তিন বিদেশির গোলে ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল

পঞ্জাব এফসিকে হেলায় হারিয়ে সুপার কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। তিন বিদেশির গোলেই বাজিমাত লাল-হলুদের। ৩-১ গোলে জয়ী ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গিয়েছিল অস্কারের(Oscar Bruzon) মুখে। সেই কারণটা মাঠে নেমে ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিলেন কেভিন সিবিলে(Cavin) থেকে ক্রেসপো(Saul Crespo), মিগুয়েলরা। প্রতিপক্ষ শিবিরের দুই সেরা ডিফেন্ডার নেই। সেই সুযোগটা প্রথম থেকেই কাজে লাগানো শুরু করেছিল লাল-হলুদ ফুটবলাররা। ম্যাচের ১২ মিনিটেই প্রথম সাফল্য। মিগুয়েলের বাড়ানো লং বল। রশিদের জোরালো শটে ১২ মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় লাল-হলুদ ব্রিগেড। সেই থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়ানো শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। প্রতিদিনের চেনা ছক ভেঙে এদিন আবার শুরু থেকে হিরোশিকে মাঠে নামিয়েছিলেন অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon)। তিনি আক্রমণে গেলেও সেভাবে অবশ্য খুব একটা কিছু করতে পারেনি। বরং ম্যাচের বয়স যখন আধ ঘন্টা পেড়িয়েছে সেই সময় বিপিনের ভুলেই পেনাল্টি পেয়ে যায় পঞ্জাব এফসি(Punjab Fc)। র্যামিরেজ যা জালে জড়াতে ভুল করেননি। তবে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) এদিন দমে যাওয়ার দল ছিল না। বরং সেই সময় থেকে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ে। কর্ণার আদায় করে নেয় ইস্টবেঙ্গল। এবার লাল-হলুদের হয়ে গোলদাতা কেভিন সিবিলে(Cavin)। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ফের এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। এই সময়ই আবার খারাপ আচরণের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ডাগ আউট ছাড়তে হয় অস্কার ব্রুজোঁকে। যদিও ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গলের সেটা কোনও বাধা হয়নি। বিরতির পর থেকে পঞ্জাব আক্রমণের চেষ্টা করলেও, বড্ড অগোছালো ফুটবলটাই খেলছিল তারা। সেখানেই মিগুয়েল(Miguel Ferrierra), ক্রেসপোদের(Saul Crespo), বিপিনদের(Bipin Singh) ভয়ঙ্কর আক্রমণ পঞ্জাবের রক্ষণে ক্রমাগত চাপ বাড়াতে শুরু করেছিল। এরই মাঝে অবশ্য হিরোশি সহ মিগুয়েল একাধিক সুযোগ পান, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি। ৭১ মিনিটের মাথায় বক্সে ফের আক্রমণ ইস্টবেঙ্গলের। এবারও বল বাড়ান সেই মিগুয়েল। সেখানেই সওল ক্রেসপোর জোরালো শট। পঞ্জাব গোলরক্ষক এবারও ব্যর্থ। ম্যাচের ভবিষ্যৎ তখনই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। লাল-হলুদ গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারে কিনা সেটাই দেখার ছিল। হিরোশি, এডমুন্ড, বিষ্ণুরা সুযোগ পেলেও সেই কাজটা আর করতে পারেনি। ফাইনালে পৌঁছনোর পরই যেন লাল-হলুদ(Eastbengal) ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।
তৈরি ইস্টবেঙ্গল, শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলতে চান অস্কার

বৃহস্পতিবার সুপার কাপের(Super Cup) সেমিফাইনালে পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। প্রতিপক্ষ শিবিরের দুজন প্রধান ডিফেন্ডারই নেই। আর সেটাই সুযোগটাই সেমিফাইনালের মঞ্চে কাজে লাগাতে চাইছে লাল-হলুদ(Eastbengal) ব্রিগেড। বরং শুরু থেকেই কাউন্ডটার অ্যাটাকের কথা শোনা গেল ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁর মুখে। বছর শেষের আগে ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) হাতে ট্রফি দেখাই এখন তাঁর কাছে অন্যতম প্রধঝান লক্ষ্য। শেষপর্যন্ত কী হয় সেটা তো সময়ই বলবে। শেষবারের আইএসএলের(ISL) সাক্ষাতে দুবারই জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। এই ম্যাচের আগে সেটা যেমন তাদের আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে। তেমনি প্রতিপক্ষের দুর্বলতা সম্বন্ধেও বেশ ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল ইস্টবেঙ্গল থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। সেই কারণে শুরু থেকই তো কাউন্টার অ্যাটাকে যেতে চাইছেন অস্কার(Oscar Bruzon)। তবে তাঁর প্রধান নজর হল ম্যাচের দখল নিজেদের হাতে রাখা। ম্যাচের শুরু থেকেই যাতে লাল-হলুদ ফুটবলাররা ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রাখতে পারে সেই দিকেই এখন প্রধান নজর ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) কোচের। জয় গুপ্তার(Jay Gupta) চোট থাকলেও এখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনেও তিনিই এসেছিলেন। কার্ড সমস্যার জন্য পঞ্জাবের সেরা দুই স্টপার নেই। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলতে চাইছে ইস্টবেঙ্গল। রশিদ(Mohammed Rashid), হামিদদের(Hamid Ahadad) নিয়ে সেরকমই ছক কষছেন লাল-হলুদ কোচ। তবে এই ম্যাচেও বোধহয় প্রথম একাদশে দেখার সম্ভাবনা নেই হিরোশি ইবুসুকিকে(Hiroshi Ibusuki)। তাঁকে রিজার্ভেই রাখছেন তিনি। সেমিফাইনালের আগে অবশ্য নিজের দল নিয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী কোচ অস্কার(Oscar Bruzon)। তাঁর দল শারীরিক, মানসিক এবং ট্যাকটিকাল দিক থেকে একেবারে প্রস্তুত বলেই জানাচ্ছেন কোচ। একইসঙ্গে আবার একটু সতর্কও। প্রতিপক্ষের সেরা দুটো স্টপার না থাকলেও, সেখানে নতুন ফুটবলাররা খেলবেন। তবে লাল-হলুদ যে প্রস্তুত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।