উত্তরাখণ্ডে আবারও বিপর্যয়, হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক দোকান-বাড়ি

আবারও বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের দেবভূমি৷ অতিভারী বৃষ্টির কারণে হড়পা বান চামোলি জেলার থারালিতে৷ যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বাড়ি-দোকানপাঠ এবং একাধিক গাড়ি৷ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় দু’জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রশাসন সূত্রে খবর৷ শুক্রবার ভোররাত থেকে মেঘভাঙা বৃষ্টিপাতের ফলে চামোলি জেলার থারালির কোটদ্বীপ, রাদিবাগ, আপার বাজার, কুলসারি, চেপডো, সাগওয়ারা সহ থারালির অন্যান্য অংশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু এলাকা বালি, পাথর ও কাদায় ঢেকে গিয়েছে। শহুরে এলাকায় পার্কিংয়ে থাকা বহু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। চেপদাঁও বাজার ও থারালি বাজারের অনেক দোকানে বালি-কাদা-জল ঢুকেছে। ধ্বসের ফলে বন্ধ একাধিক রাস্তা। এমনকী হরপা বানে থারালি সরকারি অফিস এবং আশেপাশের বাড়িঘর-দোকানপাট ভেঙে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চামোলি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শুক্রবার রাতের বৃষ্টিতে সাগওয়ারা গ্রামে ২0 বছরের এক তরুণী ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মারা গিয়েছেন। অন্যদিকে, চেপডন বাজার এলাকার এক বাসিন্দার খোঁজ মিলছে না। যদিও প্রশাসনিক ভাবে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে বলেই খবর। এমনিতেই উত্তরাখণ্ডে এবার অতিবৃষ্টির কারণেই ফুঁসছে অধিকাংশ নদী। এমনকী হরিদ্বারেও গঙ্গার জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সম্প্রতি ধারালি এলাকায় হড়পা বানে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু খবর সামনে এসেছিল। সেখানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছিল। এরপর আবার চামোলিতেও ঘটল একই ঘটনা। সব মিলিয়ে হড়পা বানের ফলে দেবভূমি এখন রীতিমত আতঙ্কপুরীতে পরিণত হয়েছে।
হড়পা বানে নিখোঁজ ৯ ভারতীয় সেনা

হড়পা বানে ভেসে গেল ভারতীয় সেনার ছাউনি। বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় নিখোঁজ ৯ জন ভারতীয় সেনা জওয়ান। এমনকী এই হড়পা বানে ৫ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪৫ নাগাদ মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে ধারালি গ্রামে হড়পা বান আসে। ধারালি থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে হরশিলে ছিল ভারতীয় সেনার ছাউনি। হড়পা বানে ভেসে যায় সেই ছাউনি। এই হড়পা বানে নিখোঁজ ৯ জন ভারতীয় সেনা। যদিও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাদের উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাকি সেনারা। ভারতীয় সেনার তরফে এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, “ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যে ১৫০ জওয়ান ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে তারা। বিপর্যস্ত নাগরিকদের সবরকম সাহায্য করতে দায়বদ্ধ ভারতীয় সেনা।” অন্যদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরাখণ্ডের প্রিন্সিপাল সচিব আরকে সুধাংশু জানিয়েছেন, ৪০ থেকে ৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বরগুলি হল ০১৩৭৪-২২২১২৬, ২২২৭২২ এবং ৯৪৫৬৫৫৬৪৩১। গঙ্গোত্রী যাওয়ার পথে পুণ্যার্থীরা এই ধারালিতে আশ্রয় নেন। সেজন্য এখানে অনেক হোটেল, রেস্তরাঁ এবং হোম স্টে রয়েছে। সেকারণেই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে আপাতত কেদারনাথ যাত্রা বন্ধ রাখার কথা সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এদিন জরুরি বৈঠকে বসেন। তাঁর সঙ্গে এই ঘটনা বিষয়ে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উত্তরাখণ্ডের পাশে থাকে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।