অসুস্থতা, ধকলের প্রতিবন্ধকতা দূরে সরিয়ে জয় দিয়ে শুরু ইস্টবেঙ্গলের

সেতু এফসির বিরুদ্ধে শুধু ১-০ গোলে জয় নয়। ইস্টবেঙ্গল(এয়াস্তবেঙ্গাল) এদিন জয় করল ধকলের ক্লান্তি, অসুস্থতাও। দলের খেলায় কোচের মুখি পুরোপুরি স্যাটিসফাই হওয়ার কথা শোনা গেলেও, তাঁর দল যে এই পরিস্থিতিতে জিততে পেরেছে, সেটাই যেন অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজের(Anthony Andrews) কাছে যথেষ্ট। সেতু এফসির(Sethu Fc) বিরুদ্ধে এদিন গোলের ব্যবধান বাড়াতেই পারত ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। যদি প্রথমার্ধের সুযোগ গুলো কাজে লাগাতে পারত। কিন্তু তা পারেনি। সেইসঙ্গে অসুস্থতার জন্য কয়েকজন ফুটবলারকে নামাতেও পারেনি ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) মহিলা দল। তবে বিরতির পর সাফল্য আসে। সৌম্যা গুগলথের গোলে ইন্ডিয়ান ওমেন্স লিগে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে লাল-হলুদ মহিলা বাহিনী। বেশ কিছু জায়গায় মেরামতির দরকার যেমন কোচ মেনে নিচ্ছেন, তেমনই এতটা ধকল সামলে ফুটবলারদের চেষ্টা এবং জয়ে খুশি কোচ অ্যান্থনি। একই কথা শোনা গেল আশালতী দেবীর মুখেও। অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ জানান, “আমি যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট তা নই। বেশ কিছু জায়গায় আমাদের মেরামতি করতে হবে। তবে সেইসঙ্গে এই কথাটাও মাথায় রাখতে হবে যে আমরা সময় খুব কম পেয়েছি। সেইসঙ্গে আবহাওয়ার এত ঘন ঘন বদলের জন্য আমাদের ফুটবলাররা বেশিরভাগই অসুস্থ। অনেককেই হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। সেইসঙ্গে অত্যাধিক ধকল তো রয়েছই। তবে এই ফলাফলের জন্য আমি খুশি।” অন্যদিকে গোকুলামকে ৪-০ গোলে হারাল শ্রীভূমি(Sribhumi)। তাদের হয়ে গোল জোড়া গোল গ্রেসের। বাকি দুটো গোল করেন রিম্পা এবং অঞ্জু।
আইএসএলের অনিশ্চয়তায় মুম্বইয়ের হাত ছাড়ল সিটি গ্রুপ

কোন দিকে এগোচ্ছে ভারতীয় ফুটবল(Indian Football)? সম যত এগোচ্ছে ততই যেন অনিশ্চয়তা বাড়তে শুরু করেছে। সমস্ত ক্লাবের ফুটবল অপারেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য পিছিয়ে গিয়েছে। এবার সবচেয়ে বড় ধাক্কা আইএসএল(ISL) থেকে সিটি গ্রুপের(City Group) আলাদা হয়ে যাওয়া। মুম্বই সিটি এফসির(Mumbai City Fc) সঙ্গে গাঁটছড়া ভাঙল সিটি গ্রুপ। ইতিমধ্যেই ফেডারেশনকে সেটা নাকি জানিয়েও দেওয়া হয়েছে মুম্বই সিটি এফসির তরফে। কবে শুরু হবে ভারতের সর্বোচ্চ ফুটবল লিগ আইএসএল(ISL), তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনওরকম ইঙ্গিত মেলেনি। একের পর এক নতুন কমিটি গঠন এবং বৈঠক হয়ে চললেও, সমাধান সূত্র কোনও জায়গা থেকেই বেড়িয়ে আসছেন না। এমন পরিস্থিতিত আর নিজেদের ধৈর্য ধরে রাখতে পারল না দ্য গ্লোবাল ফুটবল কনগ্লোমেরেট অর্থাৎ সিটি গ্রুপ(City Group)। প্রিমিয়ার লিগে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির(Manchester City) অন্যতম শেয়ার হোল্ডার তারা। ভারতে মুম্বই সিটি এফসির(Mumbai City Fc) সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই বাঁধন ছিন্ন করে যাওয়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন মুম্বই সিটি এফসির মালিকানা শুধুমাত্র অভিনেতা রনবীর কাপুর এবং বিমল পারেখের হাতে রইল। আর ভারতীয় ফুটবলের জন্য এই ছবিটা যে একেবারেই ভালো নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফেডারেশনে তৈরি করা নতুন কমিটি এখন আইএসএলের(ISL) একটা চেষ্টা শুরু করেছে। বুধবার বিভিন্ন ক্লাবেদের সঙ্গে তারা প্রাথমিক একটা বৈঠকেও বসেছিল। কিন্তু সেখান থেকেও যে আশাপ্রদ কিছু একটা বেড়িয়ে এসেছে তেমন কিন্তু কোনও খবর নেই। কবে ভারতীয় ফুটবলের আকাশ থেকে এই অন্ধকার মেঘ সরে যায় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।
বিজয় হাজারেতে নেমেই সচিনের রেকর্ড ছুঁলেন বিরাট

