বাংলার শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ বলে করে দেওয়া হল পুশব্যাক

সেই আবার আক্রান্ত বাংলার শ্রমিক। এবার সেই বিজেপি শাসিত রাজস্থান। শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া নয় মালদার এক শ্রমিককে, এখানেই শেষ নয়, করে দেওয়া হলো ‘পুশব্যাক’ও । রীতিমতো অমানবিকভাবে পে-লোডার মেশিনের সাহায্যে বিএসএফ সীমান্তে কাঁটাতারের ওপারে ছুঁড়ে পাঠানো হয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ। মালদহের বাসিন্দা ওই পরিযায়ী শ্রমিক রাজস্থানে কাজ করতে গিয়েছিলেন। মালদহের কালিয়াচকের বাসিন্দা আমির শেখ পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন রাজস্থানে। পরিবারসূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিনমাস আগে তিনি রাজস্থানে কাজের জন্য গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বাংলাতেই কথা বলেন। অভিযোগ, বাংলাদেশি অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে রাজস্থান পুলিশ। তাঁর কাছে দেশের নাগরিক হিসেবে সচিত্র পরিচয়পত্র থাকলেও, সেসব কথা কানে তোলা হয়নি বলে অভিযোগ।শুধু তাই নয়, আমির শেখকে রাজস্থানের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাজস্থান পুলিশ আমির শেখকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট সীমান্তে পাঠিয়েছিল। বিএসএফের মাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায় পুশব্যাক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও মারাত্মক অভিযোগ, তাঁকে পে লোডার মেশিনের সাহায্যে সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন বলে খবর। পরিবারের দাবি, আমিরের আধার কার্ড-সহ অন্যান্য পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁকে আটক করা হয়েছিল।
কেন মামলা ছাড়লেন বিচারপতি ?

বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায় তবে কী আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালে বিরক্ত হয়েই মামলা থেকে অব্যাহতি নিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ? উঠছে প্রশ্ন। এর ফলে ওই ইন্সপেক্টর এবং হোমগার্ড আদৌ জামিন পাবে কিনা, তা নিয়েও তৈরি হল ধোঁয়াশা। এখন নিয়ম অনুযায়ী এই মামলা চলে যাবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে। পরবর্তী শুনানি কার বেঞ্চে হবে, তা ঠিক করে দেবেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় এক পুলিশকর্মী এবং এক হোমগার্ডের গ্রেফতারির ঘটনায় সিবিআইয়ের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবারের মধ্যে সিবিআইকে ওই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায় সম্প্রতি একটি অতিরিক্ত চার্জশিট জমা করেছে সিবিআই। গ্রেফতার হয়েছেন পুলিশকর্মী রত্না সরকার এবং হোম গার্ড দীপঙ্কর দেবনাথ। তাঁরা দু’জনেই এখন জেলবন্দি রয়েছেন। গত মঙ্গলবার হাইকোর্টে তাঁদের জামিনের আবেদনের শুনানি হয়। সেখানে সিবিআইয়ের আইনজীবী রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় চান। তখন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি তাঁর সওয়াল জবাবে বলেন, “হঠাৎ করে চার বছর পরে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন হেফাজতে রাখতে সময় চাওয়া হচ্ছে।” দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জানায়, চার দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে সিবিআইকে। নারকেলডাঙা থানার পুলিশ ওই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছিল। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সম্প্রতি ওই মামলায় ইনস্পেক্টর রত্না এবং হোমগার্ড দীপঙ্করের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। গত ১৮ জুলাই থেকে তাঁরা জেল হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে নিম্ন আদালত মন্তব্য করেছিল, ‘‘রক্ষকই ভক্ষক হয়ে গেলে সমাজের কী হবে?’’ পরে গত সোমবার তাঁদের জামিনের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। আর শুক্রবার মামলাই ছেড়ে দিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।
২৬শে কি বিজেপির মুখ মিঠুন?

