ভারত-পাক সংঘর্ষে বাবা-মা হারানো ২২ জন শিশুর দায়িত্ব নিলেন রাহুল গান্ধী

গত ২২শে এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ের বৈসরণ ভ্যালিতে জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন ২৬জন নিরীহ পর্যটক। তারই প্রত্যাঘাতে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায় ভারত সরকার। পাল্টা পাকিস্তানের দিক থেকেও ধেয়ে আসে একাধিক গোলাবর্ষণ। যদিও অপারেশন সিঁদুরের আগে থেকেই পাকিস্তানি সেনা-সীমান্তে গোলাবর্ষণ চলছিল। কিন্তু ৭ মে-র পর তা আরও বেড়ে যায়। ৮ থেকে ১০ মে পর্যন্ত জম্মু অঞ্চলে, বিশেষ করে পুঞ্চে ভারী গোলাবর্ষণ করে পাকসেনা। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালানো হয়। এই হামলায় ২৭ জন নিহত ও ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। পুঞ্চ জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। সেখানে ১৬ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। গোলাবর্ষণে স্থানীয় লোকজন তাদের বাড়িঘর ছেড়ে সরকারি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। জম্মু ও কাশ্মীরে পাক-সেনার গোলাবর্ষণের ফলে অনেক শিশুই পিতৃমাতৃহীন হয়ে পড়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনের রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়। এইসব অনাথ হয়ে যাওয়া শিশুদের ভরণপোষণ এবং পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যেতে এবার এগিয়ে এলেন কংগ্রেস নেতা রাহুর গান্ধী। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বাবা-মা হারানো ২২জন শিশুকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অপারেশন সিঁদুরের পর জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চে গিয়ে ওখানকার নিহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন রাহুল গান্ধী। তিনি সেসময় তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, “‘আমি আপনাদের জন্য গর্বিত। এখন আপনারা ভয় পাচ্ছেন, তবে আতঙ্কিত হবেন না, সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আপনারা আরও কঠোরভাবে পড়াশোনা করবেন। আপনারা মন দিয়ে খেলবেন এবং স্কুলে প্রচুর বন্ধু তৈরি করবেন।” জম্মু ও কাশ্মীরের কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কারা জানিয়েছেন, “এই শিশুদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য প্রথম কিস্তির টাকা বুধবার দেওয়া হবে। সন্তানদের গ্র্যাজুয়েশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। রাহুল গান্ধী মে মাসে পুঞ্চে গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের এই ক্ষতিগ্রস্থ শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করতে বলেছিলেন। এর পরে একটি সমীক্ষা করা হয় এবং সরকারি নথি যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়। রাহুল গান্ধী পুঞ্চের ক্রাইস্ট পাবলিক স্কুলেও গিয়েছিলেন, সেখানে শিশুদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন রাহুল গান্ধী।”