আম আদমি পার্টি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ সভাপতি সহ নেতৃত্বদের

ইন্ডি জোটে তারা সরিক। কিন্তু বংলায় সেই আম আদমি পার্টিরই(Aam Admi Party) ঘর ভাঙছে কংগ্রেস। এবার সেই ঘটনা ঘটল মুর্শিদাবাদে(Murshidabad)। মুর্শিদাবাদ জেলা আম আদমি পার্টির(Aam Admi Party) জেলা সভাপতি থেকে নেতৃত্বরা সোমবার যোগদান দিল কংগ্রেসে(Congress)। আর তাতেই যে রাজনৈতিক মহলে যে বেশ শোরগোর পড়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সোমবাপ দুপুরে অধীর চৌধুরীর(Adhir Chowdhury) হাত ধরেই কংগ্রেসে যোগ দিল আম আদমি পার্টির জেলা সভপতি সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। তৃণমূলের(TMC) বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেই আম আদমি পার্টির(Aam Admi Party) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল মুর্শিদাবাদ জেলা আম আদমি পার্টির সভাপতি সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। একটাই অভিযোগ যে তৃণমূলের(TMC) দূর্ণীতির বিরুদ্ধে বিরোধিতা করার অনুমতি নাকি আম আদমি পার্টির তরফ থেকে পাওয়া যেত না। আর সেই কারণেই নাকি শেষপর্যন্ত আম আদমি পার্টি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদানের সিদ্ধান্ত। আম আদমি পার্টির জেলা সম্পাদক রাজ্যের মুখপাত্র সোহেল রানা(Sohail Rana) সহ মুর্শিদাবাদ জেলা সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মীরা সোমবার দুপুরে অধীর চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসের যোগদান করেন। সোমবার দুপুরে বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস ভবনে এই যোগদান সভার আয়োজন করা হয়।। কংগ্রেসের যোগদানকারী সোহেল রানা বলেন আম আদমি পার্টি(Aam Admi Party) করতাম দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, সেখানে আমাদের সংগঠন তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুমতি দিত না।। তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য স্বচ্ছ মুর্শিদাবাদ তৈরির জন্য আজ আম আদমি পার্টি ছেড়ে কংগ্রেসের যোগদান করলাম।
তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীকে মারধোরের অভিযোগ বিরোধীদের বিরুদ্ধে, পাল্টা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্ব বিরোধীদের

তৃণমূলের(TMC) পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর ওপর হামলা। মুর্শিদাবাদের(Murshidabad) জলঙ্গীপাড়া থানার অন্তর্গত ফরজিপাড়ায় ঘটেছে এই ঘটনা। ঘোষপাড়া তৃণমূল(TMC) পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী রাজদুল ইসলামকে বেধরক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিরোধীদের বিরুদ্ধে। এই রাজদুল ইসলাম নিজেও একসময় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যপর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজদুল ইসলামের(Rajdul Islam) অভিযোগ বিরোধী দল নেতা কিবরিয়া ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে জলঙ্গীপাড়া থানার পুলিশ। এদিন রাজদুল ইসলামের(Rajdul Islam) ওপর হঠাৎই হামলা করে কিছু দুস্কৃতি। যদিও পরে তাদের বিদোধী শিবিরের লোক বলেই জানিয়েছেন রাজদুল ইসলাম। তাঁর ওপর হামলা হওয়ার পর তড়ঘড়ি তৃণমূলের(TMC) পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামীকে গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকেরা। সেখানে চিকিৎসক তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করলেও, অবস্থার অবনতিই হতে থাকে রাজদুল ইসলামের। এরপরই তাঁকে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এই ঘটনায় এলাকায় কিন্তু বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর ওপর হামলা হয়েছে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সেভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে তিনি তৃণমূল করেন বলেই এই হামলা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজদুল ইসলাম। শুধুমাত্র তাই নয় তিনি নাকি জলঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছেও তাঁর প্রাণনাশের হুমকি রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বেশ কয়েকদিন আগেই। এবার এই হামলা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও পাল্টা বিরোধীরাও নেমে পড়েছে ময়দানে। বিরোধী দল নেতাকে ফাঁসানোর ছক বলেই জানানো হয়েছে বিরোধী দলের তরফে। রাজদুল ইসলাম অভিযোগ করে জানিয়েছেন, “আমি তৃণমূলের অনুগামী আর সেই কারণেই আমার উপরে এই হামলা। বিগত দিনে জলঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক যিনি ছিলেন তাঁকে আমি একাধিকবার আমার প্রাণনাশের হুমকি এসেছে, সেটিও জানিয়েছিলাম”। ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন রাজদুল ইসলাম। যদিও বিরোধী নেতা কিবরিয়ারের দাবী তাঁকে ফাঁসানোর জন্যই নাকি এমন কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী তিনি নাকি সেদিন এলাকাতেই ছিলেন না। আবার সিপিআইএমের প্রাক্তন বিধায়ক ইউনুস সরকার বলেন কিবরিয়া এবং রাজদুল নাকি একই দলের সদস্য। অর্থাৎ তিনি গোষ্ঠিদ্বন্দ্বের ছবিই নাকি দেখতে পাচ্ছেন এই ঘটনায়। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে এলাকার পরিস্থিতি যে বেশ উত্তপ্ত তা বলাই বাহুল্য।
গভীর রাতে ভয়াবহ গঙ্গা ভাঙনে তলিয়ে গেল আট থেকে দশটি বাড়ি

