SSC পরীক্ষা নির্বিঘ্নে হলেও, কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয়ে পরীক্ষার্থীরা

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে একের পর এক দুর্নীতি সামনে আসা নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছিল সাধারণ মানুষের মনে। যেখানে কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে নেওয়াটা রীতিমত চ্যালেঞ্জ ছিল রাজ্য সরকার ও কমিশনের কাছে। রবিবার প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেন নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রার্থীরা। মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভাবে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পরীক্ষা দিলেও, পরীক্ষার্থীদের মনে কিন্তু সংশয় থেকেই গেল। এদিন হল থেকে বেরিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করলেন, আদৌ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ হবে তো? যদিও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এদিন পরীক্ষা শেষে সেই আশ্বাসই দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, “একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য আগামী রবিবারের পরীক্ষা যাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সমগ্র প্রশাসন সকল সম্ভাব্য সহায়তা প্রদানের জন্য উন্মুখ।” এমনকী স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফ থেকেও একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এদিন পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল ৯১ শতাংশ। এর মধ্যে ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থী ছিল ৩১ হাজারেরও বেশি। এমনকি রবিবার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে রাজ্য সরকার সমস্ত রকম ভাবেই সহযোগিতা করেছে, সে কথাও এসএসসি-র তরফ থেকে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। সেই বিবৃতিতে কমিশন জানিয়েছে, “পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে আমাদের পূর্ণ সহায়তার জন্য কমিশন সমগ্র রাজ্য প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ।” প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশ মেনেই ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে কমিশন দু’দফায় এসএসসি পরীক্ষার বন্দোবস্ত করে। ৭ সেপ্টেম্বরে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে। পরীক্ষায় যাতে কোনওরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপ করে কমিশন। এদিন সকাল ১০টার সময় পরীক্ষার্থীদের রিপোর্টিং টাইম দেওয়া হয়েছিল। এবার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের তরফ থেকে নেওয়া হয়েছিল একাধিক উদ্যোগ। অ্যাডমিট কার্ড নকল রুখতে বিশেষ বার কোড স্ক্যানারের বন্দোবস্ত করা হয়। এমনকী প্রশ্নফাঁস রুখতেও নেওয়া হয়েছিল একগুচ্ছ পদক্ষেপ। কিন্তু তারপরেও কমিশনের ‘স্বচ্ছতা’ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক পরীক্ষার্থীই। কেউ কেউ বলছেন, “যে কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ, সেই কমিশনই তো পরীক্ষার দায়িত্বে। ফলে বিশ্বাস করি কী করে? তাও পরীক্ষা দিতে হয় তাই দিলাম। জানি না, এরকম পরীক্ষা দিয়ে কী লাভ হল!” আবার অনেক পরীক্ষার্থীদের বক্তব্য, “পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ভাবে নেওয়াটা বড় কথা নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া যে স্বচ্ছভাবে হবে সেই গ্যারান্টি কোথায়? আসল খেলা তো হয় সেখানেই।”
‘বেঙ্গল ফাইলস’ বিতর্কে মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বিবেক অগ্নিহোত্রী

শুক্রবারই মুক্তি পাচ্ছে বহু বিতর্কিত ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। গত বেশ কিছুদিন ধরেই বার বার চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত এই ছবিটি। এমনকী ছবির ট্রেলার লঞ্চের পর সেই বিতর্ক যেন আরও বেড়েছে। বাংলা থেকে ছবিতে অভিনয় করেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, সৌরভ দাশ ও মিঠুন চক্রবর্তীর মতো অভিনেতারা। এমনকী এই ছবির অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এও দাবি করেছিলেন যে, পুরো চিত্রনাট্য নাকি তাঁকে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তাঁর আরও অভিযোগ ছিল, ছবি নাম নাকি তাঁকে প্রথমে বলা হয়েছিল ‘দ্য দিল্লি ফাইলস’। পরে ট্রেলার লঞ্চের সময়ই তিনি জানতে পারেন, এই দিল্লি ফাইলস নয়, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। এবার নিজের ছবি