চতুর্থবার মমতাই ক্ষমতায় আসছে, বড় ইঙ্গিত কংগ্রেস পর্যবেক্ষক গুলাম আহমদ মীরের

নির্বাচন কমিশনের তৎপরতায় মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই মিটেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) ভোটগ্রহণ পর্ব। অন্যদিকে ভোট শেষ হতে না হতেই একের পর এক প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথ ফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’। কটি আসন পাবে বিজেপি (BJP), কটি আসন পাবে তৃণমূল (Trinamool Congress), তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কাটাছেঁড়াও শুরু হয়ে গেছে। দুই দলই জয় নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। এমতাবস্থায় তৃণমূলের জয় নিয়ে এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গুলাম আহমদ মীর (Gulam Ahmad Mir)। গত বৃহস্পতিবার, কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গুলাম আহমদ মীর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভোট সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে জানান, “তৃণমূল যদি একা সরকার গঠন করতে না পারে, সেক্ষেত্রে কংগ্রেস নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। তাদের সমর্থন দরকার পড়বে।” প্রাথমিকভাবে তিনি আরও জানিয়েছেন যে, অন্তত ২০০ আসনে ভোটের শতাংশ বাড়তে চলেছে কংগ্রেসের। আর জয় আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ৮টি আসনে। নির্বাচনের প্রথম দফাকেই টার্গেট করছেন তারা। তবে দ্বিতীয় দফায় শ্রীরামপুরকে নিয়ে আশাবাদী তিনি। আর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল শোরগোল। যদিও এই নিয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। গুলাম আহমদ মীর দাবি করেন, “বাংলার ভোট নিয়ে যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে এক্সিট পোল অনুযায়ী বিজেপি সরকার গঠন করবে, কিন্তু তা আদতে কিছুই হবে না, বরং তার উল্টো ফল হবে। কারণ রাজ্যের মহিলাদের হাতে সরাসরি যে আর্থিক সুবিধা দিয়েছে রাজ্য সরকার, তার সুফল তৃণমূলের পক্ষেই পড়বে। সত্যি বলতে বাংলার ভোটাররা খুব সচেতন। তাই এবার সাইলেন্ট ভোট হয়েছে বাংলায়। ভোটাররা কাউকে বুঝতে দেননি কাকে তাঁরা ভোট দিচ্ছেন। কারণ তৃণমূলকে সমর্থনের কথা বিজেপি জানতে পারলে, তারা অশান্তি করবে। আবার বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে জানতে পারলে তৃণমূল ঝামেলা করবে।” কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গুলাম আহমদ মীরের স্পষ্ট দাবি রাজ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ মহিলা ভোট তৃণমূল পাবে। এমনকি বিজেপির ঘরের মহিলারাও নাকি তৃণমূলকে ভোট দেবে। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, মাসে পরিবারপিছু আর্থিক ৮-১০ হাজার টাকার অনুদান। এছাড়াও রাজ্যে তৃণমূলেরই সাংগঠনিক শক্তি যে মজবুত সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস পর্যবেক্ষক। সব মিলিয়ে আগামী ৪ তারিখ ভোট গণনার পরই স্পষ্ট হবে, রাজ্যে এবার পরিবর্তন, না প্রত্যাবর্তনের পক্ষেই সাধারণ মানুষের সমর্থন ছিল।