বেলডাঙার পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা নরেন্দ্র মোদির

নতুন বছরে রেল প্রকল্পের উদ্বোধনে রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi)। আর সেখান থেকেই বেলডাঙার পরিস্থিতি নিয়ে এবার তৃণমূল(TMC) সরকারকে নিশানা করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে যেভাবে সাংবাদিক থেকে চিত্র সাংবাদিক নিগ্রহ হয়েছে তা নিয়েই সরব হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi)। সেখান থেকেই নরেন্দ্র মোদি বলেন, “একজন মহিলা সাংবাদিককে এভাবে মারা হল! তৃণমূলের গুন্ডারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এই পরিস্থিতি বিজেপি ছাড়া আর কে বদল করবে?” ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিককে খুন, তাঁদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে দিন দুই ধরে জ্বলছে বেলডাঙা(Beldanga)। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। রাস্তা, রেল অবরোধ। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কার্যত গণপ্রহারের শিকার হতে হয়েছে সাংবাদিক, চিত্রসাংবাদিকদের। তাঁরা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। বেলডাঙার পরিস্থিতির সঙ্গে একইসঙ্গে এদিন অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েও সরব হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘‘মালদহ-মুর্শিদাবাদে অনুপ্রবেশকারীরা দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করছে। মহিলা সাংবাদিকের উপর হামলা করা হয়েছে। তৃণমূলের এই অত্যাচার শেষ হবে একদিন, পতন ঘটবে। বাংলায় বিজেপি সরকার এলে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’’ নির্বাচনের দিন এখনও পর্যন্ত ঘোষণা হয়নি। কিন্তু দুই শিবিরের প্রচারসভা ঘিরে এখন থেকেই উত্তেজনার পারদ যে চড়তে শুরু করেছে তা বেশ স্পষ্ট।
“অর্থ বাধা হবে না” – বার্তা মোদির, পাল্টা তৃণমূলেরও

শনিবার তাহেরপুর দিয়েই কার্যত ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিলেন নরেন্দ্র মোদী(Narendra Modi)। সেখানেই তৃণমূলকে(TMC) উদ্দেশ্যে কৌশলী বার্তা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর। যদিও পাল্টা দিতে খুব একটা দেরী করেনি তৃণমূল কংগ্রেসও(TMC)। মোদির(Narendra Modi) সেই সভায় সাফ বার্তা, একবার সুযোগ দিন, বাংলার উন্নয়নে কোনওরকম বাধা থাকবে না। মোদির বৈঠকের কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা খোঁচা তৃণমূলেরও। তাদের মতে তৃণমূল নয়, বাংলাকে বঞ্চিত করছে কেন্দ্রের বিজেপি শাসিত সরকার। শনিবার তাহেরপুরে নরেন্দ্র মোদির(Narendra Modi) বৈঠক করার কথা ছিল। সেই মতো তিনি এলেও খারাপ আবহাওয়ার জন্য শেষপর্যন্ত তাঁর হেলিকপ্টার নামতে পারেননি। এরপরই দমদম বিমান বন্দরে ফিরে আসেন মোদী। সেই জায়গা থেকেই সকলকে অডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই নরেন্দ্র মোদি বলেন, “তৃণমূল মোদির বিরোধ করতে চাইলে, করুক। বিজেপির বিরোধ করতে চাইলে করুক। কিন্তু রাজ্যের উন্নয়ন কেন আটকাছে। একবার সুযোগ দিন, বাংলার উন্নয়নে অর্থ বাধা হবে না। দ্রুত উন্নয়ন হবে।” কিছুক্ষণের মধ্যেই এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও(TMC)। টিএমসির মুখপাত্র কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh) বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আপনি খালি হাতে এসেছেন। বাংলার টাকার আটকে রেখেছে কেন্দ্র। তৃণমূলের বিরোধিতা করুন, কিন্তু বাংলার বিরোধিতা করবেন না। বাংলার মানুষকে ভাতে মারছেন। মোদি মূল সমস্যাগুলি এড়িয়ে গিয়েছেন।” এদিন তাহেরপুরের বৈঠকে গিয়ে মতুয়াদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi)। জানিয়েছেন, সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের জোরেই মতুয়ারা এ দেশের নাগরিক। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মতুয়া ও নমশুদ্র সম্প্রদায়ের জন্য আরও অনেক কাজ হবে।
মোদির মুখে “বঙ্কিমদা”, নাম না করেই প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ মমতার