মুক্তির আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন ছবির পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। মুম্বইতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিবেক দাবি করেছেন যে, তিনি বাংলার হল মালিকদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাচ্ছেন যে, তাদের ছবি যাতে দেখানো না হয় তার জন্য নাকি হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাদের। তিনি বলেন, “অনেক হল মালিক এবং বড় বড় মাল্টিপ্লেক্সের কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ তাদের হুমকি দিয়েছে। যদি তাদের হলে ছবিটি মুক্তি পায় তাহলে তাদের পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে।” পাশাপাশি এই ঘটনার পিছনে রাজ্য সরকারের প্রচ্ছন্ন মদত আছে বলেই এদিন স্পষ্ট জানিয়েছেন বিবেক। তাঁর মতে, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যা করছে তা অবৈধ এবং অসংবিধানিক। আমরা একটি রিট পিটিশন দায়ের করার পরিকল্পনা করছি, কিন্তু কাল কী হয় তার উপর নির্ভর করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব এবং সেই অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেব।” এই ছবির সহ-প্রযোজক পল্লবী যোশী, যিনি সম্পর্কে চলচ্চিত্র পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর স্ত্রী। তিনি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এ অভিনয়ও করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমি ইতিমধ্যেই এই ছবির ব্যাপারে ভারতের সম্মানীয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে কথা বলেছি।” এমনকী এই ছবির বিষয়ে তাঁর হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন বলেই দাবি করেছেন পল্লবী যোশী। এর আগেও দ্য তাশখন্দ ফাইলস’ এবং ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ছবি তৈরি করে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ এই সিরিজে তাঁর তৃতীয় সংযোজন। এমনকী বাংলার লক্ষ লক্ষ সাধারণ দর্শকদের কথা মাথায় রেখে এই ছবিটি বাংলায় ডাব করা হয়েছে, যাতে করে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষদের বুঝতে কোনও অসুবিধা না হয়। আজই কলকাতায় মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। এখন দেখার বহু বিতর্কিত কাহিনী ‘দ্য ক্যালকাটা কিলিং’-এর প্রেক্ষাপটে বানানো এই ছবি দেখে সাধারণ মানুষ কী প্রতিক্রিয়া দেন।
সিউড়ি সদর হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা, চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ

সিউড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে বুধবার রাত থেকে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। মৃতার নাম অঙ্কিতা চ্যাটার্জী। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। পেশায় তিনি একটি বি-টেক কলেজের অধ্যাপিকা ছিলেন। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট অঙ্কিতা একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে সন্তানের জন্ম দেন। সোমবার রাত আটটা নাগাদ হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তড়িঘড়ি তাঁকে সিউড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ, একাধিকবার অভিজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকলেও সাড়া মেলেনি। এরপর একটি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই অঙ্কিতার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। ঘটনার পরপরই হাসপাতাল চত্বরে মৃতার আত্মীয়-পরিজনেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসার গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে অঙ্কিতার। মৃতার বাবা রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশের সামনেই দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। শেষমেষ পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পরিবারের তরফ থেকে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবে বলেই জানানো হয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বিধানসভায় ধুন্ধুমার, বিজেপিকে ‘চোর’ আখ্যা মমতার, সাসপেন্ড পাঁচ বিজেপি বিধায়ক

