এক ঠাকুরের ভাষা রক্ষায় লোকসভায় তৃণমূলের পাশে আর এক টেগোর

সুমন গাঙ্গুলী: রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর তাই ভাষা আন্দোলনের প্রথম পদযাত্রার শুরু করেছিলেন বোলপুর থেকে। এখানেই শেষ নয়, সংসদের বাইরে তৃণমূলের প্রতিবাদেও ভরসা সেই রবীন্দ্রনাথই । বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস ২২-শে শ্রাবণে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সেই রবীন্দ্রনাথকে শপথ করে ” বাংলার উপর ভাষা সন্ত্রাস মানব না।” বলেও বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পথ প্রদর্শক করে এই ভাষা আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বাংলা ভাষার উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার লোকসভায় মুলতুবি প্রস্তাব আনতে চেয়ে নোটিস দিলেন আর এক ঠাকুর। এই ইস্যুতে ইতিমধ্যে মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্তালিন। আর ২২ শে শ্রাবণই ভাষা অস্মিতাকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়ে লোকসভায় মূলতুবি প্রস্তাব আনলেন তামিলনাড়ুর বিরদুনগরের কংগ্রেস সাংসদ মানিক্কম টেগোর, ( Manickam Tagore) বাংলার বাইরে গোটা দেশ বা আরোও ভালো করে বললে গোটা বিশ্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিন্তু পরিচিত রবীন্দ্রনাথ ‘ টেগোর ‘ ( Rabindranath Tagore) বলেই। আসলে তামিলনাড়ু-সহ গোটা দক্ষিণ ভারতেই ভাষা নিয়ে আবেগ রয়েছে। জাতির সঙ্গে ভাষার অস্মিতা সেখানে প্রবল। মুলতুবি প্রস্তাবের নোটিসে সেই ভাষার সম্মানের প্রশ্নই তুলেছেন তামিলনাড়ুর বিরদুনগরের কংগ্রেস সাংসদ।
রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে তীব্র আন্দোলনের ডাক মমতার

রবীন্দ্রনাথই যে তাঁর দেখানো ভাষা আন্দোলনের পথ প্রদর্শক, বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে রবি ঠাকুরের বোলপুর থেকে এই ভাষা আন্দোলনের ‘লড়াই’ শুরু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস ২২ শ্রাবণে ভাষা রক্ষার শপথ নিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। ইতিমধ্যে বাংলা ও বাঙালীদের উপর আক্রমণ নিয়ে সংসদে নিয়মিত বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তৃণমূলের সাংসদরা। আর সেখানেও ভরসা সেই রবীন্দ্রনাথ। ” বাংলার মাটি বাংলার জল…” এই রাজ্য সঙ্গীতের সাথে সাথে রবি ঠাকুরের একাধিক গানই সংসদে তৃণমূল সাংসদদের অক্সিজেন। তবে শুধু দিল্লীতে নয়, ভাষা নিয়ে বাংলার সব আন্দোলনেও আঁকড়ে থাকা রবীন্দ্রনাথকেই। বৃহস্পতিবার এই ভাষার শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রয়াণ দিবসে এ যেন এক বাঙালি প্রশাসকের মাতৃ ভাষা রক্ষার শপথ, নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “বাংলার উপর ভাষা সন্ত্রাস মানব না।” ঝাড়গ্রামে আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে আমাদের প্রাণের ঠাকুরকে জানাই আমার অন্তরের শ্রদ্ধা ও প্রণাম। বছরের প্রতিটি দিনে, প্রতিটি মূহূর্তে তিনি আমাদের ঘিরে রয়েছেন। বিশেষত, আজ শুধু বাংলা ভাষা বলার জন্য বাঙালির ওপর যখন সন্ত্রাস নেমে আসছে, তখন তিনিই আমাদের লড়াই করার প্রেরণা। রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার সর্বকালীন শ্রেষ্ঠ প্রতিভা। আজ যখন তাঁর ভাষার ওপর আক্রমণ নেমেছে, তখন আমরা দু:খিত, ব্যথিত, মর্মাহত। “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির”, সেই ভারতের নির্মাণে রবীন্দ্রনাথ-ই আমাদের ধ্রুবতারা। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন থেকে তাঁকে প্রণাম জানিয়ে, আমরা ভাষা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছি। যতদিন এই বাংলা-বিদ্বেষ চলবে – আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো। আর এই লড়াইয়ের পথে রবীন্দ্রনাথই আমাদের পথনির্দেশক। আজ আমাদের নতুন করে শপথ নেবার দিন – ‘বাংলার ওপর ভাষা সন্ত্রাস মানবো না’।” বোলপুর অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের মাটি থেকে নিজে পায়ে হেঁটে সেই আন্দোলনের সূচনা করেছেন তিনি, ঝাড়গ্রামেও একইভাবে ভাষা রক্ষার ডাক দেন তিনি।
২৬শে বিজেপির হিন্দুত্বের পাল্টা ইস্যু যে বাঙালি অস্মিতা, বুঝিয়ে দিলেন মমতা

