বাইশে শ্রাবণ বিশ্বভারতীতে রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে একগুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা

১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ প্রয়াত হন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই প্রথা মেনে শুক্রবার ভোরে বিশ্বভারতীর গৌরপ্রাঙ্গণে বৈতালিক, বিশেষ উপাসনা ও কবিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে পালিত হল বাইশে শ্রাবণ। ১৩৪৯ সাল থেকেই শান্তিনিকেতনে এই দিনটি বৃক্ষরোপণ উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। কবির জীবদ্দশায়ও তিনি বহুবার বৃক্ষরোপণ করেছেন। ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখে নিজের জন্মদিনে তিনি উত্তরায়ণের উত্তরে পঞ্চবটী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে বাইশে শ্রাবণকেই বৃক্ষরোপণের দিন হিসাবে স্থির করা হয়। এ বছরও প্রথা মেনেই উৎসব শেষে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী দিনে শ্রীনিকেতন মেলার মাঠে হলকর্ষণ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার দাস জানান, ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে হেরিটেজ ওয়ার্ক শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য লাইট ও সাউন্ড শো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে কবিগুরুর জন্ম থেকে বিশ্বভারতীর ইতিহাস তুলে ধরা হবে। বছরের শেষের দিকে এই প্রকল্প শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয় এদিনের অনুষ্ঠান থেকে। বিশ্বভারতীতে একটি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিওর উদ্বোধনের কথা জানানো হয়েছে। সেখানে গানসহ নানা ধরনের অডিও রেকর্ডিংয়ের সুযোগ থাকবে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরাই নয়, বাইরের আগ্রহীরাও নির্দিষ্ট ফি দিয়ে এই স্টুডিও ব্যবহার করতে পারবেন।
এক ঠাকুরের ভাষা রক্ষায় লোকসভায় তৃণমূলের পাশে আর এক টেগোর

সুমন গাঙ্গুলী: রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর তাই ভাষা আন্দোলনের প্রথম পদযাত্রার শুরু করেছিলেন বোলপুর থেকে। এখানেই শেষ নয়, সংসদের বাইরে তৃণমূলের প্রতিবাদেও ভরসা সেই রবীন্দ্রনাথই । বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস ২২-শে শ্রাবণে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সেই রবীন্দ্রনাথকে শপথ করে ” বাংলার উপর ভাষা সন্ত্রাস মানব না।” বলেও বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পথ প্রদর্শক করে এই ভাষা আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বাংলা ভাষার উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার লোকসভায় মুলতুবি প্রস্তাব আনতে চেয়ে নোটিস দিলেন আর এক ঠাকুর। এই ইস্যুতে ইতিমধ্যে মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্তালিন। আর ২২ শে শ্রাবণই ভাষা অস্মিতাকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়ে লোকসভায় মূলতুবি প্রস্তাব আনলেন তামিলনাড়ুর বিরদুনগরের কংগ্রেস সাংসদ মানিক্কম টেগোর, ( Manickam Tagore) বাংলার বাইরে গোটা দেশ বা আরোও ভালো করে বললে গোটা বিশ্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিন্তু পরিচিত রবীন্দ্রনাথ ‘ টেগোর ‘ ( Rabindranath Tagore) বলেই। আসলে তামিলনাড়ু-সহ গোটা দক্ষিণ ভারতেই ভাষা নিয়ে আবেগ রয়েছে। জাতির সঙ্গে ভাষার অস্মিতা সেখানে প্রবল। মুলতুবি প্রস্তাবের নোটিসে সেই ভাষার সম্মানের প্রশ্নই তুলেছেন তামিলনাড়ুর বিরদুনগরের কংগ্রেস সাংসদ।
রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে তীব্র আন্দোলনের ডাক মমতার

রবীন্দ্রনাথই যে তাঁর দেখানো ভাষা আন্দোলনের পথ প্রদর্শক, বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে রবি ঠাকুরের বোলপুর থেকে এই ভাষা আন্দোলনের ‘লড়াই’ শুরু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস ২২ শ্রাবণে ভাষা রক্ষার শপথ নিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। ইতিমধ্যে বাংলা ও বাঙালীদের উপর আক্রমণ নিয়ে সংসদে নিয়মিত বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তৃণমূলের সাংসদরা। আর সেখানেও ভরসা সেই রবীন্দ্রনাথ। ” বাংলার মাটি বাংলার জল…” এই রাজ্য সঙ্গীতের সাথে সাথে রবি ঠাকুরের একাধিক গানই সংসদে তৃণমূল সাংসদদের অক্সিজেন। তবে শুধু দিল্লীতে নয়, ভাষা নিয়ে বাংলার সব আন্দোলনেও আঁকড়ে থাকা রবীন্দ্রনাথকেই। বৃহস্পতিবার এই ভাষার শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রয়াণ দিবসে এ যেন এক বাঙালি প্রশাসকের মাতৃ ভাষা রক্ষার শপথ, নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “বাংলার উপর ভাষা সন্ত্রাস মানব না।” ঝাড়গ্রামে আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে আমাদের প্রাণের ঠাকুরকে জানাই আমার অন্তরের শ্রদ্ধা ও প্রণাম। বছরের প্রতিটি দিনে, প্রতিটি মূহূর্তে তিনি আমাদের ঘিরে রয়েছেন। বিশেষত, আজ শুধু বাংলা ভাষা বলার জন্য বাঙালির ওপর যখন সন্ত্রাস নেমে আসছে, তখন তিনিই আমাদের লড়াই করার প্রেরণা। রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার সর্বকালীন শ্রেষ্ঠ প্রতিভা। আজ যখন তাঁর ভাষার ওপর আক্রমণ নেমেছে, তখন আমরা দু:খিত, ব্যথিত, মর্মাহত। “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির”, সেই ভারতের নির্মাণে রবীন্দ্রনাথ-ই আমাদের ধ্রুবতারা। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন থেকে তাঁকে প্রণাম জানিয়ে, আমরা ভাষা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছি। যতদিন এই বাংলা-বিদ্বেষ চলবে – আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো। আর এই লড়াইয়ের পথে রবীন্দ্রনাথই আমাদের পথনির্দেশক। আজ আমাদের নতুন করে শপথ নেবার দিন – ‘বাংলার ওপর ভাষা সন্ত্রাস মানবো না’।” বোলপুর অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের মাটি থেকে নিজে পায়ে হেঁটে সেই আন্দোলনের সূচনা করেছেন তিনি, ঝাড়গ্রামেও একইভাবে ভাষা রক্ষার ডাক দেন তিনি।