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়(Bankim Ch Chatterjee) ইস্যুতে এবার নাম না করেই নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee)। সংসদে অধিবেশন চলাকালীন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রকে(Bankim Ch Chatterjee) বঙ্কিম দা বলে সম্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi)। লোকসভার ভেতরে তো বটেই, এই নিয়ে বাইরেও প্রতিবাদে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার কোচবিহারের সভা থেকে নাম না করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কেমনভাবে এমজন মনীষিকে এভাবে সম্বোধন করতে পারেন তিনি সেই নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। এসআইআর আবহে এই মুহূর্তে তৃণমূলের(TMC) অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হল বাংলা ও বাঙালি। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দিকে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়কে(Bankim Ch Chatterjee) নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য যে বিজেপির অস্বস্তি খানিকটা হলেও বাড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কোচবিহারের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বললেন বঙ্কিমদা। যেন মনে হচ্ছে শ্যামদা, হরিদা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যিনি জাতীয় গান রচনা করেছিলেন, তাঁকে এইটুকু সম্মান দিলেন না! আপনাদের তো মাথা নিচু করে নাকখত দেওয়া উচিত জনগণের কাছে। তাতেও ক্ষমা হবে না”। বিজেপির এমন নানান মন্তব্য নিয়েই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি মঙ্গলবার সংসদের বাইরে তৃণমূলের সাংসদরা রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি হাতে নিয়ে মৌন প্রতিবাদও জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সামনেই শুরু হবে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। তার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র করা একটি মন্তব্যে সোরগোল পড়ে গেছে জাতীয় রাজনীতিতে। প্রধানমন্ত্রী শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগে স্পষ্টতই বার্তা দিয়েছেন, এই অধিবেশন চলাকালীন সংসদের ভিতর কোনও ধরনের নাটক বরদাস্ত করা হবে না। এবার প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, “সাধারণ মানুষের দাবি নিয়ে বিরোধীরা যদি সংসদে প্রশ্ন তোলে, সেটা কি নাটক?” এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিষেক এদিন নোটবন্দির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “নোটবন্দির সময় যখন সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে মারা হয়েছিল, তখনও তো তার দায় চাপানো হয়েছিল অন্যদের উপর। সরকার তাহলে কীসের দায় নেবে?” পাশাপাশি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিস্ফোরণ, হামলা ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মতো ঘটনা বেড়ে যাওয়ায়— এ বিষয়ে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “দেশে যে এত এত বিস্ফোরণ, হামলার ঘটনা ঘটছে, তার দায় কার?” একই সঙ্গে বাংলায় SIR চলাকালীন ৪০ জনের উপর মানুষের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এত মৃত্যুর পরেও দায় এড়াতে চাইছে কেন্দ্র।” ২৬শে বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজের সংসদীয় এলাকা ডায়মন্ড হারবারে ‘সেবাশ্রয় ২’ প্রকল্পের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ কেন্দ্রীয় সরকারকে দ্বৈতহীন ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট দাবি, “আমরা SIR প্রক্রিয়ার বিরোধী নই। সময় নিয়ে, যথাযথ পদ্ধতি মেনে SIR পরিচালনা করুক নির্বাচন কমিশন।” এদিন SIR প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিগত প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,”বিএলও(BLO)দের নির্দিষ্ট কোনও ট্রেনিং নেই। বিএলও অ্যাপ যথাযথ কাজ করছে না। অমানুসিক চাপে কাজ করতে হচ্ছে বিএলওদের।” সোমবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনের দামামাও বাজিয়ে দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জোর গলায় বলেন, “বাংলার মানুষ সব দেখছে। আগামী নির্বাচন মানুষ বিজেপিকে তার যোগ্য জবাব দেবে।” পাশাপাশি রাজ্যে SIR-এর ফলে তৃণমূলের আসন সংখ্যা বাড়বে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল আরও বাড়াতে এটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কৌশল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। কেননা বাংলা বিজেপি এক ইঞ্চি জমিও যে ছেড়ে দিতে রাজি নয় তৃণমূল, তা আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেই স্পষ্ট।
ডিসেম্বরের শেষেই রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী!