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর বিজয় হাজারে ট্রফিতেও(Vijay Hazare Trophy) দুরন্ত ছন্দে বিরাট কোহলি(Virat Kohli)। সেঞ্চুরি ইনিংসের সৌজন্যে এবার ছুঁলেন সচিন তেন্ডুলকরের(Sachin Tendulkar) রেকর্ডও। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে এবার ১৬ হাজার রানের মাইলস্টোন ছুঁলেন এই তারকা ক্রিকেটার। বেঙ্গালুরুতে সেন্টার অব এক্সিলেন্সের মাঠে নেমেছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। সেখানেও স্বমেজাজে তিনি। ১৬ হাজার রনের মাইলস্টোন যেমন ছুঁলেন, তেমনই আবার খেললেন সেঞ্চুরি ইনিংসও। দর্শকহীন গ্যালারীতে খেলতে নেমেছেন বিরাট কোহলি(Virat Kohli)। বিজয় হাজারে ট্রুফির প্রথম দিন থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে তিনি। সেখানেই সেঞ্চুরি ইনিংস খেলার পাশাপাশি সচিনের রেকর্ডটাও ছুঁয়ে ফেললেন বিরাট(Virat Kohli)। তাঁর আগে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে এই রেকর্ড এখনও পর্যন্ত মাত্র ৯ জনেরই রয়েছে। সেখানেই রয়েছেন গ্রাহাম গুচ, সচিন তেন্ডুলকর, গর্ডন গ্রীনজ, সনথ জয়সূর্যদের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। সেই আসনেই এবার বিরাট কোহলিও বসলেন। অন্ধ্রপ্রদেশে বিরুদ্ধে ১০১ বলে ১৩১ রানের বিরাট ইনিংস খেলেন বিরাট কোহলি(Virat Kohli)। সেইসঙ্গেই ৩৪৩ ম্যাচ খেলে করলেন ১৬ হাজার রান। সম্প্রতি দেশের জার্সিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজে নেমেছিলেন বিরাট কোহলি। সেখানে সিরিজে সর্বোচ্চ রানের মালিক ছিলেন তিনি। ১৩৫, ১০২ এবং ৬৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিন ম্যাচের সিরিজে। সেই ধারা ঘরোয়া ক্রিকেটেও বজায় রেখেছেন বিরাট। ২০০৬ সালে রঞ্জি ট্রফি ও এই ফর্ম্যাটের ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল বিরাট কোহলি। তবে সেই ম্যাচে বিজয় হাজারেতে ফিরোজ শাহ কোটলায় ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি তিনি। কিন্তু এরপর থেকে ওডআই ফর্ম্যাটে কখনই খুব একটা খালি হাতে ফেরেননি তিনি। দীর্ঘদিন পর ফের বিজয় হাজারেতেও সেই চিত্রটা বদলালো না। এই মুহূর্তে ওডিআইতে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় সচিন তেন্ডুলকরের ঠিক পিছনেই রয়েছেন বিরাট। ৩০৮টি ওডিআই ম্যাচে বিরাট কোহলির রান রয়েছে ১৪,৫৫৭। সচিনের রেকর্ড বিজয় হাজারেতে নেমেই ছুঁয়ে ফেলেছেন। এবার সচিনের রেকর্ড বিরাট ভাঙতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।
ঝোড়ো সেঞ্চুরি দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন রোহিতের

বিজয় হাজারে ট্রফির প্রথম ম্যাচ থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে রোহিত শর্মা(Rohit Sharma)। রাজস্থানে ফের একবার দেখা মিলল দ্য হিটম্যান শো। নিজেই ভাঙলেন নিজের রেকর্ড। লিস্ট-এ ক্রিকেটে নেমেই দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন রোহিত শর্মা। সিকিমের বিরুদ্ধে মাত্র ৬২ বলে সেঞ্চুরি ইনিংস খেললেন তিনি। সেখানেই রোহিতের(Rohit Sharma) ব্যাট থেকে এল একের পর এক বড় শট। সেইসঙ্গে গোটা গ্যালারীও এদিন ছিল শুধুই রোহিত ময়। দীর্ঘদিন পর ফের ভারতের লিস্ট-এ ক্রিকেটের মঞ্চে নামছে রোহিত শর্মা(Rohit Sharma)। শুরু থেকেই উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। রোহিত মাঠে নামতেই গ্যালারীতে শুরু রোহিত রোহিত চিৎকার। রোহিতকে দেখতে এদিন মাঠে উপস্থিত ছিল প্রায় ১২ হাজার সমর্থক। শুরু থেকেই ছিল রোহিতকে ব্যাট হাতে দেখার ইচ্ছা। যদিও প্রথমে বোলিংই পেয়েছিল মুম্বই। এরপর রোহিত শর্মা ব্যাট হাতে মাঠে নামতেই ফের একবার গ্যালারীতে শুরু উচ্ছ্বাস। সেখানে ভক্তদের একেবারের জন্যও হতাশ করেননি ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক। শুরুটাই করেন একটা অসাধারণ পুল শট দিয়ে। এরপর একের পর এক বল শুধুই গ্যালরীরের বাইরে ফেলতে থাকেন হিটম্যান শো। মাত্র ৬২ বলেই কেরিয়ারের অন্যতম দ্রুত সেঞ্চুরিটা সেরে ফেলেন ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার। সেখানেই তাঁর ইনিংসটা সাজানো আটটা ছয় এবং ৯টি চার দিয়ে। সেইসঙ্গে আবার রোহিতকে পুরনো ফর্মে দেখে সকলেই আপ্লুত। রোহিত শর্মার এই পারফরম্যান্স ভেঙে দিল তাঁর পুরনো রেকর্ডও। এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৬৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। সেই রোহিতই এবার লিস্ট-এ ক্রিকেটে করলেন ৬২ বলে সেঞ্চুরি। রোহিতের পারফরম্যান্স নিয়ে এখন হৈচৈ ভারতীয় ক্রিকেট মহলে।