কলকাতা হারিয়ে দিল বার্সেলোনাকে!

কলকাতা হারিয়ে দিল বার্সেলোনাকে(Barcelona)! ফুটবল-পাগল তিলোত্তমায় দাঁড়িয়ে পড়লেন ৭০ ফুটের লোহার লিওনেল মেসি(Lionel Messi)! কলকাতার উত্তরে, লেকটাউনে ক্লক টাওয়ারের পাশে, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের প্রাঙ্গণে ইতিমধ্যে বসে গিয়েছে মেসির(Lionel Messi) মুর্তি। শনিবার কলকাতার হোটেল থেকে যার ভার্চুয়াল উদ্বোধন করবেন স্বয়ং লিও। মজার কথা, যে বার্সেলোনায়(Barcelona) তার ফুটবল জীবন শুরু হয়ে তাকে কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে সেখানে এখনও কোনও মুর্তি নেই লিওনেল মেসির! এই প্রসঙ্গে বার্সেলোনার প্রেসিডেন্টের দেওয়া শেষ খবর, ক্যাপ ন্যু-তে-ও মেসির(Lionel Messi) একটি ব্রোঞ্জের মুর্তি স্থাপন করা হবে। কাজ চলছে। কনমেবল, মানে লাতিন আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনের মিউজিয়ামেও ২০২৩-এ পরিকল্পনা করা হয়েছিল পেলে, মারাদোনার সঙ্গে মেসিরও মুর্তি বসানো হবে। কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। আর তার জন্মভূমি আর্জেন্টিনা? দেশকে ২০২২-এর বিশ্বকাপ উপহার দেওয়া লিও-র একটি ব্রোঞ্জের মুর্তি বসানো হয়েছিল বুয়েনেস আইরেসে, ২০১৬-য়। কিন্তু এমনই দুর্ভাগ্য তার যে, মুর্তিটির অর্ধেকটা ভেঙে দিয়েছিল দুষ্কৃতিরা! সেই মুর্তি আবার নতুনভাবে তৈরি করে বসানো হয়েছে। কলকাতায় লিও-র(Lionel Messi) মুর্তি বসল তারই দেশের আর কিংবদন্তির পাশে। তিনি দিয়েগো মারাদোনা(Diego Maradon। বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের শ্রেষ্ঠদের মধ্যে থাকা মারাদোনার ১২ ফুটের ব্রোঞ্জের মুর্তি বসানো হয়েছিল ২০১৭-য়। তিনি কিন্তু নিজে উপস্থিত থেকে তার মুর্তি উদ্বোধন করেছিলেন। মারাদোনার মুর্তি কিন্তু কলকাতা ছাড়াও রয়েছে দক্ষিণ ভারতের কান্নুরে। প্রথম বার ভারতে এসে কান্নুরের যে হোটেলে তিনি ছিলেন তার সামনে বসানো আছে তার মুর্তি। বসানো আছে তার প্রথম ক্লাব আর্জেন্টিনা জুনিয়রসের সামনে। সেখানে বসানো ব্রোঞ্জের মুর্তিতে শোভা পাচ্ছে ১৯৮৬-র বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার করা ‘শতাব্দীর সেরা গোলের’ মুভমেন্ট। বুয়েনেস আইরেস বিমানবন্দর থেকে বেরোলেই তাকে দেখা যাবে। সেখানে তার মুর্তি থ্রি-ডি পেইন্টেড। আর, তার ‘সোনার বাঁ পা-সহ একটি সহাস্য মুখের মুর্তি বসিয়েছে ইতালির প্রিমিয়ার ক্লাব নাপোলি। লিগের তলানিতে চলে যাওয়া যে নাপোলিকে তিনি খেতাব দিয়েছিলেন। যে নাপোলির জার্সিতে তার খেলায় শুধু ক্লাবের স্পনসরশিপ বাড়েনি, নাপোলি শহরে প্রবলভাবে বেড়ে গিয়েছিল মার্চেন্ডাইজিং ব্যবসা।
মেসির সঙ্গে মুম্বইয়ে সচিন এবং সুনীল, দিল্লিতে সঙ্গী ভাইচুং

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে পাশাপাশি দুই গোট। একজন ফুটবল মাঠের গ্রেটেস্ট অব অল টাইম লিওনেল মেসি(Lionel Messi)। আরেকজন ক্রিকেট মাঠের গ্রেটেস্ট অব অল টাইম সচটিন তেন্ডুলকর(Sachin Tendulkar)। ঐতিহ্যের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে(Wankhede Stadium) সাক্ষাত হবে দুই নাম্বার টেনের। আর তাতেই উত্তাপের পারদ চড়ছে। কলকাতার পাশাপাশি মুম্বইয়েও যে মেসি জ্বর থাবা বসিয়েছে তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে। সেই একই মঞ্চে আবার থাকবেন ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তী সুনীল ছেত্রী(Sunil Chetri)। মেসিকে(Lionel Messi) ঘিরে রয়েছে গোটা ট্যুরে একের পর এক চমক। তেমনই আবার দিল্লিতে মেসির সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করবেন আরেক ভারতীয় কিংবদন্তী ফুটবলার। ভাইচুং ভূটিয়া(Bhaichung Bhutia)। তবে সেটা হবে দিল্লির স্টেডিয়ামে। বছরের শেষটা যেন গটা দেশটাই এখন মেসি ময়। ভারতে দ্যা গোট ট্যুর(G.O.A.T Tour) শুরু হচ্ছে কলকাতা দিয়ে। শনিবাসরীয় সকাল থেকেই গোটা শহর জুড়়ে শুধুই এলএম টেন(Lionel Messi)। যে যুবভারতীতে ১৪ বছর আগে আর্জেন্তিনার অধিনায়ক হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। সেই যুবভারতীতেই এবার মেসি নাবেন বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক হিসাবে। মেসিকে স্বাগত জানাতে তিলোত্তমা প্রস্তুত। মেসির মঞ্চে থাকবেন খোদ কিং খান(Shahrukh Khan)। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়(Sourav Ganguly) এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। কলকাতার পর হায়দরাবাদ, মুম্বই এবং দিল্লিতেও যাবেন এলএমটেন। সেখানেও তাঁকে ঘিরে রয়েছে একঝার পরিকল্পনা। এক মঞ্চে মেসি এবং সচিনকে দেখার অপেক্ষাটা এখন থেকেই করতে পারছেন না মেসি প্রেমীরা। সেইসঙ্গে ওয়াংখেড়ের মঞ্চে থাকবেন সুনীল ছেত্রীও(Sunil Chetri)। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে তাঁর নাম যে মেসির তালিকাতেই রয়েছে। আবার দিল্লিতে মেসির পাশে থাকছেন আরেক ভারতীয় তারকা ফুটবলার ভাইচুং ভূটিয়া(Bhaichung Bhuria)। সব মিলিয়ে গোটা ভারত এখন মেসি ম্যানিয়ায় ভুগছে।
“বন্দেমাতরম” দিয়ে মেসিকে স্বাগত অনীকের

সৌভিক মহন্ত “দেখো আয়া আয়া মেসি আয়া” – এই গানেই লিওনেল মেসির(Lionel Messi) সামনে মঞ্চ মাতাতে চলেছেন অনীক ধর। মেসির শহরে আগমনের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। সেখানেই যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসিকে(Lionel Messi) গান গেয়ে স্বাগত জানাবেন অনীক ধর(Aneek Dhar)। সেখানেই তাঁর গলায় শোনাযাবে বন্দেমাতরমের(VandeMaataram) সুর। মেসির সঙ্গে দেখা শুধু নয়, তাঁর সামনে গান। অনীকের(Aneek Dhar) কাছে এটা যেন এখনও স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। অনুষ্ঠানের সময় পেয়েছেন পাঁচ মিনিট। সেখানে নিজের বানানো মেসি অ্যান্থেম যেমন গাইবেন, তেমনই গাইবেন বন্দেমাতরমও। মেসিকে সামনে পেয়ে কী বলবেন, সেটা যেন ভেবেই পাচ্ছেন না এই গায়ক। তবে হ্যাঁ, মেসির(Lionel Messi) জন্য কিন্তু স্প্যানিশ শেখার চেষ্টা করছেন তিনি। শতদ্রু দত্ত তাঁকে এই সুযোগ করে দেওয়ায় আপ্লুত অনিক। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার সামনে যেদিন থেকে শুনেছেন গান গাইবেন, উচ্ছ্বাসের মাত্রা বেড়েছে। এখন শুধুই মেসিকে দেখার অপেক্ষায় তিনি। যে লিও মেসির(Lionel Messi) নানান স্কীল থেকে বিশ্বকাপ জয় এতদিন সকলে টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছেন, সেই মেসির সামনে এক মঞ্চে থাকতে পারাটাই যেন উচ্ছ্বসিত করছে অনীককে(Aneek Dhar)। এ যেন সত্যিই এক ফ্যানবয় মোমেন্ট। যাঁকে দেখে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, সেই মেসি যে এবার সামনে আসছেন। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বাংলার এই গায়ক। অনীকের(Aneek Dhar) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “এটা আমার কাছে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট। আমি কী বলব সত্যিই ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এমন একজন কিংবদন্তী, যিনি ফুটবলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। যাকে দেখে ফুটবলকে ভালোবাসি। আমাদের কাছে তিনি তো অনুপ্রেরণা। সেই মেসি আসছেন কলকাতায়, সেটা আমাদের কাছে একটা বিশাল পাওয়া। শতদ্রু দা এমন একটা উদ্যোগ নিয়েছেন সেই জন্য আমার বুকভরা ভালোবাসা জানাতে চাই। আমি এমন একটা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সঙ্গীত গাইছি যেখানে মঞ্চে থাকবেন লিওনেল মেসি, কিং খান, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বপ্ন যেন সত্যি হচ্ছে”। অনীক আরও বলেন, “আমি মেসির জন্য একটা গান তৈরি করেছি। মেসি আয়া-রে এই গানটা গাইব। একইসঙ্গে মেসির সামনে আমার দেশ, শহরের জন্য বন্দেমাতরমও গাইব। আমি এখন ভাবছি কখন সেই মুহূর্তটা আসবে, আমি তাঁর সামনে গিয়ে পারফর্ম করব”। ফুটবলের ভগবানকে সামনে পাওয়া। সেই মুহূর্তে মেসিকে(Lionel Messi) কী বলবেন সেটাই যেন ভেবে পাচ্ছেন না অনীক ধর। তিনি তো বলেই দিলেন, “জানি না আমি কী বলব। আমি তো বোধহয় পাগল হয়ে যাব”। মেসির সঙ্গে কোন ভাষায় কথা বলবেন অনীক। সেই ইঙ্গিতও কিন্তু খানিকটা দিয়েই রাখলেন তিনি। তিনি বলেন, “স্প্যানিশে হাই হ্যালো বলতে পারি। তবে ভালো বলেছেন, দেখি কিছু যদি স্প্যানিশ শিখে যাওয়া যায়”। শনিবার সকালেই যুবভারতীতে ফের একবার পা দিতে চলেছেন এলএম টেন। শহর জুড়ে উত্তাপের পারদ যে এখন তুঙ্গে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।