জলমগ্ন এলাকার ত্রাণ শিবির পরিদর্শনে বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী ও সাংসদ পার্থ ভৌমিক

বনগাঁ মহাকুমার জলমগ্ন এলাকার ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করল অশোকনগরের বিধায়ক, তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী ও ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিককে ফোন করে ত্রাণ শিবিরে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেন নারায়ণ গোস্বামী। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহাকুমার জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করবার জন্য উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী ও পার্থ ভৌমিককে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সকালে পার্থ ভৌমিক আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কামদেবপুরের জলমগ্ন এলাকায় যে ৭৩ টি পরিবার গরিবপুর স্কুলে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সমস্যার কথা জানতে চান। এবং তাদের হাতে ত্রাণ সামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বনগাঁ ঘাটবাওর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাইকপাড়া এমএসকে স্কুলের ত্রাণ শিবিরে ওঠা মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী ও পার্থ ভৌমিক। ত্রাণ শিবিরে থাকায় তারা কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে কিনা, সঠিকভাবে খাবার দেওয়া হচ্ছে কিনা—সেই বিষয়েও খোঁজখবর নেন এই দুই বিধায়ক। বনগাঁর এসডিও ও বিডিও-কে ত্রাণ শিবিরে থাকা মানুষের যাতে কোনো রকম সমস্যা না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন তাঁরা। বনগাঁ পাইকপাড়া ত্রাণ শিবিরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রতিনিয়ত রুটিন মাফিক তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উত্তর ২৪ পরগনার জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিককে ওখান থেকেই ফোনে নির্দেশ দেন নারায়ণ গোস্বামী। পরিদর্শন প্রসঙ্গে পার্থ ভৌমিক জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বনগাঁর জলমগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমরা কথা বললাম। তাদের সঠিকভাবে খাবার দেওয়া হচ্ছে কিনা, ত্রাণ শিবিরে কোনও সমস্যা আছে কিনা—সে বিষয়ে আমরা কথা বললাম। ত্রাণ শিবিরগুলিতে ভালো ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।” পরিদর্শন প্রসঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা আজ ত্রাণ শিবিরগুলো পরিদর্শনে এসেছিলাম। বনগাঁ মহকুমায় এখনো পর্যন্ত ১০টি ত্রাণ শিবির করা হয়েছে। ত্রাণ শিবিরগুলিতে ৩০০ সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ত্রাণ শিবিরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিককে নির্দেশ দিয়েছি। ত্রাণ শিবিরে ভালো রান্নাবান্না হচ্ছে। আর কোনও সমস্যা আছে কিনা সে বিষয়ে সমাধান করবার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
জমি অধিগ্রহণের বিবাদ ছাড়াই প্রকল্প করছে ওএনজিসি

শেষ পর্যন্ত কার্যত বিবাদ ছাড়াই জমি পেল খনিজ তেল উৎপাদনের জন্য। আর তা সম্ভব হল কোর কমিটির দৌলতে। বছর দশেক আগে অশোকনগরের বাইগাছি মৌজায় মাটির নীচ থেকে খনিজ তেলের সন্ধান পেয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থার অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কমিশন। এর পর দ্বিতীয় পয়েন্ট হিসেবে তেলের সন্ধান মেলে ভুরকুন্ডা পঞ্চায়েতের পুমলিয়া এলাকায়। এ বার সেই অশোকনগরেরই দৌলতপুরের কাঁকপুলে মিলল খনিজ তেলের সন্ধান। আর সেখানেও জমির সমস্যা মেটাতে বিশেষ প্যাকেজের পরিকল্পনা করে রাজ্য সরকার। আশোকনগরের বিধায়ক তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমাকে, জেলা শাসক, ব্লক ডেভেলপমেন্ট আর পঞ্চায়েত প্রধানদের নিয়ে কোর কমিটি তৈরি করে আমরা জমিদাতাদের সাথে কথা বলে জমি পেতে সাহায্য করেছি।” প্রথমে বাইগাছি থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু হয়েছিল অপরিশোধিত খনিজ তেল উত্তোলন। ওএনজিসি প্রাথমিক পর্যায়ে এই কাজ শেষ করার পর বেশ কয়েক বছর অতিরিক্ত জমির জন্য খনিজ তেল উত্তোলনের প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে বাইগাছি মৌজায় ১৫ একর জমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাত্র ১ টাকায় দিয়েছিলেন ওএনজিসি কর্তৃপক্ষকে। মাস পাঁচ-ছয়েক আগে পাকাপাকি ভাবে এই এলাকা থেকে তেল উত্তোলনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অনুমতি চায় ওএনজিসি। বাকি দুই এলাকার জমি মালিকদের থেকেও লিজে জমি নিয়ে অপরিশোধিত খনিজ তেল উত্তোলন শুরু করে ওএনজিসি। এ বার অশোকনগর দৌলতপুরের কাঁকপুলেও খনিজ তেলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি জায়গায়। অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। সেই মতো পুরসভা ও পঞ্চায়েতের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিল্পোদ্যোগের পথ মসৃণ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই জমি জটের সমস্যা থাকে। সেগুলি মেটানো হয়েছে।” তবে এখানেই শেষ নয়, এই প্রকল্পের জন্য জমিদাতাদের বাড়ির ছেলে-মেয়েদের যাতে আরও ভালো কাজকর্মের বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় তা নিয়ে প্রস্তাব তৈরি হচ্ছে।” যদিও এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যা নিয়ে নারায়ণ গোস্বামীর বক্তব্য, “দেখুন প্রশ্ন তোলা খুব সহজ, কিন্তু এত বড় প্রকল্পের সাথে অনেক টেকনিক্যাল বিষয় জড়িয়ে থাকে। সেগুলো মিটিয়ে কাজ শেষ হবে।”