সুমন গাঙ্গুলি: এবার কি তবে বঙ্গ বিজেপিতে গুরুত্ব বাড়ছে মিঠুন চক্রবর্তীর? ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় অন্যতম মুখ হিসাবে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে মহাগুরু’কে। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে প্রচারে দেখা গিয়েছিল মিঠুন চক্রবর্তীকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে অমিত শাহের সঙ্গে একাধিক সভায় বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছিল মহাগুরুকে। বিজেপি সূত্রে খবর এবার শুধুমাত্র বক্তা হিসেবে নয়, ২০২৬ কে সামনে রেখে এবার বাংলার নির্বাচনে মিঠুন কে তুরুপের তাস হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সেইমতো দলের তরফে নির্দেশেও দেওয়া হয়েছে মিঠুন চক্রবর্তীকে। আপাতত একটি বাংলা চ্যানেলের নাচের রিয়েলটি শোয়ে প্রধান বিচারক হিসেবে কলকাতাতেই রয়েছেন তিনি। আর এই সময়গুলোকে মিঠুন চক্রবর্তীকে আরো বেশি করে প্রচারের কাজে ব্যবহার করতে চাইছে পদ্ম শিবির। সদ্য বদল হয়েছে বঙ্গ বিজেপি সভাপতি। সুকান্ত মজুমদারের বদলে দায়িত্বে এসছেন কট্টর আরএসএসপন্থী শমীক ভট্টাচার্য। তবে এখনো রাজ্যের সংগঠনকে ঢেলে সাজানো শুরু হয়নি। বিজেপি সূত্রে খবর, এবার রাজ্য বিজেপিতে কোন সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে ‘ এমএলএ ফাটাকেষ্ট ‘ কে। তবে শুধু কথার কথা নয় ইতিমধ্যেই ময়দানে নেবেও পড়েছেন মিঠুন। দুর্গাপুরে নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে একদা তৃণমূলের এই রাজ্যসভার সাংসদকে। প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদারদের সামনেই তৃণমূলকে একহাত নিয়ে যেমন আক্রমণ শানিয়েছেন, পাশাপাশি সেই সভায় উপস্থিত কর্মী সমর্থক দের মধ্যেও তথাকথিত বঙ্গ বিজেপির চেনা মুখদের থেকেও বেশি উন্মাদনা দেখা গেছে মিঠুনকে ঘিরে। আর এই জনপ্রিয় তাকেই কাজে লাগাতে চাইছে দল। বঙ্গ বিজেপির অন্দরের খবর ইতিমধ্যেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এবং নেতাদের মধ্যে লড়াইয়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে বিজেপি। শুভেন্দু-সুকান্ত’র সঙ্গে দিলীপ – শমীকের দুরত্ব যেমন বাড়ছে। ঠিক একই ভাবে দলেই আস্তে আস্তে একঘরে হয়ে পড়ছে দাবাং দিলীপ। প্রায় প্রতিদিন ন নাম না করে শুভেন্দু-কৌস্তভদের মতো নব্য বিজেপিদের আক্রমণ করতে ছাড়ছেন না তিনি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে শেষ পর্যন্ত দিল্লী থেকে ডেকে কেন্দ্রীয় সভাপতি জয়প্রকাশ নাড্ডা দিলীপকে চুপ থাকার নির্দেশ দেন। অর্থাৎ ২৬ এর নির্বাচনকে সামনে রেখে বাঙালি ইস্যুতে। যখন কোমড় বেঁধে ময়দানে তৃণমূল। তখন কার্যত অগোছলো বঙ্গ বিজেপি। বিজেপি সূত্রের খবর, গোটা বিষয় দেখে অনেকটাই হতাশ বাংলার বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অনেকেই এখন আর বিজেপির হয়ে মাঠে নামতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন। এককথায় গোটা পরিস্থিতি নিয়ে ২৬ শে অশনি সঙ্কেত দেখছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। আর তাই এই বাংলারই ছেলে মিঠুনকে কাজে নামিয়ে বঙ্গ বিজেপির সব পক্ষকে এক নৌকায় তুলতে চাইছে কেন্দ্রীয় নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গ বিজেপির এক নেতার কথায়,” নেতাদের মধ্যে লড়াই আর একে অপরকে আক্রমণ দেখে দলের কর্মীরা উৎসাহ হারাচ্ছে হতাশ হয়ে পড়ছে, এভাবে চলতে