এক, বাংলার উপর আক্রমণ, দুই, এনআরসি। এই দুই ইস্যুতে এবার কি ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এতদিন সরকারী একাধিক প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ছিল হাতিয়ার। তবে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আর পরিষেবার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নয়, বরং বাংলার অস্মিতার উপর জোড় দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি আর বাঙালীর উপর আক্রমণ, এই তিন তীরে কি ২৬ এর লক্ষ্যভেদ করতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী? আগামী বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। হাতে গোনা আর কয়েকমাস। একদিকে শুভেন্দুর নেতৃত্বে হিন্দুত্বের জিগির, আর তারই পাল্টা হিসাবে এনআরসি, এসআইআর ও বঙ্গ অস্মিতাকে ভোট যুদ্ধের অস্ত্র করতে চাইছেন মমতা। ২৬ এর নির্বাচনের সামনে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বাঙালি হেনস্তা ইস্যুকে তাই নিয়ম করে বাঙালি ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন তিনি। নতুন ভাষা আন্দোলনের কথা ২১ জুলাই মঞ্চে বলেই চুপ না থেকে বোলপুর থেকে প্রথমে আর ঝাড়গ্রাম থেকে দ্বিতীয় ভাষা আন্দোলন শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামের মঞ্চ থেকে তাই বাংলা আর বাঙালীর উপর আক্রমণ শুধু নয়, বরং সামনে নিয়ে এলেন সেই এনআরসি ইস্যুকে। ঝাড়গ্রামের আদিবাসী ভোটারদের সামনেই ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দেওয়ার আতঙ্কের কথাও তুলে ধরলেন বিশ্ব আদিবাসী দিবসে। আর আচমকাই ন্যায্য ভোটারদের নাম বাদ দিতে যে বিজেপি তৎপর, আড়েভারে তা বুঝিয়েও দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক কথায় একে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোটার তালিকায় নাম আছে কিনা, তা আবার দেখতে হবে। কেন্দ্র নাম বাদ দিতে নতুন করে চক্রান্ত করেছে। না জেনে ফর্ম ফিলআপ করবেন না। নতুন ভোটার যাঁরা হচ্ছেন মনে রাখবেন বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট লাগবে। এটা ডবল ইঞ্জিনের সরকারের চক্রান্ত। নাম বাদ দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চক্রান্ত।” ধর্মীয় কারণ সহ একাধিক কারণে ওপার বাংলার প্রচুর মানুষ চলে এসেছে এই দেশে যাদের মধ্যে অনেকটাই সনাতনী বা মতুয়া, যে ভোটগুলো সাধারণত বিজেপির টার্গেট। এর আগের একাধিক লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে এই ওপার থেকে আসা ভোটারদের ভোট গিয়েছিল বিজেপির বাক্সে, এই ইস্যুতে বিজেপি নয় বরং তিনি যে পাশে যে তিনিই আছেন তা মনে করিয়ে বিজেপি যে ওপার থেকে যন্ত্রনা নিয়ে আসা মানুষগুলোকে আবার বাস্তুচ্যুত করার চেষ্টা বিজেপি করছে বলে মনে করিয়ে দিলেন মমতা। বলেন, “যাঁরা বাংলাদেশ থেকে আইন মেনে এসেছেন তাঁরা এদেশের নাগরিক। অনুপ্রবেশকারী ইস্যু আমাদের হাতে নেই। কেন বলছেন? চিঠি পাঠাচ্ছে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, মতুয়াদের। আমাদের বাংলার মানুষরা লড়াই করল। সংগ্রাম করল। আর বিদেশি? তোমরা একা স্বদেশি? এই জিনিস আমরা বরদাস্ত করব না। মানব না। রুখে দাঁড়াবেন।” একই সাথে ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তা নিয়ে আরও একবার তোপ দাগেন মমতা। বলেন, “প্রত্যেক মানুষের একটা ভাষা আছে। ভাষা তাঁর সম্মান, গর্ব। আর বলছে বাংলা ভাষাই নেই। এদের কী বলব বলুন? নীরবে বুকটা ফেটে যায়। ওরা বাজে কথা বলে আমরা বলতে পারি না। আমরা মর্মাহত, শোকাহত। মানুষের উপর অত্যাচার হচ্ছে বাংলার। ২ হাজারের বেশি ফিরিয়ে এনেছি। গুরগাঁও, অসম, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে অত্যাচার করছে। বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভোটের আগে বলবে টাকা নাও আর ভোট দাও। তুমি টাকা দেওয়ার কে? ওটা মাটির টাকা, তোমার টাকা নয়। সব দেবেন। নিজের ঠিকানা দেবেন না। নিজের ভাষা দেবেন না। নিজের অস্তিত্ব দেবেন না। বাংলা ভাষায় কথা বললেই বলছে রোহিঙ্গা। জাতীয় সঙ্গীত কোন ভাষায় লেখা? বাংলা ভাষা। যখন মানুষ বিপদে পড়ে ভেদাভেদ করে না।” এমনকী বিজেপির হিন্দুত্বের