পুজোর আগেই বড় উপহার পেল বনগাঁ শাখার যাত্রীরা, চালু হল AC লোকাল

কিছুদিন আগেই পরীক্ষামূলক ভাবে শিয়ালদহ-রানাঘাট শাখায় এসি(AC) লোকাল চালু করা হয়েছিল পূর্ব রেলের তরফ থেকে। রেলের এই উদ্যোগে অভূতপূর্ব সাড়াও মিলেছিল। এমনকী এই পরিষেবা যে পরবর্তীতে বনগাঁ শাখায়ও চালু করা হবে, তাও জানানো হয়েছিল রেলের তরফ থেকে। অবশেষে আজ অর্থাৎ শুক্রবার সকাল থেকেই চালু হয়ে গেল এই পরিষেবা। শুক্রবার রানাঘাট থেকে বনগাঁ হয়ে শিয়ালদহের উদ্দেশে রওনা দেয় এসি লোকাল ট্রেন। সকাল ৭টা ৪২-এ বনগাঁ পৌঁছয় এসি লোকাল ট্রেন। পুজোর আগে এটা নিঃসন্দেহেই একটা বড় উপহার বনগাঁ শাখার যাত্রীদের জন্য। যে শিয়ালদহ শাখায় লোকাল ট্রেনগুলোতে এতদিন বাদুড়ঝোলা হয়ে যেত যাত্রীরা, সেখানে দাঁড়িয়ে এসি লোকাল ট্রেন চড়া নেহাতই চাঁদ হাতে পাওয়ার সমান। অবশেষে যাত্রীদের সেই স্বপ্নই পূরণ হল। শুক্রবার সকালে প্রথমবার শিয়ালদহ-ভায়া বারাসত – বনগাঁ-রানাঘাট রুটে ছুটল এসি ট্রেন। স্বাভাবিক ভাবেই যাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল দেখার মতো। প্রত্যেকের মুখেই ছিল চওড়া হাসি। শিয়ালদহ থেকে বনগাঁ পর্যন্ত ওই ট্রেনের ভাড়া রাখা হয়েছে ১২০ টাকা। ওই রুটে সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা ভাড়া ধার্য করা হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই বনগাঁ স্টেশনের কাউন্টারে টিকিট কাটার জন্য পড়েছিল দীর্ঘ লাইন। বনগাঁ থেকেও যে কোনওদিন এসি লোকাল ট্রেন চলবে, এটা ভাবতেই পারছেন না নিত্য রেলযাত্রীরা। শিয়ালদহের সব শাখার চাইতে যেখানে অপেক্ষাকৃত বেশি ভিড় হয় বনগাঁ লোকালে, সেখানে এত আরামে ট্রেনে চড়া নেহাতই স্বপ্ন বলে মনে করছেন যাত্রীরা।
শিয়ালদহে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে মারধর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের

এতদিন বিজেপি শাসিত ভিন রাজ্যগুলি থেকেই অভিযোগ আসছিল যে, বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে তাঁদের বাংলাদেশী বলে গ্রেফতার করা হচ্ছিল। কিন্তু এবার এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল পশ্চিমবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র খোদ কলকাতা শহরেই। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল পড়ুয়াকে বাংলাদেশি সন্দেহে মারধর করল শিয়ালদহ ব্রিজের নীচে একদল ব্যবসায়ী। সূত্রের খবর, বুধবার রাতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারমাইকেল হোস্টেলের একজন ছাত্র শিয়ালদা ব্রিজের নিচে মোবাইলের দোকানে কিছু দরকারি জিনিস কিনতে গিয়েছিলেন। সেখানেই চলছিল দর-কষাকষি। এমনকী ওই ছাত্রের সঙ্গে দোকান মালিকের খানিক বচসাও হয়। এরপর নাকি হিন্দিভাষী দোকানদার ওই পড়ুয়াকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন। এরপর ওই পড়ুয়া হোস্টেলে ফিরে গিয়ে তাঁর সহপাঠীদের ডেকে আনেন। আর তারপরই ওই চার ছাত্রদের উপর চড়াও হন আশপাশের ব্যবসায়ীরাও। গুরুতর আহত অবস্থায় চারজন ছাত্রকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেই অভিযোগ পড়ুয়াদের। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মুচিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে চলে বিক্ষোভ। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা পুলিশের তরফ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার খবর পেয়ে মুচিপাড়া থানায় যান বাংলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায়। অবিলম্বে এই ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা গুজরাটে মার খাব, রাজস্থানে মার খাব, এখন কলকাতাতেও মার খাব? মানলাম ওড়িশায় বিজেপি সরকার, উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার আছে। কলকাতায় তো বিজেপি নেই। তাহলে এই অপরাধীগুলো কেন গ্রেফতার হবে না?” পাশাপাশি গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের সুরে সুর মিলিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আগে তো ভিন রাজ্যে হত। এখন এখানেও হচ্ছে। এই পরিবেশ তৈরি করছেন দিল্লিওয়ালারা।” অন্যদিকে আক্রান্ত ছাত্রদের অভিযোগ, “আমাদের হস্টেলের কিছু ছেলে মোবাইলের কভার কিনতে যায়। তখন একটা লোক হিন্দিতে বলছে, ‘বাংলাদেশি বলব। কী করবি বল? কী করার আছে কর।’ এরপর আমায় মারল। আমার মোবাইল কেড়ে নিল। আমাদের একটা ছেলেকে আটকেও রেখেছিল। তার জন্য আমরা প্রতিবাদ করি। সেই কারণে, ছুরি-বন্দুক দিয়ে আঘাত করে আমাদের।” অন্যদিকে বিজেপি নেতা সজল ঘোষের দাবি, “শিয়ালদহ মানে গেটওয়ে অফ কলকাতা। যদি সেখানেই এমন বাংলাদেশি বলে তাহলেও নিন্দনীয়। যদিও পুরো বিষয়টিই তদন্ত করে দেখা উচিত।”
রানাঘাট থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত থার্ড লাইন নির্মাণের অনুমোদন দিল রেল বোর্ড

বর্তমানে রানাঘাট-মুর্শিদাবাদ-লালগোলা রুটের দ্বিমুখী লাইনের উপর চাপ ১১৩.৮ শতাংশ, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১৬৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই এই চাপ কমাতে অতিরিক্ত একটি লাইন চালু করা জরুরি বলেই মনে করেছে রেল দপ্তর। আর তাই রানাঘাট থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত থার্ড লাইন নির্মাণের প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত সবুজ সঙ্কেত দিল রেলওয়ে বোর্ড। ইতিমধ্যেই রেলওয়ে বোর্ডের সিইও ও চেয়ারম্যানসহ পরিকাঠামো, পরিচালনা, অর্থ সংক্রান্ত সদস্যরা এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন। পূর্ব রেলওয়ের অধীনে ২৬ কিলোমিটার এই রেল প্রকল্পে আনুমানিক খরচ হবে ৫০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় তৈরি হবে সাতটি স্টেশন ও চারটি বড় সেতু। গেদে-দর্শনা রুট ধরে বাংলাদেশ পর্যন্ত পণ্য পরিবহণের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। পূর্ব রেলওয়ে দপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে এই প্রকল্পের ফলে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে। আপাতত এই প্রকল্প রেলমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। পূর্ব রেল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই প্রকল্প মাল্টি-ট্র্যাকিং, ফ্লাইওভার ও বাইপাস লাইনের মাধ্যমে রেল চলাচলের সামগ্রিক পরিকাঠামোকে উন্নত করবে। ধুবুলিয়া ও মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যেই দুটি পণ্য লোডিং শেড চালু হয়েছে। বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে একটি নতুন কোচিং টার্মিনাল তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এসব কারণে এই রুটে ট্রেন চলাচলের ঘনত্ব বাড়বে, যা সামাল দিতে তৃতীয় লাইন গুরুত্বপূর্ণ। রেল জানিয়েছে, প্রকল্পটি আগামী তিন বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর্থিকভাবে এটি লাভজনক বলেই মনে করছে রেল বোর্ড। হিসেব অনুযায়ী, ৩০ বছরের ভিত্তিতে প্রকল্পটির ফিনান্সিয়াল ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন ১০.৪৭ শতাংশ এবং ইকনমিক ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন ২৭.১৬ শতাংশ। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই তৃতীয় লাইন নির্মাণের ফলে নদিয়া জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নতুন গতি আসবে।