স্ত্রী জ্যান্ত কবর দেওয়ার আগেই ভাগ্যের জোরে বেঁচে ফিরলেন স্বামী

একেই মনে হয় বলে রাখে হরি মারে কে? নিজের স্ত্রীর হাতেই খুন হতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়তো ভাগ্যই বাঁচিয়ে দিল রাজীবকে। ঘটনাটি উত্তর প্রদেশের বরেলির। একটু খোলাসা করে বলা যাক। রাজীব নামে ওই ব্যক্তি একজন চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও টের পাননি, যে তার ঘরের ‘লক্ষী’ শেষ পর্যন্ত তাঁকে খুন করতে রীতিমত পরিকল্পনা করে সমস্ত ব্যবস্থা করে রেখেছিল। সঙ্গে ছিল ওই যুবকের শ্বশুরবাড়ির বাড়ির লোকজনও। যদিও স্বামীকে নৃশংস ভাবে খুন করার সব পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেল অচেনা এক ব্যক্তির কারণে। উত্তর প্রদেশের বরেলিতে নিজের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পরিকল্পিত হত্যার চেষ্টা রাজীবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় জঙ্গল থেকে। এক অচেনা ব্যক্তি তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।ঘটনাটি ঘটেছে ইজ্জতনগর থানা এলাকার। পুলিশের অভিযোগ, ওই যুবকের স্ত্রী সাধনা এই হত্যার ছক তৈরি করেন। সাথে নেন নিজের ৪ ভাইকে, যাঁরা হলেন ভগবান দাস, প্রেমরাজ, হরিশ ও লক্ষ্মণ। অভিযোগ, ২১ জুলাই রাতে সাধনার ৪ ভাই সহ মোট ১১ জন রাজীবের বাড়িতে চড়াও হয়, রাজীবকে হাতের কাছে পেয়ে তাঁর একটি হাত ও পা ভেঙে দেয়। পুলিশ সূত্রে খবর, সামান্য মারধোর নয়, আসল পরিকল্পনা ছিল রাজীবকে জীবন্ত কবর দেওয়ার। আর সেই কারণেই রাজীবকে জোরজবস্তি করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সিবিগঞ্জ এলাকার একটি জঙ্গলে। যেখানে আগে থেকেই গর্ত খোঁড়া ছিল। কিন্তু ওই যে উপরওয়ালা চাইলে সব কিছুই সম্ভব। ঠিক সেই মুহূর্তে এক অচেনা ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হওয়ায় তাঁকে দেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। গভীর যন্ত্রণা ও হাড় ভাঙা অবস্থায় রাজীব চিৎকার করার মতো অবস্থাতেও ছিলেন না। তবে ওই ব্যক্তি তাঁকে দেখতে পান ও সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন। রাজীবকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাণে বেঁচে যান তিনি এবং এখন চিকিত্সাধীন রয়েছেন। রাজীবের বাবা নেতরাম তাঁর পুত্রবধূ ও তাঁর ভাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পর একটি মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগে তিনি বলেন, “ওরা আমার ছেলেকে খুন করতে চেয়েছিল। আর সেটা বৌমার পরিকল্পনায়।” প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে সাধনার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রাজীব। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে—যশ (১৪) এবং লভ (৮)। দুজনেই একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। রাজীবের পৈতৃক গ্রামে একটি বাড়ি ছিল, তবে তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে শহরে থাকতেন। নেতরামের দাবি, তাঁর পুত্রবধূ গ্রামে থাকতে চাইতেন না বলেই রাজীব শহরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
ত্রিকোণ প্রেমের পরিণতিতে মা ও মেয়েকে খুন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা অভিযুক্তকে

ত্রিকোণ প্রেম, আর তা থেকেই খুন হন মা ও মেয়ে। বছর পাঁচেক আগে এই হাড় হিম করা হত্যা নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য শুরু হয় গোটা বাংলায়। আর এই জোড়া খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা দিল তমলুক জেলা আদালত। ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হলদিয়ার হলদি নদীর পারে মেলে মা রমা দে ও অষ্টাদশী জেসিকার অর্ধদগ্ধ দেহ। মা ও মেয়েকে একসঙ্গে পুড়িয়ে হত্যা করার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় সাদ্দাম হোসেন নামে এক যুবককে । আর এই জোড়া খুন নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। শনিবার সেই মামলাতেই অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। সাদ্দাম হোসেন নামে ওই যুবকের সঙ্গে প্রথমে সম্পর্ক ছিল মৃত রমা দে’র সঙ্গে পরে রমা দেবীর ১৮ বছরের মেয়ে জেসিকার সাথেও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে সাদ্দাম। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের বাসিন্দা রমা দের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় মা ও মেয়েকে হলদিয়া য় বাড়াবাড়িতে নিয়ে আসে অভিযুক্ত। যাতায়াত করতে করতে শেষ পর্যন্ত রমা দের মেয়ে ১৮ বছরের জেসিকার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় সাদ্দামের। দু’জনের সঙ্গে প্রেম থাকলেও শেষ পর্যন্ত মা নয় মেয়ে জেসিকাকেই বিয়ে করে অভিযুক্ত। পরবর্তীতে জেসিকার মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল সাদ্দাম। তবে তা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত, মা ও মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হলদি নদীর ধারে ঝিকুরখালি এলাকায় নিয়ে এসে দুজনের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দেয় আগুন লাগিয়ে দেয়, ঘটনায় ৯০ দিনের মাথায় চার্জশিট দেয় পুলিশ। ৫ বছর মামলা চলার পর শেষ পর্যন্ত শনিবার রায় ঘোষণা করা হলো ৩০২(খুন) ও ৩o১ ধারায়।
জমা জলে পড়ে মৃত্যু পাঁচ মাসের শিশুর, শোকস্তব্ধ এলাকা — কাঠগড়ায় পৌর প্রশাসন

উত্তর দমদম পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীনগর এলাকায় জমা জলে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল পাঁচ মাসের এক কন্যাশিশুর। শনিবার সকালে এই দুর্ঘটনার পর গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিস্ফারিত চোখে এলাকার মানুষ বলছেন, ‘‘জলের অভিশাপেই গেল ছোট্ট মেয়েটার প্রাণ।’’ ঘটনাটি ঘটেছে বিরাটির দেবীনগর এলাকার একটি বস্তি অঞ্চলে। প্রায় একমাস ধরে এলাকাটি কোমড় সমান জলে ডুবে রয়েছে। কোনও কার্যকর নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় জল সরে যায়নি। তার মধ্যেই এই মৃত্যু যেন গোটা সমস্যাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ শিশুটিকে কোলে নিয়ে ঘরের মধ্যেই হাঁটছিল তার মা। আচমকা পা হড়কে পড়ে যান তিনি, আর শিশুটি সটান পড়ে যায় জমে থাকা নোংরা জলের মধ্যে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে তুলে স্থানীয় উত্তর দমদম পৌর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে পাঠানো হয় কলকাতার বি সি রায় শিশু হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মৃত শিশুটির বাবা পাপন ঘোড়াই নিমতা থানার সিভিক ভলান্টিয়ার। ঘটনার কথা শুনেই কাজ ফেলে হাসপাতালে ছুটে আসেন তিনি। হাসপাতালের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন শিশুটির ঠাকুমা। ‘‘এই জলের জন্যই তো ও চলে গেল। একমাস ধরে বলছি, জল সরাও। কেউ শুনল না,’’ কাঁদতে কাঁদতে বলেন তিনি। ময়না তদন্তের জন্য শিশুটির দেহ পাঠানো হয়েছে এনআরএস হাসপাতালে। পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন, প্রায় একমাস ধরে তাদের এলাকা জলমগ্ন। বৃষ্টি হলেই ঘরে ঢুকে পড়ছে জল। বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পৌরসভা। ‘‘এখানে বাঁচা যাচ্ছে না। শিশু, বৃদ্ধ সকলেরই অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। এখন তো প্রাণ গেল এক শিশুর। আর কত বড় মর্মান্তিক ঘটনা হলে পৌর প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?’’ প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা রত্না দে। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা। যদিও কেউ সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাইছেন না। অনেকেই বলছেন, আতঙ্কে রয়েছেন তাঁরা। এই ওয়ার্ডটি উত্তর দমদম বিধানসভার অন্তর্গত। এই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও অর্থ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর বিধানসভাতেই এমন জলমগ্নতা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ‘‘এই ঘটনার পূর্ণ দায় প্রশাসনের। একমাস ধরে এই অবস্থার কথা জানিয়ে এসেছি। আজ একটি শিশুর প্রাণ গেল, কাল হয়তো আরও কারও যাবে। মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীর দৃষ্টি কি আদৌ পড়বে এখানে?’’ বলেন এক স্থানীয় নাগরিক। প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই মৃত্যু নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এলাকার মানুষের প্রশ্ন— ‘‘এই জলে আরও কত প্রাণ হারালে মিলবে মুক্তি?’
