিসাররা। বুথে মানুষজন এসে গ্রামের সমস্যার কথা জানাবেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে অফিসাররা ঠিক করবেন, কতটুকু কাজ করা যাবে। স্বচ্ছতা বজায় রেখে, অনলাইন পোর্টালে কাজ হবে।” প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দের কথাও এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, প্রতি বুথের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ। সবমিলিয়ে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। তৈরি হবে রাজ্যস্তরে মু্খ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স। জেলাস্তরেও থাকবে এই টাস্ক ফোর্স। দু মাস ধরে কাজ হবে। মাঝে শুধু পুজোয় ১৫ দিন ছুটি থাকবে।
বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের উপর ‘আক্রমণ’ নিয়ে আগস্ট বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন

প্রথমে রাজপথে মিছিল। পরে ২১শের সভা থেকে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবার বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন হতে পারে। পরিষদীয় দফতর সূত্রে খবর, ৮ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই ইস্যুতে একটি নিন্দাপ্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে নিন্দাপ্রস্তাব আনতে চাইছে রাজ্যের শাসক দল। এছাড়াও এই অধিবেশনে আইন দফতরে বর্তমানে পর্যালোচনাধীন চারটি আইনসভা বিলও উত্থাপন করা হতে পারে। ২১শে জুলাই দলের শহীদ সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে এই ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রস্তাবিত অধিবেশনটি হতে পারে। তবে শুধুমাত্র বাংলায় বা অসমে নয়, সংসদের দুই কক্ষেও এই ইস্যু নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে দলীয় সাংসদদের নির্দেশ দিয়েছেন মমতা-অভিষেক। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন সোমবার নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে, এই অধিবেশনে তৃণমূল সাংসদরা সংসদের ভেতরে-বাইরে সরকারকে এই ইস্যুতে চাপে ফেলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে এটাই প্রথমবার নয়, এর আগেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়। গত বছরের আগস্টে, আরজি কর হাসপাতালে একজন মহিলা মেডিকেল ইন্টার্নের ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ‘অপরাজিতা বিল’ পাস করার জন্য এই বৈঠক করেছিল রাজ্য সরকার।
ফের কি খড়গপুরে প্রার্থী হচ্ছেন দিলীপ ঘোষ?

ফের কি স্বমহিমায় ফিরেছেন ‘দাবাং’ দিলীপ? সুকান্ত মজুমদার-শুভেন্দু জামানায় নিষ্ক্রিয় থাকলেও, শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর ফের আগের মুডে দিলীপ ঘোষ। বেশ অনেকটাই ফুরফুরে দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে খড়গপুরে বসে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে কী তাহলে প্রার্থী হবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব, ”তোমরা যদি বলো, চেষ্টা করব।” তবে আপাতত কোনও রাজনৈতিক দায়িত্ব দেওয়া হয়নি তাঁকে, তা নিয়ে কি আক্ষেপ আছে? দিলীপের বক্তব্য , ”দল যা বলবে, করব। দলের আমার কাছে কিছু চাওয়ার নেই, আমারও দলের কাছে কিছু চাওয়ার নেই।” উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর থেকে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হয়ে রীতিমতো ‘জায়ান্ট কিলার’ হয়ে যান। খড়গপুরের আটবারের বর্ষীয়ান বিধায়ক, কংগ্রেসের জ্ঞানসিং সোহন পালকে হারান দিলীপ। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে লড়াইয়ে তাঁকে নামায় বিজেপি। সেবার জিতে সাংসদ হন। পরে ২০২১ সালের খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দিলীপ ঘোষের বদলে ভোটে জিতে বিধায়ক হন টলি তারকা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। পরের লোকসভা ভোটে অর্থাৎ ২০২৪ সালে দিলীপ ঘোষের কেন্দ্র বদলে দেওয়া হয়। সেবার দলের ইচ্ছায় তিনি বর্ধমান-দুর্গাপুর থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু হেরে যান। তবে ইদানিং সক্রিয়তা বাড়াচ্ছেন জেলায় জেলায়। নিজের গড় খড়গপুরে তাঁকে প্রায়শয়ই দেখা যাচ্ছে। এমনকী নিজের মতো কর্মসূচিও করছেন। তবে কি ফের ভোটযুদ্ধের আগে পায়ের তলার জমি শক্ত করছেন? এই প্রশ্ন উঁকি দেওয়ার মাঝে দিলীপ নিজেই জানালেন, দল এবং অনুগামীরা চাইলে তিনি খড়গপুরের প্রার্থী হতেই পারেন।
আধার-ভোটার কার্ড ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা কমিশনের

