আবারও বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ। ২১শে জুলাই নিজের খাস তালুক খড়গপুর শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবস পালনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রীতিমত বোমা ফাটালেন বিজেপির প্রাক্তন এই রাজ্য সভাপতি। বেশ কিছু বছর ধরে দলে কোণঠাসা তিনি। বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে তাঁর জন্যও চেয়ারও বরাদ্দ থাকে না বলে কয়েকদিন আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছিলেন তিনি। এমনকী বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের শুভেচ্ছাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ডাক পাননি দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাতেও। এরপরই দিলীপ ঘোষের তৃণমূলের ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে যোগদান নিয়ে রহস্য ক্রমশ দানা বাঁধে বিজেপির অন্দর এবং বাইরে। দিলীপ ঘোষ নিজেও কিছুটা সাসপেন্স রেখে বলেছিলেন তিনি ২১শে জুলাই কোনও না কোনও সভায় থাকবেন। এরপরেই জল্পনা আরও বাড়ে। আজ খড়গপুরে বিজেপির শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি সভায় যোগ দিয়ে, নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে একহাত নিলেন দিলীপ ঘোষ। গেরুয়া শিবিরের এই প্রাক্তন সাংসদ কড়া ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “আমি কি ঘেয়ো কুকুর নাকি যে সকাল-সন্ধ্যা এ বাড়ি, ওই বাড়ি ঘুরে বেড়াব? যারা নিজেরা এই দল, ওই দল ঘুরে বেড়ায়, তারা এই ধরনের প্রচার করে। বিজেপি কর্মীরা বিক্রি হন না। মারলে রাজ্য ছাড়া হতে পারে, কিন্তু ঝান্ডা ছাড়া নয়।”
ধর্মতলায় তৃণমূলের ২১শে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের পাল্টা হিসাবে ‘শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি’র ডাক দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরে তৃণমূলের রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছে বিজেপির কয়েকশো কর্মী-সমর্থক। প্রয়াত সেইসব বিজেপি কর্মীদের স্মরণে আজ জেলায় জেলায় কর্মসূচি পালন করছে গেরুয়া শিবির। আজ খড়গপুরের সভা থেকে তৃণমূলকে পাল্টা কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, “বিজেপি ২১শে জুলাই ‘শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ সভা করছে এটা কি কোনও চমক নয়? তৃণমূল তো এতদিন এই দিনটাকে নিজেদের একটা বাৎসরিক অনুষ্ঠানে পরিণত করে ফেলেছে। পিকনিকের আবহে ডিম-ভাতের প্রোগ্রাম চলে। কিন্তু আমরা মনে করি, শহীদ তো আমাদের কর্মী-সমর্থকরা হয়েছে। যে শহীদদের নিয়ে তৃণমূলের এত নাটক, তারা তো কংগ্রেসের। তৃণমূলের সঙ্গে ওদের কী সম্পর্ক? বিজেপির বহু কর্মী এই বাংলায় রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতেই আজকের সভা। তবে আমার মনে হয় তৃণমূল এবার নিজেরাই শহীদ হয়ে যাবে।”







