মোদীর বঙ্গ সফরের দিনই বাংলা ছাড়লেন দিলীপ ঘোষ

আজ তিনটি নয়া রুটে মেট্রোর উদ্বোধন করতে বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরকারি এই প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপিকে চাঙ্গা করতে দমদমে রাজনৈতিক সভাও করবেন মোদী। সেই সভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ বিজেপির একাধিক রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু এই সভাতে যে আমন্ত্রণ পাননি বিজেপির এক সময়ের দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ তা কয়েকদিন আগেই সাংবাদিকদের সামনে নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। আজ বঙ্গ সফরে মোদী আসার দিনই দিলীপ ঘোষকে সকালে বিমানবন্দরে দেখা গেল। এর আগেও আসানসোলের প্রধানমন্ত্রীর সভার দিন সকালেই দিল্লির উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই কেন্দীয় বিজেপির পর্যবেক্ষক জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠক ঘিরেও নানা গুঞ্জন সামনে এসেছিল। এও শোনা গিয়েছিল যে, দিলীপ ঘোষকে রীতিমত ওয়ার্নিং দিয়েছিলেন নাড্ডা। কেননা সংবাদমাধ্যমের সামনে দিলীপ ঘোষ যেভাবে বিজেপির রাজ্য নেতাদের নামে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন তা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে ভালো ভাবে নিচ্ছে না, তাও নাকি দিলীপ ঘোষকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন নাড্ডা। এমনকী তাঁকে চুপ করে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও এরপর রাজ্য বিজেপির নেতাদের নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে দিলীপকে খুব একটা সরব হতে দেখা যায়। আজ প্রধানমন্ত্রীর দমদমে সভার দিনই বেঙ্গালুরু উড়ে গেলেন দিলীপ ঘোষ। কিন্তু কী কারণে তিনি বেঙ্গালুরু যাচ্ছেন তা সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট করেননি। তবে এদিন একরাশ অভিমান ঝরে পড়ল তাঁর গলায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, “মোদী কী বলছেন তা শুনতে সভায় থাকার তো দরকার নেই। মোবাইলেও শোনা যায়।” পাশাপাশি দল যে ঠিক সময়ে তাঁকে কাজে লাগাবে, সে বিষয়েও তিনি আশাবাদী। দল ছাড়ার প্রসঙ্গ উঠতেই তাই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আমি দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। দল ঠিক সময়ে আমাকে কাজে লাগাবে।” সুকান্ত মজুমদার রাজ্য বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর থেকেই দলে কোণঠাসা হতে শুরু করেন দিলীপ ঘোষ। সে নিয়ে একাধিক বার প্রকাশ্যেই নিজের ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপির এই দাবাং নেতা। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির নতুন সভাপতি হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এবার হয়ত দলে গুরুত্ব বাড়বে দিলীপ ঘোষের। এমনকী শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের একান্ত বৈঠকের পর যেভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে দুজনেই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলের হয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছিলেন তাতে করে অনেকেই সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে যে আদৌ সে ছবি বদলায়নি, তা দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ না জানানো থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়।
ভিন রাজ্যে বাঙালি নিগ্রহের প্রতিবাদে একই দিনে পথে নামল বাম-কংগ্রেস