সামনে বিহার বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সেখানে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য সমীক্ষার কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। তাতে নথি হিসাবে দেখাতে হচ্ছে নিজের এবং বাবা-মায়ের জন্মের শংসাপত্র। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ডের মতো নথি এক্ষেত্রে বিবেচিত হচ্ছে না। তা নিয়ে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। গত ১০ জুলাই শীর্ষ আদালতে বিহারের ভোটার সমীক্ষার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে চলা শুনানিতে কমিশনকে পরিচয়-তথ্য হিসাবে আধার, রেশন ও ভোটার কার্ডকে গণ্য করার পরামর্শ দিয়েছিল বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ।ওই দিনই নির্দেশ দেওয়া হয়, ২১ জুলাইয়ের মধ্যে জবাব পেশ করতে হবে ইসিআইকে। সেই নির্দেশ মেনে সোমবার বিকেলে হলফনামা জমা দেয় নির্বাচন কমিশন। হলফনামায় দাবি করা হয়েছে, আইনবিরুদ্ধভাবে বা ভোটারদের অধিকার কেড়ে নিয়ে কোনও প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে না। এসআইআর-এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজেরও আবেদন জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তির ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে কিনা সেটা যাচাই করতে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইতেই পারে কমিশন। এই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, আধার কার্ড কেবল পরিচয়পত্র। ভোটার হওয়ার যোগ্যতা প্রমাণে আধার কার্ডের ভূমিকা নিয়ে ৩২৬ ধারায় বিধিনিষেধ রয়েছে।এই সংক্রান্ত বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দু’টি এবং কর্ণাটক হাইকোর্টের একটি পুরনো নির্দেশের অংশও হলফনামা তুলে ধরেছে কমিশন। কমিশনের দাবি, পুরনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই এপিক নম্বর তৈরি হয়। তাই ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র হিসাবে ভোটার কার্ডের বৈধতা নেই। অন্যদিকে দেশজুড়ে ভুয়ো রেশন কার্ডের রমরমা যেভাবে বেড়েছে, তাতে করে রেশন কার্ডের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাই ভোটার তালিকার যোগ্যতা প্রমাণে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র হিসাবে মোট ১১টি নথির তালিকা দিয়েছে কমিশন। কিন্তু শীর্ষ আদালতের সুপারিশ সত্ত্বেও সেই তালিকায় আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেনি কমিশন। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, এসআইআর তালিকায় নাম না থাকলেও কারো নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৮শে জুলাই। আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে বিহারের সাধারণ জনগণ।
আবারও নিম্নচাপের ভ্রূকুটি, ভাসবে বাংলা

টানা বৃষ্টিতে এক সময় নাভিশ্বাস উঠেছিল শহরবাসী। সেখান থেকে গত কয়েকদিনে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে। রোদ ঝলমলে আবহাওয়ায় চড়চড় করে বেড়েছে শহরের উত্তাপ। কিন্তু এই স্বস্তি বোধহয় দীর্ঘস্থায়ী নয়। আবারও নিম্নচাপের সতর্কবার্তা শোনালো আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে নতুন করে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ। যার জেরে ২৩শে জুলাই, অর্থাৎ বুধবার থেকে আবারও ভাসবে কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আগামী ২৪, ২৫ ও ২৬ জুলাই পর্যন্ত। নিরাপত্তার কারণে মৎস্যজীবীদের বুধবার বিকেলের মধ্যে স্থলভাগে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরশু অর্থাৎ ২৪ জুলাই থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের কোথাও বৃষ্টির সতর্কতা না থাকলেও উত্তরবঙ্গে আজ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে রোদের দেখা মিললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোথাও আংশিক আবারও কোথাও বা সম্পূর্ণ মেঘলা আকাশ থাকবে। বুধবার বিকেল অথবা সন্ধ্যার পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্র-বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির শুরুর সম্ভাবনা। সঙ্গে বইতে পারে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া। বুধবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি এবং কলকাতাতে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলো যেমন বাঁকুড়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর সহ হাওড়া, হুগলি ও বর্ধমানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও দাপট দেখাবে বৃষ্টি। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলাতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা হয়েছে। বাকি সব জেলায় মাঝারি থেকে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে বুধ ও বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমবে। শুক্রবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। সব মিলিয়ে সপ্তাহ জুড়ে যে আবারও যে দুর্ভোগ পোহাতে হবে বাঙালিকে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না
গোপালগঞ্জ হত্যাযজ্ঞের দায়িত্ব নিয়ে ড. ইউনূসের পদত্যাগ করা উচিত

