পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে উঠল পাক সেনা বিরোধী শ্লোগান

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও রীতিমত ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে পাকিস্তান সেনা বিরোধী শ্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে কয়েকজনকে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি প্যারালাল নিউজ। সেই ভিডিওতে তাদের বলতে শোনা গেছে— ‘আমেরিকার পালতু কুকুর, ইউনিফর্ম পরিহিতরা’। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের দিন পাক সেনাবাহিনী সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ। মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তানের অন্দরেই পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেননা মুনির ঘন ঘন আমেরিকা সফর করছেন। এমনকী ট্রাম্পের সঙ্গেও নাকি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছিলেন। পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কোথাও মনে হয়েছে পাক সেনাপ্রধান আমেরিকার গোলামি করছে, তাই তারা এটাকে ভালো চোখে দেখছেন না। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে সেই ক্ষোভেরই হয়তো বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। সম্প্রতি আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতকে একের পর এক হুমকি দিয়েছেন পাক সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। অথচ ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন এই পাক সেনাপ্রধানই সবার আগে বাঙ্কারে গিয়ে লুকিয়েছিলেন। অথচ এখন আমেরিকার মদতে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে দাবি করে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। যদিও ভারত সরকারের তরফ থেকেও কড়া ভাষায় এর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এমনকী আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে মুনির এ ধরনের মন্তব্য করায় আমেরিকার প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দিল্লি। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে আমেরিকা তরফ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতাতেই নাকি দুই দেশ যুদ্ধ বিরতিতে গেছে। এমনকী তারা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের প্রবণতাকে রুখে দিয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। যদিও ভারত সরকার বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল কারও মধ্যস্থতাতে নয়, পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল বলেই তারা সেটা গ্রহণ করেছিল। এই আবহে পাকিস্তান সেনা প্রধানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এমনকী ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেয় পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এইসমস্ত বিষয় যে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ ভালভাবে নেয়নি এই ভাইরাল ভিডিও তারই প্রমাণ।
‘শিশুও ছাড় পাচ্ছে না!’–ভিডিও শেয়ার করে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজেপি শাসিত ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার এবং তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিজেপির বিজেপির সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঙালি অস্মিতায় শান দিতে কলকাতার রাজপথেও নেমেছেন তিনি। এমনকী ২১শের মঞ্চ থেকেও এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে কেন্দ্রকে নিশানা করে তাঁর দলের নেতাকর্মীদের জেলায় জেলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার বার্তাও দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। আসলে বাঙালি সেন্টিমেন্টকে যে ২০২৬শের বিধানসভায় পাখির চোখ করে এই ইস্যুকে একেবারে তৃণমূল স্তরের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা একপ্রকার স্পষ্ট। এবার প্রমাণ স্বরূপ রীতিমত ঘটনার ভিডিও নিজের সোস্যাল সাইটে পোস্ট করে, বিজেপির বিরুদ্ধে আরও একবার সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্ত্রী ও শিশুপুত্র সহ পশ্চিমবঙ্গের এক পরিযায়ী শ্রমিক কাজের সূত্রে দিল্লিতে গিয়েছিল। সেখানে তার স্ত্রী এবং শিশুপুত্রকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সেই নির্যাতনের ভিডিও রবিবার নিজের সোস্যাল সাইটে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। যে ভিডিওতে ওই শিশুপুত্রের শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন দেখানো হয়েছে। ভিডিওটিতে ওই ব্যক্তিকে বলতেও শোনা গেছে, “দেখো আমার ছেলেকে মেরে কী করেছে। পুলিশ মেরে কপাল ফাটিয়ে দিয়েছে।” এমনকী তার স্ত্রীও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তি মালদার চাঁচলের বাসিন্দা। (যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি প্যারালাল নিউজ)। এই ভিডিও শেয়ার করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রীতিমত তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আরও একবার বিজেপির বিরুদ্ধে ভাষা সন্ত্রাসের অভিযোগে সরব হয়ে তৃণমূল নেত্রী লেখেন, “ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস। দেখুন, কীভাবে মালদার চাঁচলের এক পরিযায়ী পরিবারের শিশু ও মা-কে দিল্লি পুলিশ মেরেছে! বাঙালিদের বিরুদ্ধে বিজেপির ভাষা সন্ত্রাসে একটি শিশুও ছাড় পাচ্ছে না! দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এরা?” গত কয়েকদিন আগে ভিন রাজ্যে অত্যাচারিত বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা এবং সোস্যাল মিডিয়া—এই জোড়া ফলায় এই ইস্যুতে বিজেপিকে বারবার নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী যেন বুঝিয়ে দিচ্ছেন রাজনীতির পরিসরে এক ইঞ্চি জায়গাও তিনি ছাড়তে রাজি নন। আর তাই বাঙালি সেন্টিমেন্টকে ভোটের ময়দানে কাজে লাগাতে আগামীকাল, অর্থাৎ সোমবার বোলপুর যাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। সেখানে দুপুর ২টোয় ভাষা আন্দোলনের মিছিলে পা-মেলাবেন তিনি। পাশাপাশি ওই দিন প্রশাসনিক বৈঠকও করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে বাংলা এবং বাঙালিকে হাতিয়ার করে যে আগামী কয়েক মাসে আরও সরগরম হবে বঙ্গ রাজনীতি, তা বলাই যায়।
ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এবার পুলিশের দারস্থ দিলীপ ঘোষ

সম্প্রতি একটি আপত্তিকর গোপন মুহূর্তের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। গতকাল থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই ভিডিও। আর সেই ভিডিও ঘিরেই আবারও শিরোনামে উঠে এসেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নাম। গত কয়েক সপ্তাহ জুড়ে তাঁর দলবদলের জল্পনা নিয়ে নানা মহলে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ সব জল্পনায় জল ঢেলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন বিজেপির এই দাপুটে নেতা। বরং ২১শে জুলাই খড়্গপুরের সভা থেকে কারও নাম না করেই দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন, একসময় বিজেপিতে একঘরে হয়ে যাওয়া দিলীপ ঘোষ। এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল। (যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি প্যারালাল নিউজ)। সেই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এবার পুলিশের দারস্থ হলেন তিনি। নিয়ে এবার লালবাজারের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানালেন তিনি। তাঁর সুস্পষ্ট অভিযোগ, এভাবে সম্মানহানি করে কেউ বা কারা তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র। এর পিছনে কারা রয়েছে, পুলিশকে তা তদন্ত করে দেখার আর্জি জানান দিলীপ ঘোষ। সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগে দিলীপ লিখেছেন, “তাঁর সম্মানহানি করতে এবং রাজনৈতিকভাবে কালিমালিপ্ত করতে সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের পিছনে যারা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।” যদিও চিঠিতে কারও নাম নেননি দিলীপ, বরং পুলিশকেই তদন্ত করে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে বলেছেন। ক্রাইম ব্রাঞ্চের জয়েন্ট কমিশনারকে চিঠি দিয়ে তিনি তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন।