শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কে কোন দায়িত্ব পেলেন, দেখুন এক নজরে

বিজেপি বাংলাতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে একমাস কেটে গেছে। কিন্তু মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন নিয়ে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা সরকারি তরফে এতদিন করা হয়নি। এরই মাঝে নানা নাম সামনে আসছিল। অবশেষে সব জল্পনার অবসান। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের সব মন্ত্রীদের (Minister) দফতর বণ্টন করল রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) দফায় দফায় দিল্লি (Delhi) নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে এই দফতর (Department) বণ্টন চূড়ান্ত করেছেন বলে সূত্রের খবর। মঙ্গলবার রাতেই রাজ্য মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত তালিকায় সিলমোহর পড়েছে। বুধবার, জারি হল আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভায় ১৯ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের সমন্বয় শাখার তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি (Notice) অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার ও উদ্বাস্তু ত্রাণ এবং পুনর্বাসন দফতর, বিদ্যুৎ দফতর, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর থেকে শুরু করে কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের দায়িত্ব নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি অন্য কোনও মন্ত্রীর কাছে বণ্টন না হওয়া দফতরগুলিও আপাতত তাঁর অধীনেই থাকবে। সরকার গঠনের ঠিক একমাস পর নতুন ৩৫ মন্ত্রীর দফতর বন্টনের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শপথ নেওয়া আগের ৫ মন্ত্রীকেও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিশীথ প্রামাণিক উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের পাশাপাশি জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দফতরেরও দায়িত্ব পেয়েছেন। খাদ্য ও সরবরাহের পাশাপাশি অশোক কীর্তনিয়ার হাতে গিয়েছে সমবায় দফতরের বাড়তি দায়িত্ব। দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দফতরের দায়িত্ব। ক্ষুদিরাম টুডু পেয়েছেন আদিবাসী উন্নয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। অগ্নিমিত্রা পালের হাতে পুর দফতরের পাশাপাশি নগরোন্নয়ন দফতর গিয়েছে। দীপক বর্মনের দায়িত্বে থাকছে স্কুল শিক্ষা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দফতর। তাপস রায় পেয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প সংস্থা এবং অপ্রচলিত ও নবীকরণযোগ্য শক্তি দফতর। সংসদীয় বিষয়ক ও পর্যটন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শঙ্কর ঘোষকে। বন ও পরিবেশ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন মনোজ কুমার ওরাওঁ। শ্রম এবং পরিবহণ দফতরের মন্ত্রী হয়েছেন অর্জুন সিং। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ এবং গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের দায়িত্বে থাকবেন গৌরীশঙ্কর ঘোষ। উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে। অর্থ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন দফতরের মন্ত্রী হয়েছেন ডা. কল্যাণ চক্রবর্তী। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। সেচ ও জলপথ দফতরের মন্ত্রী হয়েছেন অরূপ কুমার দাস। জনস্বাস্থ্য কারিগরি এবং পূর্ত দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. অজয় কুমার পোদ্দার। কৃষি দফতরের মন্ত্রী হয়েছেন দুধকুমার মণ্ডল। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে মালতী রাভা রায় পেয়েছেন নারী ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি এবং কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ দফতর। রাজেশ মাহাতর হাতে গিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিকাশ ও মৎস্য দফতর। যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া এবং ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. ইন্দ্রনীল খান। প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। জয়েল মুর্মু পেয়েছেন আদিবাসী উন্নয়ন এবং সেচ ও জলপথ দফতর। হরে কৃষ্ণ বেরা থাকছেন উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দফতরে। আনন্দময় বর্মনের হাতে গিয়েছে পরিবহণ এবং অর্থ দফতর। অশোক দিন্দা পেয়েছেন কৃষি বিপণন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দফতর। নাদিয়ার চাঁদ বাউড়ির দায়িত্বে থাকছে পূর্ত এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর। বিশাল লামা পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। শান্তনু প্রামাণিক থাকছেন খাদ্য ও সরবরাহ এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে। মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের হাতে গিয়েছে শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতর। উমেশ রাই পেয়েছেন সংসদীয় বিষয়ক এবং নগরোন্নয়ন ও পুর দফতর। পূর্ণিমা চক্রবর্তী থাকছেন তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দফতরে। কৌশিক চৌধুরী পেয়েছেন স্কুল শিক্ষা এবং দমকল ও জরুরি পরিষেবা দফতর। এ ছাড়া ভাস্কর ভট্টাচার্যকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও শ্রম দফতর, দিবাকর ঘরামিকে সমবায়, বন ও পরিবেশ দফতর, অমিয় কিস্কুকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন এবং কৃষি দফতর, কলিতা মাজিকে আবাসন দফতর, গার্গী দাস ঘোষকে বিদ্যুৎ এবং নবীকরণযোগ্য শক্তি দফতর, বিরাজ বিশ্বাসকে আইন, বিচার এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর, দীপঙ্কর জানাকে ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং সুন্দরবন বিষয়ক দফতর এবং সুমনা সরকারকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোদি সরকারের একযুগ, রাম মন্দিরে পুজো বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর

মোদি সরকারের একযুগ। অর্থাৎ কেন্দ্রে ১২ বছর পূর্ণ হল বিজেপি (BJP) সরকারের। এর আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর রেকর্ড ছিল সবচেয়ে বেশিদিন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতায় থাকার। সেই মাইলফলক ভেঙে দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। আজ তার সরকারের ১২ বছর পূর্তিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ পুজো পাঠের আয়োজন করা হয়েছে বিজেপির (BJP) তরফে। পশ্চিমবঙ্গেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বুধবার সকালে নিউটাউনের রামমন্দিরে পৌঁছে যান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পীযূষ কানোরিয়া, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী সুস্থতা কামনা করে পুজো ও যজ্ঞে অংশ নেন শুভেন্দু। ২০১৪ সালে প্রথমবার নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও জিতেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটানা ৪ হাজার ৩৯৯ দিন পূর্ণ করে নজির গড়েছেন তিনি। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যেমন তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তেমনই শুভেচ্ছাবার্তা এসেছে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্র প্রধানের থেকেও। এমনকি বাংলার নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রধানমন্ত্রীকে শুভেন্দু বার্তা পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি বিজেপি সরকারের ১২ বছর পূর্তিতে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত চা-চক্রেও হাজির থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় নেতা নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০৪৭ ভারত শ্রেষ্ঠ হয় এই প্রার্থনা ভগবানের কাছে করলাম। ওনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজ্যকে শক্তিশালী করতে পারি এই প্রার্থনা এবং আপনাদের সকলের কাছে আশীর্বাদ চেয়ে নিলাম। আশা করব সম্মিলিত সহযোগিতায় জাতীয়তাবাদ-রাষ্ট্রবাদ-দেশপ্রেম সকলের মধ্যে যেন সঞ্চালিত করতে পারি।”
এবার খোদ ডায়মন্ড হারবারেই অভিষেকের বিরুদ্ধে FIR দায়ের

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে সংকট যেন পিছু ছাড়ছে না তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে সিআইডি (CID) ইতিমধ্যেই তাঁকে তলব করেছেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে একের পর এক সমন এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। এবার খোদ অভিষেক গড় বলে পরিচিত ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর (FIR)। অভিষেক, জাহাঙ্গির খান-সহ ৪০ জনের বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। বিজেপি নেতার বক্তব্য, সাড়ে ৭ বছর আগে অভিষেকের নির্দেশে তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। কিন্তু এতদিন তৃণমূল (TMC) ক্ষমতায় থাকায় পুলিশ এই ঘটনায় কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এবার রাজ্যে বিজেপি (BJP) আসায় পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে বলেই তিনি আশাবাদী। ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর। ওইদিন ডায়মন্ড হারবারের কপাটহাট মোড়ে বিজেপির দলীয় কর্মসূচিতে এসে আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিজিৎ দাস। সেইসময় বিজেপির জেলা সভাপতি ছিলেন তিনি। কোমর থেকে পা পর্যন্ত গুরুতর জখম হয়েছিল। এমনকি ওই ঘটনার ফলে শিরদাঁড়ায় গুরুতর চোট পান তিনি। সেদিন পরিকল্পনা করেই তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিজিৎ দাসের অভিযোগ। দীর্ঘদিন সিএমআরআই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে অভিজিৎ দাস জানান, “আমি ৪৪ মিনিট আগে খবর পেয়েছিলাম যে আমার উপর হামলা হতে পারে। পুলিশকে জানাই। কিন্তু কিছু করেনি। আমি পালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু, আমি পলাতক নই। আমি তখন জেলা সভাপতি। আমি পালিয়ে গেলে এখানে সংগঠনটা থাকত না। ওরা এটাই চেয়েছিল। আমাকে তো আধমরা করে ফেলে রেখেছিল। আমার মেরুদণ্ডে এখনও চিড় রয়েছে।” অবশেষে সেই ঘটনার বিচার চেয়ে মঙ্গলবার সন্ধেয় পুলিশের দারস্থ হলেন তিনি। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ৪১জন নেতা সহ আরও প্রায় দেড়শো জনের বেশি অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানালেন তিনি। কিন্তু এই ঘটনায় এতদিন পর কেন তিনি অভিযোগ জানাচ্ছেন? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানান, “তখন তো ডায়মন্ড পুলিশ অভিষেকের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাই কিছু করেনি। যারা আমার উপর হামলা চালিয়েছিল, ছাড়া পাবে না। এরা গ্রেফতার হবে। এদের ছাড়া উচিত নয়।” এখন দেখার এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও ব্যবস্থা নেন কিনা। তবে এর ফলে অভিষেকের সংকট যে আরও বাড়ল সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।