মেসির হাতে সবুজ-মেরুন জার্সি, নিজের হাতে উদ্বোধন নিজের মূর্তির

লিওনেল মেসির(Lionel Messi) হাতে সবুজ-মেরুন জার্সি। আর সেটাই এদিন তুলে দিলেন মোহনবাগানের(Mohunbagan) কর্তারা। বিশ্বকাপ জয়ের পর এই প্রথমবার আর্জেন্তাইন কিংবদন্তীর ভারত সফর। সেখানে আবার শুরুটা কলকাতা দিয়ে। সেখানেই মেসিকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই ছিল সাজো সাজো রব। একইসঙ্গে এলএম টেনের(Lionel Messi) সামনে আবার খেলল মোহনবাগান একাদশ। সেই নিয়ে মোহনবাগান কর্তারা কার্যত উচ্ছ্বসিত ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথমে হোটেলে স্পনসরদের সঙ্গে ফটোসেশনে ব্যস্ত ছিলেন লিওনেল মেসি। সেখান থেকেই সুজিত বোসের উদ্যোগে তৈরি হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসি মূর্তি উদ্বোধন করেন এলএম টেন। তাঁর পাশে তখন আপ্লুত রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বোস। সেখানেই আবার মেসির সঙ্গে উপস্থিত শাহরুখ খান। সেই ভিডিও দেখেই আপ্লুত সকলে। সঙ্গে রয়েছেন সুয়ারেজ, ডে পলদের মতো তারকারা। মেসির সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বললেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। মেসি মাঠে ঢুকতেই তাঁর হাতে উঠল ঐতিহ্যের মোহনবাগান জার্সি। আর সেই জার্সির নম্বর চির স্মরণীয় দশ। মেসির হাতে সবুজ-মেরুণ জার্সি দেখেও সকলে আপ্লুত। একইসঙ্গে এলএম টেনের মতো তারকারে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে তখন মাঠের ফুটবলাররাও উচ্ছ্বসিত। সকলেই যেন তখন শুধু একটু মেসির ছোঁয়া পেতে চাইছেন। কেউ অটোগ্রাফ নিচ্ছেন তো কেউ আবার সেলফি নিচ্ছেন মেসির সঙ্গে। সুয়ারেজ, ডেপলের সঙ্গে মেসিও তখন খোশ মেজাজে। তারই মাঝে মেসির সঙ্গে সাক্ষাত ডায়মন্ডহারবার এফসির কোচ কিবু ভিকুনার। তাদের পরিচয় রয়েছে। মেসিকে কলকাতায় স্বাগত জানালেন তিনি। আবার ডায়মন্ডহারবার এফসির কয়েকজন ফুটবলারের আবদারও মেটালেন এলএম টেন। এরপর মাঠে ঘোরা শুরু। সেখানেই যেন তালটা কাটল। তাঁকে ঘিরে মাঠের মধ্যেই এত ভিড় হত শুরু করে, মেসির ম্যানেজারের সিদ্ধান্ত তাঁকে নিয়ে বেড়িয়ে যাওয়ার। এরপরই যেন উত্তাল যুবভারতী।
গাড়ি বন্দী শাহরুখ, আধঘন্টা অপেক্ষা করেও ফিরে গেলেন

গোটা শহর আক্রান্ত ছিল মেসি(Lionel Messi) জ্বরে। সেইসঙ্গে এক মঞ্চে আবার মেসি ও কিং খান(Shahrukh Khan)। সেই বিরল মুহূর্তের স্বাক্ষী হতে চেয়েছিলেন সকলে। শাহরুখ খান(Shahrukh Khan) এলেনও, কিন্তু মাঠে ঢুকলেন না। বলা যেতে পারে মাঠে ঢুকতে পারলেন না। কী করে নামবেন তিনি, তখন যে যুবভারতী স্টেডিয়াম(YBK Stadium) কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তাঁর সাদা মার্সিডিজ বেঞ্চ প্রায় আধ ঘন্টা বাইরেই দাঁড়িয়ে রইল। গাড়ির ভেতর শাহরুখ খান এবং তাঁর ছেলে আব্রাহাম। কিন্তু মাঠে প্রবেশ আর হল না। কারণ ততক্ষণে তো মেসিও মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। শাহরুখ(Shahrukh Khan), মেসির(Lionel Messi) যুগলবন্দী দেখার অপেক্ষায় ছিল সকলে। কিন্তু শাহরুখ যখন ঢুকলেন, সেই সময় দেখাযাচ্ছে তারই সামনে দ্য গোট ট্যুরের ব্যানার ছিঁড়ছেন উত্তেজিত সমর্থকরা। সঙ্গে শেম শেম স্লোগানও চলছে। মুহূর্তের মধ্যে শাহরুখের গাড়ি ঘিরে ফেলেন বাউন্সার ও নিরাপত্তা রক্ষীরা। এরপরই তাঁর সহায়ক ছুটে যান স্টেডিয়ামের ভিতর। সেই সময় গাড়িতে ছিলেন স্বয়ং কিং খান এবং তাঁর ছোট ছেলে আব্রাহাম। কিন্তু ভেতর থেকে পরিস্থিতি জেনে আসার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এই অবস্থায় কোনওরকম ভাবেই নামবেন না শাহরুখ খান। কারণ ততক্ষণে তাদের কাছেও তো খবর পৌঁছে গিয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রীও মাঝরাস্তা থেকে ফিরে গিয়েছেন। তবে কেমনভাবে বাংলার প্রাক্তন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরকে সেখানে নামানোর সাহস দেখানো হয়। তবুও দাঁড়িয়েছিল তাঁর গাড়ি। শেষপর্যন্ত গাড়ির মুখ ঘুরিয়ে ফিরেই যেতে হল শাহরুখকে। এদিন অবশ্য মেসির সঙ্গে হোটেলে শাহরুখের সাক্ষাত হয়েছিল। কিন্তু সেন্টার অব অ্যাট্রাকশন ছিল যুবভারতীতে মেসি ও শাহরুখের যুগলবন্দী। কিন্তু তা হল না। কিন্তু কেন এমনটা হল। সেই নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। এই ঘটনার পর প্রথমে আটক এবং তারপর বিমান বন্দর থেকে গ্রেফতার হয়েছেন উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। কিন্তু দোষ কী শুধুই তাঁর একার। কারণ এদিন মেসি যখন মাঠে প্রবেশ করেন সেই সময় তাঁর সঙ্গে কার্যত মৌমাছির ঝাঁকের মতো একদল লোকও ছিলেন। কার্যত তদের ভিড়ের জন্যই তো মেসিকে দেখা থেকে বঞ্চিত ছিলেন মেসির পাগল ভক্তরা। সেই ভিড়ে ছিলেন যেমন সেলিব্রিটিরা, তেমনই ছিলেন হেভিওয়েট থেকে রাজ্যের নেতা মন্ত্রীরাও। একইসঙ্গে ছিল সাংবাদিকদেরও একটা অংশের বিরাট ভিড়। প্রশসনের কী খানিকটা গাফিলতি ছিল না? টেনি দুনিয়ারও কয়েকজন অভিনেতা এমন পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত হতাশ।
মেসি স্টেডিয়াম ছাড়তেই ধুন্ধুমার যুবভারতীতে, দায় কার!

