রাজ্যের পাঠানো নাম খারিজ নির্বাচন কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দিন যত এগোচ্ছে ততই যেন উত্তেজনার পারদ চড়ছে। আর এই আবহে সংঘাত বাড়ছে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে অতিরিক্ত সিইও, ডেপুটি সিইও ও যুগ্ম সিইও এই তিনটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এই পদে সাধারণত ডব্লিউবিসিএস(WBCS) স্তরের প্রশাসনিক কর্তারাই যুক্ত হন। সেইমতো রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রতিটা পদের জন্য ৩ জন করে মোট ৯ জন আধিকারিকের নাম নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো হয়। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের পাঠানো সেই নামের তালিকা এবার সম্পূর্ণ বাতিল করে দিল কমিশন। পাশাপাশি নবান্নকে নতুন নামের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের পাঠানো এই ৯ জনের মধ্যে একজনও এই পদের যোগ্য নয়। স্বাভাবিক ভাবে এই ঘটনায় রাজ্য-কমিশন সংঘাত আবারও চরমে। এমনিতেই কিছুদিন আগে চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। যার মধ্যে ২ জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারও(ERO)। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, রাজ্য কোনও আধিকারিককে শাস্তি দেবে না। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন বিজেপির ইশারায় কাজ করছে কমিশন। এমনকী নির্বাচন কমিশন যে অমিত শাহের হাতের পুতুল হয়ে বিজেপির ভোট ব্যাংক বাড়াতে তৎপর, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অন্যদিকে এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনও নিজের অবস্থানে অনড়। তাদের বক্তব্য, সাসপেনশনের নির্দেশ না মানলে এবার মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই আবহে এবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে অতিরিক্ত সিইও, ডেপুটি সিইও ও যুগ্ম সিইও এই তিনটি পদের জন্য রাজ্যের প্রস্তাবিত নামের তালিকা পুরোপুরি বাতিল করায় রাজ্য ও কমিশন সংঘাত যে আরও চরমে পৌঁছাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হয় এখন সেটাই দেখার।