আশিস নেই, দিমিকে দিয়েই বাজিমাতের পরিকল্পনা লোবেরার

মরসুম শুরুর আগেই বড় ধাক্কা মোহনবাগান শিবিরে। আইএসএলে আশিস রাইকে ছাড়াই মাঠে নামবে মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট। প্রথমবার সাংবাদিকদের সম্মুখীন হয়েই সেই কথা জানিয়ে দিলেন কোচ সের্জিও লোবেরা। আশিসের না থাকাটা যেমন সমস্যা, তেমনই কোচের কাছে যে বিকল্পও রয়েছে সেই কথাও জানাতে দ্বিধা করেননি তিনি। তাঁর পরিবর্ত হিসাবে যেমন খেলতে পারেন দীপেন্দু বিশ্বাস। তেমনই আবার পজিশন পরিবর্তন হতে পারে অভিষেক টেকচাম সিংয়ের। অন্যদিকে মোলিনার কোচিংয়ে ব্রাত্য দিমিত্রি পেত্রতসই এখন সের্জিও লোবেরার প্রধান অস্ত্র। দিমিকে গতবার প্রথম একাদশে রাখতেন না মোলিনা। কিন্তু লোবেরা আসার পর থেকেই যেন বদলে গিয়েছেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। নিজেকে ভেঙেচুরে যেমন নতুন ভাবে তৈরি করেছেন। তেমনই আবার ফিরেছেন তাঁর পুরনো ফর্মে। এক্র পর পর প্রস্তুতি ম্যাচে গোলের বন্যা বইয়েছেন দিমিত্রি পেত্রাতস। এবার কোচের মুখেও তাঁর প্রশংসা। ব্যক্তিগতভাবে ফুটবলারদের নিয়ে সেভাবে বলেন না লোবেরা। কিন্তু এদিন দিমির প্রচ্ছন্ন প্রশংসা শোনা গেল লোবেরার মুখেও। তিনি জানান, আমার সেটআপে দুরন্ত খেলছেন দিমিত্রি পেত্রাতস। সত্যিই ভালো খেলছেন তিনি। দলের অন্যান্য বিদেশিদের মতোই ভাল খেলছেন। মুম্বই সিটি এফসিকে দুবার চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। এফসি গোয়াকে সুপার কাপ দিয়েছেন। এবার সেই সের্জিও লোবেরাই মোহনবাগানে। বাকিদের থেকে মোহনবাগানের দায়িত্বটা যে সম্পূর্ণ আলাদা তা প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই কারণেই তো মোহনবাগানের তুলনাটা সরাসরি বার্সেলোনা, রিয়্যাল মাদ্রিদের সঙ্গে করছেন সের্জিও লোবেরা। তাঁর বলতে কোনও দ্বিধা নেই যে এই দুটো দলের মতো মোহনবাগানও দ্বিতীয় পজিশনের জন্য খেলে না। অন্যতম সেরা নয়, মোহনবাগান ভারতের সেরা দল। লোবেরা জানান, মোহনবাগান আমার কাছে অন্যতম সেরা দল নয়, তারা ভারতের সেরা ক্লাব। রিয়্যাল মাদ্রিদ, বার্সেলোনার মতো ক্লাবেদের মতো মোহনবাগানও কথনও দ্বিতীয় হতে পছন্দ করে না। অর্থাৎ আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই বুঝি। সের্জিও লোবেরা যে ম্যাচেই মাঠে নামুক না কেন, ডাগ আউটে তিনি সব সময়ই সাদা পোশাক পড়েন। বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবলার থেকে কোচেদের নানান কুসংস্কারের কথা আমরা হামেশাই শুনতে পাই। লোবেরারও কী তবে এমনই কোনও কুসংস্কার রয়েছে। আর সেখানেই বেশ মজার ছলেই দিলেন উত্তর। চলতি সপ্তাহের শেষ থেকেই অনলাইনে টিকিট দেওয়া শুরু করতে চলেছে মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট। তবে অফ লাইনে কবে থেকে টিকিট দেওয়া হবে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সেভাবে কোনও নিশ্চয়তা নেই। শোনাযাচ্ছে মাঠ ইনস্পেকশন হয়ে গেলেই তাঁরপর ক্লাব থেকে টিকিট দেওয়া শুরু হতে পারে। অন্যদিকে মোহনবাগানের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি এই মরসুমটা যে অত্যন্ত কঠিন তাও মেনে নিচ্ছেন কোচ সের্জিও লোবেরা। শর্টটার্ম লিগ। সেভাবেই তো নিজেদের গুছিয়েও নিচ্ছেন তিনি।
ইউসুফের ভিসার অপেক্ষা বেড়েই চলেছে