পাল্টা ২৬ শের নির্বাচনে কোন দুটি ইস্যুকে সামনে রেখে ভোট দেবেন সাধারণ মানুষ, তাও বাতলে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট করে বললেন, ” মনে রাখবেন ভোটার লিস্ট আর ভাষার সম্মান কেউ ছাড়বেন না। মতুয়াদের উপর মুম্বইতে অত্যাচার হচ্ছে। মুম্বইতে একজনকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে খুন করে বস্তায় তোলা হয়েছে। নিজের ভাষায় কথা বলাটা অপরাধ?” আসলে ঝাড়গ্রামের সভা থেকে একদিকে বাঙালি অস্মিতা অপরদিকে ভোটার লিস্ট, এই দুই ইস্যুতে যে তিনি ২৬শে ফের সেঞ্চুরী করতে চান, তা বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোনাঝুরি জঙ্গল থেকে রহস্যজনক ভাবে উদ্ধার মহিলার রক্তাক্ত দেহ, এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গল থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার। বৃহষ্পতিবার সকালে খোয়াইয়ে প্রথম হাট সংলগ্ন জঙ্গলে মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গলায় একটি ওড়না জড়ানো অবস্থায় দেহটি পড়ে ছিল। মাথার কাছে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত খুন বলে ধারণা করছে পুলিশ, তবে এখনই কিছু নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি এই এলাকায়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় খোয়াই হাট সংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে সকলেই।
বাংলা থেকে ঝাড়খণ্ডের দায়িত্ব সরিয়ে দেওয়া হল কার্তিক মহারাজকে

সরিয়ে দেওয়া হলো কার্তিক মহারাজকে। বাংলা নয়, আরও বেশী সময় দিতে বলা হলো ঝাড়খন্ডে। ইতিমধ্যেই পদ্মশ্রী প্রাপ্ত এই সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে এক মহিলাকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এসেছে। চলছে মামলাও, তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বর্তমানে ভারত সেবাশ্রম সংঘের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা আশ্রমের দায়িত্বে রয়েছেন কার্তিক মহারাজ। তবে তাঁকে বাংলা নয়, ঝাড়খণ্ডের সংঘ দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দিনের পর দিন এক মহিলাকে আটকে রেখে শারীরিক নিগ্রহ করেছেন বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই সন্ন্যাসী। মামলার চলছে গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। যদিও রক্ষাকবচ চাইলেও তা মেলেনি কার্তিক মহারাজের। বেলডাঙার আশ্রমে কার্তিক মহারাজকে সেভাবে দেখা যাচ্ছিল না। সূত্রের খবর, তাঁকে নাকি ঝাড়খণ্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেকথা অবশ্য মেনে নিয়েছেন কার্তিক মহারাজ। জানিয়েছেন, বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে তাঁকে বেশি সময় দিতে হচ্ছে।
রবি ঠাকুরকে বুকে ধরে প্রতিবাদে তৃণমূল সাংসদরা

সুমন গাঙ্গুলী: এ যেন দ্বিতীয় ভাষার লড়াই। ২১ জুলাই মঞ্চ থেকে যে ডাক তৃণমূল সুপ্রিমো দিয়েছিলেন তারপর থেকে ঘরে – বাইরে নিজের ভাষা আর সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে বাংলার রাজপথ থেকে দিল্লী পর্যন্ত এই ভাষার লড়াই। ইতিমধ্যে বোলপুর আর ঝাড়গ্রামে এই ভাষা রক্ষার লড়াই তে নেতৃত্ব দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে রবীন্দ্র নাথ, নজরুল, বিদ্যাসাগর, আর গলায় বাংলা গান – না এ লড়াইয়ে কোনো অস্ত্র নেই, নেই গোলা বারুদ, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাঙালীর এ লড়াইয়ের বুলেট এক ও একমাত্র – “আ মরি বাংলা ভাষা।” বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতির উপর গোটা দেশজুড়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে যেভাবে আঘাত আসছে তার প্রতিবাদে রবি ঠাকুরের গানকে সম্বল করে ঠিক এভাবেই বিরোধীতা তৃণমূল সাংসদদের। যে বাংলার উপর বারবার আঘাত আসছে বলে অভিযোগ ডান বাম সমস্ত রাজনৈতিক দলের দিল্লির বুকে দাঁড়িয়ে সেই বাংলার গান জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই বাংলার অপমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর চড়ালেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত তৃণমূলে বাঙালি সাংসদরা। না জমি ছাড়া নয়, বরং রবি ঠাকুর আর নজরুলের গানে ছিনিয়ে আনা হোক বাংলার অধিকার বাংলার সম্মান।