সীতাংশু গুহ: ১৯৭১-এ শান্তিতে নোবেল বিজয়ী উইলী ব্র্যান্ড বলেছিলেন, ‘মুজিব হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না, কারণ যাঁরা মুজিবকে হত্যা করেছে তাঁরা যেকোনও জঘন্য কাজ করতে পারে’। গোপালগঞ্জে ঠান্ডা মাথায় সাধারণ মানুষকে হত্যা করে সেনাবাহিনী তা আবার প্রমাণ করেছে। গোপালগঞ্জ ঘটনার অসংখ্য ভিডিও ফুটেজে সেনাবাহিনীর লজ্জাজনক ভূমিকার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। আল-জাজিরার রিপোর্ট বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। ড. ইউনূস প্রতিরক্ষা বাহিনীর মন্ত্রী, তাঁর উচিত এ হত্যাযজ্ঞের দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করা। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের উচিত সংশ্লিষ্টদের কোর্ট মার্শালে সোপর্দ করা। এ হত্যাকাণ্ডের দায় সরকার, সেনাবাহিনী কেউ এড়াতে পারেন না। কালুয়া টোকাই হাসনাত ক’দিন আগে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছুঁড়েছিল। গোপালগঞ্জে জাতি দেখল সেই হাসনাতকে মিলিটারির সাঁজোয়া গাড়ির মধ্যে ঢুকে পালাতে। অনেকেই বলছেন, এনসিপি নেতারা গোপালগঞ্জ গিয়েছিল বাঘের মত, পালিয়েছে কুকুরের মত। গোপালগঞ্জে এনসিপি-সেনারা যে আগুন লাগিয়েছে, সেই আগুন হয়তো এখন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়বে। এবং নেতারা বারবার পালাবে। বোঝা গেছে, পুলিশ ব্যতীত এনসিপি নেতারা ঘরের বাইরে যাবার দিন শেষ হয়ে আসছে, সভা তো দূরের কথা। আইএসপিআর বলেছে, সেনাবাহিনী আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়? আইএসপিআর-র প্রতি মানুষের আগেও আস্থা ছিল না, এখনও নেই! আইন ও সালিশি কেন্দ্র বলেছে, ‘রাষ্ট্র নাগরিকের জীবনরক্ষায় ব্যর্থ’। দেশে বসে এরচেয়ে শক্ত কথা বলা সম্ভব নয়, প্রকৃত সত্য হচ্ছে, রাষ্ট্র ষড়যন্ত্র করে মানুষ হত্যা করছে। কালো গেঞ্জি পরা ছেলেটিকে মিলিটারি আটক করে নিয়ে যায়, এরপর তিনি গুলিতে নিহত হ’ন কী করে? সম্ভবত: ছেলেটির নাম ‘রমজান’, রমজানকে কী মেটিক্যুলাস পরিকল্পনায় হত্যা করা হয়নি? হাতে বন্দুক থাকলেই কি মানুষ মারা যায়? ড. ইউনূসের সাথে ইয়াহিয়া খান বা ওয়াকার-উজ-জামানের সাথে টিক্কা খানের তফাৎ কি? বলা হচ্ছে, ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি, বাকি লাশ কোথায়? ড. ইউনূসের বাংলাদেশে মানুষের কি লাশ ফেরত পাওয়ার অধিকারও থাকবে না? দীপ্ত, ইমন, সোহেল, রমজানের লাশের ময়নাতদন্ত হয়নি বলে শোনা যাচ্ছে। জুলাই ষড়যন্ত্রে নিহত অনেকের লাশের ময়নাতদন্ত হয়নি। দু’টি ঘটনায় যথেষ্ট মিল আছে, তাই না? সেনাপ্রধান ৩রা আগষ্ট ২০২৪-এ বলেছিলেন, সেনাবাহিনী জনগণের বুকে গুলি চালাবে না। জাতি দেখল ১৬ই জুলাই ২০২৫ সেনাবাহিনী মানুষের বুকে তো বটেই, মাথায়ও গুলি চালিয়েছে। ‘প্রথম আলো’ হেডিং করেছে, ‘গোপালগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলা, সংঘর্ষ, নিহত ৪’। এই হচ্ছে মিডিয়া! বাংলাদেশে সরকার, সেনাবাহিনী, মিডিয়া, নেতা কারও প্রতিই সাধারণ মানুষ আস্থা রাখতে পারছে না! এই আস্থাহীনতা দেশকে নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাবে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। খাগড়াছড়িতে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা বিশাল র্যালি করলে সেনাবাহিনী বাধা দেয়? সরকার রাতের আঁধারে শাহবাগের ‘প্রজন্ম চত্বর’ ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ বলেছে, তারা ধৈর্য্যের সাথে গোপালগঞ্জ পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে এখন আর ইতিবাচক কিছুই ঘটছে না, সবই নেতিবাচক। সরকারের কথাবার্তা নেতিবাচক। রাস্তায় শ্লোগান নেতিবাচক। পুলিশ-মিলিটারির ভূমিকা নেতিবাচক। এর মধ্যে নাহিদ বলেছে, তাঁরা আবার গোপালগঞ্জ যাবে। তিনি আরও বলেছেন, পালাতে পেরেছি, সেটাই মুখ্য। নেতা, গোপালগঞ্জ নিশ্চয়ই যাবেন, তবে এবার পুলিশ-মিলিটারি ছাড়া যাইয়েন, পালানোর গ্যারান্টি কিন্তু থাকবে না? (লেখক লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী)