মহুয়া-কল্যাণ লড়াই চরমে, কল্যাণকে ‘শুয়োর’ বলে আক্রমণ মহুয়ার

দুজনেই তৃণমূলের সাংসদ। দলে দুজনেই মমতা ঘনিষ্ট বলে পরিচিত। কিন্তু বহুদিন ধরেই তাঁদের মধ্যের ‘দ্বন্দ্ব’ বঙ্গ রাজনীতিতে এই মুহূর্তে রীতিমত চর্চার বিষয়। তবে এবার যেন সব সীমাই পার করে গেলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এবার নাম উল্লেখ করে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত ‘শুয়োর’ বলতেও ছাড়লেন না তিনি। শনিবার একটি জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মহুয়া মৈত্র। তার বক্তব্য, “না আমি শুয়োরের সঙ্গে কুস্তি করতে পারব না।” আগামী সোমবার দলীয় সংসদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন উঠছে সেই বৈঠকে আবার দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং শ্রীরামপুরের সংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আবার বিবাদে জড়িয়ে পড়বেন না তো? তারই উত্তর দিতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত ‘শুয়োর’ বলে আক্রমণ করে বসলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তবে এই বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও আগামী দিনে যে এই বিষয়ে তিনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন, তা স্পষ্ট করে দেন তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার দলীয় সাংসদদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

একাধিক ইস্যুতে ইতিমধ্যে সরগরম সংসদ। বিভিন্ন ইস্যুতে শাসক-বিরোধী লড়াই দেখার মতো। এরই মধ্যে কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াতে নতুন করে রণকৌশল সাজাচ্ছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। ঠিক কি অস্ত্রে এই সমস্ত ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ শানানো যায় তার রূপরেখা ঠিক করতে দলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে যেহেতু এই মুহূর্তে অধিবেশন চলছে , তাই এই বৈঠক হবে ভার্চুয়ালি। তৃণমূল সূত্রে খবর, সোমবার বিকেলে খুব সম্ভবত নবান্ন থেকেই এই ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন তিনি। সোমবার দুপুর ৩টে নাগাদ সমস্ত সাংসদকে তিনি ডেকেছেন। উল্লেখ্য, তৃণমূলের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই সংসদে দলের রণকৌশল কী হবে, তা তিনিই স্থির করে দেন। এবার সেইসঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক হিসেবে তৃণমূল অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে কীভাবে কক্ষ সমন্বয় করবে, কীভাবে যৌথ প্রতিবাদে শামিল হবে, কোন ইস্যুতে জোর দেবে, এসব নিয়ে সাংসদদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতেই মমতার এই বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে।
রানাঘাট থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত থার্ড লাইন নির্মাণের অনুমোদন দিল রেল বোর্ড

বর্তমানে রানাঘাট-মুর্শিদাবাদ-লালগোলা রুটের দ্বিমুখী লাইনের উপর চাপ ১১৩.৮ শতাংশ, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১৬৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই এই চাপ কমাতে অতিরিক্ত একটি লাইন চালু করা জরুরি বলেই মনে করেছে রেল দপ্তর। আর তাই রানাঘাট থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত থার্ড লাইন নির্মাণের প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত সবুজ সঙ্কেত দিল রেলওয়ে বোর্ড। ইতিমধ্যেই রেলওয়ে বোর্ডের সিইও ও চেয়ারম্যানসহ পরিকাঠামো, পরিচালনা, অর্থ সংক্রান্ত সদস্যরা এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন। পূর্ব রেলওয়ের অধীনে ২৬ কিলোমিটার এই রেল প্রকল্পে আনুমানিক খরচ হবে ৫০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় তৈরি হবে সাতটি স্টেশন ও চারটি বড় সেতু। গেদে-দর্শনা রুট ধরে বাংলাদেশ পর্যন্ত পণ্য পরিবহণের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। পূর্ব রেলওয়ে দপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে এই প্রকল্পের ফলে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে। আপাতত এই প্রকল্প রেলমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। পূর্ব রেল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই প্রকল্প মাল্টি-ট্র্যাকিং, ফ্লাইওভার ও বাইপাস লাইনের মাধ্যমে রেল চলাচলের সামগ্রিক পরিকাঠামোকে উন্নত করবে। ধুবুলিয়া ও মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যেই দুটি পণ্য লোডিং শেড চালু হয়েছে। বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে একটি নতুন কোচিং টার্মিনাল তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এসব কারণে এই রুটে ট্রেন চলাচলের ঘনত্ব বাড়বে, যা সামাল দিতে তৃতীয় লাইন গুরুত্বপূর্ণ। রেল জানিয়েছে, প্রকল্পটি আগামী তিন বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর্থিকভাবে এটি লাভজনক বলেই মনে করছে রেল বোর্ড। হিসেব অনুযায়ী, ৩০ বছরের ভিত্তিতে প্রকল্পটির ফিনান্সিয়াল ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন ১০.৪৭ শতাংশ এবং ইকনমিক ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন ২৭.১৬ শতাংশ। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই তৃতীয় লাইন নির্মাণের ফলে নদিয়া জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নতুন গতি আসবে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কাছে কি নতিস্বীকার ভারতের?