থাকলে চেয়ার দখল তো দুরঅস্ত, মাঠে ময়দানে লড়াই করার কর্মী পাওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দেবে। আর তাই হয়ত মিঠুন চক্রবর্তীকে সামনে নামিয়ে আবার কর্মীদের একজোট করতে চাইছে দল।” সূত্রের খবর, নেতা নয় আগে দলীয় কর্মী সমর্থকদের অক্সিজেন দিয়ে ২৬ এর ময়দানে নামতে চাইছে গেরুয়া শিবির। আর তাই ‘ অক্সিজেন সিলিন্ডার ‘ হিসেবে মিঠুন চক্রবর্তীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দুর্গাপুরের সভা থেকে অনেকটাই বাংলায় রাজনীতি করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তৈরি হয়ে তিনি যে মাঠে নামছেন এবং কর্মীদের সাথে থেকেই যে তিনি লড়াই করবেন দুর্গাপুরের সভা থেকে তা নিজেই স্পষ্ট করে দেন। বৃহস্পতিবার, দুই কলকাতার ৮ বিধানসভার কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন মিঠুন, শুক্রবার আরামবাগ- তারকেশ্বর এর সমস্ত বিধানসভার কর্মীদের নিয়ে বসবেন, এরপর রাজারহাট – নিউটাউন এর কর্মীদের সঙ্গে একই ভাবে বৈঠক করবেন তিনি। এরপর গোটা দক্ষিণবঙ্গ, বিশেষ করে বিজেপির হাতে থাকা বিধানসভা গুলোয় একাধিক বৈঠক করবেন মিঠুন। সূত্রের খবর, মিঠুন চক্রবর্তীকে দিয়ে সাংগঠনিক কাজ করার জন্য বিশেষ প্ল্যান তৈরি করেছে পদ্ম শিবির, প্রথমে দলের হাতে থাকা বিধানসভা, তারপর যে যে বিধানসভা ২০২১ সালে হাতে থাকলেও পরবর্তীতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা অন্য কারণে ২৬ সালে হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা আছে সেটা এবং তৃতীয় যে যে জেলায় বিজেপি ২৬ সালে ভালো ফলাফল করতে পারে এমন জেলা বা বিধানসভা গুলোতে মিঠুন চক্রবর্তীকে কাজে লাগিয়ে ফসল তুলতে চাইছে পদ্ম শিবির।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ঝাড়খন্ডের তিন প্রতারক

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ঝাড়খন্ডের তিন প্রতারক। মৃতদের নাম সালাউদ্দিন আনসারী কালাম উদ্দিন আনসারী ও নিয়াজ আনসারী। সকলেই ঝাড়খণ্ডের দেওঘর এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের গতকাল রাতে ডোমকল থেকে গ্রেফতার করে। এর আগে এক ব্যাংক একাউন্ট সরবরাহকারীকে গ্রেপ্তারের পর এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মুর্শিদাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ থানা। পুলিশ জানিয়েছে এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া মুলকেশ হোসেন এর সহযোগিতায় বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাশ বই নিয়ে সেই সব একাউন্টে জালিয়াতি টাকা ঢুকিয়ে গ্রাহকের কাছে ওটিপি নিয়ে টাকা তুলে নিতে। অর্থের লোভ ও বিভিন্ন সহযোগিতার অছিলায় বিভিন্নভাবে অ্যাকাউন্ট হাতিয়ে নিত মুলকেস হোসেন। এর আগে ২০২০ সালে এই মুলকেস হোসেন একটি অ্যাকাউন্ট বই নিয়ে জালিয়াতি করেছিল। সেই সময় এয়ারপোর্ট থানা থেকে ওই উপভোক্তা কাছে নোটিশ আছে। সেই বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানায় সমাধান হলেও মুলকেশ বিভিন্নভাবে ওই উপভোক্তাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এরকম একাধিক অভিযোগ আসে মুর্শিদাবাদে সাইবার ক্রাইম থানায়।। সেই ঘটনার তদন্ত নেমে তিনজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা কে ডোমকল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ আজ ধৃতদের আদালতে তোলা হবে।।
বিহারের পর কি পশ্চিমবঙ্গ? এই রাজ্যে কবে হবে এসআইআর?

বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন(SIR) সমীক্ষায় বাদ পড়েছে প্রায় ৫৭ লক্ষ ভোটারের নাম। ভোটার-আধার বা রেশন কার্ডের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া যে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ নথির ভিত্তিতে ভোটার কার্ড সংশোধনের কাজ হয়েছে, সেখানে বাদ যাওয়া ভোটারদের প্রায় অধিকাংশই সেই সমস্ত নথিপত্র দেখাতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিহারে বাদ যাওয়া প্রায় ৫৭ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২০ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ২৮ লক্ষ এমন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে যারা এখন আর বিহারে থাকেন না, অথবা যাদের অন্যত্র ভোটার তালিকায় ইতিমধ্যেই নাম নথিভুক্ত হয়েছে। বিহারে এসআইআর(SIR)-এর ফলে বাদ যাওয়া প্রায় ৫৭ লক্ষ ভোটার ইস্যুতে সরগরম দিল্লির রাজনীতি। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশের দাবি তুলে রীতিমত উত্তাল সংসদ। গতকাল এই ইস্যুতে সংসদের চলতি বাদল অধিবেশন বয়কট করে সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলো। তাদের দাবি, সরকার বেশ কয়েক বছর ধরে চেষ্টা করেও এনআরসি(NRC) লাগু করতে পারছে না। একমাত্র আসাম ছাড়া আর কোথাও এনআরসি চালু করা সম্ভব হয়নি। তাই মোদী সরকার এভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে দেশে এনআরসি লাগু করতে চাইছে। বিহারের পর কি পশ্চিমবঙ্গেও এসআইআর শুরু হবে? এই প্রশ্নেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ইতিমধ্যেই তৃণমূল সুপ্রিমো নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারের মদতেই যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন সে অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী সাফ জানিয়ে দেন, তার রাজ্যে এনআরসি লাগু করতে হলে সবার আগে তাঁকেই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে হবে। অন্যদিকে রাজ্য বিজেপিও এনআরসি চালু করার প্রশ্নে বারবার তৃণমূলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দাবি করেছে, এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য এসআইআর চালু হওয়া নিয়ে ধন্ধে আছে রাজ্যবাসী। তবে বিহারের মতো এ রাজ্যেও যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হবে তা একপ্রকার নিশ্চিত। যদিও বাংলার একটি দৈনিক পোর্টালের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, আগামী আগস্ট মাস থেকে এ রাজ্যে শুরু হতে পারে এসআইআর-এর কাজ। তবে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও সরকারী বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রেই আধার-ভোটার অথবা রেশন কার্ডকে প্রাধান্য দেওয়া হবে নাকি, বিহারের ধাঁচেই নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া ১১টি নথি যেমন— ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগের কোনও সরকারি নথি (ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসির নথিও গ্রাহ্য), জন্মের শংসাপত্র, পাসপোর্ট, শিক্ষা সংক্রান্ত শংসাপত্র (জন্মের তারিখ উল্লেখ থাকা চাই), স্থায়ী বসবাসকারীর শংসাপত্র, এসসি এসটি বা ওবিসির সংশাপত্র, এনআরসি তালিকায় নাম, স্থানীয় প্রশাসনের তৈরি করা পারিবারিক ‘রেজিস্টার’, দলিল বা পর্চার মো জমি-বাড়ির নথি— এগুলোকেই প্রমাণ্য নথিপত্র হিসাবে দেখাতে হবে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারী ভাবে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে এসআইআর নিয়ে যে যথেষ্ট আতঙ্কে আছে রাজ্যবাসী, তার প্রমাণ বাংলাতে গত এক সপ্তাহেই ৭০ হাজারেরও বেশি ভোটার অনলাইনে তাদের ভোটার কার্ড সংশোধন বা আপডেটের জন্য আবেদন করেছেন। এর থেকেই পরিষ্কার যে, রাজ্য চালু হতে চলা এসআইআর নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান রাজ্যবাসী।
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইন্দিরা গান্ধীকে টপকে গেলেন নরেন্দ্র মোদী

দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী থাকার নিরিখে এবার ইন্দিরা গান্ধীকেও পিছনে ফেলে দিলেন নরেন্দ্র মোদী। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। আর আজ অর্থাৎ শুক্রবার টানা ৪০৭৮ দিন ক্ষমতায় থাকার নজির গড়ে নরেন্দ্র মোদী ভেঙে দিলেন ইন্দিরা গান্ধীর সেই রেকর্ড। ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রীর তকমা পেলেন তিনি। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং গত বছর অর্থাৎ ২০২৪-এর জুনে টানা তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ভারতীয় জনতা পার্টির ৭৪ বছর বয়সী এই নেতা প্রথম অ-কংগ্রেসী কোনও দলের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই পদে থাকার নজির গড়েছেন। এমনকী স্বাধীন ভারতে জন্মগ্রহণকারী প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবেও সবচেয়ে বেশি সময় শীর্ষপদে বসে আছেন তিনি। ১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত টানা ৪০৭৭ দিন ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় ছিলেন। অন্যদিকে টানা তিন দফায় ২০২৫-এর ২৫ জুলাই পর্যন্ত মোদী ক্ষমতায় আছেন ৪০৭৮ দিন। নরেন্দ্র মোদীর আগে এখন শুধু ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় আছেন জওহরলাল নেহেরু। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট থেকে ১৯৬৪ সালের ২৭ মে পর্যন্ত ১৬ বছর ২৮৬ দিন এই পদে ছিলেন তিনি। নেহরু ছাড়া নরেন্দ্র মোদীই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি পরপর তিনটি নির্বাচনে দলের নেতা হিসেবে জয়ী হয়েছেন। এমনকী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে, মোদী গুজরাটের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদীই প্রথম এবং একমাত্র অ-কংগ্রেসি নেতা যিনি লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন।
স্বামীর মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে মাওবাদী নেত্রী শোভা মুণ্ডা

সমাজ বদলের রঙিন স্বপ্ন চোখে নিয়ে একদিন ঘর ছেড়েছিলেন ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির মেয়ে চন্দনা সিং ওরফে শোভা মুণ্ডা। মাওবাদী নেতা কিষাণ জির নেতৃত্বে মাওসেতুং আদর্শে দীক্ষিত হয়ে জড়িয়ে পড়েন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে। অস্ত্রকেই বিপ্লবের হাতিয়ার বানিয়ে এরপর শুরু হয় একের পর নাশকতার ছক। ততদিনে মাত্র ১২ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে আসা বেলপাহাড়ির সেই ছোট্ট মেয়ে চন্দনা সিং হয়ে উঠেছে মাওবাদী নেত্রী শোভা মুণ্ডা। ২০১০ সালে ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ মামলায় ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। ঝাড়গ্রামে প্রায় ছ-ছটি মামলা আছে আদিবাসী এই তরুণীর বিরুদ্ধে। যদিও সবকটিতে জামিন পেয়ে গেলেও, ঘাটশিলা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় তার। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর। অবশেষে মিলেছে মুক্তির স্বাদ। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে ছাড়া পেলেন মাওবাদী নেত্রী শোভা মুণ্ডা। যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণার পর একের পর এক জেল ঘুরে অবশেষে তার ঠাঁই হয় এই মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে। এখানেই এতদিন শাস্তি ভোগ করছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার তার জেলমুক্তির খবর পেয়ে তাকে নিতে এসেছিলেন, তার দাদা তারক সিং এবং বৌদি ছবি সিং। এত বছর পর ঘরছাড়া বোনকে ঘরে ফেরাতে পেরে আবেগমথিত হয়ে পড়ে তার দাদা। এদিন সেন্ট্রাল জেলের সামনে হাজির ছিল এপিডিআর(APDR) কর্মীরাও। তারা এত বছর ধরে শোভার জেলমুক্তির জন্য মুক্তির জন্য রাঁচি হাই কোর্টে আপিল করেছিল। ২০২২ সালে তার শুনানিও হয়। কিন্তু সরকারি বিচারব্যবস্থার গড়িমসিতে তিন বছর রায়দান হয়নি। তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভও উগরে দেন এপিডিআর(APDR) নেত্রী জয়শ্রী সরকার। অবশেষে শোভার জেলমুক্তিতে খুশি তারাও। জেল থেকে বেরিয়ে মাওবাদী নেত্রী জানান, যে মামলায় তাঁর সাজা হয়েছে সেই ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন না। আগামী দিনগুলো কীভাবে কাটাতে চান, এখনও জানেন না শোভা মুণ্ডা ওরফে চন্দনা সিং। তবে মাওবাদী স্কোয়াডে থাকার সময় তার সাথে বিয়ে হয় মাওবাদী নেতা রাজেশ মুণ্ডার। ঘাটশিলার ছেলে রাজেশ এখন মুর্শিদাবাদ জেলে বন্দি। শোভা মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে থাকার সময় সেখান থেকে নিয়ম করে কথাও বলতে স্ত্রীর সঙ্গে। এখন আপাতত স্বামী রাজেশ মুণ্ডার মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনবে চন্দনা ওরফে শোভা মুণ্ডা।