‘বাংলার নির্বাচিত সরকারকে কাজ করতে দিতে চাইছে না কমিশন’—অভিষেক

নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বাংলায় ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। বৃহস্পতিবার দিল্লী যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী কাজে গাফিলতির কারণে রাজ্যের দেবত্তম দত্ত, তথাগত মন্ডল, বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস – এই ৪ সরকারী কর্মীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও বুধবার ঝাড়গ্রামের সভা থেকে এই অফিসারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার আরো একধাপ এগিয়ে নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক। এদিন বিমান বন্দরে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,” আবার বলছি কমিশন এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছে। আদর্শ আচরণ বিধি চালু হলে কমিশন রাজ্যের আইন ও স্বাভাবিক প্রশাসন হাতে নেয়। কিন্তু নির্বাচন এখনও ১০ মাস দেরী।” পাশাপশি নির্বাচন কমিশন যে সরাসরি মোদি – শাহের নির্দেশে কাজ করছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে তৃণমূলের লোকসভা দলনেতার বক্তব্য,” নির্বাচিত সরকারকে কাজ করতে দিতে চাইছে না। সরকারকে না জানিয়ে এগুলো করছে কমিশন। আসলে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতে কমিশনকে কাজে লাগানো হচ্ছে।” এমনকী পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে বিজেপি কমিশনকে কাজে লাগাচ্ছে বলে অভিযোগ করে অভিষেক বলেন,” প্রকৃত বাঙালি ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে কমিশন নির্লজ্জ ভূমিকা পালন করছে।” পাশাপাশি এদিন বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেকের বার্তা, ” যারা বাংলাকে আলীকে ব্যবস্থা করছে মানুষ সেগুলো দেখছি যারা বাংলাকে ছোট করতে চাইছে তারা শিক্ষা পাবে। আসলে ভুল থেকে বিজেপি শিক্ষা নেয়নি।”
রাজ্যের পাঠানো নাম খারিজ নির্বাচন কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দিন যত এগোচ্ছে ততই যেন উত্তেজনার পারদ চড়ছে। আর এই আবহে সংঘাত বাড়ছে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে অতিরিক্ত সিইও, ডেপুটি সিইও ও যুগ্ম সিইও এই তিনটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এই পদে সাধারণত ডব্লিউবিসিএস(WBCS) স্তরের প্রশাসনিক কর্তারাই যুক্ত হন। সেইমতো রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রতিটা পদের জন্য ৩ জন করে মোট ৯ জন আধিকারিকের নাম নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো হয়। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের পাঠানো সেই নামের তালিকা এবার সম্পূর্ণ বাতিল করে দিল কমিশন। পাশাপাশি নবান্নকে নতুন নামের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের পাঠানো এই ৯ জনের মধ্যে একজনও এই পদের যোগ্য নয়। স্বাভাবিক ভাবে এই ঘটনায় রাজ্য-কমিশন সংঘাত আবারও চরমে। এমনিতেই কিছুদিন আগে চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। যার মধ্যে ২ জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারও(ERO)। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, রাজ্য কোনও আধিকারিককে শাস্তি দেবে না। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন বিজেপির ইশারায় কাজ করছে কমিশন। এমনকী নির্বাচন কমিশন যে অমিত শাহের হাতের পুতুল হয়ে বিজেপির ভোট ব্যাংক বাড়াতে তৎপর, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অন্যদিকে এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনও নিজের অবস্থানে অনড়। তাদের বক্তব্য, সাসপেনশনের নির্দেশ না মানলে এবার মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই আবহে এবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে অতিরিক্ত সিইও, ডেপুটি সিইও ও যুগ্ম সিইও এই তিনটি পদের জন্য রাজ্যের প্রস্তাবিত নামের তালিকা পুরোপুরি বাতিল করায় রাজ্য ও কমিশন সংঘাত যে আরও চরমে পৌঁছাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হয় এখন সেটাই দেখার।
