বীরভূম থেকে জয়দেব সেতুর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

আরও কাছাকাছি দুর্গাপুর থেকে বোলপুর। মঙ্গলবার ইলামবাজারে অজয় নদের জয়দেব সেতু উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মোট ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পূর্ত দপ্তর এই সেতু নির্মাণ করেছে। এর ফলে দুর্গাপুর থেকে বোলপুর যাওয়া এবার আরও সহজ হবে। বীরভূমের জয়দেব এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিদবিহারে অজয় নদের উপর গড়ে উঠল স্থায়ী সেতু, নাম দেওয়া হয়েছে জয়দেব সেতু। এতদিন অজয় নদ পেরনোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রচুর ভোগান্তিতে পড়তে হত। বর্ষার সময় সেই পথ পেরনো আরও দুঃসহ হয়ে যেত সাধারণ মানুষের কাছে। মঙ্গলবার বীরভূমের ইলামবাজারে প্রশাসনিক সভা থেকে এই সেতুর ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, গলসির বিধায়ক নেপাল ঘড়ুই, জেলাশাসক পন্নামবলাম এস, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউড়ি, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত। এছাড়াও ছিলেন নগর নিগমের প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়, দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান সুভাষ মণ্ডল প্রমুখ। উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অজয় নদের উপর যে সেতু গড়ে উঠেছে সেই সেতুর নাম জয়দেব সেতু করা হোক। এই সেতু হওয়ায় উপকৃত হবেন বহু মানুষ। জয়দেবের মেলায় আসতেও মানুষের সুবিধা হবে।” এদিনই এই সেতু দিয়ে চালু হল দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এসবিএসটিসি) দুর্গাপুর-সিউড়ি রুটের বাস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “এই সেতু নির্মাণের ফলে উপকৃত হবে দুই জেলার মানুষ। পণ্য পরিবহণে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগসূত্র আরও নিবিড় হবে।”
‘এনআরসি হতে দেব না’— ফের হুংকার মমতার

ইলামবাজার থেকে দলীয় নেতৃত্বকে এসআইআর রুখতে সরেজমিনে নামার নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বীরভূমের ইলামবাজারে সরকারি সভা থেকে অনুব্রত মণ্ডল-কাজল শেখদের ময়দানে নামার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। লক্ষ্য একটাই এই প্রক্রিয়ায় ন্যায্য ভোটারের নাম যেন বাদ না পড়ে। আর স্ব-শরীরে এলাকায় গিয়ে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বীরভূমের ইলামবাজারে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে এদিন যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। জয়দেব সেতু সহ একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সরকারি অনুষ্ঠানের মাঝে হঠাৎ করেই ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের উপর নির্যাতন এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “অসম, ওড়িশা, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ সহ সমস্ত ডবল ইঞ্জিন সরকার অর্থাৎ বিজেপি শাসিত রাজ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে বাঙালিদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। আসলে বাংলায় প্রতিভা, পরিশ্রমের সঙ্গে পেরে উঠছে না বলে এত অত্যাচার। হিংসার তো কোনও ওষুধ নেই। যাঁরা ওই সব রাজ্যে কাজ করেন, তাঁরা দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন। সব বৈধ নথি রয়েছে। তা সত্ত্বেও ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হচ্ছে, থানায় ঘোরানো হচ্ছে। আমি বলছি, তাঁরা সবাই ফিরে আসুক। চাইলে রাজ্য সরকার গাড়িভাড়াও দেবে। তারপরই বোঝা যাবে, কে সত্যি বলছে, কে মিথ্যে।” তিনি থাকতে যে বাংলায় এনআরসি হতে দেবেন না, বলে স্পষ্ট করে দিয়ে মমতার বার্তা, “সবাই নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন। আসল