যে যুবভারতী(YBK Stadium) মেসির বন্দনায় মুখরিত হওয়ার কথা ছিল, সেউ যুবভারতীই এদিন উত্তাল। প্রিয় তারকাকে দেখতে এদিন কানায় কানায় ভরে গিয়েছিল যুবভারতীয় স্টেডিয়াম(Ybk Stadium) গোটা গ্যালারী জুড়ে ছিল শুধুই মেসি মেসি(Lionel Messi) গর্জন। কিন্তু সেই যুবভারতীই হঠাৎ কীভাবে বদলে গেল। মেসি মাঠ ছাড়েতেই স্টেডিয়ামে শুর ধন্ধুমার। গ্যালারী ভাঙচুর থেকে মাঠে চেয়ার, জলের বোতল ছুড়ে মারা। বছর শেষের যুবভারতীর ছবিটা বাংলার সকলকে ব্যথাই দেবে। কিন্তু কেন এমনটা হল। প্রশ্ন ওঠাটাই তো স্বাভাবিক। উঠছেও তাই। নাচ এবং গানের অনুষ্ঠান দিয়ে মেসির(Lionel Messi) কলকাতা সফর শুরু। সময় যত এগোচ্ছিল ততই যেন উত্তেজনার পারদ চড়ছিল মেসি ভক্তদের মধ্যে। অবশেষে ভক্তের ভগবান মাঠে এলেন। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই ঢুকলেন মাঠে। কিন্তু তাঁকে দেখা গেল কোথায়। মেসি(Lionel Messi) মাঠে প্রবেশ করার সময় তাঁকে ঘিরে যেন মৌমাছির ঝাঁকের মতো অসংখ্য মানুষ তখন মাঠের ভিতরে। আর যারা হাজার হাজার টাকা দিয়ে মেসিকে(Lionel Messi) শুধু একটিবার দেখার জন্য স্টেডিয়ামে এসেছিলেন, তারাই দেখতে পেলেন না তাঁকে। একটু আধটু জায়ান্ট স্কৃণে যা দেখা গেল। মেসিও থাকলেন না বেশিক্ষণ। শিডিউল টাইমের আগেই হঠাৎ মাঠ ছেড়ে বেড়িয়ে যান তিনি। এরপরই যুবভারতীতে শুরু গন্ডোগোল। কারণ একটাই মেসিকে(Lionel Messi) ঠিকভাবে দেখতেই পেলেন না তারা। সেখান থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। মাঠে তবে কেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। কেমন করেই বা এতজন সাংবাদিকরা সেখানে পৌঁছে গেলেন। মাঠে মেসি। তাঁকে দেখবেন অসংখ্য দর্শকরা। কিন্তু সেই মেসিকেই যেন ঢেকে দিল মাঠে থাকা নানান ব্যক্তিরা। নিরাপত্তা থেকে উদ্যোক্তার মিস ম্যানেজমেন্ট যেমন প্রশ্নের মুখে। তেমনই কিন্তু প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। শোনাযাচ্ছে মেসির নাকি মাঠে ঢুকে হুট খোলা গাড়িতে ঘোরার কথা ছিল। তেমনটা হলে হয়ত সকলেই গ্যালারী দেখতে পেতেন তাঁর প্রিয় ফুটবলারকে। কিন্তু মেসিকে দেখা যায় হেঁটেই ঢুকছেন তিনি। সেইসঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি ছিল বহু লোক। সেখানে সাংবাদিক থেকে ছিলেন নানান ব্যক্তিরা। প্রশ্ন উঠতেই পারে এত লোক কিভাবে মেসির আশেপাশে চলে গেল নিরাপত্তার প্রহরা পেড়িয়ে। কারণ মেসি মাঠ ছাড়তেই কার্যত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল গোটা যুবভারতী স্টেডিয়াম জুড়ে। তা আয়ত্তে আনতেও বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগে প্রশাসনের। শোনাযায় এদিন নিরাপত্তার দায়িত্বে নাকি প্রায় চার হাজার পুলিশ মোতায়েন ছিল। সেখানেই প্রশ্ন ওঠে এত পুলিশই যখন ছিল, তবে এতবড় ঘটনাই বা ঘটল কী করে।