বারাসত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার চিকিৎসক

হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীনই এক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল বারাসত মেডিকেল কলেজের (Barasat Medical College) তৃতীয় বর্ষের চিকিৎসক দীননাথ কুমারের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত এই চিকিৎসক দীননাথ কুমার আরজি কর মেডিকেল কলেজের (RG Kar Movement) আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন। নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির (Child Molestation) অভিযোগে বৃহস্পতিবার বারাসাত মেডিকেল কলেজ থেকে তাকে গ্রেফতার করল বারাসাত থানার পুলিশ। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে খবর, গত বুধবার অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন করার সময় অভিযোগকারী ওই নাবালিকার প্রাথমিক চিকিৎসা করবার সুযোগে তার শ্লীলতাহানি করে দীননাথ কুমার। এরপর এই ঘটনার কথা নাবালিকা তার পরিবারকে জানালে, পরিবারের তরফ থেকে ওই পিজিটি চিকিৎসক দীননাথ কুমারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে নাবালিকার পরিবার। দীননাথ কুমার বিহারের বাসিন্দা। বারাসাত মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। বারাসাত মেডিকেল কলেজের বয়েজ হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করতেন তিনি। এমনই জানান বারাসাত মেডিকেল কলেজের অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্ট সুব্রত মন্ডল। দীননাথ কুমারের গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করেছেন এবং তদন্ত করে দেখছে।” পুরো বিষয়টিই যেহেতু আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে তাই এই বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি। তবে তদন্তে প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং দোষী শাস্তি পান বলেই জানান তিনি। গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত চিকিৎসক দীননাথ কুমারকে। শুক্রবার অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ৩৫১(২)/৭৪/৭৬/বিএনএস এবং ৮ পক্সো ধারায় মামলার রুজ করে আদালতে পেশ করা হবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, মৃত মহিলার টাকা ঢুকছে অন্য এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে

রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল বাদুড়িয়া ব্লকের শায়েস্তানগর ২ নম্বর অঞ্চলের অন্তর্গত গন্ধর্বপুর এলাকায়।বিথীকা দাস নামে এক মহিলার লক্ষ্মী ভাণ্ডারের টাকা ৪৬ মাস ধরে ঢুকছে দেবাশীষ বাছার নামে এক পুরুষের একাউন্টে। আর সেই ব্যক্তি দিব্যি টাকা তুলেও নিচ্ছেন। বিথীকা দাস নামে এক মহিলা যার বাড়ি বাদুড়িয়া ব্লকের শায়েস্তানগর ২ নম্বর অঞ্চলের অন্তর্গত গন্ধর্বপুর এলাকায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে তিনি তাঁর নাম নথিভুক্ত করেন। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস কেটে গেলেও তিনি টাকা পাচ্ছেন না। এভাবে কয়েক মাস কেটে যাওয়ার পরে তিনি বাদুড়িয়া বিডিও অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করেন এবং তখন দেখেন যে তার নাম লক্ষী ভাণ্ডারে উঠে আছে এবং তার নামে প্রতিমাসে টাকাও ঢুকছে। তিনি তখন জানতে পারেন তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া টাকা ঢুকছে দেবাশীষ বাছার নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে। শুধুমাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্টের একটা সংখ্যার ভুলে এই ঘটনা ঘটেছে। বিথীকা দাসের অ্যাকাউন্টের শেষে ৫ কিন্তু ভুলবশত অ্যাকাউন্টের শেষে সংখ্যা দেওয়া রয়েছে ৬। আর এই নিয়েই যত সমস্যা। এই অ্যাকাউন্ট নাম্বার পাশের গ্রামের দেবাশীষ বাছার নামে এক ব্যক্তির। মহিলা টাকা প্রতি মাসে ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাচ্ছে। আর ওই ব্যক্তি চুপচাপ সেই টাকা তুলেও নিচ্ছেন ব্যাংকে থেকে। বিথীকা দাস জানার পর বিডিও অফিসে দুবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। এমনকি দীপিকা দাসের মৃত্যু হয়েছে গত জুন মাসে। তারপরেও তাঁর লক্ষীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছে দেবাশীষ বাছারের অ্যাকাউন্টে। আর সেই মৃত মানুষের টাকাও তুলে নিলেন দেবাশীষ বাবু। মৃত বিথীকা দাসের স্বামী জানান, তাঁর স্ত্রীর প্রাপ্য টাকা তাঁকে দেওয়া হোক এবং তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে যে টাকা ঢুকেছে সেই টাকা সরকারকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। যদিও যাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সেই দেবাশীষ বাছার সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রথমে পুরো বিষয়টিই অস্বীকার করলেও অবশেষে স্বীকার করেন যে, তিনি ফাল্গুন মাসে টাকা ফিরিয়ে দেবেন। আর এই বিষয়ে বাদুড়িয়ার ব্লক আধিকারিক পার্থ হাজরা জানান, তাঁর এই ব্যাপারে কিছু জানা নেই, তিনি সংবাদমাধ্যমের মারফত পুরো ঘটনাটি শুনলেন। এরকম কোনও ঘটনা ঘটে থাকলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন। এখন দেখার এই সমস্যার আদৌ কোনও সমাধান হয় কী না।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কটুক্তি, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের

সামাজ মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে কটূক্তি করায় কৃষি কর্মাধ্যক্ষ ও অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মী। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই অঞ্চল সভাপতি। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের রনঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকার। রনঘাট অঞ্চল যুব তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সম্রাট মণ্ডলের গত রবিবার রাতে সোস্যাল সাইটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেই ভিডিওতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কটুক্তি করে একটি কমেন্ট করেন বাগদার আঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ গৌতম মণ্ডল। এই বিষয়টি নজরে আসতেই রনঘাট অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ডহরপোতা গ্রামের বাসিন্দা শুভেন্দু বিশ্বাস মঙ্গলবার রাতে বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অঞ্চল সভাপতি গৌতম মন্ডল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে যে কুরুচিকর মন্তব্য করেছে তাতে আমাদের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। আমি ইতিমধ্যেই বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি । আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অঞ্চল সভাপতিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, না হলে প্রশাসনিক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি গৌতম মণ্ডল জানিয়েছেন, “আমি ১৪ বছরের অঞ্চল সভাপতি। এই ধরনের পোস্ট করব এটা অভাবনীয় এবং অকল্পনীয়। আমার মোবাইল বিভিন্ন লোক ব্যবহার করে। আমার মোবাইল ব্যবহার করে যদি কেউ বা কারা এই ধরনের মন্তব্য করে থাকে তাহলে আমি দুঃখিত, ক্ষমাপ্রার্থী। পরিকল্পিতভাবে আমাকে অপরাধী সাজানোর জন্য আমার মোবাইল থেকে এসব পোস্ট করা হয়েছে।”