মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে ধানক্ষেত থেকে শিশুকন্যার দেহ উদ্ধার

কন্যা সন্তান বলেই সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে ব্যাগে ভরে ছুঁড়ে ফেলা হল। ব্যাগে ভরা সদ্যোজাত শিশুকন্যার দেহ উদ্ধার। তার মাথার পেছনে চোট। ছুঁড়ে ফেলাতেই শিশুকন্যার মৃত্যু (child death) হয়েছে বলে অনুমান গ্রামবাসীদের। সোমবার মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর (Malda Harischandrapur) থানার ভিঙ্গল গ্রামে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হল সদ্যজাত একটি শিশুকন্যার মৃতদেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়। সকালে ধান কাটতে এসে স্থানীয় কয়েকজন প্রথমে দেখতে পান একটি ব্যাগ পড়ে আছে ধানক্ষেতে। ব্যাগ খুলতেই নজরে আসে সদ্যজাত কন্যাশিশুর নিথর দেহ। শিশুটির শরীরে মিলেছে হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের ট্যাগ। সঙ্গে ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল একটি ব্যাগ ও কাপড়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জন্মের পর শিশুটিকে ব্যাগে ভরে রাস্তার দিক থেকে ধানক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ভিড় জমাতে থাকেন গ্রামবাসীরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কন্যাসন্তান হওয়ায় কি এভাবে ফেলে দেওয়া হল? নির্মম ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় মানুষজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা এমন নৃশংস ঘটনা ঘটাল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ভিঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা শেখ আলম বলেন, “এভাবে সদ্যজাত শিশুকে ফেলে যাওয়া সত্যিই হৃদয়বিদারক। সকালে আমরা গ্রামবাসীরা জেনে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। মাথায় আঘাতের দাগ স্পষ্ট ছিল। এমন অমানবিকতার কোনও ক্ষমা নেই।” পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির জন্ম কোথায় হয়েছে এবং মৃতদেহ ফেলার নেপথ্যে কারা রয়েছে— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
মালদহে এসটিএফ-এর বড় সাফল্য, উদ্ধার একুশ লক্ষ টাকার জাল নোট

আবারও বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার পিটিএস মোড়ে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ জাল ভারতীয় নোট। এই ঘটনায় দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। ধৃত দুই যুবকের নাম হাজরাত বেলাল ওরফে মাসুদ ও তরিকুল ইসলাম। একজনের বয়স ২৪ বছর এবং অন্যজনের ২৫। ধৃত দুজনেরই বাড়ি মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর ও কালিয়াচক থানা এলাকায়। তারা ফারাক্কাগামী ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ঘোরাঘুরি করছিল। তাদের তল্লাশি চালিয়ে দুটি ব্যাগ ভর্তি জাল নোট উদ্ধার হয়। মোট ২০ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা মূল্যের জাল নোট বাজেয়াপ্ত করেছে এসটিএফ। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সবকটি নোটই ৫০০ টাকার, মোট সংখ্যা ৪১৭৪টি। প্রাথমিক জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে, এই জাল নোট বাংলাদেশ থেকে আনা হয়েছে। এই ঘটনায় বৈষ্ণবনগর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে ওই ধৃত দুই যুবকের বিরুদ্ধে। তদন্তে এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।