শহরে কবে আসবেন ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) নতুন বিদেশি ইউসুফ এজেজ্জারি(Yussef Ezzejjari)। সেই নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে। আইএসএলের(ISL) জন্য তাঁর রেজিস্ট্রেশন করানো হয়ে গেছে। কিন্তু যে খেলবে সেই ইউসুফই(Yussef Ezzejjari) নাকি এখনও পর্যন্ত ভিসা পাননি। ক্লাবের তরফ থেকে চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত ইউসুফের হাতে আসেনি ভিসা। শুক্রবার যদি ভিসা না পান, সেক্ষেত্রে ইউসুফের শহরে আসার অপেক্ষাটা যে আরও বাড়তে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ক্লাবের তরফে চেষ্টা করা হচ্ছে তিনি ভিসা পেয়ে যাতে এই সপ্তাহের মধ্যেই চলে আসতে পারেন। কারণ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে আইএসএল। তার আগে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতেও সময় লাগবে। সেই জন্যই যতটা দ্রুত সম্ভব ইউসুফকে নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) ক্লাব কর্তারা। হামিদ এবং হিরোশিকে ছেড়ে দেওয়ার পর ইউসুফকেই(Yussef Ezzejjari) সই করিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সকলে ছটি বিদেশিতে খেললেও, ইস্টবেঙ্গল কিন্তু খেলবে এবার পাঁচ বিদেশি। আর সেখানেই তাদের নতুন বিদেশি এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ইউসুফ এজেজ্জারি। এই মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র বিদেশি স্ট্রাইকারও তিনিই। ইউসুফ ছাড়া লাল-হলুদের স্ট্রাইকার এখন একমাত্র ডেভিড। যদিও ইস্টবেঙ্গল সদ্যই আবার জেরিকেও সই করিয়েছে। এতকিছুর মধ্যে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে আবার সুখবর কেভিন সিবিলের সেরে ওঠা। বৃহস্পতিবার থেকেই প্রস্তুতিতে নেমে পড়লেন এই কেভিন। তবে নাওরেম মহেশ কবে মাঠে ফিরতে পারবেন তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও ধারনা নেই।
বাগানের ব্রাত্য নুনো এবার মুম্বই সিটি-তে

মোহনবাগানে ব্রাত্য নুনো রেইস(Nuno Reis) এবার মুম্বই সিটি এফসিতে(Mumbai City Fc)। গত মরসুমে এএফসির জন্য নুনো রেইসকে সই করিয়েছিল মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট(MBSG)। এএফসি খেলতে যায়নি তারা। নুনোকে(Nuno Reis) দলে রাখলেও আইএসএলের একটিও ম্যাচে তাঁকে না খেলানোরই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হোসে মোলিনা। এরপরই এই পর্তুগীজ তারকাকে ছেড়ে দিয়েছিল মোহনবাগান(MBSG)। নতুন মরসুম শুরু হওয়ার আগেই এই ফুটবলারকে দলে তুলে নিল মুম্বই সিটি এফসি। শুধুমাত্র এই মরসুমের জন্যই তাঁকে সই করানো হয়েছে। গত মরসুমে মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র ডুরান্ড কাপে খেলানো হয়েছিল নুনো রেইসকে(Nuno Reis)। এছাড়া তাঁকে স্কোয়াডে রাখা হলেও একটিও ম্যাচে খেলানো হয়নি। শোনা গিয়েছিল এরপর নাকি তিনিই বারবার ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত কথাবার্তার মাধ্যমে তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিল মোহনবাগান। এবার সেই নুনো রেইসকেই তুলে নিয়েছে মুম্বই সিটি এফসি। শেষ মুহূর্তে খানিকটা শক্তিশালী দলই গড়ে নিতে চাইছে তারা। সেইসঙ্গে এবারের নতুন ফর্ম্যাটের আইএসএলে মোহনবাগানের মুখোমুখি হবে মুম্বই সিটি এফসি। সেখানে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে তিনি যে নিজের সেরা পারফরম্যান্সটাই দিতে চাইবে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন শুধুই নুনো রেইজের মুম্বই সিটি এফসির জার্সিতে মাঠে নামার অপেক্ষায় সকলে।
বিশ্বকাপের আগে সিদ্ধি বিনায়ক মন্দিরে গৌতম গম্ভীর