বাংলার অপমান নিয়ে জোড়া ফুলের পাশে হাত শিবির

বাংলা ও বাঙালির উপর অত্যাচার ও অপমান ইস্যুতে এবার কংগ্রেসকে পাশে পেল জোড়াফুল শিবির। ইতিমধ্যে এই নিয়ে সংসদে শুরু থেকেই প্রতিবাদ করে আসছে তৃণমূল। আর তৃণমূল নয়, এই ইস্যুতে লোকসভা এবং রাজ্যসভা দুই কক্ষেই মুলতুবি প্রস্তাব জমা দিল রাহুল গান্ধীর দল। মঙ্গলবারই বৈঠকের পর তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ মতো তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা সংসদ চত্বরে মকরদ্বারের সামনে তুমুল প্রতিবাদ জানান।বৃহস্পতিবারও সংসদে এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে শুধু তৃণমূল নয়, এবার এই ইস্যুতে তৃণমূলের পাশে দাঁড়াচ্ছে কংগ্রেসও। তার প্রথম ধাপ হিসেবে দুই কক্ষে মুলতুবির নোটিস দিয়েছে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, এই ইস্যুতে তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করতে চাইছে কংগ্রেসও। এই ইস্যুতে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে চাইছে হাত শিবির।বৃহস্পতিবার রাতেই রাহুল গান্ধীর ডাকা নৈশভোজে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আমেরিকার কাছে মাথা নত করবে না ভারত, স্পষ্ট বার্তা মোদীর

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার শাস্তি স্বরূপ ভারতের ওপর শুল্ক আরও বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে আমেরিকা। বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সেটা কার্যকর হবে ৩ সপ্তাহ পর থেকে। যদিও ইতিমধ্যেই ভারত ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানো নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ভারতের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার তেল তো চিন সহ আরও অনেক দেশই কেনে, তাহলে শুধু ভারতের উপর কেন এই শুল্ক চাপানো হচ্ছে? এমনকী ভারত তার বিবৃতিতে এও উল্লেখ করেছে যে, আমেরিকা নিজেরাই রাশিয়ার থেকে ইউরেনিয়াম সহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ কেনে। তাই অহেতুক ভারতকে নিশানা করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়। আর এর জবাবে ট্রাম্প আরও সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা ভারতের উপর চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি থমকে আছে। আমেরিকা ভারতে তাদের কৃষিপণ্য এবং দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি করতে চাইছে। তবে সেই পণ্য ভারতে বিক্রি করতে দিতে নারাজ মোদী সরকার। ভারতের প্রতি আমেরিকার এই চাপ সৃষ্টি নিয়ে এমএস স্বামীনাথন শতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “আমাদের কাছে দেশের কৃষকদের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। ভারত কখনও কৃষক, জেলে এবং দুগ্ধ চাষীদের স্বার্থের সাথে আপস করবে না। আমি জানি এর জন্য আমাদের অনেক মূল্য দিতে হবে এবং আমি এর জন্য প্রস্তুত। ভারত এর জন্য প্রস্তুত…।” ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির জেরে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়বে। এর জেরে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা দ্রুত কমতে পারে। এরই মাঝে অবশ্য ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা জারি রয়েছে। অন্যদিকে যে ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় পণ্যের ওপর ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তা কার্যকর হবে ২৭ অগস্ট থেকে। তার আগে ২৫ অগস্ট দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনার টেবিলে বসবেন। এখনও পর্যন্ত দুই দেশের পাঁচ দফা বৈঠক হয়েছে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে। সর্বশেষ দফা আলোচনা ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হলেও তা অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আগামী ২৫ অগস্ট থেকে ভারতে ষষ্ঠ দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেক্ষেত্রে দু দেশেই বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে এই বৈঠক নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।