বাংলায় গেরুয়া ঝড়, কোন স্ট্রাটেজিতে বঙ্গজয় বিজেপির?

বাংলার ইতিহাসে এই প্রথম বঙ্গজয় বিজেপির। বাংলায় ভোটের ফলে (Bengal Election Results 2026) ২৯৩ সিটের প্রায় ২০০ আসনেই এগিয়ে বিজেপি(BJP)। তৃণমূল(TMC) এগিয়ে প্রায় ৯০টি আসনে। কিন্তু এই জয়ের পিছনে কোন কোন ফ্যাক্টর কাজ করল? ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে টিম ওয়ার্ক ও স্ট্রাটেজির ওপরেই জোর দিয়েছিল বঙ্গ বিজেপি। যেখানে নতুনদের তুলনায় অনেক বেশি ভরসা ছিল বিজেপির আদি নেতাদের ওপরই। আর সেকারণেই বিজেপির প্রার্থী তালিকায় এবার আদি নেতাদের সংখ্যাই ছিল বেশি। রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, রীতেশ তিওয়ারি, উমেষ রাই, সঞ্জয় সিং, সুবীর নাগ-র মতো আদি বিজেপি নেতাদের প্রার্থী হিসেবে দেখা গিয়েছে। এবার বিজেপির প্রার্থী তালিকায় তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও সেলিব্রিটির সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। অনেকের মতে, এটাই বিজেপির জয়লাভের একটি কারণ। তাছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ভূমিপুত্র বা স্থানীয় নেতাদের প্রার্থী করেছে। যার ফলে ‘বহিরাগত’ তকমা কিছুটা হলেও ঘোঁচাতে পেরেছে বিজেপি। অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগ, কয়লা ও গরু পাচার সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত লেগেছিল। শাসক বিরোধী একটা জনমত তৈরি হয়েই ছিল। বিজেপি সেই সুযোগে এই ইস্যুগুলোকেই বার বার সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরে। তার প্রভাবই ভোটবাক্সে পড়েছে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই মনে করছেন। তবে এবার বিজেপির জয়ের সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি নিঃসন্দেহেই বাংলায় লাগাতার হিন্দুত্বের প্রচার, অমিত শাহের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রতিশ্রুতি, অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা। যা হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করে বিজেপিকে জয়ের সরণিতে তুলে এনেছে। পাশাপাশি তৃণমূলের একচেটিয়া মহিলা ভোটে এবার থাবা বসিয়েছে বিজেপি। ভোটের আগে বিজেপির ৩০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ঘোষণা কিছুটা হলেও মহিলা ভোট-ব্যাংককে বিজেপিমুখী করেছে। তাছাড়া ‘অভয়ার’ মাকে প্রার্থী করে একপ্রকার মহিলা সেন্টিমেন্টকে নিজেদের দিকে ঘোরাতে অনেক বেশি সহায়ক হয়েছে নিঃসন্দেহেই। অন্যদিকে SIR নিয়ে তৃণমূল বাংলায় যে বিজেপি বিরোধী হাওয়া তৈরি করার চেষ্টা করেছিল যা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। বরং SIR-এর প্রচুর সংখ্যালঘুদের নাম কাটা যাওয়ায় ভোটের অঙ্কে তৃণমূলকে অনেকটাই পিছনে ফেলেছে বিজেপি। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের কৌশলী চালে বাংলায় কিস্তিমাত করল বিজেপি।