ছাব্বিশের নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসছে। এবার ঘর গোছাতে শুরু করেছে বিজেপি(BJP)। সবকিছু ঠিকঠাক চললে ডিসেম্বরের শেষেই এবার রাজ্যে আসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী(Narendra Modi)। তবে কোথায় তিনি সবা করবেন তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সেভাবে কোনওরকম নিশ্চয়তা নেই। তবে শোনাযাচ্চে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেই নাকি রাজ্যে আসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী(Narendra Modi)। আবার ডিসেম্বরের শেষ থেকেই অমিত শাহের(Amit Shah) আসার সম্ভাবনা। আগামী ১ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলবে। এই সময়ের মধ্যে কীভাবে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা বঙ্গ সফরে আসবেন, তা নিয়ে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে সূত্রের খবর, এর মাঝে সপ্তাহান্তে মোদির সফরের তোড়জোড় শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। ১৩ বা ১৪ ডিসেম্বর, শনি ও রবিবার। তাই এই সময়টায় বঙ্গে মোদির(Narendra Modi) সভার আয়োজনে আগ্রহী রাজ্য নেতৃত্ব। সূত্রের আরও খবর, আরামবাগে প্রথম জনসভার পরিকল্পনা চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর নিশ্চিত করলে তবে ওই দু’দিনের মধ্যে একদিন প্রধানমন্ত্রীর সভা হতে পারে।
দুবরাজপুরে মিলল ‘নরেন্দ্র মোদি’ ও তাঁর দিদি ‘মমতা’ — কাকতালীয় নামেই শহরজুড়ে হাসির রোল

দুবরাজপুরে খোঁজ মিলেছে এমন এক ভাই-বোনের, যাদের নাম শুনে অবাক হচ্ছেন সবাই। ভাইয়ের নাম নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi), আর দিদির নাম মমতা আগরওয়াল মোদি(Mamata Agarwal Modi)। ফলে এলাকায় এখন মজা করে সকলে বলছেন—“যা রাজনৈতিকভাবে সম্ভব নয়, তা দুবরাজপুরে সত্যি হয়েছে!” দুবরাজপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সি নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi) পেশায় মুদিখানার ব্যবসায়ী। তিন বোনের মধ্যে এক দিদির নাম মমতা(Mamata)। তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আসতেই শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ও হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, চায়ের দোকান বা বাজারে গেলেই নরেন্দ্র মোদিকে মজা করে ‘প্রধানমন্ত্রী’ বলে ডাকা হয়। দোকানেও লোকজন তাঁকে বসতে দেয়, বলেন—“নরেন্দ্র মোদি এসেছেন, জায়গা দিন।” নরেন্দ্র মোদির(Narendra Modi) মতে, নামটি তাঁর জেঠু রেখেছিলেন বহু বছর আগে, যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী কেউই আলোচনায় আসেননি। সম্পূর্ণ কাকতালীয় এই নামের মিল এখন তাঁকে এলাকায় জনপ্রিয় করে তুলেছে। দিদি-ভাইয়ের সম্পর্কও বেশ ঘনিষ্ঠ। মাঝে মাঝে ঝগড়া হলেও উৎসব-অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময় আর উপহার দেওয়া-নেওয়া লেগেই থাকে। দোকানের কর্মচারীদের কাছেও নরেন্দ্র মোদি খুব প্রিয়। তাঁরা বলেন, এই ‘নরেন্দ্র মোদি’ যেমন সৎ ও হাসিখুশি মানুষ, তেমনই সবার আপন। তাই এলাকার মানুষ রসিকতার ছলে বলেন—“দুবরাজপুরেই দেখা মিলল আসল মমতা আর মোদির।”
নরেন্দ্র মোদীর অবসর জল্পনায় মুখ খুললেন মোহন ভাগবত

বেশ কিছু মাস ধরেই প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর অবসর নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ৭৫-এ পা দেবেন মোদী। তারপরই কি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন তিনি? বেশ কিছু মাস ধরে এই জল্পনাই ঘুরপাক খাচ্ছিল দিল্লির রাজনীতিতে। এমনকী বিরোধীরাও সরব হয়েছিল এই ইস্যুতে। অনেকেই যুক্তি দেখাচ্ছিলেন, বিজেপি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের মতাদর্শে পরিচালিত। দুই সংগঠনেই অলিখিত নাকি নিয়ম রয়েছে যে বয়স ৭৫ হলে, পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। যেমনটা নাকি লালকৃষ্ণ আদবাণী, মুরলী মনোহর জোশীর ক্ষেত্রেও হয়েছিল। