রেকর্ড গড়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দশ নম্বর বার শপথ নিচ্ছেন নীতিশ

বিহারের(Bihar) রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন নীতিশ কুমার(Nitish Kumar)। শুধুমাত্র বিহারেই নয়, গোটা ভারতের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশিবার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতিশ কুমার(Nitish Kumar)। বুধবারই তাঁকে সর্ব সম্মতিক্রমে এনডিএ-র(NDA) নেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হল। আগামী বৃহস্পতিবারই ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে চলেছেন নীতিশ কুমার। বুধবার রাজ্যপালের কাছে নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দিলেন নীতিশ(Nitish Kumar)। এসআইআর(SIR) পরবর্তী প্রথম ভোট হয়েছে বিহারে। সমস্ত এক্সিট পোল থেকে হিসাব নিকাশকে ভুল প্রমাণ করে বিহারে(Bihar) ফের একবার ক্যমতায় এসেছে এনডিএ(NDA) জোট। তাও আবার ঐতিহাসিক ফলাফল হয়েছে তাদের। এনডিএ জোট এবার ২০০-এর ওপর আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সেখানে আবার জোট শরিক হিসাবে এনডিএ-র মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে বিজেপি(BJP)। এরপর থেকে আরেকটা নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। এনডিএ জোট থেকে কী এবার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছে। এমনই নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সেই নীতিশ কুমারের(Nitish Kumar) ওপরই আস্থা রাখল এনডিএ জোট। বুধবারই সর্ব সম্মতিক্রমে বিহারে এনডিএ-র নেতা হিসাবে নীতিশ কুমারকেই বেছে নেওয়া হল। এই নিয়ে দশবার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে চলেছেন নীতিশ কুমার। যা এখনও পর্যন্ত ভারতবর্ষের রাজনীতিতে এর আগে কোথাও দেখা যায়নি। সেটাই এবার বিহারে দেখা যেতে চলেছে। ভারতীয় রাজনীতিতে এবার এক নতুন ইসিহাস লিখলেন নীতিশ কুমার। বুধবারই রাজ্যপালের কাছে নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন নীতিশ। বৃহস্পতিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহন করবেন নীতিশ কুমার।
“এটা বিহারের সমীরকণ, বাংলার সঙ্গে কোনওরকম যোগ নেই”: সাফ বার্তা কুণালের

বিহারে(Bihar Election) গেরুয়া ঝড়। যে এসআইআর নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য জুড়ে এত বিতর্ক, সেই এসআইএর(SIR) পরবর্তী প্রথম নির্বাচন বিহারে। সেখানেই কার্যত ইতিহাস তৈরি করেছে এনডিএ জোট। ২০০-এর ওপর আসন পেয়ে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপির(BJP) এনডিএ(NDA) জোট। তারপর থেকেই স্বাভাবিকভাবে বঙ্গ বিজেপি নেতারাও সুর চড়াতে শুরু করে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেই এবার আসরে তৃণমূল(TMC) নেতৃত্বও। বিহারের ফলাফল যে বাংলার ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। এসআইএর পরবর্তী বিহারের ফলাফল নিয়ে বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বরা নানান কথাবার্তা বললেও, বাংলায় এমনটা হওয়ার কোনওরকম সম্ভাবনাই দেখছেন না তৃণমূলের(TMC) নেতৃত্বরা। বিজেপির নেতারা যখন বলছেন অঙ্গ, কলিঙ্গ হয়ে গিয়েছে এবার বঙ্গের পালা। সেই সময় পাল্টা দিতে পিছিয়ে নেই তৃণমূল নেতারাও। কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh) স্পষ্ট বার্তা, “এটা বিহারের সমীরকণ। বাংলার সঙ্গে কোনওরকম যোগ নেই। বাংলায় কোনওরকম প্রভাব পড়বে না। বাংলায় ঐক্য, উন্নয়ন, সম্প্রীতি, অধিকার, আত্মসম্মান ফ্যাক্টর। ২৫০+ ভোট নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আবার মুখ্যমন্ত্রী”। তিনি আরও জানিয়েছেন, “বিহার দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি দিয়ে বিজেপির যে নেতারা বিবৃতি দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন, তারা অকারণ সময় নষ্ট করছেন। বাংলার মানুষের অধিকার, আত্মসম্মানকে আঘাত করে শুধু অন্য রাজ্য দেখিয়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। এখানে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা মতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভরসা। বিহার সহ বহু রাজ্যও তাঁর উন্নয়নের মডেলও ফলো করছে। বাংলার মানুষ সার্বিক স্বার্থেই তৃণমূলকে সমর্থণ করেন এবং করবেন”। গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাতে শুরু হয়েছে এসআইআর। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিজেপি নেতারা সুর চড়াচ্ছেন। অনেকেই বলছেন ভোটার তালিকা থেকে নাকি প্রায় দেড় কোটির মতো ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে। তবে পাল্টা প্রতিবাদে পথে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। আগামী ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিহার নির্বাচনের ফলাফলকে সামনে রেখে বিজেপি যেমন ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন। তেমনই পাল্টা ছক প্রস্তুত করতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূলও। রাজনৈতিক চাপান উতোর যে বাড়তে শুরু করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিহারে গেরুয়া ঝড়, বাংলায় হুঙ্কার শুভেন্দু – সুকান্তদের