লোকের নাম যেন বাদ না যায়। এভাবে এনআরসি চালুর ষড়যন্ত্র চলছে। অসমেও হয়েছে, বাংলাতেও ওরা চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রাণ থাকতে আমরা এনআরসি হতে দেব না, রুখে দেব। কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে প্রতিবাদ করবেন, বিএলও-কে বলবেন। বলবেন, এটা আপনার সাংবিধানিক অধিকার, আপনার রক্ষাকবচ। যেসব সংখ্যালঘুরা বাইরে কাজ করেন, তাঁরাও নাম তুলুন।” এরপরই অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ, শতাব্দী রায় সহ জেলার সকল নেতাকে নিজের নিজের এলাকায় নজরদারির নির্দেশ দেন মমতা।
জমি অধিগ্রহণের বিবাদ ছাড়াই প্রকল্প করছে ওএনজিসি

শেষ পর্যন্ত কার্যত বিবাদ ছাড়াই জমি পেল খনিজ তেল উৎপাদনের জন্য। আর তা সম্ভব হল কোর কমিটির দৌলতে। বছর দশেক আগে অশোকনগরের বাইগাছি মৌজায় মাটির নীচ থেকে খনিজ তেলের সন্ধান পেয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থার অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কমিশন। এর পর দ্বিতীয় পয়েন্ট হিসেবে তেলের সন্ধান মেলে ভুরকুন্ডা পঞ্চায়েতের পুমলিয়া এলাকায়। এ বার সেই অশোকনগরেরই দৌলতপুরের কাঁকপুলে মিলল খনিজ তেলের সন্ধান। আর সেখানেও জমির সমস্যা মেটাতে বিশেষ প্যাকেজের পরিকল্পনা করে রাজ্য সরকার। আশোকনগরের বিধায়ক তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমাকে, জেলা শাসক, ব্লক ডেভেলপমেন্ট আর পঞ্চায়েত প্রধানদের নিয়ে কোর কমিটি তৈরি করে আমরা জমিদাতাদের সাথে কথা বলে জমি পেতে সাহায্য করেছি।” প্রথমে বাইগাছি থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু হয়েছিল অপরিশোধিত খনিজ তেল উত্তোলন। ওএনজিসি প্রাথমিক পর্যায়ে এই কাজ শেষ করার পর বেশ কয়েক বছর অতিরিক্ত জমির জন্য খনিজ তেল উত্তোলনের প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে বাইগাছি মৌজায় ১৫ একর জমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাত্র ১ টাকায় দিয়েছিলেন ওএনজিসি কর্তৃপক্ষকে। মাস পাঁচ-ছয়েক আগে পাকাপাকি ভাবে এই এলাকা থেকে তেল উত্তোলনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অনুমতি চায় ওএনজিসি। বাকি দুই এলাকার জমি মালিকদের থেকেও লিজে জমি নিয়ে অপরিশোধিত খনিজ তেল উত্তোলন শুরু করে ওএনজিসি। এ বার অশোকনগর দৌলতপুরের কাঁকপুলেও খনিজ তেলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি জায়গায়। অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। সেই মতো পুরসভা ও পঞ্চায়েতের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিল্পোদ্যোগের পথ মসৃণ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই জমি জটের সমস্যা থাকে। সেগুলি মেটানো হয়েছে।” তবে এখানেই শেষ নয়, এই প্রকল্পের জন্য জমিদাতাদের বাড়ির ছেলে-মেয়েদের যাতে আরও ভালো কাজকর্মের বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় তা নিয়ে প্রস্তাব তৈরি হচ্ছে।” যদিও এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যা নিয়ে নারায়ণ গোস্বামীর বক্তব্য, “দেখুন প্রশ্ন তোলা খুব সহজ, কিন্তু এত বড় প্রকল্পের সাথে অনেক টেকনিক্যাল বিষয় জড়িয়ে থাকে। সেগুলো মিটিয়ে কাজ শেষ হবে।”
ভারত-পাক সংঘর্ষে বাবা-মা হারানো ২২ জন শিশুর দায়িত্ব নিলেন রাহুল গান্ধী

গত ২২শে এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ের বৈসরণ ভ্যালিতে জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন ২৬জন নিরীহ পর্যটক। তারই প্রত্যাঘাতে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায় ভারত সরকার। পাল্টা পাকিস্তানের দিক থেকেও ধেয়ে আসে একাধিক গোলাবর্ষণ। যদিও অপারেশন সিঁদুরের আগে থেকেই পাকিস্তানি সেনা-সীমান্তে গোলাবর্ষণ চলছিল। কিন্তু ৭ মে-র পর তা আরও বেড়ে যায়। ৮ থেকে ১০ মে পর্যন্ত জম্মু অঞ্চলে, বিশেষ করে পুঞ্চে ভারী গোলাবর্ষণ করে পাকসেনা। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালানো হয়। এই হামলায় ২৭ জন নিহত ও ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। পুঞ্চ জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। সেখানে ১৬ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। গোলাবর্ষণে স্থানীয় লোকজন তাদের বাড়িঘর ছেড়ে সরকারি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। জম্মু ও কাশ্মীরে পাক-সেনার গোলাবর্ষণের ফলে অনেক শিশুই পিতৃমাতৃহীন হয়ে পড়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনের রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়। এইসব অনাথ হয়ে যাওয়া শিশুদের ভরণপোষণ এবং পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যেতে এবার এগিয়ে এলেন কংগ্রেস নেতা রাহুর গান্ধী। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বাবা-মা হারানো ২২জন শিশুকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অপারেশন সিঁদুরের পর জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চে গিয়ে ওখানকার নিহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন রাহুল গান্ধী। তিনি সেসময় তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, “‘আমি আপনাদের জন্য গর্বিত। এখন আপনারা ভয় পাচ্ছেন, তবে আতঙ্কিত হবেন না, সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আপনারা আরও কঠোরভাবে পড়াশোনা করবেন। আপনারা মন দিয়ে খেলবেন এবং স্কুলে প্রচুর বন্ধু তৈরি করবেন।” জম্মু ও কাশ্মীরের কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কারা জানিয়েছেন, “এই শিশুদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য প্রথম কিস্তির টাকা বুধবার দেওয়া হবে। সন্তানদের গ্র্যাজুয়েশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। রাহুল গান্ধী মে মাসে পুঞ্চে গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের এই ক্ষতিগ্রস্থ শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করতে বলেছিলেন। এর পরে একটি সমীক্ষা করা হয় এবং সরকারি নথি যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়। রাহুল গান্ধী পুঞ্চের ক্রাইস্ট পাবলিক স্কুলেও গিয়েছিলেন, সেখানে শিশুদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন রাহুল গান্ধী।”
এসআইআর জল্পনার মধ্যেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ কমিশনের

বিহারে ইতিমধ্যেই স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর(SIR)-এর ফলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম। এর ফলে উত্তাল গোটা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এমনকী ভোটার তালিকা সংশোধনের নাম করে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্র যে সুকৌশলে এনআরসি(NRC) চালু করতে চাইছে, এই দাবি তুলে সংসদের বাদল অধিবেশন বয়কট করে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলো। এমনকী সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। এই আবহে চড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতি পারদ। কেননা বিহারের পর যে পশ্চিমবঙ্গেও একই ভাবে এসআইআর হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর এই নিয়ে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির দালাল বলেও ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের তল্পিবাহক হিসাবে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়েই বিজেপি তাদের ভোট-ব্যাংক বাড়াতে চাইছে। এমনকী গত সোমবার বোলপুরে ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ থেকেও তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে বিএলও(BLO) ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। রাজ্যকে এ বিষয়ে কিছুই জানাননি বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক এই ডামাডোলের মধ্যে রীতিমত আতঙ্কে আছে সাধারণ মানুষ। কেননা বিহারে এসআইআর(SIR)-এর সময় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই সমীক্ষার প্রামাণ্য নথি হিসাবে আধার, ভোটার ও রেশন কার্ডকে গণ্য করা হবে না। কমিশনের বেঁধে দেওয়া ১১টি নথির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে একজন ভোটার বৈধ কি অবৈধ। বলা হয়েছে, সরকারি কর্মীদের পরিচয়পত্র, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগের কোনও সরকারি নথি (ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসির নথিও গ্রাহ্য), জন্মের শংসাপত্র, পাসপোর্ট, শিক্ষা সংক্রান্ত শংসাপত্র (জন্মের তারিখ উল্লেখ থাকা চাই), স্থায়ী বসবাসকারীর শংসাপত্র, এসসি এসটি বা ওবিসির সংশাপত্র, এনআরসি তালিকায় নাম, স্থানীয় প্রশাসনের তৈরি করা পারিবারিক ‘রেজিস্টার’, দলিল বা পর্চার মো জমি-বাড়ির নথি। বিহারের এই সমীক্ষা নিয়ে শীর্ষ আদালতে আপিল করা হলে, সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য আধার এবং এপিককে গণ্য করার কথা বিবেচনা করে দেখতে বলেছে কমিশনকে। তবে এই নিয়ে শীর্ষ আদালত কোনও নির্দেশ দেয়নি। ফলে এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আরও সংশয় বেড়েছে রাজ্যবাসীর মনে। তার প্রমাণ হচ্ছে, গত কয়েকদিনে বাংলাতে প্রায় লাখের কাছাকাছি ভোটার অনলাইনে ভোটার কার্ড সংশোধন বা আপডেটের জন্য আবেদন করেছেন। বিভিন্ন সূত্র মারফত যা খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আগামী আগস্ট মাস থেকে সম্ভবত রাজ্যে এসআইআর(SIR)-এর কাজ শুরু হতে পারে। এই আবহের মধ্যে এবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর এর ফলেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে সামনে রেখেই এসআইআর(SIR)-এর কাজ শুরু করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন? কেননা পশ্চিমবঙ্গে শেষ ২০০২ এসআইআর হয়েছিল।
সোমবার রাতে জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বঙ্গোপসাগর

আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বঙ্গোপসাগর। তবে একটা নয়, পর পর দুটো ভূমিকম্প। সোমবার গভীর রাতে বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান নিকোবর দীপপুঞ্জের কাছে আঘাত হানে এই ভূমিকম্প। প্রথমটি রাত ১২টা ১১ নাগাদ বঙ্গোপসাগরে আঘাত হানে। আর দ্বিতীয়টি রাত ১টা ৪১ মিনিটে আন্দামান ও নিকোবরের কাছাকাছি। তবে দুটি ভূমিকম্পেরই গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-র রিপোর্ট অনুযায়ী রিখটার স্কেলে প্রথমটি ছিল ৬.৩ এবং দ্বিতীয়টি ৬.৫। এনসিএস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী প্রথম ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল আন্দামান ও নিকোবরের কাছাকাছি বলা হলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) এবং ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে, যার উৎপত্তিস্থল গ্রেট নিকোবারের ক্যাম্পবেল বে থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার পশ্চিমে। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস (INCOIS) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে ভারতে সুনামির কোনও আশঙ্কা নেই। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গ বা ওড়িশায় কোনও প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোতে ভূমিকম্পের প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তবে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রংপুরের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল বাংলাদেশে হিন্দুরা মুসলমানের সাথে থাকতে পারবে না!

সীতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক: আবার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তৌহিদী জনতা রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ১৮টি হিন্দুবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। পুরুষ-মহিলা নির্বিচারে সবাইকে বেদম প্রহার করেছে। মানুষ আতঙ্কে একাত্তরের মত গ্রামছাড়া হচ্ছে। এটি ঘটেছে প্রকাশ্য দিবালোকে, পুলিশের সামনে। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করে, যদিও উত্তেজনা কমেনি। প্রথম আলোর ভাষ্যমতে বাইরে থেকে লোক এসে মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষ জড়ো করে হিন্দুবাড়িতে আক্রমণ চালায়। প্রতিটি ঘটনার সাথে লুটপাট থাকে। থাকে মন্দির ভাঙা, মহিলাদের সম্মানহানি। একাত্তরে ১০০% হিন্দুবাড়ি লুট হয়েছিল। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা সবার আমলে লুটপাট হয়েছে। জাতি গণভবন লুটপাট দেখেছে। কোনও হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান-উপজাতি, আদিবাসী কিন্তু লুটপাটে অংশ নেয় না। হিন্দুরা জঙ্গি হয় না। রিট পলিটেনিক ২৩-২৪ সেশনের কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের ৩য় বর্ষের ছাত্র রঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নবী মুহাম্মদের বিরুদ্ধে ‘কটুক্তি’ করেছেন। পুলিশ ছেলেটিকে গ্রেফতার করে, বলা হচ্ছে, তা না হলে ওকে পিটিয়ে মেরে ফেলত। রঞ্জনের বিরুদ্ধে কলেজের মেইন গেটে রবিবার দুপুর ১টায় প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকা হয়, তবু প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু আগের রাতেই তারা রঞ্জনকে গ্রেফতার করে। রঞ্জনের ফেসবুক দু সপ্তাহ আগে খোলা হয়েছে। তিনি আদৌ সেটি খুলেছেন কিনা, বা অন্যকেউ খুলেছে কে জানে? বিবিসি বলেছে, যেহেতু এটি ভেরিফাইড পেইজ নয়, তাই রঞ্জন নবীকে অপমান করেছেন কিনা তা প্রমাণ সাপেক্ষ। বিবিসি আরও বলেছে, ধর্ম অবমাননার যত ঘটনা ঘটেছে এর প্রায় পুরোটাই প্রমাণ করা যায়নি। এবারের রংপুরের ঘটনার পর সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চুপ। সচরাচর তারা চুপ থাকতে পছন্দ করেন, পরে বিবৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির দেশ! এটি শুধু এই সরকার নন, অতীতের সকল সরকার এটি করেছে। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাথে রাজনৈতিক যোগসাজশ থাকে। সরকার ও প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন মদত থাকে, সবাই চায় হিন্দু খেদাতে। বাংলাদেশের মুসলমান হিন্দুদের সহ্য করতে পারে না। তারা চায় না হিন্দুরা থাকুক। বাংলাদেশের হিন্দুরাও আর মুসলমানের সাথে থাকতে চায় না। এভাবে কতকাল থাকা যায়? বেশিরভাগ মুসলমান স্বীকারই করে না যে হিন্দুরা অত্যাচারিত! আপনারা ভাবছেন আমি ঢালাওভাবে মুসলমানের কথা বলছি কেন? কারণ গত ৫৪ বছরে হিন্দুরা বঞ্চনা ছাড়া তাদের কাছ থেকে কিচ্ছু পায়নি (তবে অতিশয় ক্ষুদ্রাতি-ক্ষুদ্র ক্ষমতাহীন একটি গ্রুপ এর বাইরে)। ধর্মের অবমাননা নামক ‘ইসলামী মৌলবাদী অত্যাচার’ শুরু হয়েছে ২০১২-তে রামু থেকে। যে উত্তম বড়ুয়া ধর্ম অবমাননা করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁকে আজও পাওয়া যায়নি। তৌহিদী জনতা উত্তম বড়ুয়ার নামে নিজের ধর্মকে অবমাননা করে। ফলশ্রুতিতে গ্রামের পর বৌদ্ধ গ্রাম ধ্বংস হয়ে যায়। কুমিল্লায় ইকবাল দেবীদুর্গার পায়ে কোরান রেখে ধর্মের অবমাননা করেছিল, ১৯টি জেলার হিন্দুদের ওপর নেমে এসেছিল তাণ্ডব। নাসিরনগরে জাহাঙ্গীর ধর্মের অবমাননা করেছিল, পুরো শহরের হিন্দু বাড়িগুলো আগুনে পুড়িয়ে ছাই হয়েছিল। এর কোনোটার কিন্তু বিচার হয়নি, শেখ হাসিনা বিচার করেননি। ২০০১-র পর হিন্দুদের ওপর যে নারকীয় অত্যাচার হয়, খালেদা জিয়া এর বিচার করেননি। এমনকী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেও এর বিচার করেননি। সবাই বলেছেন বাংলাদেশে চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিদ্যমান। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন ছবি!