গভীর রাতে সামসেরগঞ্জে আবারও ভয়াবহ গঙ্গা ভাঙন। সোমবার রাতে বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গঙ্গায় ভাঙনে তলিয়ে গেল আট থেকে দশটি বাড়ি। স্বভাবতই প্রাণভয়ে আতঙ্ক আর হুড়োহুড়ি পড়ে যায় উত্তর চাচন্ড এবং মধ্য চাচন্ড গ্রামজুড়ে। মঙ্গলবার ভোর রাত থেকে শুরু হয়েছে ভয়াবহ এই ভাঙন। কোনরকমে পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হঠাৎ করে ভাঙনের ফলে ঘরের আসবাবপত্র থেকে দরকারি কাগজপত্র কোনও কিছুই বের করে আনতে পারেনি গ্রামবাসীরা। সবকিছু তলিয়ে গিয়েছে গঙ্গা বক্ষে। গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকটি গৃহপালিত গরু-ছাগল। তলিয়ে গিয়েছে বহু গাছপালাও। ফাটল ধরেছে গঙ্গা সংলগ্ন এলাকায় থাকা প্রাচীন কালীমন্দিরে। যেকোনও মুহূর্তে তলিয়ে যেতে পারে মন্দিরও। মঙ্গলবার সকাল থেকেই আতঙ্ক আর হুড়োহুড়িতে গ্রামবাসীরা প্রাণ বাঁচাতে যে যেদিকে পারছেন পালাচ্ছেন। নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় বাড়ির আসবাবপত্র নিয়ে অন্যত্র পালাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কোথায় যাবেন, কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না তারা। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, গত কয়েকদিন থেকেই সামসেরগঞ্জের বেশ কয়েকটি গ্রামে বন্যা আতঙ্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এরই মাঝে ভাঙন ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভোররাতে বাড়ি তলিয়ে গেছে মাধুরী সরকার, পলাশ সিংহ, লোহারাম সিংহ, অরিজিৎ বর্মণ, লক্ষণ বর্মণ সহ আরও বেশ কয়েকটি পরিবারের। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে কয়েকশ পরিবার। অবিলম্বে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, সরকার যদি প্রথম থেকেই পাকা নদীবাঁধ তৈরি করতে তাহলে এই সমস্যার মুখোমুখি তাঁদের পড়তে হত না।
পঞ্চায়েত প্রধানের সই ও স্ট্যাম্প নকল, থানায় অভিযোগ দায়ের

পঞ্চায়েত প্রধানের স্ট্যাম্প এবং সই নকল করার অভিযোগে এবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন খোদ পঞ্চায়েত প্রধান। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকে বেনিয়াগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। বেনিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কংগ্রেসের প্রধান জাকির হোসেনের অভিযোগ, তাঁর কাছে পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ফারুক নামের এক যুবক ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের ডেথ ক্লেমের ফর্ম নিয়ে আসেন এবং তাঁকে সেই ফর্মে সই করার জন্য অনুরোধ করেন। সেসময় ফর্ম হাতে নিতেই তিনি দেখেন যে, ওই ফর্মে আগে থেকেই প্রধানের সই এবং স্ট্যাম্প রয়েছে। যদিও বেনিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জাকির হোসেনের অভিযোগ ফর্মে প্রধানের ওই সই এবং স্ট্যাম্প নকল। প্রধানের আরও দাবি, কোনো দালাল চক্র এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। বেনিয়াগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মহ: জাকির হোসেন ফরাক্কা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এবং এবিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদনও জানান।
ডোমকলে জলমগ্ন রাস্তায় মাছ ছেড়ে প্রতিবাদ! প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে অভিনব কৌশল