বৃহস্পতিবারও ভিন রাজ্যে বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করার কথা ছিল। সেই মতো দুপুর ১২টা নাগাদ শুরু হয় অধিবেশন। এর আগে গত মঙ্গলবার শঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাসপেন্ড হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো তিনি আজ বিধানসভা কক্ষে ছিলেন না। বিজেপির হয়ে মুখ্য সচেতক ছিলেন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা ও বাঙালি ইস্যুতে সরাসরি বিজেপির বিজেপিকে নিশানা করে কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘চোরেদের সরকার’ বলে আখ্যা দেন। এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা কক্ষ। রীতিমত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিজেপি বিধায়করা পাল্টা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেই ‘চোর চোর’ শ্লোগান তুলতে থাকেন। এর পরেই সাসপেন্ড করা হয় বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে। বিধানসভার নিরাপত্তারক্ষীরা শঙ্কর ঘোষকে টেনে বের করার চেষ্টা করলে বিজেপির অন্যান্য বিধায়কদের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু হয়। এরপর দু ঘণ্টার মধ্যে সাসপেন্ড হন বিজেপির পাঁচজন বিধায়ক। যদিও তৃণমূল বিধায়করা নিজেদের আসনে বসেই সবটা দেখেছিলেন। এদিন অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে বক্তব্য রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তাঁর আগে বলার কথা ছিল বিজেপির অগ্নিমিত্রা পলের। কিন্তু স্পিকার তাঁর নাম ডাকলেও তিনি সভাকক্ষে উপস্থিত না থাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ডাকা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই অগ্নিমিত্রা পল সভাকক্ষে ঢোকেন। তখন বিজেপি বিধায়করা চিৎকার করতে থাকেন, যাতে অগ্নিমিত্রাকে বলতে দেওয়া হয়। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই স্পিকারকে বলেন বিজেপি বিধায়ককে বলতে দেওয়ার জন্য। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় যেহেতু তিনি উপস্থিত ছিলেন না, তাই তাঁর জন্য বরাদ্দ সময় কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়। তারপর আবারও মুখ্যমন্ত্রী বলতে শুরু করেন। তখনই বিজেপির তরফ থেকে পাল্টা শ্লোগান তোলা হয়। স্পিকার বারণ করা সত্ত্বেও থামেননি বিজেপি বিধায়করা। এরপরই প্রথমে শঙ্কর ঘোষ। তার পর সাসপেন্ড করা হয় অগ্নিমিত্রা পাল। এরপর একে একে মিহির গোস্বামী, অশোক দিন্দা, বঙ্কিম ঘোষকেও সাসপেন্ড করা হয়। মিহির গোস্বামীকে কার্যত চ্যাংদোলা করে বার করা হয় বিধানসভা কক্ষ থেকে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই ঘটনার জন্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই আঙুল তুলে বলেন, “স্পিকার মমতার দালাল, মমতার নির্দেশেই এই নাটকের চিত্রনাট্য লিখেছেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।” পাশাপাশি বিজেপিকে মুখ্যমন্ত্রী ‘চোর’ বলায়, তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় শুভেন্দু বলেন, “মমতা সবচেয়ে বড় চোর। ও চাকরি চুরি করেছে, আর ভাইপো টাকা নিয়েছে। পিসি-ভাইপো মিলে প্রশ্ন ফাঁস করে বিক্রি করেছে। তার অডিও প্রমাণও আমার কাছে আছে।” তারপরই মমতার নাম ধরেই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, “ওকে নন্দীগ্রামে হারিয়েছি, ভবানীপুরেও হারাব।” পাশাপাশি এদিনের ঘটনা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও একবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, যাতে তাঁর বক্তব্য মানুষ শুনতে না পায় সে কারণেই বিজেপি পরিকল্পনা করেই এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আমি ধিক্কার জানাচ্ছি। এরা জেনেশুনেই, আমার কথা যাতে মানুষ শুনতে না পারে, আমার কন্ঠরোধ করার জন্যই ওদের এই কর্মসূচি। সকালে কিন্তু ওরা ছিল না। ওরা এসেছে, আমি আসার কিছুক্ষণ আগে। যখন নাম ডেকেছে, ওরা কিন্তু তখন বক্তব্য রাখেনি। যেই নিজেদের বলা হয়ে গিয়েছে, ওমনি অশান্তি। আমি বলবই, আমার কন্ঠরোধ করা যাবে না।” এরই সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালিদের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর একটা দল, যাদের দেশ স্বাধীন করার পিছনে কোনও ভূমিকা ছিল না, তারা এখন দেশের সবথেকে বড় ডাকাত। মানুষে মানুষে ভাগাভাগি করেন। ব্রিটিশদের সঙ্গে মিশে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। সাম্প্রদায়িক বিভাজন করেছিল। আগামী দিন বিজেপির কেউ নির্বাচিত হবেন না। স্বৈরাচারী শক্তি। যে বাঙালি দেশের স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছে, সেই বাঙালিদের এরা অপমান করছে। এরা বাঙালির শত্রু।” সব মিলিয়ে রাজ্য বিধানসভা ভোটের আগে কেউ যে কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছেড়ে দিতে রাজি নয়, তা আজকের ঘটনায় স্পষ্ট। এরপর ভোট যত এগোবে ততই এই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
অবশেষে গ্রেফতার বিজেপি নেতা রাকেশ সিং

