গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল মালদহের অমৃতি এলাকা

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে(gas cylinder explosion) কেঁপে উঠল মালদহের(malda) অমৃতি এলাকা। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত তিনটি বাড়ির সর্বস্ব। ক্ষয়ক্ষতি লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র। ঘটনায় আহত বাড়ির একজন সদস্য সহ দুই প্রতিবেশীও। আহতরা হলেন বাড়ির মালিক সারিউল শেখ এবং আগুন নেভাতে আসা দুই প্রতিবেশী নুর নবী শেখ ও ইসমাইল শেখ। ঘটনায় আহত তিনজন চিকিৎসাধীন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মঙ্গলবার ভোররাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল মালদহের অমৃতি গ্রাম পঞ্চায়েতের লালাপুর গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সারিউল শেখ, রিয়াজুল শেখ ও সালেহা বিবির বাড়ি। এদিকে এই ঘটনায় রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একটি ইঞ্জিন ও পুলিশ। যদিও দমকল আসার আগে তিনটি বাড়ির সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দমকল ও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিটের জেরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। ঘটনায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে আগুন আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। যদিও দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের এক সদস্য রুখসানা খাতুন জানান, “রাতে তাঁরা বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন হঠাৎই বাড়িতে আগুন লাগে। কোনরকম ভাবে ছেলে মেয়েদের নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন।” পাশের বাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিলেন আরেক পরিবারের সদস্য সারিউল শেখ। সেই সময় বাড়ি থেকে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদেরকে বের করার সময় আহত হন সারিউল শেখ। প্লাস্টিকের চেয়ার টেবিলের ব্যবসা করেন সারিউল শেখ। ঘটনায় বাড়িতে থাকা প্লাস্টিকের সমস্ত আসবাবপত্র ও ৮ টি গবাদি পশু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনায় সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে নয়া চ্যালেঞ্জ মমতার, ১১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটের সূচনা

রাজ্যের প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায় অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা (Medical services) পৌঁছে দিতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টেয় স্বাস্থ্য ভবন ১১০টি নতুন মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট (Mobile Medical Unit)-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যের প্রান্তিক মানুষরাও যাতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে কারণেই রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের অনুষ্ঠানে জানান, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদদের উন্নয়নের তহবিল বাবদ পাওয়া ৮৪ কোটি টাকা খরচ করে এরকম ২১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট তৈরির কথা ভেবেছে রাজ্য সরকার। তার মধ্যে ১১০টিপর উদ্বোধন হল আজ। প্রতিটি মেডিকেল ইউনিটে থাকবে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে এই মোবাইল ইউনিটগুলো সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবে। গত ১২ই আগস্ট রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যজুড়ে ২১০ টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল৷ এর মধ্যে বেশ কিছু মোবাইল ইউনিটে উন্নত পরিষেবা যেমন, এক্স-রে এবং আলট্রাসাউন্ডের মতো সুবিধাও থাকবে। ডাক্তার ও নার্সের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিটে বিশেষ অ্যাটেনডেন্ট থাকবে। এর আগেও সাংসদ তহবিল থেকে ৩০০টি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু করেছিল রাজ্য সরকার, সে কথাও এদিনের অনুষ্ঠানে স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এর ফলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার মান যে আরও উন্নত হবে, তাও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করা হয় এই ইউনিটগুলি। উদ্বোধনের পর ভ্যানগুলির একটি বড় বহরকে রওনা দিতেও দেখা গেল স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, এই প্রকল্প চালু হলে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে চিকিৎসা পরিষেবা (দুয়ারে হাসপাতাল), বিশেষত দূরবর্তী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা আরও সহজে চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পাবেন।
জামিনে মুক্তি পেয়ে নাকতলার বাড়িতে পার্থ

দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের জেল বন্দী দশা থেকে মুক্ত হলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়(Partha Chatterjee)। মঙ্গলবার দুপুর বেলায় জামিনে মুক্ত হয়ে নাকতলার বাড়িতে পৌঁছলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়(Partha Chatterjee)। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে একেবারেই নারাজ তিনি। রায় সোমবারি দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে পৌঁছলেন পার্থ। গাড়িতে ওঠার সময় চোখের জল আটকাতে পারলেন না পার্থ। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ইডির(ED) হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে এসএসসি(SSC) নিয়োগ দূর্ণীতির বিরাট অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ অর্থ। আর সেই ছবি দেখে কার্যত হতবাক হয়ে গিয়েছিল সকলে। এরপরই গ্রেফতার হয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়(Partha Chatterjee)। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে আরও নানান অভিযোগ আনা হয়েছিল। অবশেষে মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পেলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়(Partha Chatterjee)। সোমবারই পার্থর জামিনের রায় দিয়েছিল আদালত। অবশেষে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে তিনটের সময় জামিনে মুক্তি পান পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রেসিডেন্সি জেলে নয়, বেশ কয়েকদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জামিনে মুক্তি পেয়ে এদিন সেই বেসরকারী হাসপাতাল থেকেই সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।