পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দুতেই ভরসা রাখল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-কে হারিয়ে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিজেপি (BJP)। তার পর থেকেই রাজ্যের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী (Westbengal Chief Minister) কে হবেন তা নিয়ে রীতিমত তরজা চলছিল। আলোচনার প্রথম সারিতে এক বাক্যেই উঠে আসছিল শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, স্বপন দাশগুপ্ত, অগ্নিমিত্রা পল-এর মতো একাধিক নাম। কিন্তু অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)র নাম চূড়ান্ত করল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আজ শুক্রবার বিকেলে নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিধায়কের উপস্থিতিতে তাঁকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। আগামীকাল, অর্থাৎ শনিবার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিধায়ক দলের বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এলেও সব কটিতেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম ছিল। অন্য কোনো নাম না আসায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।’ শুভেন্দু অধিকারী আজই রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবি (RN Ravi)-র কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল থাকলেও বড় কোনো সংশয় ছিল না। বিশেষ করে টানা দুবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর তিনিই সবচেয়ে বড় দাবিদার হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে জয়ের পর এবার ভবানীপুরেও মমতাকে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামেও তৃণমূল প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাধারণত মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে চমক দিলেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে শুভেন্দুর জয়কে উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি একাই পেয়েছে ২০৭টি আসন। বিপরীতে তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি। এদিকে পরাজয় মেনে না নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোয় রাজ্যে এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। রাজ্যপাল গত বুধবার বিধানসভা ভেঙে দিলেও মমতা ইস্তফা দেননি। ফলে গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যে সরাসরি কোনো মন্ত্রিসভা নেই। প্রশাসনিক এই শূন্যতার মধ্যেই আগামীকাল নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। শনিবারের এই মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অমিত শাহ আজ সকালেই কলকাতায় পৌঁছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। এখন তাঁর ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নতুন সরকারের অভিষেক ঘিরে গোটা বাংলাজুড়ে একপ্রকার সাজো সাজো রব।