বিজেপি শাসিত ভিন রাজ্যে বাংলা ও বাঙালিদের হেনস্থার প্রতিবাদের যখন বিজেপির বিরুদ্ধে সরব রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তখন এই ইস্যুতে প্রদেশ কংগ্রেস এবং সিপিআইএম নেতৃত্ব কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে। এই ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে কার্যত আন্দোলনের ব্যাটন নিজের হাতে নিতে মরিয়া। সেখানে এই রাজ্যে বাম এবং কংগ্রেস নেতৃত্বকে সেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা যায়নি। তবে শেষপর্যন্ত ভিন রাজ্যে বাঙালিদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে একই দিনে পথে নামল বাম-কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে উৎকল ভবন ঘেরাও অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। ওড়িশায় বাংলাভাষীদের হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলও করে তারা। রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মিছিল করে এদিন উৎকল ভবনের সামনে বিক্ষোভ অবস্থান করে কংগ্রেস। পরে ৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল ওড়িশা উৎকল ভবনের ভিতর ডেপুটেশন জমা দেয়। অন্যদিকে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের শুধুমাত্র বাংলা বলার অপরাধে গ্রেফতার করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বারাসত জেলাশাসক দপ্তরে ডেপুটেশন জমা দিলেন সিআইটিইউ(CITU) কর্মী-সমর্থকরা। যদিও এদিন জেলাশাসক দফতরে প্রবেশের মুখে ব্যাপক পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয় সিআইটিইউ কর্মী-সমর্থকরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে পুলিশি ব্যারিকেড ধরে চলে সিআইটিইউ কর্মী-সমর্থকদের ধস্তাধস্তি। এমনকী পুলিশের সঙ্গে রীতিমত খণ্ডযুদ্ধও হয়। অবশেষে তাদের ৬ জনের একটি প্রতিনিধি দল পৌঁছায় জেলাশাসক দফতরে। সেখানে জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে ডেপুটেশনপত্র জমা দেন। এদিন কর্মসূচি শেষে সিআইটিইউ নেতা বরুণ ভট্টাচার্য পুলিশের বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “যথাযথ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও যেভাবে ভিন রাজ্যের আমাদের শ্রমিকরা নিগৃহীত হচ্ছে, তার প্রতিবাদে আমরা আজ শান্তিপূর্ণ ভাবেই জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন জমা দিতে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের সঙ্গে যেভাবে ব্যবহার করল, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ যেভাবে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় তাতে ওদের মেরুদণ্ড বলে কিছু নেই। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রামকে ওরা ভয় পায়। তাই এভাবে আচরণ করে আজ সেটাই বুঝিয়ে দিল তারা।”
তামান্না এবং অভয়ার জন্য পাল্টা সভা কংগ্রেসের

বিজেপির পর এবার কংগ্রেস। ২১শে জুলাই পাল্টা কর্মসূচির ডাক দিল মুর্শিদাবাদ জেলা যুব কংগ্রেস। শুক্রবার বহরমপুরে জানালেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। ২১শে জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের ‘গ্র্যান্ড ইভেন্ট’। অর্থাৎ শহীদ দিবস পালন। যার পাল্টা হিসাবে ইতিমধ্যেই সেই দিনই উওরকন্যা অভিযানের ডাক দিয়েছে বিজেপি ও যুব মোর্চা। উপস্থিত থাকবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যার অনুমতি ইতিমধ্যে আদালত থেকে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর এবার একই ভাবে একইদিনে আরও একটি পাল্টা কর্মসূচির ডাক দিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তবে এই কর্মসূচি প্রদেশ কংগ্রেসের নামে নয়, করা হবে মুর্শিদাবাদ জেলা যুব কংগ্রেসের নামে। এদিন বহরমপুরে দলীয় কার্যালয়ে বসে অধীর চৌধুরী বলেন, “আমরা একুশে জুলাই সভা করছি পলাশীর প্রান্তরে— ছোট্ট তামান্না এবং আমাদের বোন অভয়া’র বিচারের দাবিতে। কালীগঞ্জে নির্বাচনের পর তৃণমূলের বোমাবাজিতে যে ছোট্ট তামান্নাকে আমরা হারিয়েছি, পাশাপাশি আমাদের বোন অভয়া, এই দুজনকে শহীদের আখ্যা দিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা যুব কংগ্রেস এই কর্মসূচি নিয়েছে। ” তবে বিজেপির উত্তরবঙ্গের সভার মতো পলাশীর এই সভার অনুমতি নিতে হয়েছে বলেও দাবি অধীরের। এর পাশাপাশি ২১শে জুলাই নিয়ে কলকাতার পুলিস কমিশনারকে মুচলেখা দিতে বলেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকী সাধারণ মানুষের যেন সমস্যা না হয় সেই বিষয় নিয়ে পুলিশ কমিশনারকে নির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দিতে হবে। এর ফলে আগামী বছর ২১শে জুলাই নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠে আসছে এই প্রসঙ্গ টেনে অধীর বলেন, “একুশে জুলাই যে পুলিশদের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী প্রাণ হারান সেই পুলিশদেরকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরস্কার দিয়েছেন। কেন একুশে জুলাই ঘটেছিল, কারা কারা দোষী, তার তদন্ত করার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই তদন্ত নিয়ে রাজ্য সরকার চুপ। আসলে একুশে জুলাই প্রমোদ ভ্রমণ হয়, পিকনিক হয়। তার জন্য কেন কলকাতার মানুষজন সমস্যায় পড়বে? হাইকোর্ট যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে একদম সঠিক সিদ্ধান্ত।।”