গত সপ্তাহেই প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতর বিধান ভবনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ভাঙচুরও চালায় একদল বিজেপি সমর্থক। এমনকী রাহুল গান্ধীর ছবিতে লেপে দেওয়া হয় কালি। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রাকেশ সিং ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে এন্টালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে কংগ্রেস। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এর আগে বিজেপির ৩ জন কর্মী ও রাকেশ সিংয়ের এক অনুগামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এমনকী সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয় রাকেশ সিংয়ের ছেলে শিবম সিংকে। কিন্তু রাকেশের সন্ধান পাচ্ছিল না কলকাতা পুলিশ। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও পোস্ট করতে দেখা যায় এই বিজেপি নেতাকে। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্যাংরার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাত ২টা নাগাদ ট্যাংরার ওই ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে রাকেশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একনকী পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তোলার সময়ও তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামে শ্লোগান তুলতে দেখা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বিজেপি নেতা রাকেশ সিং সোস্যাল মিডিয়াতে রীতিমত সক্রিয়। সম্প্রতি তাঁকে সোস্যাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে ভিডিও বানাতেও দেখা গেছে। কেননা গত সপ্তাহে বিহারে ভোটার অধিকার যাত্রা থেকে রাহুল গান্ধী নাকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রয়াত মাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। তারই পাল্টা প্রতিবাদে রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে বিজেপি সমর্থকরা গত সপ্তাহে বিধান ভবনে প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। এমনকী সে সময় তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় দফতর ভাঙচুর এবং রাহুল গান্ধীর ছবিতে কালি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রাকেশ সিংকে অবশেষে গ্রেফতার করল পুলিশ।
বাংলা ও বাঙালি ইস্যুতে বিধানসভা উত্তাল, আবারও সাসপেন্ড শুভেন্দু অধিকারী

ভিন রাজ্যে বাংলা এবং বাঙালিদের উপর হেনস্থার প্রতিবাদে এর আগেই সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী এই ইস্যুতে মহানগরীর রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। এবার এই ইস্যু নিয়ে মঙ্গলবার প্রস্তাব পেশ করা হল বিধানসভায়। মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই প্রস্তাব পেশ করার সময় প্রসঙ্গত উল্লেখ করেন দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের এক শিশুর উপর অমানবিক অত্যাচারের ঘটনা। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি বিধায়করা ‘আহা রে’ বলে ব্যঙ্গ শুরু করেন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। আলোচনা পরবর্তীকালে বিস্তারিত রূপ নিলে বিভিন্ন বিজেপি বিধায়ক ‘মোদি’ ‘মোদি’ বলে স্লোগান শুরু করেন। এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিরহাদ হাকিম ‘জয় বাংলা’ রব তোলেন। বলাবাহুল্য, অধিবেশন কক্ষে এদিন বাংলা ও বাঙালি ইস্যুতে প্রস্তাব পেশ করার সময় রীতিমত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবারে বাঙালি হেনস্থা নিয়ে বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করার সময় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় উল্লেখ করেন কয়েক মাস আগে দিল্লির বুকে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা। তাঁর অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের এক কর্মী এক পরিযায়ী শ্রমিকের শিশুকন্যাকে শারীরিক নিগ্রহ করেন। এমনকি তাঁকে মারধোরের অভিযোগও ওঠে। এই প্রস্তাবের সময় বিরোধী দলের বেঞ্চে দেখা যায় বিভিন্ন ‘অভব্য’ আচরণ। ব্যঙ্গ করে ‘আহা রে’ বলে ধ্বনি তুলতেও শোনা যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শশী পাঁজা বলেন, “চুপ করে থাকো তোমরা। তোমরা অসভ্য, অসভ্যতা করছো।” এই ধমকে সাময়িকভাবে চুপ হয় বিজেপি বিধায়করা। গত কয়েকমাস ধরেই দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, গুজরাত, তেলেঙ্গানা ও ওড়িশা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই খবর সামনে আসছিল যে, বাংলায় কথা