ভোটার তালিকা থেকে বাদ লালু পুত্র!

স্পেশাল ইন্টেন্সিভ ইন রিসিভিশন বা এস আই আর নিয়ে ইতিমধ্যেই সংসদের ঘরে বাইরে প্রায় নিয়ম করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা, পাশাপাশি আগামী বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন দফতর ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলো। এরই মধ্যে বিহারে প্রকাশিত হয়েছে সংশোধিত ভোটার তালিকা। আর সেখানে রীতিমতো চমকে দেওয়ার মত বিষয় ঘটেছে। কি সেটা? সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম নেই বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী ও লালু প্রসাদ যাদবের পুত্র বর্তমান বিধায়ক তেজস্বী যাদবের নাম! আর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক দাবি বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীর। বিতর্কের মধ্যেও শুক্রবারই সংশোধিত ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করে কমিশন। আর তেজস্বীর অভিযোগ, এই সংশোধিত খসড়া তালিকায় নাকি তাঁর নামই নেই। আর কয়েক মাস পর বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। এই প্রকাশিত সংশোধিত ভোটার খসড়া তালিকাতে নাম না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে গেল তেজস্বী যাদবের। লালুপুত্রর প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন কী করে? তেজস্বী জানান, তাঁর নামও সংশোধিত ভোটার তালিকার খসড়া থেকে বাদ পড়েছে। অথচ যথাযথ নথিপত্র জমা দিয়ে বিএলওর কাছে গিয়ে ফর্ম ভরেছিলেন তিনি। কিন্তু ইলেকটোরাল রোলে এপিক নম্বরে তাঁর নাম দেখা যাচ্ছে না নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে। তেজস্বী বলেন, “ভোটার তালিকায় আমার নাম না থাকলে কী করে ভোটে লড়ব?”
