উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের

গত ২১ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন জগদীপ ধনখড়। যদিও তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন চলছে। তবে ধনখড় ইস্তফা দেওয়ার পরের দিনই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উপরাষ্ট্রপতি পদ শূন্য থাকার কথা জানানোয় নির্বাচন পক্রিয়া নিয়ে তৎপর হয় কমিশন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৮ অনুসারে, উপরাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করতে হয়, আর তা সম্পন্ন করার দায়িত্ব যেহেতু জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। তাই সেই মতো তারা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। আইন মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পর রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংয়ের সম্মতিতে রিটার্নিং অফিসার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেল পিসি মোদীকে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করল কমিশন। রাজ্যসভার অন্য দু’জন সচিবকে অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসাবে পর্যায়ক্রমে একবার লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল পালন করেন এবং পরেরবার রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেল। ২০২২ সালের নির্বাচনে লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল যেহেতু এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাই এবার রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলের উপর সেই দায়িত্ব পড়েছে। এমনকী নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা তৈরির কাজও নাকি শুরু করে দিয়েছে কমিশন। লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদদের নিয়ে তৈরি হবে এই তালিকা। যদিও কমিশন এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। তবে তা শীঘ্রই করা হবে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি জারির ৩০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। কারণ ২০২২ সালে বিজ্ঞপ্তি জারির ৩২ দিন পর নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছিল। যতদিন না নির্বাচন পক্রিয়া শেষ হচ্ছে ততদিন রাজ্যসভায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলাবেন ডেপুটি চেয়ারম্যান। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণত লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদরাই ভোট দেন। সেক্ষেত্রে লোকসভার ৫৪৩টি আসন এবং রাজ্যসভার ২৪৫টি আসনের সাংসদরা এই নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে তার মধ্যে লোকসভার ১টি আসন এবং রাজ্যসভার ৫টি আসন সাংসদ শূন্য থাকায় মোট ৭৮২ জন সাংসদ ভোট দেবেন। সেক্ষেত্রে উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজন ৩৯২টি ভোট। আপাতত যত শীঘ্র সম্ভব নির্বাচন পক্রিয়া শেষ করাই বড় চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে।
কে হবেন নতুন উপরাষ্ট্রপতি, জল্পনা তুঙ্গে

ভারতের উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে জগদীপ ধনখড়ের ইস্তফা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। যদিও সরকার বা ধনখড়ের তরফে এই বিষয় নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেউ মুখ খোলেনি। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। তবে অতীতেও জগদীপ ধনখড় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারত সফরে আসার আগে ধনখড়ের সঙ্গে সরকারের সংঘাত সামনে এসেছিল।সেসময় ধনখড় বলেছিলেন, ‘আমিও উপরাষ্ট্রপতি। আমি তাঁর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করব।’ সূত্রের খবর অনুযায়ী, এরপর নাকি এক বর্ষীয়ান ক্যাবিনেট মন্ত্রী ধনখড়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে বোঝান, ভ্যান্স উপরাষ্ট্রপতি হলেও তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে এসেছেন। তবে জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে সরকারের সংঘাতের আরও নানান কারণ সামনে সামনে আসছে। বিভিন্ন সূত্র মারফত দাবি করা হচ্ছে, ধনখড় চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি মন্ত্রীদের অফিসে তাঁরও ছবি টাঙানো হোক। এমনকী উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে তাঁর জন্য মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি অন্তর্ভুক্তি করার দাবিও নাকি জানানো হয়েছিল। যদিও আদৌ তাঁর দফতর থেকে সরকারের কাছে এমন কোনও আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছিল কিনা জানা যায়নি। তবে সম্প্রতি ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জগদীপ ধনখড় তাঁর নিজের জন্য রাষ্ট্রপতির মতো প্রোটোকল চাইতেন। তিনি নাকি বিদেশ সফরে রাষ্ট্রপতির সমান প্রোটোকল প্রত্যাশা করেছিলেন। আর সে কারণেই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির শেষকৃত্যে যোগ দিতে তেহরান সফরে গিয়ে নিজের হোটেলের ঘর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন ধনখড়। এমনকী তিনি বলেছিলেন যে উপরাষ্ট্রপতির জন্য আরও বড় বিমান হওয়া উচিত। মোটের উপর উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে জগদীপ ধনখড়ের মনে হয়েছিল তাঁকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। আর সেকারণেই হয়তো উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ। তবে জগদীপ ধনখড় অবশ্য তাঁ ইস্তফার কারণ হিসেবে জানিয়েছেন শারীরিক অসুস্থতা। যদিও জগদীপ ধনখড়ের উপরাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ ছিল ২০২৭-এর আগস্ট পর্যন্ত। ধনখড়ের আকস্মিক পদত্যাগের পর নতুন উপরাষ্ট্রপতির জন্য নির্বাচনী পক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভারতের নতুন উপরাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। সম্প্রতি জেডিইউ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর এবং বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার মধ্যে একটি বৈঠক নিয়ে শুরু হয়েছিল গুঞ্জন। ধনখড়ের ছেড়ে যাওয়া শীর্ষ পদের জন্য বিজেপি জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুদের বিবেচনা করতে পারে বলেও অনেক সূত্র দাবি করছিল। তবে সেই সমস্ত জল্পনাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি তরফ থেকে জানানো হয়েছে, জেপি নাড্ডার সঙ্গে শরিক দলগুলোর এই বৈঠক নেহাতই রুটিন মাফিক। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। তবে জগদীপ ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতি পদের বসিয়ে বিজেপিকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে, তাই নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজেপি চাইবে দলের আদর্শের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এমন কোনও ব্যক্তিকে এই পদে বসাতে। সেক্ষেত্রে বিজেপির প্রবীণ কোনও নেতাকেই মনোনীত করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।