বললে ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দিয়ে আটক করছিল সেখানকার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। আজ বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালীন এই বিষয় উল্লেখ করে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “বাংলাদেশি নই, আমরা ভারতীয় বাঙালি।” এই আলোচনা পরে বিশদে পর্যালোচনা করার সময় উঠে আসে বিভিন্ন মনীষীদের কথা এবং তাঁদের অবদান। যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ক্ষুদিরাম বসুর কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন তৃণমূল মন্ত্রীরা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বিজেপি বিধায়কদের বিরোধিতা অব্যাহত থাকে। এই বাংলা বিরোধী বিজেপির বিরোধিতাকে ব্রিটিশদের সঙ্গে তুলনা করেন তৃণমূল কংগ্রেস। সব মিলিয়ে বাংলা ও বাঙালিদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ হওয়া নিয়ে রীতিমত সরগরম হয়ে ওঠে তৃণমূল ও বিজেপি যুযুধান দু পক্ষই। এমনকী বিধানসভায় এদিন গতকালের মেয়ো রোডে সেনাবাহিনীর তৃণমূলের সভামঞ্চ খুলে ফেলার প্রসঙ্গও উঠে আসে। আর সেসময় সেনার পক্ষেই স্লোগান তুলতে শোনা যায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। এমনকী মোদীর নামেও ওঠে জয়ধ্বনি। এই ঘটনার জেরে রীতিমত উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা কক্ষ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সাসপেন্ড করেছেন বলেই দাবি করেন শুভেন্দু। বিধানসভা থেকে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, “আমাকে আবারও সাসপেন্ড করা হয়েছে। সেনার হয়ে বলার জন্য সাসপেন্ড হতে হয়েছে। আমি সেনার জন্য গর্ব অনুভব করি।”
পরীক্ষায় বসার অনুমতি চেয়ে মামলা করে কলকাতা হাইকোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়ল দাগিরা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত শনিবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফ থেকে ১ হাজার ৮০৪ জন অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপরই স্কুল সার্ভিস কমিশনের দিকেই পাল্টা অভিযোগের আঙুল তোলেন ‘টেন্টেড’ শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের যুক্তি, স্কুল সার্ভিস কমিশন এর আগে আদালতে দাবি করেছিল যে তাদের কাছে ওএমআর শিট নেই, তাহলে কীসের ভিত্তিতে তারা ‘যোগ্য’ ‘অযোগ্য’ নির্ণয় করল। এমনকী তারা আরও দাবি করেছিল যে, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে এই তালিকা তৈরি হয়নি। এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ‘অযোগ্য’ শিক্ষকদের একাংশ। যদিও তাদের দাবি খারিজ করে দিল আদালত। আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে যে শিক্ষক নিয়োগের নতুন পরীক্ষা হওয়ার কথা, সেই পরীক্ষার বসার অনুমতি চেয়েও কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিল ‘টেন্টেড’ শিক্ষকদের একাংশ। প্রায় ৩০০ জনের কাছাকাছি ‘অযোগ্য’ তালিকাভুক্ত শিক্ষক সোমবার আদালতের কাছে আপিল করেন, যাতে তাদের আবার নতুন করে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধেও অস্বচ্ছতার অভিযোগ তোলেন তারা। যদিও মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি চলাকালীন চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় তাদের। এদিন মহামান্য বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না অযোগ্য তালিকাভুক্তরা। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এদিন সরাসরি মামলাকারীদের প্রশ্ন করেন, “এতদিন কোথায় ছিলেন? তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরে কেন আদালতে আসছেন? যেখানে শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে কীভাবে বলছেন আপনারা ‘অযোগ্য’ নন।” যদিও তারপর মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, “আমার মক্কেলরা দাগি নন। তাঁরা সাদা খাতা জমা দেননি, অন্তত একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ফলে তাঁদের পরীক্ষায় বসার অধিকার থাকা উচিত।” এরপরেই বিচারপতি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তালিকা প্রকাশের পর দাগিদের পরীক্ষায় বসার দাবি কীভাবে তুলছেন?” এর পর বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে প্রকাশিত ‘টেন্টেড’ তালিকা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট কোনও রকম হস্তক্ষেপ করবে না। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, তালিকা প্রকাশের আগে আসেননি কেন? ফলে কমিশনের ‘টেন্টেড’ তালিকাভুক্ত চাকরিপ্রার্থীদের আর নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার কোনও সুযোগ থাকল না।