গত কয়েক দিন আগেই ভারতের বাণিজ্য পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তিকে যে তিনি ভালো চোখে দেখছেন না, তাও হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকী রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য নির্ভরতা বাড়ালে ভারতে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে বলেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ভারতকে চাপে রাখতে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পরেই ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে এই বিষয়টি নিয়ে যে ভারত চিন্তাভাবনা শুরু করেছে তা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার আমেরিকার এই প্রচ্ছন্ন হুমকির সামনে ভারতকে কিছুটা পিছু হটতেই দেখা গেল। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। এবার ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর নীরবে নিজের অবস্থান বদলালো ভারত। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি অনেকটাই বৃদ্ধি করল ভারত। সরকারি রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ৬ মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের খনিজ তেল আমদানি বেড়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ। তার ফলে খরচও বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। কেবল অশোধিত তেল নয়, এলপিজি এবং এলএনজির মতো গ্যাসও আগের থেকে অনেক বেশি পরিমাণে কেনা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে।২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন, এই ক’মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত দৈনিক আমদানি করত ১.৮ লক্ষ ব্যারেল। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছেন ২০ জানুয়ারি। তারপর থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে ২.৭১ লক্ষ ব্যারেলে। অর্থাৎ আমদানির গতি বেড়েছে নজরে পড়ার মতো। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, শুধুমাত্র এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসেই মার্কিন তেল আমদানি বেড়েছে ১১৪ শতাংশ। ফলে সামগ্রিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতের মোট তেল আমদানির ৮ শতাংশ জোগাচ্ছে। আগে যা ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। আর এই পরিমাণ তেলের জন্য ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে যেখানে খরচ হয়েছিল ১৭৩ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা), ২০২৫ সালে সেটাই গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭০ কোটি ডলারে (৩২ হাজার কোটি টাকা)।আপাতত মার্কিন তেল আমদানি কমার কোনও সম্ভাবনা নেই, বরং আগামীতে তা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল রাশিয়ার প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নানান ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে ঠিকই। তবে প্রতিরক্ষার প্রশ্নে দু দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। এমনকী তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারত যে বাজারদর, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের চাহিদা এই বিষয়গুলিকেই প্রাধান্য দেয় তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বলেছেন, “ভারত পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হতে চলেছে। তাই নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়ে ভারত অবশ্যই সজাগ থাকবে।”
ভারতীয় সেনার বড় সাফল্য, ‘অপারেশন অখাল’-এ নিহত ২ জঙ্গি

সদ্য ‘অপারেশন মহাদেব’ চালিয়ে বড় সাফল্য পেয়েছিল ভারতীয় সিআরপিএফ, সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। যৌথ অভিযান চালিয়ে শ্রীনগরের কাছে দাচিগাম ন্যাশনাল ফরেস্টে পাহেলগাঁও কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৩ জঙ্গিকে এনকাউন্টারে খতম করে ভারতীয় সেনা। এরপর চলল ‘অপারেশন অখাল’। আগামী শুক্রবার সন্ধে থেকে কুলগাম জেলায় শুরু হয়েছে এই মিশন। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে এই অভিযানে ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলির লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত ২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে একজন সিআরপিএফ জওয়ানের আহত হওয়ার খবরও সামনে আসছে। যদিও এই অপারেশন চলবে বলেই জানানো হয়েছে। সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কাশ্মীর জেলার আখালের একটি বনাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ঘেরাও করে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রাথমিক গুলি বিনিময়ের পর, রাতের জন্য স্থগিত রাখা হয় এই অভিযান। পুরো বনাঞ্চল ঘিরে রেখে সেখানে আরও বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়। শনিবার থেকে আবারও শুরু হয় গুলির লড়াই। আর তাতেই ২ জন জঙ্গি নিহত হয় বলে খবর। এই ‘অপারেশন অখাল’ অভিযানে প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এবং জঙ্গিদের মধ্যে গুলিবর্ষণ চলেছে বলেই চিনার কর্পস-এর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তবে জঙ্গিদের সঙ্গে সম্মুখ সমরে এই গোলাবর্ষণ চালানোর সময় একজন ভারতীয় সেনা জওয়ান আহত হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তবে ‘অপারেশন মহাদেব’ এর পর ‘অপারেশন অখাল’-ও যে ভারতীয়দের সেনা বাহিনীর একটি সফল সন্ত্রাসী বিরোধী মিশন সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতির পর, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন যে— সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অপারেশন থেমে থাকবে না। ধারাবাহিক ভাবে জঙ্গিদের নিকেষ করতে ভারতীয় সেনা অভিযান চলবে। ‘অপারেশন মহাদেব’ এবং ‘অপারেশন অখাল’ যেন প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতিকেই সত্যি প্রমাণ করল।
বাঙালি পাতে ইলিশের রসনা কবে মিটবে, হাপিত্যেস রাজ্যবাসী