সমস্ত পূর্বাভাস, আশঙ্কাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে বিহারে(Bihar Election) ফের গেরুয়া ঝড়। বিপুলভাবে জিতে এবার বিহারে সরকার গড়ার পথে এনডিএ-জোট(NDA)। এসআইআর পরবর্তী বিহার ভোটেই কার্যত বাজিমাত বিজেপি(BJP) এবং নীতিশ কুমারের(Nitish Kumar) জেডিইউ জোটের। এই ফল দেখার পরই হুঙ্কার বঙ্গ বিজেপির দুই প্রধান নেতা শুভেন্দু অধিকারি(Suvendu Adhikari) এবং সুকান্ত মজুমদারের(Sukanta Majundar)। বিহার, উড়িষ্যার পর এবং বাংলাতেও নাকি হতে চলেছে পালা বদল। আর এই নিয়েই ফের একবার উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। এসআইআর(SIR) এবারের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার প্রতিটা রাজনৈতিক দল গুলোর। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বঙ্গ রাজনীততে শুরু হয়ে গিয়েছে চাপানউতোর। পশ্চিমবঙ্গের আগেই বিহারে হয়েছিল এসআইআর। সেই নিয়েও কম সুর চড়ায়নি বিজেপি(BJP) বিরোধী দলগুলো। তাই এই বিহার নির্বাচন যে সকলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসআইআর পরবর্তী বিহার(Bihar Election) নির্বাচনে কার্যত ইতিহাস গড়তে চলেছে এনডিএ জোট। জেডিইউয়ের থেকে বেশি আসনে জয় পয়েছে বিজেপি। এটা দেখার পরই শুভেন্দু অধিকারির(Suvendu Adhikari) রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে বিরাট বার্তা। শুভেন্দু অধিকারি বলেছেন, “বিহারের পর এবার বাংলা। এসআইআরের পর স্বচ্ছ ভোটার তালিকায় ভোট হবে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম যেটা করেছে, ২০২৬ সালে গোটা বাংলায় দেখা যাবে সেই ছবি”। শুধুমাত্র শুভেন্দু অধিকারি নয়, একইরকমভাবে সুর চড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সম্পাদক সুকান্ত মজুমদারও(Sukanta Majumdar)। তাঁর তো স্পষ্ট কথা, অঙ্গ, কলিঙ্গ হয়ে গিয়েছে, এবার পালা বঙ্গ জয়ের। তিনি বলেন, “অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ। অর্থাৎ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা। কলিঙ্গ মানে উড়িষ্যা জয় হয়ে গিয়েছে। অঙ্গ মানে বিহার জয় হয়ে গেল। এবার পালা বাংলার। বাংলার মানুষ নিশ্চই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। বিহারের মতো বাংলার মানুষও জঙ্গলরাজ থেকে মুক্তি পেতে চান”। এসআইআর পরবর্তী বিহারেই ছিল প্রথম নির্বাচন। সেখান এনডিএ জোট এবং বিজেপির এমন সাফল্য যে বঙ্গ বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন যোগাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আগামী ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে কী হয় সেটাই দেখার অপেক্ষায় সকলে।