‘ডিপ ফ্রিজ’-এর হাত ধরে বাংলা ছবি কী আবার ঘুরে দাঁড়াবে?
৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে গত শুক্রবার। পরিচালক থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রী, প্লেব্যাক সিংগার, মেকআপ আর্টিস্ট সব মিলিয়ে তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। তবে সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছে বাঙালি ছবি ‘ডিপ ফ্রিজ’। নতুন পরিচালক অর্জুন দত্তের এই ছবির গল্প মূলত বিচ্ছেদ পরবর্তী সময়ের দুই স্বামী-স্ত্রীর জীবনের নানান টানাপোড়েনের গল্প। যেখানে স্বর্ণাভর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে আবির চট্টোপাধ্যায়কে এবং মিলির চরিত্রে সাবলীল অভিনয় করেছেন তনুশ্রী চক্রবর্তী। বাংলা ছবি হিসাবে ‘ডিপ ফ্রিজ’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি পরিচালক অর্জুন দত্ত। তাঁর প্রথম ছবির এই সাফল্য তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর মাকে। এই ছবির শুটিং চলাকালীনই তাঁর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এক সময়ও মারা যান। তাই তাঁর আজকের সাফল্য মায়ের কৃতিত্ব বলেই দাবি করেন পরিচালক। পাশাপাশি প্রথম ছবিই পুরস্কৃত হওয়ায় তাঁর দায়িত্ব যে আরও বহুগুণ বেড়ে গেল, সেকথাও স্বীকার করেছেন অর্জুন। নিজের অভিনীত ছবি পুরস্কার পাওয়ায় খুশি অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়ও। নতুন পরিচালক হিসেবে অর্জুনের প্রথম ছবির এই সাফল্যে অভিনেতা হিসাবে তিনিও যে আপ্লুত সে কথাও জানান আবির। এই সাফল্য অর্জুনকে আগামীদিনে আরও ভালো কাজের উৎসাহ জোগাবে বলেই মনে করেন তিনি। আবিরের পাশাপাশি এই ছবির পুরস্কার প্রাপ্তিতে আনন্দিত অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তীও। যদিও এর আগেও তনুশ্রী অভিনীত সৃজিত মুখার্জির ‘গুমনামী’ ছবিটিও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিল। সব মিলিয়ে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, ঋতুপর্ণ ঘোষ, কৌশিক গাঙ্গুলির পরবর্তী প্রজন্মের কাজও যে জাতীয় স্তরের স্বীকৃত আদায় করতে পারছে, তা নিঃসন্দেহে বাংলা ইন্ড্রাট্রির ভবিষ্যতের জন্য অবশ্যই সুখবর।
বাংলা সিনেমা-সিরিয়ালে হিন্দি গানের ব্যবহার কমাতে নির্দেশ মমতার

এবার থেকে বাংলা সিনেমা-সিরিয়ালে হিন্দি গানের ব্যবহার বন্ধ করতে অনুরোধ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইদানিং বাংলা ধারাবাহিকে হিন্দি গানের ব্যবহার বাড়ছে। এমনকী বৃহস্পতিবার ‘মহানায়ক’ সম্মানের অনুষ্ঠানে তা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে যখন বাঙালিদের উপর লাগাতার আক্রমণ চলছে, বাদ যাচ্ছে না মাতুয়া-রাজবংশীরাও। এমন পরিস্থিতিতে নিজের মাতৃভাষাকে আঁকড়ে রাখার মন্ত্র দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “অন্য ভাষাকে অবশ্যই সম্মান করুন। কিন্তু বাংলাকে প্রাণে ধরে রাখুন।” মহানায়ক সম্মানের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা ভাষা এবং বাংলা সিনেমার প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা। শহীদ স্মরণের মঞ্চ থেকেই ডাক দিয়েছিলেন ‘ভাষা আন্দোলনের’। আর বৃহস্পতিবার ধনধান্য স্টেডিয়ামে ‘মহানায়ক’ সম্মানের অনুষ্ঠানেও বাঙালি অস্মিতায় শান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সিনেমা সিরিয়ালে বাংলা গানের ব্যবহার কমে যাওয়ার বিষয়টিকে তুলে ধরলেন। শিল্পী-কলাকুশলীদের হাতে মহানায়কের নামাঙ্কিত পুরস্কার তুলে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “বাংলা ভাষায় যাঁরা কথা বলছেন, তাঁদের উপর অত্যাচার চলছে বিভিন্ন রাজ্যে। সারা পৃথিবীতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে আমাদের বাংলা ভাষা। এই ভাষাতেই প্রায় ৩০ কোটি মানুষ কথা বলেন। আর আজকে যাঁরা বাংলা ভাষায় কথা বলছেন, তাঁদের জেলে ঢোকানো হচ্ছে, এটা মেনে নেব না। বাংলা আমাদের মাতৃভূমি, কর্মভূমি, পিতৃভূমি, স্বপ্নভূমি, নবজাগরণের ভূমি। তাই আমাদের জেগে উঠতে হবে। বাংলা সিনেমাকে অবহেলা করবেন না। আর আমি নির্মাতাদেরও বলব, বাংলা সিরিয়ালেও যেন হিন্দি ভাষায় গানের ব্যবহার কমানো হয়।” মুখ্যমন্ত্রীর আরও সংযোজন, “বাংলা গানের চল সিনেমা-সিরিয়ালে অনেক কম। বাংলা গানের একটা মাধুর্য রয়েছে। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, শ্যামল মিত্র, সলিল চৌধুরী, লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে-সহ আরও অনেকে বাংলা ভাষায় কত ভালো ভালো গান গেয়েছেন।” বাংলা ভাষার গানের উপরই নির্মাতাদের জোর দিতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ধারাবাহিকের প্লটে সামাজিক বার্তা দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। পরিচালক-প্রযোজকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “খারাপ কিছু শেখাবেন না। সিরিয়ালে সারাক্ষণ বিষ দেওয়া, ঝগড়া, গুন্ডামি এসব দেখানো হচ্ছে। বাচ্চারা ভুল শিখছে। অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছে। সিরিয়াল টানতে গেলে রোজ গণ্ডগোল দেখানোর দরকার নেই। অনেক ভালো জিনিস রয়েছে, সেগুলি দেখান।”