আরজি কর পিজিটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রতিবাদীরা সিবিআই অফিসের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন

চলতি মাসের ৯ তারিখ অভয়া কাণ্ডের ১ বছর পূর্ণ হবে। ন্যায় বিচার যে হয়নি, তা মানছেন রাজ্যের বেশিরভাগ মানুষই। গত বছর আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পর গঠিত চিকিৎসকদের ফোরাম ‘অভয়া মঞ্চ’-এর প্রতিনিধিরা শুক্রবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই অফিসের সামনে একটি সমাবেশ করেন। ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন যে রাজ্য সরকারের সাথে যোগসাজশে কাজ করার কারণেই সিবিআই তদন্তে ‘বিলম্ব’ হচ্ছে। “সিবিআই রাজ্য সরকারের সাথে সমঝোতার জন্য কাজ করছে। আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার এত মাস পরেও, তারা এখনও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি,” দাবি করেছেন অভয়া মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক তমোনাস চৌধুরী। গত বছরের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত স্নাতকোত্তর চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল, যা সারা দেশে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রাই নামে এক সিভিক পুলিশকে গ্রেপ্তার করে এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সিবিআই। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাও সঞ্জয়কেই মামলার একমাত্র অভিযুক্ত করে। ২০ জানুয়ারী ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। মামলার কথিত ষড়যন্ত্রের দিকটি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। প্রসঙ্গত, ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ৯ আগস্ট কলকাতায় অপরাধের সাথে সম্পর্কিত দুটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি পর্যন্ত একটি মিছিল বের করার কথা রয়েছে। ৯ আগস্ট ‘অভয় মঞ্চ’-এর সদস্যরা ‘রক্ষা বন্ধন’ পালন করবেন এবং ১৪ আগস্ট, ফোরাম রাত ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কলকাতা এবং সংলগ্ন শহরতলির এলাকা জুড়ে ‘রাত্রি পুনরুদ্ধার’ পদযাত্রার ডাক দিয়েছে।
বিমানবন্দরের কাচ ভেঙে পালানোর চেষ্টা, ধৃত এক বাংলাদেশি নাগরিক

সাত সকালে বিপত্তি। এ যেন পুরো হিন্দি সিনেমা— বিমানবন্দরের কাচ ভেঙে পালানোর চেষ্টা। গ্রেফতার এক বাংলাদেশি যুবক। ধৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ধৃত যুবককে জেরা শুরু করেছে পুলিশ। প্রশ্ন উঠছে কেন পালানোর চেষ্টা করলেন তিনি? কিছু পাচারের চেষ্টায় ছিলেন? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম মহম্মদ আশরাফুল( ২৫)। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে কর্মরত, ইন্ডিগোর বিমানে সিঙ্গাপুর থেকে কলকাতায় আসেন আশরাফুল। কলকাতা হয়ে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। দমদম বিমানবন্দরের ইন্টারন্যাশনাল লাউঞ্জে বসে থাকার সময় হঠাৎ লাউঞ্জের কাচ ভেঙে বিমানবন্দরের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেন আশরাফুল। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় বিমানবন্দরে। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ানরা যুবককে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদ করেন আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, সেই সময় অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন যুবক। তাঁকে বিধাননগর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
‘ডিপ ফ্রিজ’-এর হাত ধরে বাংলা ছবি কী আবার ঘুরে দাঁড়াবে?
৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে গত শুক্রবার। পরিচালক থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রী, প্লেব্যাক সিংগার, মেকআপ আর্টিস্ট সব মিলিয়ে তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। তবে সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছে বাঙালি ছবি ‘ডিপ ফ্রিজ’। নতুন পরিচালক অর্জুন দত্তের এই ছবির গল্প মূলত বিচ্ছেদ পরবর্তী সময়ের দুই স্বামী-স্ত্রীর জীবনের নানান টানাপোড়েনের গল্প। যেখানে স্বর্ণাভর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে আবির চট্টোপাধ্যায়কে এবং মিলির চরিত্রে সাবলীল অভিনয় করেছেন তনুশ্রী চক্রবর্তী। বাংলা ছবি হিসাবে ‘ডিপ ফ্রিজ’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি পরিচালক অর্জুন দত্ত। তাঁর প্রথম ছবির এই সাফল্য তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর মাকে। এই ছবির শুটিং চলাকালীনই