মুর্শিদাবাদের ডোমকলে বেহাল রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জল, আর তার মাঝেই মাছ ছেড়ে অভিনব প্রতিবাদে সরব হলেন রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটেছে ডোমকল ব্লকের সারাংপুর অঞ্চলের শ্যামপুর থেকে নাজিরপুর মোড় পর্যন্ত রাস্তায়। পাকা রাস্তায় হাঁটুসমান জল, বড় বড় গর্ত—এ যেন রাস্তায় নয়, তৈরি হয়েছে একপ্রকার জলাশয়! সেই জলেই এদিন স্থানীয়রা প্রতীকীভাবে ছেড়ে দেন মাছ। তাঁদের বক্তব্য, “যেখানে রাস্তায় চিরকাল জল জমে থাকে, সেখানে তো মাছ চাষই ভালো! প্রশাসন যদি নজর না দেয়, তাহলে বাধ্য হয়েই এর থেকে বড় আন্দোলনে যাব আমরা।” স্থানীয়দের দাবি, বহুবার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। প্রতিদিন এই রাস্তাটি দিয়ে স্কুলপড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই যাতায়াত করেন। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এই অভিনব প্রতিবাদের ছবি-ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনরাও এই প্রতিবাদকে সমর্থন জানাচ্ছেন।
তৃণমূল নেতার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের পর আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার এক তৃণমূলের নেতা

হরিহরপাড়া থানার সোলুয়া আকুন্দো বেড়িয়া এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার কয়েক দিন পর অবশেষে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার করা হলো তৃণমূল নেতা কাইয়ুম আলী শেখকে। জানা গেছে, গত ২২ জুলাই কাইয়ুম শেখের বাড়িতে হঠাৎ বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে তার বাথরুম ঘরের একাংশ ভেঙে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। পুলিশ তদন্তে নেমে খুঁজছিল তার হদিস। অবশেষে বুধবার বিকেলে হরিহরপাড়া থানার ডলটনপুর আইটিআই কলেজ সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় কাইয়ুম শেখকে। তার হাতে ছিল একটি লাইলনের ব্যাগ। তৎক্ষণাৎ পুলিশ তাকে আটক করে তল্লাশি চালায়। ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি। পুলিশ সূত্রে খবর, আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে কাইয়ুম আলী শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে বহরমপুর জেলা আদালতে পেশ করে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
তৃণমূল বুথ সভাপতি খুনে গ্রেফতার ৩

রেজিনগরে তৃণমূলের বুথ সভাপতি খুনের ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার তিন তৃণমূল কর্মী। এক সপ্তাহ পর আজ বুধবার ভোরবেলায় নদীয়ার নাকাশিপাড়া থানার যুগপুর থেকে তিন জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে রেজিনগর থানার পুলিশ।অভিযুক্তদের নাম আমিত সরকার (২৬) বিজন সরকার (৩৯) ও পাপু সরকার (২২)। ধৃতদের মধ্যে বিজন আর পাপু দুই ভাই। সকলের বাড়ি রেজিনগর থানার আন্দুলবেড়িয়া উত্তর কলোনী এলাকায়। এই তিন জনকে বুধবার ১০ দিন পুলিশ হেফাজতের আবেদন চেয়ে বহরমপুরে জজ আদালতে পাঠায় পুলিশ। বাকি তিনজন এখনও অধরা। গত ২১ জুলাই রাতে রেজিনগর থানার আন্দুলবেড়িয়া উত্তর কলোনীর তৃণমূলের বুথ সভাপতি পতিত পালকে একদল দুষ্কৃতি ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধরক মারধর করে, তারপর মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ দিন পরে মৃত্যু হয়। তার পরিপেক্ষিতে ৬ জনের নামে রেজিনগর থানায় এফআইআর হয়।