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের(T20 World Cup) মঞ্চে নামবে ভারতীয় দল। সেই ম্যাচে নামার আগেই মহারাষ্ট্রের সিদ্ধি বিনায়ক মন্দিরে(Siddhivinayak Temple) ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর(Gautam Gambhir)। বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাত্র দুটো দিন। তার আগেই ভগবানের আশীর্বাদ নিলেন ভারতীয় দলের কোচ। এবারের বিশ্বকাপটা যে ভারতীয় দলের কাছে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধুমাত্র ভারতীয় দলের জন্যই নয়, এই বিশ্বকাপ গৌতম গম্ভীরের(Gautam Gambhir) কাছেও একটা বড়সড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে ঘরের মাঠে একের পর এক সিরিজ হেরেছে। সম্প্রতি নিউ জিল্যান্ডের কাছে ওডিআই সিরিজও হেরেছে তারা। বিশ্বকাপে সাফল্য পেলেই যে গম্ভীরকে নিয়ে চলা যাবতীয় সমালোচনাও দূর হয়ে যাবে তাও তিনি বেশ ভালোভাবেই জানেন। এই মুহূর্তে অবশ্য দুরন্ত ফর্মে রয়েছে ভারতীয় দলও। বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচেও ভারতের পারফরম্যান্স ছিল বিধ্বংসী। শেষ ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং থেকে বোলিং দুই জায়গাতেই পারফরম্যান্স ছিল দেখার মতো। ৭ তারিখ আমেরিকার বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করবে ভারতীয় দল। এই সাফল্যের ধারা যাতে সেখানেও ধরে রাখতে পারে টিম ইন্ডিয়া, তারই প্রার্থনা হয়ত সিদ্ধা বিনায়কের কাছেও জানিয়ে আসলেন গৌতম গম্ভীর। যেকোনও বড় প্রতিযোগিতার আগেই বিশেষ করে সিদ্ধা বিনায়ক মন্দিরে পুজো দিতে দেখা যায় গৌতম গম্ভীরকে(Gautam Gambhir)। এবার তো সামনে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগেও অন্যথা হল না।
বিশ্বকাপের আগেই হর্ষিতের চোটে চিন্তায় ভারত

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ(T20 World Cup) শুরুর আগে হঠাৎই চোটের ছায়া ভারতীয় শিবিরে। এবার দলের অন্যতম প্রধান সদস্য চোটের কবলে। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাত্র দুটো দিন। তার আগেই হর্ষিত রানার(Harshit Rana) হাঁটুতে চোট। আর সেটাই যে গৌতম গম্ভীরের(Gautam Gambhir) চিন্তার অন্যতম প্রধান কারণ এই মুহূর্তে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথম ম্যাচেই ভারতীয় দল মুখোমুখি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এই মহূর্তে ভারতের টি টোয়েন্টি দলের অন্যতম প্রধান ভরসা হলেন হর্ষিত রানা(Harshit Rana)। জসপ্রীত বুমরার সঙ্গে বোলিংয়ে তিনিই ভারতীয় দলের তাছে প্রধান ভরসা। সদ্য শেষ হওয়া নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি সিরিজেও দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন এই তারকা ক্রিকেটার। বোলিংয়ের পাশাপাশি হর্ষিত ব্যাটিংয়েও নিজের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। এই পরিস্থিতিতেই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাকালীনই হঠাৎ হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হর্ষিত রানাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ চলাকালীনই বোলিং করার সময় হাঁটুতে কিছু সমস্যা অনুভব করেন হর্ষিত রানা। এমনকি তাঁর রান আপ নিতেও বেশ সমস্যা হচ্ছিল। সেই ওভারটা শেষ করলেও, এরপর আর বল হাতে দেখা যায়নি হর্ষিতকে। ফিজিওর সঙ্গেই এরপর মাঠ ছাড়েন ভারতীয় দলের এই তরুণ তারকা। যদিও বোর্ডের তরফে এখনও পর্যন্ত তাঁর চোট নিয়ে সেভাবে কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু হর্ষিত রানার এই চোট যে ভারতীয় শিবিরে চিন্তা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে তা বেশ স্পষ্ট।