শ্রাবণ মানেই ভরা ইলিশের মরসুম। বাঙালি পাত আলো করে থাকে এই রুপোলি শস্য। কিন্তু এবার অর্ধেক শ্রাবণ পেরিয়ে গেলেও সেভাবে দেখা মেলেনি ইলিশের। বাজারে যা মিলছে তা চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়, ফলে দামও আকাশছোঁয়া। কিন্তু কবে সাধারণ বাঙালিদের নাগালের মধ্যে আসবে তাদের রসনা তৃপ্তির সুস্বাদু এই মাছ, তা নিয়ে আপাতত হাপিত্যেস রাজ্যবাসী। এমনিতেই গত জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র অভ্যুত্থানের ফলে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে পদ্মার ইলিশ আমদানি একপ্রকার বন্ধ। স্বাভাবিক ভাবেই কোলাঘাট, ডায়মন্ড হারবার, নামখানা, কাকদ্বীপ, ফ্রেজারগঞ্জ ও দীঘার উপরই ভরসা করতে হচ্ছে রাজ্যবাসীকে। কিন্তু সেখানেও যে ইলিশের আকাল। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় বাজারে চড়চড়িয়ে বাড়ছে ইলিশের দামও। কলকাতার মানিকতলা, গড়িয়াহাট ও লেক মার্কেটের মতো জনপ্রিয় বাজারগুলোতে ৫০০ গ্রামের ওপরের ইলিশ বিকোচ্ছে বারোশো থেকে পনেরোশো টাকায়। স্বাভাবিক ভাবেই এখনও মধ্যবিত্ত বাঙালিদের ধরাছোঁয়ার বাইরে তাদের প্রিয় মাছের দাম। অবশ্য ইলিশের এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত জোগানের অভাবকেই দায়ী করছেন মাছ বিক্রেতাদের একাংশ। অন্যদিকে রাজ্যে লাগাতার নিম্নচাপের জেরে জেলেরাও ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যেতে পারেনি। সেকারণেই এতটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী কল্যাণ সমিতির। এমনকী ডায়মন্ড হারবার নগেন্দ্র বাজার পাইকারি বাজার পরিচালন সমিতির সদস্যদের অভিমত অনেকটা সেরকমই। তবে শীঘ্রই এই পরিস্থিতি বদলানোর আশা করছেন সকলেই। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকেই সবুজ সংকেত মিলতে নতুন করে ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যাওয়ার তোড়জোড়ও ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে জেলেরা। আগামী কয়েক দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টির জেরে সাগর থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল তাদের। তবে গত সপ্তাহে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মধ্যেও ৪০০ টন ইলিশ নিয়ে ফিরেছিল মৎস্যজীবীরা। হাওয়া অফিসের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত বঙ্গের আকাশে নিম্নচাপের কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামী বৃষ্টি আরও কমবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা। ফলে পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ায় মৎসজীবীরাও আশাবাদী ট্রলার ভর্তি করে ইলিশ নিয়েই সমুদ্র থেকে ফিরবেন তারা। ফলে আশা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহের দিকে ছবিটা কিছুটা বদলালেও বদলাতে পারে। কেননা বাজারে ইলিশের পর্যাপ্ত জোগান বাড়লে দামও কিছুটা মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে আসবে— সেই আশায় আপাতত হাপিত্যেস হয়ে দিন গুনছে মৎস্য প্রিয় বাঙালি।