SSC-র প্রকাশিত তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে অযোগ্যরা

এসএসসি(SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের চাপে পড়ে শেষপর্যন্ত পিছু হটেছে রাজ্য সরকার। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো ১ হাজার ৮০৪ জন অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা পেশ করা হয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে। পরে কমিশনের পক্ষ থেকে আরও দুজনের নাম সামনে আনা হয়। এরপরই রাজ্য জুড়ে হুলুস্থূল পড়ে যায়। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক পদে নিযুক্ত ওই তালিকাভুক্ত অনেক ‘টেন্টেড’ই প্রশ্ন তুলেছিলেন এসএসসি প্রকাশিত ওই তালিকা নিয়ে। কী ভিত্তিতে ওই তালিকা প্রকাশিত হল, তাও স্পষ্ট নয় তাদের কাছে। সে কারণেই এবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত ওই ‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন অযোগ্য শিক্ষকদের একটা বড় অংশ। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চে তাঁরা মামলার আবেদন করেছেন। তাঁদের যুক্তি এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফ থেকে আদালতে একাধিকবার দাবি করা হয়েছিল যে, তাদের কাছে কোনও ওএমআর শিট নেই। সেক্ষেত্রে কী ভিত্তিতে অযোগ্য শিক্ষকদের বাছাই করে তালিকা তৈরি হল, সেই প্রশ্ন করেছেন একাধিক ‘টেন্টেড’ তালিকাভুক্ত ‘দাগি’ শিক্ষকরা। তবে রাজ্য সরকারের করা ক্যাভিয়েট ফাইল মামলার শুনানি ইতিমধ্যেই চলছে শীর্ষ আদালতে। সুপ্রিম কোর্টের ১৩ নম্বর কোর্টের ৫৬ নম্বর আইটেম হিসেবে রয়েছে মামলাটি। আজ অর্থাৎ সোমবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, চলতি বছরে অনিয়মের কারণ দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এসএসসি(SSC)-র ২০১৬ সালের গোটা প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছিল। যার জেরে রাতারাতি চাকরি গিয়েছিল প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর। যা নিয়ে রীতিমত হইচই পড়ে যায় গোটা রাজ্য জুড়ে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে। ফলে শীর্ষ আদালতের গাইড লাইন মেনে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। কিন্তু বাতিল হওয়া প্যানেলের ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা বার বারই ‘অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছিল। সেই মতো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শনিবার ১৮০৬ জনের ‘টেন্টেড’ তালিকা প্রকাশ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। এবার সেই তালিকায় নাম থাকা ‘টেন্টেড’দের একটা অংশ এসএসসি-র তালিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন। এখন দেখার এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয়!
মোদীর বঙ্গ সফরের দিনই বাংলা ছাড়লেন দিলীপ ঘোষ

আজ তিনটি নয়া রুটে মেট্রোর উদ্বোধন করতে বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরকারি এই প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপিকে চাঙ্গা করতে দমদমে রাজনৈতিক সভাও করবেন মোদী। সেই সভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ বিজেপির একাধিক রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু এই সভাতে যে আমন্ত্রণ পাননি বিজেপির এক সময়ের দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ তা কয়েকদিন আগেই সাংবাদিকদের সামনে নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। আজ বঙ্গ সফরে মোদী আসার দিনই দিলীপ ঘোষকে সকালে বিমানবন্দরে দেখা গেল। এর আগেও আসানসোলের প্রধানমন্ত্রীর সভার দিন সকালেই দিল্লির উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই কেন্দীয় বিজেপির পর্যবেক্ষক জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠক ঘিরেও নানা গুঞ্জন সামনে এসেছিল। এও শোনা গিয়েছিল যে, দিলীপ ঘোষকে রীতিমত ওয়ার্নিং দিয়েছিলেন নাড্ডা। কেননা সংবাদমাধ্যমের সামনে দিলীপ ঘোষ যেভাবে বিজেপির রাজ্য নেতাদের নামে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন তা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে ভালো ভাবে নিচ্ছে না, তাও নাকি দিলীপ ঘোষকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন নাড্ডা। এমনকী তাঁকে চুপ করে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও এরপর রাজ্য বিজেপির নেতাদের নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে দিলীপকে খুব