তাঁর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এক সময়ও মারা যান। তাই তাঁর আজকের সাফল্য মায়ের কৃতিত্ব বলেই দাবি করেন পরিচালক। পাশাপাশি প্রথম ছবিই পুরস্কৃত হওয়ায় তাঁর দায়িত্ব যে আরও বহুগুণ বেড়ে গেল, সেকথাও স্বীকার করেছেন অর্জুন। নিজের অভিনীত ছবি পুরস্কার পাওয়ায় খুশি অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়ও। নতুন পরিচালক হিসেবে অর্জুনের প্রথম ছবির এই সাফল্যে অভিনেতা হিসাবে তিনিও যে আপ্লুত সে কথাও জানান আবির। এই সাফল্য অর্জুনকে আগামীদিনে আরও ভালো কাজের উৎসাহ জোগাবে বলেই মনে করেন তিনি। আবিরের পাশাপাশি এই ছবির পুরস্কার প্রাপ্তিতে আনন্দিত অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তীও। যদিও এর আগেও তনুশ্রী অভিনীত সৃজিত মুখার্জির ‘গুমনামী’ ছবিটিও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিল। সব মিলিয়ে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, ঋতুপর্ণ ঘোষ, কৌশিক গাঙ্গুলির পরবর্তী প্রজন্মের কাজও যে জাতীয় স্তরের স্বীকৃত আদায় করতে পারছে, তা নিঃসন্দেহে বাংলা ইন্ড্রাট্রির ভবিষ্যতের জন্য অবশ্যই সুখবর।
রাশিয়াকে দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন দিয়ে ঘিরে রাখার হুমকি ট্রাম্পের

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের কারণে ভারতীয় আমদানির ওপর আগেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং জরিমানা আরোপের কথা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এইভাবে পরোক্ষে রাশিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করছিল হোয়াইট হাউস। এবার সরাসরি রাশিয়ার দিয়ে পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন তাক করে রাখার নির্দেশ দিলেন শান্তির দূত ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতিতে নিজের কৃতিত্বের কথা ফলাও করে জাহির করেছিলেন। যদিও ভারতের তরফ থেকে সেই দাবি কার্যত খারিজ করে দেওয়া হয়। এর পরেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়। এমনকী ট্রাম্প নিজেও যে শান্তি নোবেল পেতে আগ্রহী তা তার আচরণে প্রকাশ পেতে থাকে। যেকোনও দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে ট্রাম্প নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে দাবি করতে থাকেন, সে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধই হোক, কিংবা ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষ। স্বাভাবিক ভাবেই ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার তেল চুক্তিকে ভালোভাবে নেয়নি হোয়াইট হাউস। কয়েকদিন আগে ভারতের উপর বাণিজ্য শুল্ক ২৫ শতাংশ করার পর তিনি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে ভারত কী করল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তারা একসঙ্গে তাদের মৃত অর্থনীতি ধ্বংস করতে পারে। আমরা ভারতের সঙ্গে খুব কম ব্যবসা করি, তাদের শুল্ক অনেক বেশি, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। একইভাবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রও একসঙ্গে প্রায় কোনও ব্যবসা করে না। আমরা বিষয়টিকে সেভাবেই রাখব। রাশিয়ার ব্যর্থ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভকে বলি, তিনি কী বলছেন, সেদিকে যেন তিনি নজর দেন। ও খুব বিপজ্জনক এলাকায় ঢুকে পড়ছে! তিনি মনে করেন যে তিনি এখনও রুশ রাষ্ট্রপতি।” এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁর এক্স-হ্যান্ডেলে লিখেছিলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার সঙ্গে “আল্টিমেটাম গেম’ খেলছেন এবং এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে আকার নিতে পারে।” এর পরেই ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ৫০ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। এর মধ্যে শান্তিচুক্তি না করলে রাশিয়ার পরিণতিও যে ভয়ঙ্কর হবে, সেকথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প তাঁর অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, “রাশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের অত্যন্ত উস্কানিমূলক বক্তব্যের ভিত্তিতে আমি ঠিক জায়গা মতো দুটো পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছি, যাতে এই বোকা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য আর না বাড়ে। শব্দ খুব গুরুত্বপূর্ণ, এবং প্রায়শই এর থেকে অনিচ্ছাকৃত পরিণতি হতে পারে। আশা করি এখানে এমনটা হবে না। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!” ট্রাম্পের এই প্রচ্ছন্ন হুমকিকে রাশিয়া এখন কীভাবে নেয়, সেটাই দেখার।