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৭৫ বছর বয়সে পা দিলে অবসর গ্রহণ করবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি বরাবরই না বলে এসেছে। তাদের যুক্তি ছিল, ৮০ বছর বয়সে জিতন রাম মাঝিও তো মন্ত্রিত্ব সামলাচ্ছেন। যদিও ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহই বলেছিলেন, ৭৫ বছর বয়স হলে দল আর কাউকেই প্রার্থী পদের জন্য নির্বাচন করবেন না। সেক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরে নরেন্দ্র মোদীর ৭৫ বছর পূর্ণ হলে, তিনি কি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন— এই নিয়েই বিতর্ক ক্রমশই দানা বাঁধছিল। অবশেষে এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। গত বৃহস্পতিবার আরএসএসের শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনওই বলিনি আমি অবসর নেব, কিংবা অন্য কেউ ৭৫-এ পড়লেই সরে দাঁড়াবে। আমরা সেটাই করব যেটা সংঘ বলবে। সংঘে আমরা স্বয়ংসেবক। যে কাজ আমাদের দেওয়া হবে, চাই বা না চাই সেটা করে যেতে হবে।” এদিন মুখে নরেন্দ্র মোদীর নাম না নিলেও তাঁর এই বার্তা যে সে ইঙ্গিতই দেয়, তা স্পষ্ট। পাশাপাশি তিনি এও জানান যে, সংঘ যদি তাঁকে কাজে লাগাতে চান, তাহলে ৮০ বছর বয়সেও তা তিনি পালন করতে প্রস্তুত। যদিও এই মোহন ভাগবত-ই গত জুলাই মাসে নাগপুরের একটি সভায় বলেছিলেন, “যখন ৭৫ বছর বয়সে আপনাকে কেউ অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে অভিনন্দন জানাতে আসবে, তখনই বুঝে যাবেন এবার আপনাকে থামতে হবে। অন্যের জন্য কাজের জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।” যদিও গত বৃহস্পতিবার আরএসএসের অনুষ্ঠানে নিজের সেই বক্তব্যেরও স্ববিরোধিতা করলেন, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষক মহল।
পুজোর আগেই আবারও বাংলায় আসার সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর, আসছেন শাহও

গত সপ্তাহেই মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধন করতে বঙ্গ সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই সরকারি প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি দমদমে রাজনৈতিক সভাও করেন তিনি। আবারও পুজোর আগেই নরেন্দ্র মোদীর বাংলায় আসার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও পুজোর আগেই দু বার বঙ্গ সফর করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। অতএব ২৬শে বিধানসভা ভোটকে যে পাখির চোখ করতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, তা স্পষ্ট। গত সপ্তাহে দমদমে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ সভা থেকে তৃণমূলকে সরাসরি নিশানা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূলের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতিকে সামনে রেখে তাদের উৎখাতের জন্য বঙ্গবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাহাত্ম্যকে তুলে ধরে নতুন বাংলা গড়ার আহ্বান জানান মোদী। তাঁর কথায় উঠে আসে বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’র সেই জনপ্রিয় সংলাপ ‘দাদা, আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম’। সবকিছু ঠিক থাকলে পুজোর আগেই অর্থাৎ আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বঙ্গ সফরে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। ওই নদিয়ার নবদ্বীপে একটি প্রশাসনিক সভার পাশাপাশি রাজনৈতিক সভাও করার কথা তাঁর। যদিও মোদীর বঙ্গ সফরের আগেই বাংলায় জোড়া সভা করার কথা অমিত শাহর। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর বিজেপির ‘পঞ্চায়েতি রাজ সম্মেলন’ হওয়ার কথা। সেখানেই প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা অমিত শাহর। যদিও কোথায় এই সভা হবে তা এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। কেননা ১১ হাজার দলীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে একসঙ্গে কোথায় জায়গা দেওয়া হবে, তা নিয়ে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে এখনও আলোচনা চলছে। তবে এই সভা ছাড়াও পুজোর আগে আরও একবার বাংলায় আসবেন অমিত শাহ। মহালয়ার পরের দিন, অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোর উদ্বোধন করার কথা তাঁর। বিজেপি কাউন্সিল সজল ঘোষের পুজো বলে পরিচিত এটি। যদিও এই পুজোর উদ্বোধনে আগেও এসেছেন অমিত শাহ। ওইদিনই বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সাংস্কৃতিক মঞ্চ আয়োজিত দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে অংশ নেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। দু’বছর পরে ওই পুজোর আবার আয়োজন হচ্ছে ইজেডসিসিতে। সব মিলিয়ে বাংলায় বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসবে ততই বিজেপির কেন্দ্রীয় যে পশ্চিমবঙ্গকে হোম টাউন বানিয়ে ফেলবে, সে ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। কেননা বছর ঘুরলেই বঙ্গে বিধানসভা ভোট। যদিও তার আগেই রয়েছে বিহারের নির্বাচন। অতএব বিহারের নির্বাচন মিটলে যে বাংলায় বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের যাতায়াত আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। কেননা বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জ দিতে যে মরিয়া বিজেপি তা মোদী-শাহর ঘন ঘন বঙ্গ সফর থেকেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরে কুণাল ঘোষের পাঁচ প্রশ্নবাণ

শুক্রবার রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন দমদম বিমানবন্দর থেকে প্রথমে নবনির্মিত যশোর রোড মেট্রো স্টেশনে পৌঁছন তিনি। ইয়েলো লাইনের (নোয়াপাড়া-বারাসত) নোয়াপাড়া থেকে জয়হিন্দ বিমানবন্দর পর্যন্ত রুটে মেট্রো চলাচলের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। এখান থেকেই ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে অরেঞ্জ লাইনের (নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর) হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্টেশন (রুবি) থেকে বেলেঘাটা স্টেশন এবং গ্রিন লাইনের (সেক্টর ফাইভ-হাওড়া ময়দান) এসপ্ল্যানেড স্টেশন থেকে শিয়ালদা স্টেশন মেট্রো চলাচলের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মোদি। তারপর যশোর রোড মেট্রো স্টেশন থেকে দমদম সেন্ট্রাল জেলের মাঠে সভাস্থলের দিকে রওনা দেয় প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। বঙ্গ সফরে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে মোদির। দমদম সেন্ট্রাল জেল মাঠের সভাস্থল থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। শিলান্যাস করেন 6 লেনের এলিভেটেড কোনা এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের। তারপর দমদমে দলীয় সমাবেশ করেন মোদী৷ প্রধানমন্ত্রী বাংলায় পা রাখতেই তাঁর উদ্দেশ্যে সরাসরি পাঁচটি তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রূপায়ন করা প্রকল্পের উদ্বোধনে এসেছেন। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা যত না, তার চেয়েও বেশি রয়েছে রাজ্য সরকারের ভূমিকা। পাশাপাশি তিনি ৫টি প্রশ্নও ছুঁড়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে। প্রথমত, কোন অধিকারের বলে মোদী সরকার সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে যাচ্ছেন, যেখানে বিজেপির নিজেদের একাধিক নেতা-মন্ত্রী অপরাধমূলক কাজে অভিযুক্ত। তাছাড়া সিবিআই ও ইডিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ব্যবহার করে মোদী সরকার বিরোধীদের উপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কুণাল ঘোষ। দ্বিতীয়ত, এসআইআর(SIR)-এর নাম করে সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে যেভাবে বাদ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার, তাতে কুণালে পাল্টা প্রশ্ন— তাহলে তো সবার আগে মোদীর উচিত নিজেদের ইস্তফা দিয়ে সংসদ ভেঙে দেওয়া। কেননা গত বছর তো এই ভুয়ো ভোটারদের ভোটেই প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছেন। তৃতীয়ত, বিজেপি শাসিত রাজ্যে যখন বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে বাঙালিদের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে, বাংলাকে অপমান করা হচ্ছে তখন একজন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপনি কেন তার প্রতিবাদ করেননি। চতুর্থত, প্রধানমন্ত্রী নিজে ভোটের স্বার্থে বাংলায় এসে নিজে বাংলা ভাষায় শ্লোগান দিচ্ছেন, কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের, এর দায় কে নেবে? পঞ্চমত, কেন্দ্রের কাছে বাংলার বয়েকা টাকা ১ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছে করেই আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন এতসব কিছুর পরেও বাংলায় খালি হাতে আসতে প্রধানমন্ত্রীর লজ্জা করে না। যেখানে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি তাদের বকেয়া সময়মত পাচ্ছে সেখানে শুধুমাত্র বঞ্চনার শিকার হচ্ছে বাংলা। এই পাঁচ প্রশ্নের উত্তর সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চান কুণাল। অন্যদিকে, বাংলায় পা রেখেই নতুন বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। শ্যামাপ্রসাদের কৃতিত্বকে সামনে রেখে নতুন বাংলা গড়তে বঙ্গবাসী বিজেপির হাত শক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের নাম উচ্চারণ না করে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ হলে অনেক নেতা-মন্ত্রীদের জামানত যে বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে সে হুঁশিয়ারিও দেন প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে বঙ্গ রাজনীতির হাইভোল্টজ এই দিনে রাজনীতির হাওয়া যে যথেষ্ট উত্তপ্ত ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি নির্বাচন যত এগোবে এই উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা আজকের ছবি থেকে অনেকটাই স্পষ্ট।
প্রধানমন্ত্রী মেট্রো প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই নিজের কৃতিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শুক্রবার বঙ্গ সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনটি নতুন মেট্রো রুটের উদ্বোধন করবেন তিনি। পাশাপাশি এদিন দমদমে রাজনৈতিক সভা করার কথা মোদীর। এই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ বিজেপির একাধিক রাজ্য নেতারা। এই অনুষ্ঠানে যোগদানের আমন্ত্রণ আগেই পেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রথম থেকেই ধোঁয়াশা ছিল। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় পা রাখার আগেই এই মেট্রো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর কৃতিত্ব তুলে ধরে এক্স-হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের প্ল্যানিং থেকে শুরু করে জমি দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর উল্লেখ করে লেখেন, “ভারতের রেলমন্ত্রী থাকাকালীন আমি কলকাতায় একাধিক মেট্রো রেলওয়ে করিডোরের পরিকল্পনা এবং অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছিলাম। এই প্রকল্পগুলির ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে তহবিলের ব্যবস্থা করেছি, কাজ শুরু করেছি এবং নিশ্চিত করেছি যে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত (জোকা, গড়িয়া, বিমানবন্দর, সেক্টর ফাইভ ইত্যাদি) একটি ইন্ট্রা-সিটি মেট্রো গ্রিডের মাধ্যমে যুক্ত করা হবে।” ১৯৯৯ সালে কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের শরিক থাকাকালীন রেলমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মেট্রো রুটের পরিকল্পনা যে তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত সেকথার উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “রাজ্য সরকারের তরফে জমি, পাকা রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের সরকারের সচিবরা ধারাবাহিকভাবে মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করেছেন।” সামনেই ২৬শে বিধানসভা নির্বাচন। এই আবহে রাজ্যে বিজেপিকে যে এক ইঞ্চিও জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি নন তিনি, তা সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান থেকেই স্পষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব ভালো ভাবেই জানেন, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই মেট্রো রেলের কৃতিত্ব দেখিয়ে রাজ্য বিজেপি তাদের পালে হাওয়া তুলতে চাইবে। তাই আগে থেকেই রাজ্যবাসীর কাছে বার্তা পাঠিয়ে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাতে করে এই প্রকল্পগুলিতে ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি না হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে পারে। সব মিলিয়ে জনমত গঠনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কূটনৈতিক চালকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।