একটা সরব হতে দেখা যায়। আজ প্রধানমন্ত্রীর দমদমে সভার দিনই বেঙ্গালুরু উড়ে গেলেন দিলীপ ঘোষ। কিন্তু কী কারণে তিনি বেঙ্গালুরু যাচ্ছেন তা সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট করেননি। তবে এদিন একরাশ অভিমান ঝরে পড়ল তাঁর গলায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, “মোদী কী বলছেন তা শুনতে সভায় থাকার তো দরকার নেই। মোবাইলেও শোনা যায়।” পাশাপাশি দল যে ঠিক সময়ে তাঁকে কাজে লাগাবে, সে বিষয়েও তিনি আশাবাদী। দল ছাড়ার প্রসঙ্গ উঠতেই তাই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আমি দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। দল ঠিক সময়ে আমাকে কাজে লাগাবে।” সুকান্ত মজুমদার রাজ্য বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর থেকেই দলে কোণঠাসা হতে শুরু করেন দিলীপ ঘোষ। সে নিয়ে একাধিক বার প্রকাশ্যেই নিজের ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপির এই দাবাং নেতা। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির নতুন সভাপতি হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এবার হয়ত দলে গুরুত্ব বাড়বে দিলীপ ঘোষের। এমনকী শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের একান্ত বৈঠকের পর যেভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে দুজনেই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলের হয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছিলেন তাতে করে অনেকেই সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে যে আদৌ সে ছবি বদলায়নি, তা দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ না জানানো থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়।
বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আবর্জনার স্তূপ, ছড়াচ্ছে মশাবাহিত রোগ— আতঙ্কে রোগীর পরিবার

বসিরহাটের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল যেন মশাবাহিত রোগের আঁতুড়ঘর। মশা বাহিত রোগে আতঙ্কিত রোগী সহ রোগীর আত্মীয়-পরিজনরাও। বসিরহাট মহকুমার সীমান্ত থেকে সুন্দরবনের দশটি ব্লক সহ তিনটি পৌরসভার স্বাস্থ্যের মূল ভরসা বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। যার উপর নির্ভরশীল এলাকার প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ। সেই হাসপাতালে জ্বর, সর্দি-কাশি সহ একাধিক উপসর্গ নিয়ে আট থেকে আশি রোগীরা চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন। আর সেখানেই দেখা গেল নোংরা আবর্জনা ছবি। হাসপাতালের বাইরে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। হাসপাতালের গেটের পাশে থার্মোকলের বড় বড় বাক্সে বর্ষার জল জমে তৈরি হচ্ছে মশার লার্ভা। তা থেকেই সাধারণত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ যেমন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি। হাসপাতালের তরফ থেকে যেসব বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছিল তার আশপাশে জল জমে মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। এমনিতেই শহরে ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। তার উপর খোদ হাসপাতালেই যদি এমন পরিবেশ হয় তাহলে রোগীর পরিবারের আতঙ্ক বাড়াটাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী যত্রতত্র ফেলে দেওয়ার জন্য তা থেকে বেরোচ্ছে দুর্গন্ধ। মোটের উপর একেবারেই অস্বাস্থ্যকর। পুরো বিষয়টি নিয়ে বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ অন্যান্যরা পুরো দোষটাই চাপিয়ে দিলেন বর্ষার উপরে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবিউল ইসলামের বক্তব্য, “প্রতিনিয়ত আমাদের হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। এখন বর্ষার সময় দু-এক জায়গায় জল জমে থাকতেও পারে। তবে পৌরসভার কর্মীরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গি জ্বরের প্রকোপ একটু বেশি থাকলেও আমরা পুরোপুরি কন্ট্রোলে রেখে দিয়েছি।” বসিরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিম এদিন হাসপাতালের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেন হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং পরিষেবা নিয়ে। তবে হাসপাতালের এই নোংরা পরিবেশ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ রোগীর আত্মীয়রা। তবু বাধ্য হয়ে চিকিৎসা করাতে আসতে হচ্ছে হাসপাতালে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে হাসপাতালের চারপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করুক পুরসভা।